দেশে এখন সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তাঁদের মধ্যে ৫০ লাখের মতো প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন দেন। এবার সবাইকে অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে।
কিন্তু রিটার্ন দিতে গিয়ে অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করেন। সেই ভুলগুলো কীভাবে সংশোধন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
আয়কর রিটার্নে নগদ টাকার পাশাপাশি যত সম্পদ দেখাবেন, এসব সম্পদ অর্জনের ব্যাখ্যা যেন থাকে। আয়ের উৎসের ব্যাখ্যাও দিতে হবে। এসব সম্পদের সপক্ষে যথাযথ প্রমাণ সংরক্ষণ করবেন।
১. বেশি সোনার গয়না দেখানো
অনেক করদাতা রিটার্নে অতিরঞ্জিতভাবে সোনা দেখান। যেমন অনেকেই ৪০–৫০ ভরি সোনা দেখান। বর্তমান বাজারদরে এই বিপুল পরিমাণ সোনার গয়নার দাম কোটি টাকার বেশি। কিন্তু এটা পেলেন কীভাবে, এর উৎস নেই।
কী করবেন
আপনার যতটা সোনার গয়না আছে, ততটা দেখানোই ভালো। কারণ, আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে সোনা না থাকলে পরে বিপাকে পড়তে পারেন।
২. বেশি নগদ টাকা দেখানো
রিটার্নে মাত্রাতিরিক্ত নগদ টাকা দেখান অনেকে। এতেও আয়ের সঙ্গে সংগতি না থাকলে এই নগদ টাকা নিয়ে বিপদে পড়বেন।
কী করবেন
যা নগদ আপনার কাছে আছে, তা–ই দেখাবেন। তবে কিছুটা বেশি দেখান অনেকে। কারণ, অনেকে ব্যাংকে না জমিয়ে নিজেরা বন্ধুবান্ধব মিলে বা অন্য কোনো উপায়ে প্রতি মাসে নিজেরা সঞ্চয় গড়ে তোলেন। যখন টাকা একসঙ্গে নিজের হাতে আসে, তখন তা একসঙ্গে রিটার্নে দেখানো হলে উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই অনেক করদাতা রিটার্নে আগে থেকেই নগদ টাকা বেশি দেখানোর এই কৌশল করেন।
৩. উপহার
জমি–ফ্ল্যাট, গয়নাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করা হয় না।
কী করবেন
অবশ্যই রিটার্নে দেখাবেন। মা–বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী–সন্তানদের কাছ থেকে উপহার নিলে কর দিতে হয় না।
৪. বিনিয়োগ না দেখানো
করদাতাদের অনেকেই এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করেও তা আয়কর রিটার্নে দেখান না, যা একটি ভুল কৌশল। এখন অটোমেশনের যুগে কর কর্মকর্তারা সহজেই তা বের করতে পারবেন।
কী করবেন
এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করে তা দেখিয়ে দেবেন। এতে লাভ আছে, কর কমে যাবে। তবে বিনিয়োগযোগ্য খাতেই বিনিয়োগ করবেন।
৫. আয়ের চেয়ে খরচ বেশি দেখানো
আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি দেখানো ঠিক নয়। তাহলে আয় বাদে খরচের বাকি অর্থের উৎস দেখাতে হবে। তা না হলে বিপাকে পড়বেন।
কী করবেন
মনে রাখবেন, কর বসে আয়ের ওপর। খরচের ওপর কর বসে না। তাই যা আয় করবেন, তাই রিটার্ন দেখিয়ে করযোগ্য হলে কর দেবেন।
মনে রাখতে হবে
আপনি প্রথমবার আয়কর রিটার্নে নগদ টাকার পাশাপাশি যত সম্পদ দেখাবেন, এসব সম্পদ অর্জনের ব্যাখ্যা যেন থাকে। আয়ের উৎসের ব্যাখ্যাও দিতে হবে। এসব সম্পদের সপক্ষে যথাযথ প্রমাণ সংরক্ষণ করবেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ময়মনসিংহ ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এমভিএসএ) ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের জন্য ১৯৭ সদস্যবিশিষ্ট তৃতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রফিকুল হাসান রাকিব সভাপতি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী মো. নাইমুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের (বিভিএ) আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ ভেটস ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ডা. শফিউল আহাদ সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন সভার সিদ্ধান্ত এবং উপদেষ্টা পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি অনুমোদন করা হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত নতুন কমিটি আগামী এক বছর সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কমিটিতে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. মেহেদী হাসান। দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তাজ ইমতিয়াজ পৃথিল এবং প্রচার সম্পাদক হয়েছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজিদ জোবায়ের। কমিটিতে ২০ জন সহসভাপতি, ৩২ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০ জন সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন। এর বাইরে সহ-সম্পাদক, কার্যনির্বাহী সদস্য, সাধারণ সদস্য এবং বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় পদে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৯৭ সদস্যের কমিটিতে সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের। বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন, যা মোট সদস্যের প্রায় ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ জন সদস্য রয়েছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ২১ জন গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. নাইমুর রহমান বলেন, ‘এমভিএসএর অন্যতম লক্ষ্য ময়মনসিংহের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা। নবগঠিত কমিটি শিক্ষার্থীদের পেশাগত ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি এবং প্রান্তিক এলাকায় বিনামূল্যে প্রাণিচিকিৎসা সেবা, জুনোটিক রোগ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।’ মুহাম্মদ সোহান/এসজেডএইচ/জেআইএম
প্রিমিয়ার লিগে শনিবার হতাশার দিন কাটলো লিভারপুল ও চেলসির। ঘরের মাঠে ফুলহ্যামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে আর্সেনালের সঙ্গে তাল মেলানোর সুযোগ হাতছাড়া করেছে লিভারপুল। অন্যদিকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে সদ্য প্রিমিয়ার লিগে ওঠা হালের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে চেলসি। এদিকে ঘরের মাঠে এভারটনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে টটেনহ্যাম হটস্পারও। অর্থের ঝনঝনানি কাজে এলো নাআক্রমণভাগে বিপুল অর্থ খরচ করেও ফুলহ্যামের বিপক্ষে গোলের দেখা পেল না লিভারপুল। ব্রিটিশ রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে দলে আসা আলেক্সান্ডার ইসাকের পাশাপাশি ব্র্যাডলি বারকোলা, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ ও ভিক্টর মুনোজ; কেউই ফুলহ্যামের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেননি। আরও হতাশার বিষয়, ম্যাচের আগে পর্যন্ত চলতি লিগে ফুলহ্যামের কোনো ক্লিনশিট বা পয়েন্ট কোনোটিই ছিল না। কিন্তু আনফিল্ডে এসে লিভারপুলের তারকাখচিত আক্রমণভাগকে রুখে দিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে তারা। আবারও রক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় চেলসিস্ট্যামফোর্ড ব্রিজে হালের বিপক্ষে শুরুটা দারুণ করেছিল চেলসি। সপ্তম মিনিটেই মরগান রজার্সের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কিন্তু এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হাল। মোহামেদ বেল্লৌমি দুই গোল করে হালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৬৬তম মিনিটে জোয়াও পেদ্রোর গোলে সমতায় ফেরে চেলসি। তবে ২-২ ড্রয়ের পরও চেলসির বড় সমস্যা হয়ে থাকল রক্ষণ। চলতি প্রিমিয়ার লিগে প্রতিটি ম্যাচেই অন্তত দুই গোল করে হজম করেছে দলটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ছয় ম্যাচে তাদের জালে বল ঢুকেছে ১২ বার। অন্য ম্যাচগুলোতেটটেনহ্যাম ও এভারটনও গোলশূন্য ড্র করেছে। ঘরের মাঠে এই হারের ফলে প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যামের গোলখরা আরও দীর্ঘ হলো। এদিকে অ্যাস্টন ভিলার হতাশাজনক শুরু অব্যাহত রয়েছে। নিজেদের মাঠে নটিংহাম ফরেস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে তারা। অন্য ম্যাচে ১০ জনের ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইপসউইচ। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে জিয়ান ফ্লেমিংয়ের গোলে আসে জয়। আর বোর্নমাউথ ও ব্রেন্টফোর্ডের ম্যাচ শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়। এমএমআর
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলীমনগর ঘাটে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ভারতে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বিজিবি। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন মোস্তফা (৬০) নামে আরও একজন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় চরবাগডাঙ্গার ফরিদপুর বিওপি ও ভারতের খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বাখেরআলী এলাকার আলীমনগর ঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে পদ্মা নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। এসময় মো. ওয়াসিম (২৩) সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অপর ১১ জন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। আরও পড়ুন চাঁপাইনবাবগঞ্জে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ১০ জন ভারতে উদ্ধার, নিখোঁজ ১ পরে সন্ধ্যায় ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের খান্দুয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বিষয়টি বাখেরআলী ও ফরিদপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডারকে জানান। বিএসএফ সদস্যরা ১০ বাংলাদেশি যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছেন। পরবর্তীতে রাত ১০টায় ফরিদপুর বিওপি ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সোহান মাহমুদ/এফএ