একসময় বলা হয়েছিল, মডেল হওয়ার জন্য তিনি মোটেও উপযুক্ত নন। কারণ, তাঁর গায়ের রং খুব কালো, উচ্চতা খুব বেশি, শরীরও খুব রোগা। সেই সময় ভারতে প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণায় এগুলো ছিল বড় ‘ত্রুটি’। কিন্তু যেসব বৈশিষ্ট্যের জন্য নিজের দেশেই বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন, কয়েক হাজার মাইল দূরের প্যারিসে গিয়ে সেগুলোই তাঁকে আলাদা করে দিল। কিংবদন্তি ফরাসি ডিজাইনার পিয়ের কারদাঁ তাঁকে দেখেই মুগ্ধ হয়েছিলেন। পরদিন থেকেই অঞ্জলি মেন্ডিস হয়ে গেলেন তাঁর হাউস মডেল।
৬৫ রুপি বেতনের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক থেকে প্যারিসের আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার এই যাত্রা যেন রূপকথার মতো। তবে সেই রূপকথায় ছিল প্রত্যাখ্যান, আর্থিক সংকট, পরিবারের শোক, নিঃসঙ্গতা এবং এক গভীর প্রেম হারানোর বেদনা।
দুরন্ত শৈশব, স্বপ্নটা ছিল অন্য রকম
অঞ্জলি মেন্ডিসের জন্মনাম ছিল ফিলিস মেন্ডিস। ১৯৪৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ভারতের স্বাধীনতার ঠিক এক বছর আগে তাঁর জন্ম। গোয়ান ক্যাথলিক পরিবারে সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। বাবা কেজেটান মেন্ডিস সুইস ঘড়ির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। মা সামলাতেন বড় সংসার। অর্থের দিক থেকে পরিবারটি সচ্ছল ছিল না, কিন্তু অঞ্জলির শৈশব ছিল প্রাণবন্ত।
ছোটবেলায় অঞ্জলি ছিলেন ভীষণ দুরন্ত। গাছে উঠতেন, ক্রিকেট খেলতেন, ছেলেদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ করতেন। নিজের ভাষায়, ছেলেদের সামনে নিজেকে জাহির করার জন্য নানা কাণ্ড করতেন। তখন কে জানত, সেই দুরন্ত মেয়েটিই একদিন ইউরোপের অভিজাত ফ্যাশন অঙ্গনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন!
তবে ছোটবেলা থেকেই অঞ্জলির শরীরের গড়ন অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল। তিনি ছিলেন অস্বাভাবিক লম্বা। স্কুলে উচ্চতা নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হতো। ক্লাসে সামনে বসলে পেছনের শিক্ষার্থীদের দেখতে সমস্যা হতো, তাই তাঁকে প্রায়ই পেছনের বেঞ্চে বসতে হতো।
পড়াশোনাতে খুব ভালো ছিলেন না। বই পড়তেই বেশি ভালোবাসতেন। এনিড ব্লাইটন ও বারবারা কার্টল্যান্ডের বই ছিল অঞ্জলির পছন্দের। একবার পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় বন্ধুর কাছে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, একদিন তিনি খুব বিখ্যাত হবেন। তখন হয়তো কথাটি কিশোরীর অভিমান বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছর পর সেটিই সত্যি হয়।
৬৫ রুপি বেতনের চাকরি
কলেজে পড়ার সময় পরিবারের আর্থিক সংকট বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পড়াশোনার খরচের জন্য মায়ের কাছে অতিরিক্ত টাকা চাইলে মা তাঁকে কাজ করার পরামর্শ দেন। তখন মডেলিংয়ের কথা তাঁর মাথাতেই ছিল না। একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নেন। মাসে বেতন পেতেন মাত্র ৬৫ রুপি।
পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়, যখন অঞ্জলির বাবার চাকরিও চলে যায়। পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ায় তাঁর কলেজের পড়াশোনা ছেড়ে দেন। পরে সচিব হওয়ার প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজ্ঞাপন জগতের পরিচিত ব্যক্তি ববি সিস্তারের সচিব হিসেবে কাজ শুরু করেন।
তখন অঞ্জলির চেহারা ছিল প্রচলিত মডেলদের থেকে একেবারেই আলাদা। চোখে মোটা চশমা, লম্বা হাত-পা, লম্বা চুল ও রোগা শরীর। অথচ পরে এই চেহারাই আন্তর্জাতিক ফ্যাশন–দুনিয়ায় তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।
মডেলিংয়ে আসা, সেটাও কাকতালীয়
মডেলিংয়ে অঞ্জলির প্রবেশ ছিল একেবারেই পরিকল্পনাহীন। একদিন বাসে যাওয়ার সময় এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। ওই তরুণী তাঁকে একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ফ্যাশন শোর কথা বলেন এবং সেখানে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন। কৌতূহল থেকে অঞ্জলি যোগাযোগ করেন ফ্যাশন শো সমন্বয়কারী জিনি নওরোজির সঙ্গে।
জিনি প্রথমেই অঞ্জলির চোখের চশমার দিকে নজর দেন। মডেলিং করতে হলে চশমা খুলতে হবে। অঞ্জলি কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার শুরু করেন। এরপর একটি ফ্যাশন শোতে প্রথমবারের মতো র্যাম্পে হাঁটেন।
সেই সময় ভারতীয় ফ্যাশন–দুনিয়ায় জিনাত আমান, শোভা রাজাধ্যক্ষসহ কয়েকজন পরিচিত মুখ ছিলেন। শোভা রাজাধ্যক্ষই পরে লেখক ও কলামিস্ট শোভা দে নামে পরিচিত হন। অঞ্জলির সঙ্গে তাঁদের বন্ধুত্বও তৈরি হয়।
কিন্তু র্যাম্পে অঞ্জলির উপস্থিতি নিয়ে সবাই খুশি ছিলেন না। তাঁর গায়ের রং নিয়ে মন্তব্য করা হতো। এমনকি ফ্যাশন–জগতের মানুষদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছিল, এত সুন্দর মেয়েদের মধ্যে কেন এমন কালো মেয়েকে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
অঞ্জলি অবশ্য নিজের চেহারা বদলে ফেলার চেষ্টা করেননি। তাঁর লম্বা পা, দীর্ঘ শরীর, গাঢ় ত্বক—সবকিছুকেই নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই ভারতীয় ফ্যাশন–জগতে পরিচিতি বাড়তে থাকে। একটি ফটোশুট থেকে প্রায় পাঁচ হাজার রুপি আয় করেন তিনি। সেই অর্থই তাঁকে আরও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস দেয়।
স্বপ্নটা ছিল প্যারিস।
হাতে মাত্র ১৫০ ফ্রাঁ, গন্তব্য প্যারিস
১৯৭১ সাল। তখন প্যারিস বিশ্বের ফ্যাশন সাম্রাজ্যের অন্যতম কেন্দ্র। পিয়ের কারদাঁ, ইভ সাঁ লোরাঁ, গিভঁশি, উঙ্গারোর মতো ডিজাইনারদের নাম বিশ্বজুড়ে আলোচিত। সেই জগতে ভারতের এক তরুণীর প্রবেশ প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।
অঞ্জলির হাতে ছিল রিটার্ন টিকিট আর মাত্র ১৫০ ফ্রাঁ। তবু তিনি প্যারিসে পৌঁছে গেলেন।
১৯৭১ সালের ৬ জুন প্যারিসে নামার পরদিনই সিদ্ধান্ত নিলেন পিয়ের কারদাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। ভারতীয় পোশাক পরলেন—শাড়ি, খোঁপা, কপালে টিপ। এই সাজেই চলে গেলেন কারদাঁর বুটিকে।
সমস্যা হলো ভাষা। ফরাসি জানতেন না অঞ্জলি। ইংরেজিতে জানালেন, তিনি মডেল হতে চান। সেখানে থাকা কর্মীরা প্রথমে তাঁর কথা বুঝতেই পারেননি। ভারতীয় পোশাকে তাঁকে দেখে কেউ কেউ ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো কোনো ভারতীয় রাজপরিবারের সদস্য।
শেষ পর্যন্ত একজন ইংরেজিভাষী কর্মীর মাধ্যমে তাঁর কথা বোঝা গেল। জানানো হলো, পিয়ের কারদাঁ বিকেল পাঁচটায় তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন।
অঞ্জলি অপেক্ষা করতে থাকলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সেদিন তাঁর হাতে টাকা ছিল খুব সামান্য। সকাল থেকে প্রায় কিছুই খাননি। অপেক্ষার সময় বই পড়েই কাটিয়েছিলেন।
কারদাঁর সেই ‘ফান্তাস্তিক’
বিকেল পাঁচটায় দরজা খুলে ঢুকলেন পিয়ের কারদাঁ। ফ্যাশন–জগতের কিংবদন্তি ডিজাইনারের সামনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় তরুণী অঞ্জলি। কারদাঁ তাঁকে হাঁটতে বললেন।
অঞ্জলি শাড়ি পরেই হাঁটলেন। কারদাঁ তাঁর পায়ের দিকে তাকালেন। খেয়াল করলেন তাঁর দীর্ঘ শরীর ও লম্বা পা। শাড়িটি একটু ওপরে তুলে পা দেখাতেও বলেছিলেন তিনি। তারপরই কারদাঁর মুখে এল সেই শব্দ-‘ফান্তাস্তিক’।
আর অঞ্জলির জীবনের মোড় ঘুরে গেল। কারদাঁ তাঁকে পরদিন থেকেই নিজের হাউস মডেল হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিলেন।
ভারতে যে গায়ের রং অঞ্জলির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল, প্যারিসে সেটিই হয়ে গেল তাঁর আলাদা সৌন্দর্যের পরিচয়। ভারতে যে উচ্চতাকে সমস্যা বলা হয়েছিল, কারদাঁর পোশাক পরিয়ে সেটিই র্যাম্পে হয়ে উঠল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। রোগা শরীরটিও হয়ে উঠল আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের উপযোগী।
অঞ্জলি তখন বুঝতে পারেন, সমস্যা আসলে তাঁর শরীরে ছিল না। সমস্যা ছিল মানুষের চোখে।
মডেল থেকে কারদাঁর মিউজ
প্যারিসে নতুন জীবন শুরু হলেও সবকিছু সহজ ছিল না। ভাষা জানতেন না, সংস্কৃতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা, আর ফ্যাশন–দুনিয়ার প্রতিযোগিতাও ছিল তীব্র। তবু দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নেন অঞ্জলি।
এ সময় অঞ্জলির নামও বদলে যায়। জন্মের নাম ফিলিস মেন্ডিস। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন–দুনিয়ায় সহজে উচ্চারণ করা যায়, এমন একটি নাম দরকার ছিল। শেষ পর্যন্ত ‘অঞ্জলি’ নামটি বেছে নেওয়া হয়। সেই নামেই তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন।
পিয়ের কারদাঁর সঙ্গে অঞ্জলির সম্পর্ক শুধু পেশাগত ছিল না। কারদাঁ তাঁকে নিজের ফ্যাশন হাউসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রায় এক যুগ ধরে অঞ্জলি তাঁর হয়ে কাজ করেন। তাঁর জন্য বিশেষভাবে পোশাক তৈরি করা হতো।
একসময় অঞ্জলি শুধু কারদাঁর মডেল ছিলেন না, হয়ে ওঠেন তাঁর মিউজ।
কারদাঁর পাশাপাশি গিভঁশি, উঙ্গারো ও শাপারেলির মতো আন্তর্জাতিক ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করেছেন অঞ্জলি। সেই সময় আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে ভারতীয় নারীদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত সীমিত। আর গাঢ় ত্বকের একজন ভারতীয় নারী হিসেবে অঞ্জলির সাফল্য ছিল আরও ব্যতিক্রমী। পরে তাঁকে ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক সুপারমডেলদের একজন হিসেবে স্মরণ করা হয়।
সাফল্যের মধ্যেও ব্যক্তিজীবনে শোক
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি অঞ্জলির ব্যক্তিজীবনেও তখন নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল। প্যারিসেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় এক ইংরেজ পুরুষের। সম্পর্কটি ধীরে ধীরে গভীর হয়। একসময় তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। অঞ্জলি তখন ক্যারিয়ারের শীর্ষে। সামনে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, আর ব্যক্তিজীবনে ভালোবাসার মানুষটি পাশে।
কিন্তু সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের আগেই অঞ্জলির প্রেমিক ক্যানসারে আক্রান্ত হন। অসুস্থতা দ্রুত বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত মারা যান তিনি।
অঞ্জলির জীবনে এটি ছিল ভয়াবহ ধাক্কা। যে মানুষটির সঙ্গে তিনি ভবিষ্যৎ কল্পনা করেছিলেন, সেই মানুষটিই হঠাৎ চলে গেলেন। অঞ্জলি পরে জানিয়েছিলেন, সেই সময় তাঁর জীবনের অর্থই যেন হারিয়ে গিয়েছিল। এরপরও তিনি জীবন থামিয়ে রাখেননি। কিন্তু সেই সম্পর্কের পর আর বিয়ে করেননি।
ব্যক্তিগত জীবনের এই শোকের পাশাপাশি একের পর এক পরিবারের সদস্যকেও হারাতে হয় অঞ্জলিকে। ১৯৭৯ সালে তাঁর মা স্ট্রোকে মারা যান। কিছুদিন পর বাবাকেও হারান তিনি।
র্যাম্প ছেড়ে অন্য জীবনে
প্যারিস তখন অঞ্জলির ঘর হয়ে উঠেছে। ফ্যাশন–জগতে তিনি প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু অঞ্জলির জীবন শুধু র্যাম্পের মধ্যে আটকে থাকেনি। একসময় মডেলিং থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকে একজন মডেলের স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু অঞ্জলি বুঝেছিলেন, জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে তাঁকে অন্য কিছু করতে হবে।
পিয়ের কারদাঁ তখন অঞ্জলিকে ভারতে নিজের ব্যবসায়িক কার্যক্রম দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। এভাবেই অঞ্জলি মডেল থেকে ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে চলে যান। প্রায় ১৮ বছর কারদাঁর ভারতীয় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
অর্থাৎ অঞ্জলির সামনে একসময় মডেল হওয়ার দরজাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তিনিই পরে একটি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সাম্রাজ্যের ভারতীয় কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
র্যাম্পের জীবন থেকে সরে যাওয়ার পর রান্নার প্রতিও অঞ্জলির আগ্রহ বাড়ে। ভারতীয় খাবারের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল গভীর। প্যারিসের জীবনে ভারতীয় রান্নাকে নিজের পরিচয়ের একটি অংশ হিসেবে ধরে রাখেন। পরে মা থেকে মেয়ের কাছে ভারতীয় রান্নার ঐতিহ্য তুলে ধরার ভাবনা নিয়ে বইও প্রকাশ করেন।
শেষ অধ্যায়
২০০০ সালে পিয়ের কারদাঁর ফ্যাশন হাউসের ৫০ বছর পূর্তি হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অফিসের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করে। অঞ্জলিও কারদাঁর ভারতীয় ব্যবসার দায়িত্ব থেকে সরে আসেন। ২০১০ সালের ১৭ জুন ফ্রান্সের প্রোভঁসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান অঞ্জলি মেন্ডিস। বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওমানের রাজধানী মাসকটে বৈঠক করবেন। সেখানে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি যৌথ নৌপথ চালুর বিষয়ে চুক্তি সই হবে। তবে সোমবারের এই বৈঠক নিয়ে ওমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি করিডর চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি কয়েক দিনের মধ্যেই সই হবে। রেজাই বলেন, প্রস্তাবিত ওই করিডরের প্রবেশপথ ও বের হওয়ার পথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে ভারতে অবস্থান করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, সোমবার আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মাসকটে বৈঠক করবেন। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে ওমান ও ইরানের মধ্যে একটি যৌথ নৌপথ চালুর বিষয়ে চুক্তি হবে। এ চুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনকেও (আইএমও) জানানো হবে। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, সেসব দেশও এই বৈঠকে অংশ নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ ও ইরানের ওপর আরোপ করা অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, সামরিকভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ওয়াশিংটন এখন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, সমুদ্রপথ অবশ্যই এমন কোনো বিষয় নয়, যার ওপর আমাদের টিকে থাকা নির্ভর করে। এক্ষেত্রেও তারা (যুক্তরাষ্ট্র) নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ ও হামলা বন্ধ করলে ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেবে। এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছিলেন, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওমানে একটি আঞ্চলিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি দেশ এতে অংশ নেবে। বাঘাই বলেন, বৈঠকে আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ নৌপথ নির্ধারণে ইরান ও ওমানের আলোচনার ফলাফল নিয়ে আলোচনা হবে। ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, জলপথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান কাজ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও সামরিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, আনাদোলু এজেন্সি এসএএইচ
সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রশ্নে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আরও স্পষ্ট হয়েছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সংসদের অন্যতম কাজ হবে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়নের ভিত্তি তথা আইন তৈরি করা—এমনটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৈরি করা সংস্কার প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়ন হবে বা প্রকৃতপক্ষে কতটা পরিবর্তন আসবে, সে প্রশ্ন সামনে এনেছে এই অধিবেশন।মাত্র ৯ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে টানাপোড়েন ছাড়াও আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া, পরমতসহিষ্ণুতার ঘাটতি—এসব বিষয় আবার সামনে এসেছে। একই সঙ্গে অবশ্য জ্বালানি ও গ্যাস–সংকট, সারসংকটের মতো জনস্বার্থের বিষয় সংসদে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেখানে সরকার নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে, বিরোধী দল সমালোচনার পাশাপাশি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে।তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট শুরু হয়, শেষ হয় ১০ সেপ্টেম্বর। এই অধিবেশনে মোট ছয়টি বিল পাস হয়েছে। বিভিন্ন বিধিতে সংসদ সদস্যরা ১৫০টির বেশি নোটিশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য দেওয়া ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে উত্তর দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬৭৮টির। এ ছাড়া ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে ৩৫টি গঠিত হয়েছে এই অধিবেশনে। বাকিগুলো আগে গঠিত হয়েছিল। এই অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মূল টানাপোড়েন দেখা গেছে জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন এবং সংস্কার–সংশ্লিষ্ট তিনটি বিল পাসের প্রশ্নে।অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের পাশাপাশি বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লক্ষ্যে কিছু আইনি সংস্কার আনা হয়েছিল। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারায়। আর সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ছিল—সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।প্রথম অধিবেশন শেষে সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, বাদ পড়া বিষয়গুলো নিয়ে আরও শক্তিশালী বিল পরবর্তী সময়ে আনা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধে নতুন দুটি বিল পাস করা হয়। তবে বিরোধী দলের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ-সংক্রান্ত যে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল, এর চেয়ে দুর্বল করে বিল দুটি আনা হয়েছে। এ দুটি বিল পাসের কোনো পর্যায়েই তারা অংশ নেয়নি। বিল দুটি উত্থাপনের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউটও করেছিল বিরোধী দল। অবশ্য সরকার দাবি করেছে, আগের চেয়ে শক্তিশালী করেই বিল দুটি আনা হয়েছে।অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল কমিশনকে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, কমিশন এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে।অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশে গুমের অভিযোগ তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। নতুন গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে এই তদন্ত করবে শৃঙ্খলা বাহিনী। অবশ্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা তার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ওই অভিযোগের তদন্ত করতে পারবে না।অন্যদিকে মানবাধিকার কমিশন আইনে কমিশন গঠনের জন্য বাছাই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এবং শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল কমিশনকে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, কমিশন এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে।এর বাইরে র্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের বিল নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের অভিযোগ, নাম পরিবর্তন হলেও র্যাবের জনবল, সম্পদ, ক্ষমতা ও কাঠামো নতুন বাহিনীতে চলে যাচ্ছে। এটি কেবল ‘সাইনবোর্ড’ বদল।এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধে নতুন দুটি বিল পাস করা হয়। তবে বিরোধী দলের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ-সংক্রান্ত যে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল, এর চেয়ে দুর্বল করে বিল দুটি আনা হয়েছে। এ দুটি বিল পাসের কোনো পর্যায়েই তারা অংশ নেয়নি।জুলাই সনদ অনুসারে হয়নি পদ বণ্টনতৃতীয় অধিবেশনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিরোধ ছিল সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে। জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান–সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে করার কথা। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচনের প্রস্তাব রয়েছে। বিএনপি এই প্রস্তাবে একমত ছিল।সংসদে বিরোধী দলের আসন প্রায় ২৬ শতাংশ। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির মধ্যে ১০টিসহ মোট ১৪টি সভাপতি পদ পাওয়ার কথা বিরোধী দলের। কিন্তু পেয়েছে একটি।এসব বিষয়ে সংসদ যদি সমঝোতা ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের জায়গা হয়ে উঠতে না পারে, তাহলে সংস্কারের রাজনৈতিক বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।এই পদ বণ্টন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দল বলেছে, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দিলে তাদের জুলাই সনদ অনুযায়ী সভাপতি পদ দিতে আপত্তি নেই। অন্যথায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হওয়ার পর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে বিরোধী দল এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারের পক্ষে।দ্বিতীয় অধিবেশনে (১৩ জুলাই) সংবিধান সংশোধন–সংক্রান্ত ওই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তৃতীয় অধিবেশনেও এই কমিটিতে বিরোধী দল নাম দেয়নি।ফলে প্রশ্ন উঠেছে, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে এই সংসদ শেষ পর্যন্ত কতটা ঐকমত্যের পথে যেতে পারবে। কারণ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বা সংবিধান সংশোধন নিছক আইন পাস নয়। সেখানে ক্ষমতার কাঠামো, প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ সংসদীয় ব্যবস্থার মতো মৌলিক প্রশ্ন জড়িত। এসব বিষয়ে সংসদ যদি সমঝোতা ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের জায়গা হয়ে উঠতে না পারে, তাহলে সংস্কারের রাজনৈতিক বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।সংসদীয় কমিটি নিয়ে প্রশ্নজুলাই সনদ অনুযায়ী ৫০টি কমিটির পদ বণ্টন না করায় শেষ দিনেও বিরোধী দলের অসন্তোষ ছিল। অন্যদিকে কিছু সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা, চিফ হুইপ ও হুইপদের সভাপতি করা হয়েছে। নিজের মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি নয়, এমন কমিটিতেও প্রতিমন্ত্রীকে সদস্য করা হয়েছে।কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, এভাবে কমিটি গঠনে বাধা নেই। কিন্তু সংসদীয় কমিটির অন্যতম প্রধান কাজ হলো নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহি করা। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই এভাবে কমিটি গঠন নিয়ে দুই দফা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর ভাষায়, নির্বাহী বিভাগ জবাবদিহি করবে আইনসভার কাছে। নির্বাহী বিভাগ যদি নিজেই কমিটির সভাপতি হয়, তাহলে কার কাছে জবাবদিহি করবে? এটিকে সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল চেতনার আলোকে দেখা উচিত।আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়াচলতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৯১টি বিল পাস হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য সময়সীমা নির্ধারিত ছিল বিধায় সে সময় বিল পাসে তাড়াহুড়া করতে হয়েছিল। কিন্তু তৃতীয় অধিবেশনে এসেও একই ধরনের তাড়াহুড়া দেখা গেছে, যদিও এখন আর সময়সীমার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ৯ কার্যদিবসের অধিবেশনে ৬টি বিল উত্থাপন করে সেগুলো পাস করা হয়েছে। সময়স্বল্পতাকে বারবার কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন মন্ত্রীরা।এসআরবি বিল ছাড়া অন্য বিলগুলোর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে বিল পরীক্ষার জন্য দুদিন করে সময় দেওয়া হয়। বিরোধী দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসআরবি বিলের ক্ষেত্রে সময় দেওয়া হয়েছিল ৪ দিন। অবশ্য সংসদীয় কমিটিগুলোও একটি বিল পরীক্ষায় একটি করে বৈঠক করেছিল।এ ছাড়া কোনো কোনো বিল বিধি অনুযায়ী সংসদে উত্থাপনের তিন দিন আগে সদস্যরা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল নিজেও এ বিষয়ে নির্বাহী বিভাগের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর যত দ্রুত সম্ভব বিল আইনসভায় পাঠানো উচিত। যাতে সব সংসদ সদস্য আইনটি ভালোভাবে পড়ে আসতে পারেন। এর কিছুটা ব্যত্যয় হচ্ছে। এ জন্য তিনি সংসদে হতাশাও ব্যক্ত করেন।ঘটনাটি সংসদে ভিন্নমত প্রকাশ ও তা সহ্য করার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অধিবেশনের শেষের দিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে সরকারি দলের সদস্যদের হট্টগোলও একই প্রশ্ন সামনে আনে।পরমতসহিষ্ণুতার ঘাটতিঅধিবেশনের প্রথম দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যরা ব্যাপক হইচই করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের ঘোষণার পরও বিরোধী দলের প্রতিবাদ থামেনি। একপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত।ঘটনাটি সংসদে ভিন্নমত প্রকাশ ও তা সহ্য করার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অধিবেশনের শেষের দিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে সরকারি দলের সদস্যদের হট্টগোলও একই প্রশ্ন সামনে আনে। বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সদস্যরা প্রতিবাদ করতে থাকেন। একপর্যায়ে রুমিনের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তখন বলেন, একজন সদস্যের বক্তব্যে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদারজাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ আইন করতে এই অধিবেশনে যে রকম বিল পাস করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকার অনেক ক্ষেত্রে উল্টো পথে হাঁটছে।জনস্বার্থের আলোচনাও হয়েছেতৃতীয় অধিবেশনকে শুধু রাজনৈতিক সংঘাতের অধিবেশন বললে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট এবং সারসংকটের মতো জনস্বার্থের বিষয়েও নোটিশ দিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। জ্বালানিসংকটের জন্য সরকার অতীতের ভুল নীতি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে সমাধানের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরেছে। সারসংকট নিয়ে সরকার পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলেছে। অপর দিকে বিরোধী দল বলেছে, কৃষকের কাছে সার না পৌঁছানোর মাধ্যমে সরকারের বিতরণব্যবস্থার ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে।তৃতীয় অধিবেশন কাজের হিসাবে সক্রিয় ছিল; আইন পাস হয়েছে, কমিটি গঠিত হয়েছে, জনস্বার্থের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সংস্কারসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আইন, সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব এবং ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দলের দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছে।সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। বর্তমান সরকার এসব বিষয়ে আরও ভালো আইন করবে বলে সেগুলো অনুমোদন দেয়নি। কিন্তু জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ আইন করতে এই অধিবেশনে যে রকম বিল পাস করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকার অনেক ক্ষেত্রে উল্টো পথে হাঁটছে। সুপ্রিম কোর্ট–সংক্রান্ত কোনো বিল এই অধিবেশনেও আনা হয়নি। সামনে হয়তো আনা হবে। তবে এখন পর্যন্ত সংস্কার প্রশ্নে সরকারের ‘ট্র্যাক রেকর্ড’ হতাশাজনক।