ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওমানের রাজধানী মাসকটে বৈঠক করবেন। সেখানে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি যৌথ নৌপথ চালুর বিষয়ে চুক্তি সই হবে।
তবে সোমবারের এই বৈঠক নিয়ে ওমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি করিডর চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি কয়েক দিনের মধ্যেই সই হবে।
রেজাই বলেন, প্রস্তাবিত ওই করিডরের প্রবেশপথ ও বের হওয়ার পথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে ভারতে অবস্থান করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, সোমবার আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মাসকটে বৈঠক করবেন। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে ওমান ও ইরানের মধ্যে একটি যৌথ নৌপথ চালুর বিষয়ে চুক্তি হবে। এ চুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনকেও (আইএমও) জানানো হবে।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, সেসব দেশও এই বৈঠকে অংশ নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ ও ইরানের ওপর আরোপ করা অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, সামরিকভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ওয়াশিংটন এখন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, সমুদ্রপথ অবশ্যই এমন কোনো বিষয় নয়, যার ওপর আমাদের টিকে থাকা নির্ভর করে। এক্ষেত্রেও তারা (যুক্তরাষ্ট্র) নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ ও হামলা বন্ধ করলে ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেবে।
এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছিলেন, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওমানে একটি আঞ্চলিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি দেশ এতে অংশ নেবে।
বাঘাই বলেন, বৈঠকে আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ নৌপথ নির্ধারণে ইরান ও ওমানের আলোচনার ফলাফল নিয়ে আলোচনা হবে।
ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, জলপথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান কাজ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও সামরিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, আনাদোলু এজেন্সি
এসএএইচ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
২০১৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কম্পিউটারবিজ্ঞানীর স্বীকৃতি পেয়েছিলেন মাইকেল আরউইন জর্ডান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটারবিজ্ঞান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক। এই বিশ্ববিদ্যালয়েই গত মে মাসে সমাবর্তন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। পড়ুন নির্বাচিত অংশের অনুবাদ।২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটরা, তোমাদের শুভেচ্ছা। একই সঙ্গে সমবেদনা। এমন এক জটিল সময়ে তোমরা বড় হচ্ছ, যে সময় বদলে যাচ্ছে দ্রুত। এই মুহূর্তে ভবিষ্যদ্বাণী করা যেমন কঠিন, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়াও বেশ শক্ত।এক বিখ্যাত পরিসংখ্যানবিদের একটা গল্প আছে। জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তিনি দ্বিধায় পড়েছিলেন—পূর্ব উপকূলে থাকবেন, নাকি পশ্চিম উপকূলে চলে যাবেন! সে সময় এক সহকর্মী তাঁকে বললেন, ‘তুমি তো পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞ! তুমি তো জানোই যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সম্ভাব্য সব পরিণতি বিবেচনা করে সেটাই বেছে নেওয়া, যেটার উপযোগিতা সর্বোচ্চ।’ পরিসংখ্যানবিদ বললেন, ‘তুমি বুঝতে পারছ না। এটা বাস্তব জীবন।’ এআই নিয়ে বাড়াবাড়ি অনেক দিন আগে, কালের অতলে হারিয়ে যাওয়া আমার নিজের সমাবর্তনের কথা বলি। সমাবর্তনের বিশেষ টুপি আর গাউন পরে বসে ছিলাম। এমন সময় পাশে এমন একজনকে আবিষ্কার করলাম, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের চার বছরেও যাঁর সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি। আমরা আলাপ শুরু করলাম। একটা সময় মনে হলো, কত পুরোনো আমাদের বন্ধুত্ব! একদিকে সমাবর্তনের বোরিং বক্তৃতা চলছিল, আর আমরা আমাদের আশা, ভয়, অভিজ্ঞতা আর পরিবার নিয়ে কথা বলছিলাম। তারপর আবার যে যার পথে চলে গেলাম। সাধারণত বিচ্ছেদের সময় যে দুঃখবোধ থাকে, তার কিছুই সেখানে ছিল না। পরিস্থিতি আর পরিবেশটা যদি ঠিকঠাক হয়, তাহলে দুজন মানুষের সংযোগ অপ্রত্যাশিতভাবেই কতটা গভীর হতে পারে, সেদিন বুঝেছিলাম। আজ আমি এই সংযোগ নিয়েই কথা বলব।অক্সফোর্ডের ইএমবিএতে প্রথম রিশাদ, গ্র্যাজুয়েশন স্পিকারও তিনিকেউ কেউ বলেন, এআই এমন এক নতুন যুগ নিয়ে আসবে, যা আমাদের সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলো সমাধান করে দেবে। আবার আরেক দলের দাবি, এটা মানবজাতিকে ক্রীতদাস বানিয়ে ফেলবে। এসব শুনে বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক।এআই প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলার সাধারণ নিয়ম হলো—প্রথমে সায়েন্স ফিকশনের মতো অবাক করা কিছু অগ্রগতির কথা তুলে ধরা, তারপর দুশ্চিন্তার বিষয়গুলোতে আসা। তবে আজ আমি ক্রমটা উল্টে দিতে চাই।এআই নিয়ে ভয় প্রথমত, এটা স্পষ্ট যে আগামী দশকের মধ্যে বহু চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অথবা এমনভাবে বদলে যাবে, যা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। এর মধ্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামারের চাকরিও আছে! অথচ এক দশক আগেও আমরা এটাকে সবচেয়ে নিরাপদ চাকরি মনে করতাম।দ্বিতীয়ত, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে একদম আমূল বদলে ফেলা প্রয়োজন। সদ্য গ্র্যাজুয়েট হিসেবে কথাটা হয়তো তোমাদের জন্য বেশ উদ্বেগের। তবে আশা করি তোমরা এত দিনে বুঝে ফেলেছ, শিক্ষা এমন কোনো বিষয় নয় যা একবার শেষ করলেই চুকেবুকে যায়।তৃতীয়ত, প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সময়ে শুরুর দিকে বৈষম্য বেশ প্রকট হবে। আমরা এখন যে বৈষম্য দেখছি, সম্পদের বৈষম্য তার চেয়েও বাড়বে। সুযোগের বৈষম্য তৈরি হবে।চতুর্থত, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া লেখা ও ছবির বিস্তার বর্তমানে আমাদের সমাজকে ব্যাহত করছে। ভবিষ্যতেও এটা চলতে থাকবে।সবশেষে, এই সমস্যাগুলোর কারণে সারা বিশ্বেই গণতন্ত্র, এমনকি এর অস্তিত্বই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। শ্রমবাজারের তোলপাড়, বৈষম্য ও ভুল তথ্যের ওপর ভর করেই গণতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনগুলো ডালপালা মেলবে।বাস্তবতার এই অস্বস্তিকর তালিকা দেখে মনে হতেই পারে—এত প্রযুক্তির দরকারই বা কি? আমি ১৯৬০-এর দশকে বড় হয়েছি। তাই এই ধরনের প্রতিক্রিয়া আমার মধ্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই আসে। তবে আমি বলব, প্রযুক্তির অগ্রগতি আদতে আমাদের প্রয়োজন।ভুয়া জীবনের অভিনয় একজন মানুষ যখন সত্যিকার কোনো মেলবন্ধন বা সংযোগ ঘটাতে চায়, তখন এআইয়ের সরবরাহ করা সাবলীল টেক্সট ছাড়াও আরও কিছুর প্রয়োজন হয়। আমাদের সবচেয়ে গভীর আবেগগুলোর জন্ম হয় আজীবন অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে। ছোট ছোট সাফল্য ও ব্যর্থতার পুঞ্জীভূত অভিজ্ঞতা, দারুণ কোনো মুহূর্ত, অথবা তীব্র কষ্টের এক ভান্ডার থেকে।জেনারেটিভ এআই সিস্টেমগুলো এখন গান লিখছে, উপন্যাস লিখছে। এই কাজগুলো কি শোনার বা পড়ার যোগ্য হবে? সম্ভবত হবে। কিন্তু আমাকে বলবেন না যে জেনারেটিভ এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন কোনো কাজ করবে, যা আমার অন্তরের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে যাবে। জেনারেটিভ এআইয়ের কোনো জীবন্ত অভিজ্ঞতা বা বাস্তব জীবন নেই। এটি একটি ভুয়া জীবনের অভিনয় করতে পারে, কিন্তু ভুয়া জীবনের কোনো ভুয়া সঙ্গী কে-ই বা চায়?সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমি বিশ্বাস করি এমন কিছু পেশা বা চাকরি থেকেই যাবে, যেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের গভীর সংযোগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ধরনের নতুন নতুন চাকরি আরও তৈরি হবে। এগুলো হারিয়ে যাবে না। ভবিষ্যতে এগুলোর সংখ্যা আরও বাড়বে। মানুষের মানুষকে প্রয়োজন।তাই গ্র্যাজুয়েটরা, আমরা মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হব, ভীত হব, এটা হয়তো এড়ানো সম্ভব না। তবু কিছু বিষয় তোমাদের সাহায্য করতে পারে।প্রথমত, লম্বা একটা দম নাও। এমন নয় যে দ্রুতই তোমাকে সুযোগগুলো ছিনিয়ে নিতে হবে, না হলে সেগুলো গায়েব হয়ে যাবে। সুযোগ আর চ্যালেঞ্জগুলো আজ থেকে এক বছর পর, পাঁচ বছর পর, এমনকি ১০ বছর পরও থাকবে। এই যুগটিকে বরং শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করা যায়। সে সময় চিন্তাশীল মানুষ এমন সব উদ্ভাবন করেছিলেন, যা ২০০ বছর ধরে মানবজাতিকে সেবা দিয়েছে, এখনো দিচ্ছে।তুমি যদি ইতিমধ্যেই একজন চিন্তাশীল মানুষ হয়ে না থাকো, কীভাবে চিন্তাশীল হবে? একটু সময় বের করে উপন্যাস পড়ো, ইতিহাস চর্চা করো, একটা নতুন ভাষা শেখো, বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্ত থেকে ঘুরে আসো। কোনো একটা বাদ্যযন্ত্র বাজাতে শেখো।দ্বিতীয়ত, মনে রেখো মানুষ যখন এক হয়, তখনই আশ্চর্যজনক ঘটনাগুলো ঘটে। আমরা তথাকথিত ‘জিনিয়াসদের’ অর্জনকে একটু বেশিই প্রাধান্য দিই। বাস্তবে পুরো একটা সমাজই এর পেছনে কাজ করে, অথচ কৃতিত্বটা আমরা ‘জিনিয়াসকে’ দিয়ে দিই। যেমনটা উত্তর–আধুনিক দার্শনিক টেলর সুইফট একবার বলেছিলেন, ‘আমি কেবলই এক সাধারণ মেয়ে, যাকে সবাই জিনিয়াস বলে। কিন্তু সে যদি হয় একা, তবে জিনিয়াস হয়ে লাভ কি?’সবাইকে ধন্যবাদ।
ইউএস ওপেনের নারী এককে নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল টেনিস বিশ্ব। শনিবার রাতে ফাইনালে শীর্ষ বাছাই বেলারুশের আরিনা সাবালেঙ্কাকে ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতেছেন কাজাখস্তানের দ্বিতীয় বাছাই এলেনা রাইবাকিনা। ২ ঘণ্টা ২১ মিনিটের লড়াই শেষে জয় তুলে নেওয়া রাইবাকিনার এটি ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা। একই সঙ্গে ২৭ বছর বয়সী এই তারকার জন্য এটি ইউএস ওপেনে প্রথমবারের মতো ফাইনাল জয়। প্রথম সেটের শুরুতে দুই খেলোয়াড়ই নিজেদের সার্ভ ধরে রাখেন। তবে পঞ্চম গেম থেকেই সাবালেঙ্কার সার্ভিসে চাপ বাড়াতে থাকেন রাইবাকিনা। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে প্রথম সেট জিতে এগিয়ে যান কাজাখ তারকা। সেট পয়েন্টে সাবালেঙ্কার ব্যাকহ্যান্ড বেসলাইনের বাইরে চলে গেলে সেটটি নিজের করে নেন রাইবাকিনা। দ্বিতীয় সেটে অবশ্য দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান সাবালেঙ্কা। তিনটি সেট পয়েন্টের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৭-৫ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। হার্ড কোর্টে সাবালেঙ্কার রেকর্ডও ছিল দুর্দান্ত। তার চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার সবকটিই এসেছে হার্ড কোর্টে-দুটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও দুটি ইউএস ওপেন। তবে তৃতীয় সেটে আর কোনো সুযোগ দেননি রাইবাকিনা। তৃতীয় ও সপ্তম গেমে সাবালেঙ্কার সার্ভিস ব্রেক করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬-২ ব্যবধানে সেট জিতে নিশ্চিত করেন ঐতিহাসিক শিরোপা। সাবালেঙ্কার বিপক্ষে আগের ১৭ দেখায় ১০টিতেই জিতেছিলেন বেলারুশ তারকা। তবে সাম্প্রতিক দুই গ্র্যান্ড স্ল্যাম সাক্ষাতে রাইবাকিনাই এগিয়ে। চলতি বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও সাবালেঙ্কাকে হারিয়েছিলেন তিনি। ফ্লাশিং মিডোজের এই ফাইনালটি ছিল বিশেষও। ২০১৩ সালের পর এই প্রথম ইউএস ওপেন নারী এককের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছেন শীর্ষ দুই বাছাই। শুধু ইউএস ওপেন শিরোপাই নয়, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থানও নিশ্চিত করেছেন রাইবাকিনা। বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের ঝেং কিনওয়েনকে হারানোর পরই তিনি শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেন। এর ফলে সাবালেঙ্কার টানা ৯৯ সপ্তাহের এক নম্বর থাকার যাত্রারও অবসান ঘটে। শিরোপা জয়ের পর রাইবাকিনা বলেন, এই টুর্নামেন্টে এসে এমন কিছু প্রত্যাশাই করিনি। একটু চোটের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু কোনোভাবে সবকিছু আমার পক্ষে মিলে গেল। এমএমআর
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে ৫০টি মামলা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গ্রেফতারদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৪০ জন, লালবাগ বিভাগ ৪২ জন, ওয়ারী বিভাগ ৬৫ জন, মতিঝিল বিভাগ ৬৮ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৯৫ জন, মিরপুর বিভাগ ২০৩ জন, গুলশান বিভাগ ৫৫ জন, উত্তরা বিভাগ ৪৯ জন, গোয়েন্দা বিভাগ ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে । অভিযানকালে ৭ কেজি ৯৬৫ গ্রাম গাঁজা, ২১১ পিস ইয়াবা, ১০৬ গ্রাম হেরোইন, ১ টি বিদেশী পিস্তল, ১ টি শর্টগান, ১ টি ইয়ারগান, ১ রাউন্ড গুলি, ১ টি ম্যাগাজিন, ১ টি গুলির খোসা, ৩২ টি রেডবল কার্তুজ, ৫৫ টি মোবাইলফোন, ৭ টি ফয়েল পেপার, ৩ টি গ্যাস লাইট, ১ টি সাদা বোতলের এ্যালকোহল, ১ টি সিএনজি, ৩ টি মোটরসাইকেল, ৪ টি চাকু, ২ টি স্টীলের ব্লেড, ১ টি চাপাতি ও নগদ ১৮২২০ টাকা জব্দ করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।জেএইচ