হোয়াইট হাউসের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফর অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যার উত্তর এখনো অজানা। দুই দেশের বৈঠকেই ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ পায়নি; তবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষই আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে এ সময়ে এসে থমকে যাওয়া আলোচনা নতুন করে শুরুর উদ্যোগ নিয়েছেন, তা অবশ্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো, রাশিয়ার অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হয়েছে।
মস্কোর স্পষ্ট দাবি, ইউক্রেনকে প্রকৃতপক্ষে একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে হবে, যেখানে প্রকাশ্যে বা গোপনে পশ্চিমা কোনো সামরিক উপস্থিতি থাকবে না। রাশিয়া তাদের দখল করা অঞ্চলগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চায় এবং দনবাস অঞ্চলের যে সামান্য অংশ এখনো ইউক্রেনের হাতে রয়ে গেছে, সেখান থেকেও ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সরে যাওয়ার জোর তাগিদ দিচ্ছে।
এ ছাড়া ইউক্রেন সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ও অস্ত্রের ধরনের ওপর নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করতে চায় মস্কো। একই সঙ্গে অতি ডানপন্থী ও আধা সামরিক গোষ্ঠীগুলোকে বিলুপ্ত ও নিষিদ্ধ করা, রুশ ভাষার ব্যবহার সীমিতকরণ আইন বাতিল করা এবং এমন নির্বাচনের আয়োজন করা দাবি করছে, যেখানে রাশিয়াবান্ধব দলগুলো প্রগতিশীল বা প্রো-ওয়েস্টার্ন দলগুলোর সঙ্গে অবাধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় সমর্থকদের জন্য এ শর্তগুলো মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে পুরো গ্রীষ্মে তারা যেখানে নিজস্ব জনগণকে এবং ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে ‘যুদ্ধের মোড় ঘুরে যাচ্ছে’। প্রমাণ হিসেবে ইউক্রেনীয় ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা বারবার তুলে ধরেছেন যে রাশিয়ার সামরিক অভিযান ধীর হয়ে পড়েছে এবং ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরের তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে, যার ফলে রাশিয়াজুড়ে জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে।
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় এ হামলার উদ্দেশ্য ছিল প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনের সুবিধাজনক শর্তে শান্তিতে রাজি হতে বাধ্য করা। কিন্তু ফলাফল হয়েছে ঠিক উল্টো। মস্কো এখন আপসের বিষয়ে আরও বেশি অনমনীয়। একসময় দনবাস থেকে ইউক্রেনকে প্রত্যাহারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভূমির অদলবদলের যে সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি উধাও।
অন্যদিকে ক্রেমলিন ইউক্রেনের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসে দেওয়ার জন্য নিজস্ব ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ওদেসা বন্দরের মাধ্যমে ইউক্রেনের মূল রপ্তানি পণ্য শস্য ও আকরিক পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়া দেশটির লজিস্টিক হাব, গুদাম এবং মেটালার্জিক্যাল ও পানীয় কারখানাগুলোয় সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।
এমন এক জটিল মুহূর্তে ট্রাম্পের এই দুই শান্তিদূত আবারও দৃশ্যপটে হাজির হলেন। কুশনার ও উইটকফ এ সফরে সরাসরি পুতিনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন, যা ওয়াশিংটনের কৌশলে একটি স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

তাঁদের আগমনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ রহস্যজনকভাবে মস্কো সফর করেন। কিন্তু সিআইএ প্রধানের গাড়িবহর ক্রেমলিনে পৌঁছালেও পুতিন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে র্যাটক্লিফকে কেবল রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি ও এসভিআরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেই দেশে ফিরতে হয়।
সন্দেহজনক কিছু সূত্রের ওপর ভিত্তি করে গণমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা ছাড়া ওই বৈঠক থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু পাওয়া যায়নি। যুদ্ধবাজ বা চরমপন্থী কিছু গণমাধ্যম দাবি করেছিল, পূর্ব ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের ওপর হামলা না করার বিষয়ে রাশিয়াকে চরম সতর্কবার্তা দিতে গিয়েছিলেন র্যাটক্লিফ।
আবার কেউ দাবি করেছে, তিনি পুতিনের কাছে ইউক্রেনের ‘যুদ্ধের মোড় ঘুরে যাওয়ার’ তথ্য তুলে ধরে নতুন করে আলোচনার পথ খুঁজছিলেন। ‘দ্য আটলান্টিক’ সাময়িকী তো দাবি করেছিল, গলফ খেলার সময় সিআইএ পরিচালকই ট্রাম্পের মাথায় ঢুকিয়েছিলেন যে রাশিয়া হারতে শুরু করেছে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই শান্তি আলোচনায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি অর্জন করা এবং ইরানকে দেওয়া সামরিক সহায়তা কমাতে পুতিনকে রাজি করানো ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় হামলায় সরাসরি সাহায্য করে যাবে, ততক্ষণ এটি অর্জন করা অসম্ভব।
রুশ প্রবাসী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাজেন্টস্টভো’ ক্রেমলিনের এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, র্যাটক্লিফ তাঁর অধীন ব্যক্তিদের কাছে কী কথা বলছেন, তা শোনার পর পুতিন মনে করেন যে সিআইএ প্রধান বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন, আর সে কারণেই তিনি বৈঠকটি বাতিল করেছিলেন।
বিষয়টি যা–ই হোক না কেন, র্যাটক্লিফের মতো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যেখানে পুতিনের কাছে পাত্তাই পাননি, সেখানে কুশনার ও উইটকফকে মস্কোয় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে এবং তাঁরা পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। এতেই পরিষ্কার যে ট্রাম্পের দুই দূত কেবল এমন কোনো গল্প শোনাতে মস্কো যাননি, যাকে পুতিন ‘পশ্চিমা অপপ্রচার’ বলে মনে করেন।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, উইটকফ ও কুশনারের এই সফর শান্তিপ্রক্রিয়ায় সত্যি কোনো কার্যকর পরিবর্তন আনতে পেরেছে কি না। প্রতিনিধিরা সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, তাৎক্ষণিক কোনো বড় সাফল্য দৃশ্যমান না হলেও তারা রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পথ খুঁজছেন।
এ সফরের সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, অনেক বিশেষজ্ঞই শুরু থেকেই এটিকে ব্যর্থ বলে ঘোষণার তাড়াহুড়া দেখাচ্ছেন। পশ্চিমা সমাজে যুদ্ধের ক্লান্তি বাড়লেও যুদ্ধবাজ গোষ্ঠীগুলো যে এখনো কতটা প্রভাবশালী, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।
এই যুদ্ধবাজ গোষ্ঠী যেকোনো মূল্যে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ করতে চায়—ঠিক যেমনটা তারা ২০২২ সালের বসন্তে ইস্তাম্বুল আলোচনা ভেস্তে দিয়েছিল কিংবা তারও আগে মিনস্ক চুক্তি বাতিল করেছিল।
শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে হলে ট্রাম্পকে এই যুদ্ধবাজ গোষ্ঠীর মোকাবিলা করতে হবে, যার মধ্যে ইউরোপীয় সরকারগুলো, ন্যাটোর শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তার নিজের দেশের একটি বড় রাজনৈতিক গোষ্ঠীও রয়েছে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই শান্তি আলোচনায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি অর্জন করা এবং ইরানকে দেওয়া সামরিক সহায়তা কমাতে পুতিনকে রাজি করানো ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় হামলায় সরাসরি সাহায্য করে যাবে, ততক্ষণ এটি অর্জন করা অসম্ভব।
এদিকে রাশিয়ার অব্যাহত ও নির্মম বোমাবর্ষণে ইউক্রেনের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। শীতকাল যত ঘনিয়ে আসছে, জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোকে নিশানা করায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে।
কিয়েভ এমনিতেই রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত। জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কেলেঙ্কারি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যকার দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তার ওপর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাজেটে ২৬ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা মেটাতে যে পশ্চিমা সহায়তার প্রয়োজন, তা আসার আর কোনো নিশ্চয়তা নেই।
নিজের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে একটি আত্মঘাতী যুদ্ধে ইউক্রেনকে ঠেলে দেওয়ার রাজনৈতিক চাপের হয়তো কোনো শেষ নেই; কিন্তু ইউক্রেনীয়রা নিজেদের ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো এজেন্ডার জন্য আর কত দিন জীবন দেবে—তার একটি নির্দিষ্ট সীমা নিশ্চয়ই আছে।
লিওনিদ রাগোজিন রিগায় বসবাসরত একজন স্বতন্ত্র সাংবাদিক। আল–জাজিরা থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মানুষের রক্ত ও বুকের দুধে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ মিলেছে বেশ আগেই। এবার বৃষ্টির পানিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করেছেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন এজেন্সি বা বিআরআইএনের গবেষকেরা। বৃষ্টির পানি পরীক্ষা করে গবেষকেরা জানিয়েছেন, জাকার্তার বৃষ্টির পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বৃষ্টির পানির প্রতি বর্গমিটারে প্রায় পনেরোটি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।বিআরআইএনের গবেষক মোহাম্মদ রেজা কর্ডোভা জানান, ১০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি বাড়ির ওপর বৃষ্টির সময় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মাইক্রোপ্লাস্টিক পড়তে পারে। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো বাতাসে ভেসে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলোকে নিচে নামিয়ে আনে। বৃষ্টির পরিমাণ যত বেশি হয় বাতাস থেকে তত বেশি প্লাস্টিক কণা ঝড়ে পড়ে পৃথিবীতে।গবেষকদের তথ্যমতে, বৃষ্টির পানিতে থাকা প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণাগুলোর মধ্যে কাপড়ের সিনথেটিক ফাইবার ও টায়ারের পলিমারও রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বস্তু পুড়ে বা পচে গিয়ে তৈরি হওয়া প্লাস্টিকের টুকরোও এর সঙ্গে মিশে থাকে। ইন্দোনেশিয়ার বাতাস ও মানুষের শরীরেও মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। ইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক এক বড় ভাগাড়ের আগুন দীর্ঘ দশ দিন ধরে জ্বলেছিল। দেশটির সাধারণ মানুষ নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা পুড়িয়ে থাকে। এর ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে অসংখ্য ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। এ বিষয়ে মোহাম্মদ রেজা কর্ডোভা জানান, জ্যাতিওয়ারিঙ্গিন ল্যান্ডফিলে আগুন লাগার পর ধোঁয়া ও প্লাস্টিকের টুকরো আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে শত শত মানুষকে তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ায় প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা গ্রহণের মাত্রা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এখানকার মানুষ প্রতি মাসে গড়ে পনেরো গ্রাম প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করে। বাতাসে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা থাকার দিক থেকেও দেশটি শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে। প্লাস্টিক দূষণ এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় হলেও ইন্দোনেশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান একে আরও জটিল করে তুলেছে। ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় ধরা পড়া মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমসশরীরে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে প্রভাব ফেলে
মহানবীর আদর্শ অনুসরণের মধ্য দিয়েই আমাদের সমাজে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা মাঠে জুমার নামাজ আদায় শেষে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বিদেশে অবস্থান করায় এ বছর ঐতিহাসিক জশনে জুলুসে অংশ নিতে পারেননি চসিক মেয়র। দেশে ফিরে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে পাকিস্তানের সিরিকোট দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীকত আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (পীরে বাঙ্গাল) এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন তিনি। এ সময় সিরিকোট দরবার শরীফের বিশেষ অতিথি সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ এবং শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমদ শাহের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। সাক্ষাৎকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিদেশে অবস্থান করায় এ বছর জশনে জুলুসে সরাসরি অংশ নিতে পারিনি। তবে, দেশে ফিরে জুমার নামাজ আদায় এবং সম্মানিত আলেম ও পীর-মাশায়েখের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমি আনন্দিত। তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তি, মানবতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির মহান শিক্ষা রেখে গেছেন। তার আদর্শ অনুসরণের মধ্য দিয়েই আমাদের সমাজে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় করতে হবে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য নগরী। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। মহানবী (সা.)-এর শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির আদর্শ ধারণ করে আমাদের এই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ যেন আরও বাড়ে সেদিকে সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এমআরএএইচ/এএমএ
প্রথমবারের মতো কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে সারা দেশ থেকে আগত ছাত্রশক্তির তিন শতাধিক কাউন্সিলরের গোপন ভোটে কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনের লক্ষ্যেই কাউন্সিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে। দুই কমিটির কাউন্সিলে দুই শতাধিক ডেলিগেট ভোটের মাধ্যমে নিজ নিজ শাখার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। কাউন্সিলকে ঘিরে এরই মধ্যে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার এগিয়ে রয়েছেন বলে সংগঠনটির অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক লিমন মাহমুদ। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি পদে হাসিব আল ইসলাম ও সাকিবুল ইসলামের নাম আলোচনায় রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মদ সাকিব ও রায়হান ফেরদৌস। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা এসব পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম কাউন্সিল ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা বিরাজ করছে। তাদের প্রত্যাশা, কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন হলে সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। এসএনআর