জাতীয়

পুরোনো অভিমানকে টেনে এনে বর্তমানকে ভারী করবেন না

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
পুরোনো অভিমানকে টেনে এনে বর্তমানকে ভারী করবেন না
পুরোনো অভিমানকে টেনে এনে বর্তমানকে ভারী করবেন না

অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনিই আপনার ভাগ্যনিয়ন্ত্রক। গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব জীবনে ভূমিকা রাখলেও আপনার সিদ্ধান্ত ও কর্মই চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে। সাহস, ধৈর্য ও সঠিক মানসিকতা আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। প্রতি শনিবার ‘এ সপ্তাহের রাশিফল’ লিখছেন জ্যোতিষী চিন্ময় বড়ুয়া

  • এ সপ্তাহের রাশিফল (১২–১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

মেষ রাশি

মেষ রাশি

নিজের আনন্দ, ভালো লাগা ও ব্যক্তিগত ইচ্ছার জায়গা থেকে এবার জীবনের বাস্তব দায়িত্বের দিকে মন ঘুরবে। কাজের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে, তবে তার সঙ্গে নিজের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগও থাকবে। কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকলেও অন্যকে হারানোর চেয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করা বেশি জরুরি। অর্থের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে পারে, তাই আবেগের বশে কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের চাওয়া স্পষ্টভাবে জানানো দরকার, তবে কথার ভঙ্গি যেন কঠিন না হয়। কাছের কারও আচরণে বিরক্ত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে; বরং একটু সময় নিয়ে উত্তর দিন। দৈনন্দিন জীবনযাপনেও শৃঙ্খলা আনার প্রয়োজন হবে। অন্যের ভুল ধরতে আপনি যতটা দ্রুত, নিজের ক্লান্তি বুঝতে ততটা দ্রুত না–ও হতে পারেন! তাই কাজের পাশাপাশি বিশ্রামকেও গুরুত্ব দিন। এই পরিবর্তন আপনাকে আরও বাস্তববাদী, সংগঠিত ও দায়িত্বশীল করে তুলবে।

বৃষ রাশি

বৃষ রাশি

ঘর, পরিবার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঘিরে যে ব্যস্ততা ছিল, সেখান থেকে এবার মন ফিরবে নিজের আনন্দ, সৃজনশীলতা ও ভালো লাগার দিকে। কাজের জায়গায় দায়িত্ব থাকবে, কিন্তু সেই দায়িত্বের মধ্যেই নিজের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাবেন। নকশা, সৌন্দর্য, বিনোদন, সৃজনশীল কাজ কিংবা কোনো ব্যক্তিগত শখ নতুন গুরুত্ব পেতে পারে। প্রেমের সম্পর্কে উষ্ণতা বাড়লেও অতিরিক্ত প্রত্যাশা ছোট বিষয়কে বড় করে তুলতে পারে। সন্তানের পড়াশোনা বা ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবনা থাকতে পারে। অর্থের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের জিনিস, বিনোদন বা শখের পেছনে খরচ বাড়তে পারে।

পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি নিজের জন্যও কিছু সময় রাখুন। সবকিছু ঠিকঠাক রাখার দায়িত্ব নিতে নিতে নিজের আনন্দকে যেন ভুলে না যান। এবার জীবনে একটু স্বস্তি, ভালো লাগা ও সৃজনশীলতা ফিরিয়ে আনার সময়। আনন্দও জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ—শুধু দায়িত্ব পালন করলেই জীবন সম্পূর্ণ হয় না।

মিথুন রাশি

মিথুন রাশি

নানা কথা, যোগাযোগ, ছোটখাটো কাজ আর একসঙ্গে অনেক কিছু সামলানোর ব্যস্ততা থেকে এবার মন ধীরে ধীরে পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের দিকে ফিরবে। আপনার মাথায় অনেক পরিকল্পনা থাকবে, কিন্তু সব কটি একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে গেলে কোনো কাজই ঠিকমতো শেষ না–ও হতে পারে। তাই অগ্রাধিকার ঠিক করা জরুরি। কর্মক্ষেত্রে আপনার কথা বলার দক্ষতা ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত প্রশংসা পেতে পারে। পরিবারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং সেখানে আপনার মতামতের মূল্য থাকবে। ঘর সাজানো, বাসস্থান পরিবর্তন কিংবা পারিবারিক পরিবেশকে আরও স্বস্তিদায়ক করার ইচ্ছা জাগতে পারে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের অনুভূতি চেপে রাখার বদলে কাছের মানুষের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন। তবে কথা বলতে গিয়ে পুরোনো হিসাবের খাতা খুলবেন না—সেটা খুললে রাত শেষ হয়ে যেতে পারে! অর্থের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ও ইচ্ছার পার্থক্য বুঝে চলা ভালো। এই সময় আপনাকে বাইরের ব্যস্ততা থেকে একটু সরিয়ে নিজের ভিতটা শক্ত করার সুযোগ দেবে। শান্তি কখনো কখনো নতুন কোনো অর্জনের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়।

কর্কট রাশি

কর্কট রাশি

অর্থ, পরিবার ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবনার পর এবার নিজের উদ্যোগ, যোগাযোগ ও সাহসের জায়গায় গতি বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে নিজের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ আসতে পারে এবং নতুন কোনো দায়িত্বও হাতে নিতে হতে পারে। কোনো দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত আয় বা নতুন কাজের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ভাই–বোন, কাছের আত্মীয় কিংবা পরিচিত কারও সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ আপনার কাজে লাগবে। তবে কথাবার্তায় আবেগ বেশি ঢুকে গেলে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। আপনি যা বলতে চান, সেটাই অন্যজন শুনবে—এমন নিশ্চয়তা নেই; তাই বলার ধরনটিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থের ক্ষেত্রে ছোট ছোট খরচের দিকে নজর রাখুন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রেখে অন্যজনকে বুঝে নেওয়ার পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হবে না। সরাসরি বলুন, তবে কোমলভাবে। নতুন কোনো কাজ শুরু করার সাহস পাবেন, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই পরিবর্তন আপনাকে শুধু ভাবতে নয়, নিজের জন্য সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতেও শেখাবে। আপনার কণ্ঠস্বর এবার আরও স্পষ্ট হবে।

সিংহ রাশি

সিংহ রাশি

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিগত সাফল্যের ভাবনা থেকে এবার অর্থ, পরিবার ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার দিকে গুরুত্ব বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে আপনার উপস্থিতি আগের মতোই দৃশ্যমান থাকবে, তবে এবার শুধু প্রশংসা নয়—সাফল্যকে কীভাবে স্থায়ী করবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে, আবার নিজের পছন্দের জিনিসে খরচ করার ইচ্ছাও বাড়বে। তাই উপার্জন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সঞ্চয়ও ততটাই জরুরি। পরিবারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আপনার ভূমিকা থাকতে পারে। প্রেমের সম্পর্কে নিজের ইচ্ছার পাশাপাশি অন্যজনের প্রয়োজনও বুঝতে হবে। সব সময় নিজের কথাই শেষ কথা হবে—এই ধারণা সম্পর্কের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। বন্ধুদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ এলেও সব দায়িত্ব একা কাঁধে নেওয়ার দরকার নেই। আপনি সাধারণত আলোয় থাকতে অভ্যস্ত; এবার সেই আলো অন্যদের সঙ্গেও ভাগ করে নিন। নিজের মূল্য বুঝবেন, কিন্তু অন্যের মূল্য কমিয়ে নয়। এই পরিবর্তন আত্মবিশ্বাসকে বাস্তব স্থিরতা ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করবে।

কন্যা রাশি

কন্যা রাশি

অনেক দিন ধরে যে বিষয়গুলো আপনাকে ভেতরে–ভেতরে ক্লান্ত করেছে, সেগুলো থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসে নিজের দিকে নতুন করে তাকানোর সময়। বিশ্রাম, একাকিত্ব ও পুরোনো চিন্তার জায়গা পেরিয়ে এবার আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ বাড়বে। নিজের চেহারা, পোশাক, জীবনযাপন কিংবা দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনার ইচ্ছা হতে পারে।

কর্মক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার সাহস পাবেন এবং নিজের দক্ষতা দেখানোর সুযোগও মিলবে। অর্থের ক্ষেত্রে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিন; অন্যের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে নিজের সঞ্চয় নষ্ট করবেন না।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব কথা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সহজ মুহূর্তগুলো নষ্ট করবেন না। কাছের মানুষ দুটি কথা বললেই তার পেছনে দশটি কারণ খুঁজে বের করার প্রয়োজন নেই! কিছু বিষয় সরলভাবেও নেওয়া যায়। অসম্পূর্ণতা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে এগিয়ে চলুন। সবকিছু নিখুঁত হওয়ার অপেক্ষায় থাকলে নতুন শুরু পিছিয়ে যাবে। এই পরিবর্তন আপনাকে নিজের প্রয়োজন, পরিচয় ও ইচ্ছাকে নতুনভাবে গুরুত্ব দিতে শেখাবে। এবার অন্যের প্রত্যাশার তালিকা নয়, নিজের জীবনের তালিকাটাও একবার দেখুন।

তুলা রাশি

তুলা রাশি

বন্ধু, পরিচিতি, সামাজিক যোগাযোগ ও ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনার ব্যস্ততা থেকে এবার একটু সরে এসে নিজের ভেতরের শান্তির দিকে মন যাবে। অনেক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও মনে হতে পারে, কিছুটা একা থাকতে ইচ্ছা করছে। এটিকে দুর্বলতা ভাববেন না; বরং মানসিকভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হিসেবেই দেখুন। পুরোনো কোনো বিষয়, সম্পর্ক কিংবা অসমাপ্ত কাজ নিয়ে ভেতরে–ভেতরে ভাবনা বাড়তে পারে। অর্থের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত খরচ, পুরোনো পাওনা কিংবা এমন কোনো ব্যয় সামনে আসতে পারে, যার কথা আপনি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন! তাই হিসাব পরিষ্কার রাখুন।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। কিছু অনুভূতিকে সময় দিলে তার প্রকৃত অর্থ বোঝা যায়। বন্ধুত্বেও বুঝতে পারবেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ শুধু অভ্যাস আর কার সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক। ঘুম, বিশ্রাম ও নিজের মানসিক স্বস্তিকে গুরুত্ব দিন। সবাইকে খুশি রাখার দায়িত্ব আপনার নয়। সমঝোতা সুন্দর, কিন্তু নিজের শান্তির বিনিময়ে নয়। এই পরিবর্তন আপনাকে বাইরের কোলাহল থেকে একটু দূরে গিয়ে নিজের ভেতরের প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করবে।

বৃশ্চিক রাশি

বৃশ্চিক রাশি

দীর্ঘদিনের কর্মব্যস্ততা, দায়িত্ব ও পরিশ্রমের পর এবার সেই পরিশ্রমের ফল পাওয়ার দিকে সময় এগোবে। কর্মক্ষেত্রে আপনার কাজের স্বীকৃতি বাড়তে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিচিতি ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করতে পারে। আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও বড় কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হিসাব পরিষ্কার করুন। নতুন পরিকল্পনা, দলগত কাজ কিংবা পরিচিত মানুষের সহযোগিতা কাজে আসবে। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কেউ আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, আবার কারও সঙ্গে দূরত্ব স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হতে পারে।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুরোনো অভিজ্ঞতা নতুন সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে অতীতের প্রতিটি ঘটনা বর্তমানের মানুষের ওপর প্রয়োগ করার দরকার নেই। সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা আপনার স্বভাব হতে পারে, কিন্তু সব উত্তর জোর করে বের করতে হয় না। কিছু মানুষ ও কিছু ঘটনা সময়ের হাতেই ছেড়ে দেওয়া ভালো। এবার শুধু কাজ করার নয়, কাজের ফল গ্রহণ করারও সময়। নিজের যোগ্যতার প্রতি আস্থা রাখুন, তবে সুযোগ এলে গ্রহণ করতেও ভুলবেন না।

ধনু রাশি

ধনু রাশি

শেখা, ভ্রমণ, নতুন চিন্তা ও জীবনের বড় প্রশ্ন নিয়ে ভাবার পর এবার সেই অভিজ্ঞতাকে বাস্তব কর্মজীবনে কাজে লাগানোর সময়। কোনো শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দূরের জায়গা কিংবা নতুন অভিজ্ঞতা আপনাকে এমন সুযোগ দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে পেশাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কর্মক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব আসতে পারে এবং আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পরীক্ষা হতে পারে। অর্থের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয়ের পরিকল্পনা জরুরি। আয় ভালো হলেও খরচ হিসাব করে করতে হবে।

বন্ধুদের মাধ্যমে নতুন সুযোগ বা প্রয়োজনীয় যোগাযোগ তৈরি হতে পারে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাজের ব্যস্ততার কারণে কাছের মানুষকে সময় কম দেওয়া হতে পারে, তাই সচেতনভাবে সময় বের করুন। নিজের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অন্যের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিন। শুধু নতুন কিছু জানার জন্য ছুটে বেড়ানো নয়—এবার যা শিখেছেন, সেটাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার পালা। জ্ঞান তখনই মূল্যবান, যখন তা সিদ্ধান্তকে বদলাতে পারে।

মকর রাশি

মকর রাশি

পুরোনো চাপ, অনিশ্চয়তা ও জটিলতার একটি পর্যায় পেরিয়ে এবার নতুন জ্ঞান, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোনোর সময়। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব বাড়তে পারে, তবে তার সঙ্গে প্রশংসা, স্বীকৃতি ও কর্তৃপক্ষের সমর্থনও পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সহকর্মীদের সহযোগিতা আপনার কাজকে অনেক সহজ করে দেবে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবার দৃশ্যমান ফল দিতে পারে। উচ্চশিক্ষা, নতুন কোনো বিষয়ে শেখা, দূরের কোথাও যাওয়া কিংবা নিজের চিন্তার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ আসতে পারে।

অর্থের ক্ষেত্রে আগের কোনো আটকে থাকা বিষয় মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অতীতের আর্থিক ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুরোনো অভিমানকে নতুন করে টেনে এনে বর্তমানকে ভারী করবেন না। আপনি সাধারণত দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে চলতে অভ্যস্ত; এবার অন্যের সহযোগিতাও গ্রহণ করুন। সবকিছু একা সামলানো শক্তির পরিচয় নয়। কখনো কখনো সঠিক মানুষের সহযোগিতা গ্রহণ করাও পরিণত বুদ্ধির লক্ষণ। এই পরিবর্তন আপনাকে শুধু টিকে থাকতে নয়, আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

কুম্ভ রাশি

কুম্ভ রাশি

সম্পর্ক, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার জায়গা থেকে এবার জীবনের আরও গভীর ও ব্যক্তিগত দিক সামনে আসবে। কাছের মানুষের সঙ্গে শুধু ভালো সময় কাটানো নয়; অর্থ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত দুর্বলতার মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে। যৌথ অর্থ, বিনিয়োগ, ঋণ, কর কিংবা সঙ্গীর আর্থিক সহযোগিতার বিষয় সামনে আসতে পারে। হঠাৎ কোনো আর্থিক সুবিধা বা অপ্রত্যাশিত সহায়তাও পাওয়া সম্ভব। তবে অর্থের ক্ষেত্রে আবেগের সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।

প্রেমের সম্পর্কে আকর্ষণ ও আবেগ বাড়তে পারে, কিন্তু তার সঙ্গে অধিকারবোধ বা সন্দেহ মিশে গেলে সমস্যা তৈরি হবে। কাছের মানুষটির প্রতিটি গোপন চিন্তা জানতে হবে—এমন দাবি সম্পর্ককে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে। বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করুন। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও গভীর সম্পর্কের মূল্য বুঝবেন। জীবনের এই পরিবর্তন আপনাকে শেখাবে, সত্যিকারের ঘনিষ্ঠতা শুধু পাশাপাশি থাকার নাম নয়; বরং একে অন্যের জটিলতা, ভয় ও দুর্বলতাকেও গ্রহণ করার ক্ষমতা। সব রহস্যের উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দরকার নেই—কিছু সত্য সময় নিজেই প্রকাশ করে।

মীন রাশি

মীন রাশি

কাজের চাপ, দায়িত্ব ও প্রতিদিনের ছোটখাটো সমস্যা সামলানোর ব্যস্ততা থেকে এবার মনোযোগ যাবে সম্পর্ক, অংশীদারত্ব ও কাছের মানুষের দিকে। কর্মক্ষেত্রে অন্যের সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে নিজের কাজ যেন পিছিয়ে না যায়। তবে সহযোগিতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, চুক্তি কিংবা যৌথ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্পষ্টতা খুব জরুরি।

ব্যক্তিগত সম্পর্কে গভীরতা বাড়বে; উপরিতলের কথাবার্তার চেয়ে সত্যিকারের বোঝাপড়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আবেগ তীব্র হলে সন্দেহ, অভিমান বা অধিকারবোধ বাড়তে পারে। তখন সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটু সময় নিন। যৌথ অর্থ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ কিংবা সঙ্গীর আর্থিক সহায়তার বিষয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। হঠাৎ কোনো আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলুন। আপনি অনেক সময় সবকিছু নিজে সামলে নিতে চান, কিন্তু এবার সেই অভ্যাস একটু বদলানো দরকার। সঠিক মানুষের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিলে পথ সহজ হয়। সব সমস্যার উত্তর আজই খুঁজতে হবে না—কিছু বিষয়কে সময় দিলে তারাই নিজের উত্তর নিয়ে সামনে আসে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
এক ভিসাতেই ঘোরা যাবে সৌদি-কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ
এক ভিসাতেই ঘোরা যাবে সৌদি-কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ

ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে চালু হতে যাচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’। এটি চালু হলে একটি ভিসা নিয়েই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় সদস্য দেশ- সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত ভ্রমণ করা যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, একক পর্যটন ভিসার পরিকল্পনা কেবল পর্যটন খাতের বিকাশেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও আরও জোরদার হতে পারে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, ব্যবসা ও বিনোদনসহ বিভিন্ন খাতকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে উপসাগরীয় দেশগুলোর যে উদ্যোগ, এই ভিসা তারই অংশ। শেনজেনের আদলে আঞ্চলিক পর্যটন ভিসা চালু ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জিসিসি অঞ্চল একটি সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। এতে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই জানান, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই একক পর্যটন ভিসা চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। বর্তমানে ছয়টি জিসিসি দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক বিদেশি নাগরিককে পৃথক ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে সেই জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে। একটি অনুমতিপত্রের মাধ্যমে পুরো জিসিসি অঞ্চলে পর্যটনের সুযোগ তৈরি হবে। এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ছয়টি উপসাগরীয় দেশকে একটি সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটন খাতের আয় বাড়ানো এবং দেশগুলোর মধ্যে ভ্রমণ সহজ করাও এর লক্ষ্য। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটকদের জন্যও প্রস্তাবিত ভিসা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আলাদা ভিসা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি পর্যটকদের জন্য বাড়তি জটিলতা তৈরি করে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে একই সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আধুনিক নগরজীবন, সৌদি আরবের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান, কাতারের পর্যটন আকর্ষণ এবং ওমানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার সুযোগ সহজ হতে পারে। তবে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’র আবেদন প্রক্রিয়া, ফি, অবস্থানের মেয়াদ এবং কোন দেশের নাগরিকরা কী শর্তে আবেদন করতে পারবেন- এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে নিয়ম ও নির্দেশনা জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: খালিজ টাইমস এসএএইচ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে পিকনিকের নৌকার ধাক্কা, একজন নিখোঁজ

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে পিকনিকের নৌকার ধাক্কা, একজন নিখোঁজ

২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের দখলে যাচ্ছে মালয়েশিয়া

২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের দখলে যাচ্ছে মালয়েশিয়া

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

ব্রিকস সম্মেলনে নজর কাড়ছে চীনা প্রেসিডেন্টের সুসজ্জিত লিমোজিন, কী আছে এতে
ব্রিকস সম্মেলনে নজর কাড়ছে চীনা প্রেসিডেন্টের সুসজ্জিত লিমোজিন, কী আছে এতে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ শনিবার বসছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আরও কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংও যোগ দিচ্ছেন। এ সফর ঘিরে ভূরাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নজর কাড়ছে তাঁর সরকারি গাড়িটি। বাইরে থেকে দেখতে এটি এক রাজকীয় লিমোজিন। তবে ভেতরে এটি এক সামরিক দুর্গ। গাড়িটির নাম ‘হংছি এন৭০১’।লাল পতাকা’র ঐতিহ্যচীনা ভাষায় ‘হংছি’ শব্দের অর্থ ‘লাল পতাকা’। এটি দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক। গাড়িটি তৈরি করেছে চীনের প্রাচীনতম রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এফএডব্লিউ গ্রুপ’। ১৯৫৮ সাল থেকে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য এ ব্র্যান্ড গাড়ি তৈরি করছে।আগে বিদেশ সফরে চীনা নেতারা আয়োজক দেশের দেওয়া গাড়ি ব্যবহার করতেন। সি চিন পিং সেই প্রথা ভেঙেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘দ্য বিস্ট’-এর মতো এখন তিনি যেখানেই যান, নিজস্ব সাঁজোয়া গাড়ি বিমানে করে সঙ্গে নিয়ে যান। এর আগে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর সফরেও এ গাড়ি ব্যবহার করেছেন তিনি।আগে বিদেশ সফরে চীনা নেতারা আয়োজক দেশের দেওয়া গাড়ি ব্যবহার করতেন। সি চিন পিং সেই প্রথা ভেঙেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘দ্য বিস্ট’-এর মতো এখন তিনি যেখানেই যান, নিজস্ব সাঁজোয়া গাড়ি বিমানে করে সঙ্গে নিয়ে যান। এর আগে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর সফরেও এ গাড়ি ব্যবহার করেছেন তিনি।আক্রমণ প্রতিরোধী বর্মপ্রায় ১৮ ফুট দীর্ঘ এ লিমোজিনের বিস্তারিত প্রযুক্তি ভীষণভাবে গোপনীয় রয়েছে। এর বাইরের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে সামরিক গ্রেডের পুরু আর্মার প্লেট।এ ছাড়া গাড়িটিতে রয়েছে ২১ ইঞ্চির বিশেষ ‘রান-ফ্ল্যাট’ চাকা। গুলিতে টায়ার ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও গাড়িটি তীব্র গতিতে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যেতে সক্ষম।জানালার কাচগুলো শতভাগ বুলেটপ্রুফ। ভারী অ্যাসল্ট রাইফেলের সরাসরি গুলি বা স্নাইপারের আঘাতও এই কাচ ভেদ করতে পারে না।গাড়ির পাটাতন এমনভাবে তৈরি, যাতে রাস্তার নিচে পেতে রাখা মাইন বা ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরিত হলেও আরোহী অক্ষত থাকেন।বিষাক্ত গ্যাস ও চাকার সুরক্ষাগাড়ির কেবিনে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় বায়ু পরিশোধন ব্যবস্থা। ফলে বাইরে কোনো রাসায়নিক বা বিষাক্ত গ্যাস হামলা হলেও কেবিনে বাইরের হাওয়া ঢুকতে পারে না। সার্বক্ষণিক কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহ চালু থাকে।বিশ্বমঞ্চে স্বদেশের তৈরি এমন দুর্ভেদ্য বাহন নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টের হাজির হওয়ার পেছনে রয়েছে গভীর কূটনৈতিক বার্তা। সি চিন পিং এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছেন—চীন এখন আর কারও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তারা নিজেরাই এক স্বয়ংসম্পূর্ণ পরাশক্তি।এ ছাড়া গাড়িটিতে রয়েছে ২১ ইঞ্চির বিশেষ ‘রান-ফ্ল্যাট’ চাকা। গুলিতে টায়ার ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও গাড়িটি তীব্র গতিতে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যেতে সক্ষম।ইঞ্জিন ক্ষমতা ও রাজনৈতিক বার্তাকয়েক টন ওজনের এ গাড়িকে দ্রুতগতিতে ছুটিয়ে নিতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী ভি-১২ ইঞ্জিন। ফলে এটি প্রায় ৪০৮ হর্সপাওয়ার তৈরি করতে পারে।চীনে আগামী এক দশকে এ মডেলের মাত্র ৫০টির মতো গাড়ি তৈরি করা হবে, যা শুধু শীর্ষ পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করা হবে।বিশ্বমঞ্চে স্বদেশের তৈরি এমন দুর্ভেদ্য বাহন নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টের হাজির হওয়ার পেছনে রয়েছে গভীর কূটনৈতিক বার্তা। সি চিন পিং এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছেন—চীন এখন আর কারও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তারা নিজেরাই এক স্বয়ংসম্পূর্ণ পরাশক্তি।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
কালো লেসের আবেদনে রাখঢাকহীন তৃণা

কালো লেসের আবেদনে রাখঢাকহীন তৃণা

মিষ্টিতে পোকা দেখিয়ে দোকানির কাছে আইফোন দাবি কনটেন্ট ক্রিয়েটর দম্পতির

মিষ্টিতে পোকা দেখিয়ে দোকানির কাছে আইফোন দাবি কনটেন্ট ক্রিয়েটর দম্পতির

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ জোর

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ জোর

বড় হচ্ছে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার, মাসে বিক্রি সাড়ে ৩ হাজার
বড় হচ্ছে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার, মাসে বিক্রি সাড়ে ৩ হাজার

দেশে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে যেখানে মাসে মাত্র ৯৬৯টি স্কুটার বিক্রি হয়েছিল, চলতি বছরের আগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৪১৪টি। এর আগে জ্বালানি সংকটের মধ্যে গত এপ্রিলে মাসিক বিক্রি বেড়ে প্রায় ৫ হাজারে উঠেছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম পরিচালন ব্যয় ও জ্বালানি সংকটের কারণে ইলেকট্রিক স্কুটারের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। জানা গেছে, দেশে বর্তমানে দুই চাকার যেসব ইলেকট্রিক বাহন দেখা যায় তার ৯০ শতাংশের বেশি স্কুটার। তার মধ্যে ই-বাইক রয়েছে খুবই অল্প পরিমাণে। মূলত, দাম বেশি হওয়ায় এখনো ইলেকট্রিক বাইক বা মোটরসাইকেল তেমন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না। তবে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার বড় হচ্ছে হু হু করে। সবশেষ আগস্টের বিক্রয় তথ্য অনুযায়ী, মাসটিতে ৩ হাজার ৪১৪টি ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকেল) স্কুটার বিক্রি হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে চীনা ব্র্যান্ড ইয়াদিয়ার স্কুটার বিক্রি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আগস্টে ব্র্যান্ডটি ৭৩৬টি স্কুটার বিক্রি করে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। ছবি: জাগো নিউজ গ্রাফিক্স এরপর রিভো ৫০০টি স্কুটার বিক্রি করে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং টেইলজি ৩৪৮টি স্কুটার বিক্রি করে ১০ দশমিক ২ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। একই সময়ে রাইডো ২৫৮টি এবং ওয়ালটন ১৮০টি ইলেকট্রিক স্কুটার বিক্রি করেছে। বাকি ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ স্কুটার বিক্রি হয়েছে অন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের। শিল্প খাতটির তথ্যমতে, গত বছরের নভেম্বরে ৯৬৯টি ইলেকট্রিক স্কুটার বিক্রি হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫২৯টিতে। মার্চে বিক্রি হয় প্রায় ২ হাজার ৫০০টি এবং জ্বালানি সংকটের মধ্যে এপ্রিলে সর্বোচ্চ প্রায় ৫ হাজার স্কুটার বিক্রি হয়। এরপর মে মাসে বিক্রি কমে প্রায় ৩ হাজারে নামলেও জুনে তা আবার বেড়ে ৩ হাজার ৮০০, জুলাইয়ে ৩ হাজার ৭৭৫ এবং আগস্টে বিক্রি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪১৪টিতে। এছাড়া গত ডিসেম্বরে ১২৮৯ ও জানুয়ারিতে ১৪১৭টি স্কুটার বিক্রি হয়। বিদ্যুৎচালিত স্কুটারের বিক্রি বেড়েছে ৭৫ শতাংশ দেশে বিদ্যুৎচালিত স্কুটারের মধ্যে ইয়াদিয়া, রিভো, আকিজ, ওয়ালটন ও রাইডো উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ইয়াদিয়া স্কুটার বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে রানার। রিভোর একটি ইলেকট্রিক স্কুটার/ছবি: সংগৃহীত   রানার অটোমোবাইল পিএলসির চিফ বিজনেস অফিসার মুহাম্মাদ আবু হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, গত অর্থবছরে মাসিক গড়ে প্রায় দুই হাজার স্কুটার বিক্রি হলেও চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে তা বেড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজারে উঠেছে। এ হিসাবে মাসিক গড় বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ। জুলাইয়ে বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৭৭৫টি, আর আগস্টে প্রায় ৩ হাজার ৪১৪টি। আরও পড়ুন উদ্ভাবনী ফিচার নিয়ে বাজারে ইলেকট্রিক স্কুটার ‘রাইডো’ জ্বালানি সংকটের সময় ইলেকট্রিক স্কুটারের বিক্রি আরও বেড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত এপ্রিলে বিক্রি প্রায় ৫ হাজারে উঠেছিল। এরপর মে মাসে ৩ হাজার, জুনে ৩ হাজার ৮০০ এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩ হাজার ৭৭৫টি স্কুটার বিক্রি হয়েছে। আগস্টে এসে বিক্রি কিছুটা কমে ৩ হাজার ৪১৪টিতে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎচালিত স্কুটারের মধ্যে দেশে রাইডো ব্র্যান্ডের স্কুটারই সবচেয়ে সাশ্রয়ী। ৫০ হাজার টাকার কমেও এই ব্র্যান্ডের স্কুটার পাওয়া যায়। রাইডোর একটি ইলেকট্রিক স্কুটার/ছবি: সংগৃহীত রাইডোর হেড অব মার্কেটিং শরীফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশের ইলেকট্রিক টু-হুইলারের বাজার এখনো মোট মোটরসাইকেলের বাজারের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ। তবে এই বাজারে প্রবৃদ্ধির গতি খুবই শক্তিশালী। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ৭ হাজারের বেশি ই-বাইক ও ই-স্কুটার বিক্রি হয়েছে। জুলাই থেকে আগস্টে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। একই সময়ে ই-বাইকের আমদানিও এক বছরে ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অর্থাৎ, বাজারটি এখন প্রাথমিক পর্যায় পেরিয়ে দ্রুত সম্প্রসারণের দিকে যাচ্ছে। কেন বাড়ছে বিক্রি জ্বালানির উচ্চমূল্য, জ্বালানি সংকট ও ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায় মানুষ এখন বৈদ্যুতিক বাহনের দিকে ঝুঁকছে। সরকারও দেশে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের প্রসারে আগ্রহী। এ বিষয়ে রানার অটোমোবাইল পিএলসির চিফ বিজনেস অফিসার মুহাম্মাদ আবু হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, দিন দিন মানুষ ইলেকট্রিক বাইকের দিকে ঝুঁকছে। এর প্রধান দুটি কারণ হলো—এটি পরিবেশবান্ধব এবং খরচ সাশ্রয়ী। এ দুই কারণে ক্রেতারা প্রচলিত জ্বালানিচালিত মোটরসাইকেলের পরিবর্তে ইলেকট্রিক বাইকের দিকে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। আরও পড়ুন রানার অটোমোবাইলস নিয়ে এলো ‘ইয়াদিয়া’র ইলেকট্রিক স্কুটার আবু হানিফ আরও বলেন, ই-বাইক একবার চার্জ দিলে মাত্র ১৪-১৫ টাকা খরচ হয় আর চলে ১০০ কিলোমিটার। পেট্রোলচালিত বাইকে ১ কিলোমিটার চললে সাড়ে চার টাকা খরচ হয়, আর ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল ১ কিলোমিটার চললে খরচ হয় ১৪ পয়সা। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সংকটের কারণে মানুষ তেলের পেরেশানি থেকে বাঁচতে এখন ইলেকট্রিক ভেহিকেলের দিকে ঝুঁকছেন। রাইডোর একটি ইলেকট্রিক স্কুটার/ছবি: সংগৃহীত জানতে চাইলে রাইডোর হেড অব মার্কেটিং শরীফুল ইসলাম বলেন, ইলেকট্রিক টু-হুইলারের বাজার বড় হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ এর কম পরিচালন ব্যয়। মডেল ও চার্জিং খরচভেদে একটি ইলেকট্রিক টু-হুইলার চালাতে প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ১৫ থেকে ২০ পয়সা খরচ হয়। বিপরীতে পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেলে জ্বালানি খরচ পড়ে প্রায় ২ থেকে ৩ টাকা। এর পাশাপাশি জ্বালানিনির্ভরতা কমানো, কম রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বাড়িতে চার্জ দেওয়ার সুবিধা এবং দৈনন্দিন যাতায়াতে সহজলভ্যতার কারণে গ্রাহকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। ৩০ সালে বছরে বিক্রি হতে পারে ৭০ হাজার ই-বাইক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ই-বাইক বাজারে প্রায় ১৫ শতাংশ হারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ইলেকট্রিক টু-হুইলার বিক্রি ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজারে পৌঁছাতে পারে। সে সময় বাজারটির বার্ষিক খুচরা মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে। এমন তথ্যই দিয়েছেন রাইডোর হেড অব মার্কেটিং শরীফুল ইসলাম। আরও পড়ুন আরও তিনটি শোরুম চালু করলো ইলেকট্রিক স্কুটার ব্র্যান্ড রাইডো তার মতে, চার্জিং নেটওয়ার্ক, ব্যাটারি সাপোর্ট, গ্রাহক পর্যায়ে অর্থায়ন এবং স্থানীয় উৎপাদন দ্রুত সম্প্রসারণ করা গেলে বছরে ৫০ হাজারের বেশি ইলেকট্রিক স্কুটার বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর বাংলাদেশের ইলেকট্রিক টু-হুইলার শিল্পের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধির সময় হতে পারে। ইয়াদিয়ার একটি ইলেকট্রিক স্কুটার/ছবি: সংগৃহীত ভবিষ্যৎ বাজার সম্পর্কে শরীফুল আরও বলেন, বাংলাদেশের ইলেকট্রিক ভেহিকেলের বাজারের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা অনেক বড়। সরকারের ইলেকট্রিক মোটর ভেহিকেল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড অপারেশন গাইডলাইনে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক পরিবহনের অন্তত ৩০ শতাংশ ইলেকট্রিক ভেহিকেলে রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত ইভি ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসিতে স্থানীয় উৎপাদন, অ্যাসেম্বলি ও চার্জিং অবকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জানতে চাইলে রানার অটোমোবাইল পিএলসির চিফ বিজনেস অফিসার মুহাম্মাদ আবু হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, দেশে ইলেকট্রিক বাইকের বাজার দ্রুত বাড়ছে। তিন-ছয় মাস আগেও মোট মোটরসাইকেলের বাজারে ইভির শেয়ার ছিল প্রায় ২ শতাংশ। এখন মাসে দেশে ৩০ থেকে ৩২ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রির মধ্যে ইলেকট্রিক বাইকের শেয়ার প্রায় ১০ শতাংশে উঠে এসেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইভির বাজার অংশীদারত্ব ৩০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আমরা আশা করছি। ইএইচটি/এমকেআর/এমএমএআর

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
পশু জবাইয়ের নতুন নির্দেশনা, কসাইখানা বন্ধ, এক ফিরোজের দীর্ঘশ্বাস

পশু জবাইয়ের নতুন নির্দেশনা, কসাইখানা বন্ধ, এক ফিরোজের দীর্ঘশ্বাস

যে ভবন রাত হলেই হয়ে উঠছে বিশাল ক্যানভাস

যে ভবন রাত হলেই হয়ে উঠছে বিশাল ক্যানভাস

স্মৃতির মুক্তো

স্মৃতির মুক্তো

0 Comments