কাজ শুরুর পর সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলেও মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
ছোট ড্রেন খুঁড়ে তৈরি করা হয়েছে বড় নালা। খোঁড়া মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে পাশেই সড়কের ওপর। গর্ত আর মাটির স্তূপের কারণে সড়কে আর চলাচলের কোনো জায়গা নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথ ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দারা।
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দেওভোগ বিলেরকানি থেকে শাহ আলম শেখের বাড়ি হয়ে খালপাড় পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ ঘিরে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, উন্নয়নকাজের কারণে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না।
এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, সড়কটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। দীর্ঘদিন এটি বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। তাই একদিকে চলাচলের ব্যবস্থা রেখে অন্যদিকে দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া দরকার। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পৌর কর্তৃপক্ষকে কার্যকরভাবে তদারকি করতে হবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বৈখর অনির্বাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শাহ আলম শেখের বিলেরকানি বাড়ি পর্যন্ত ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
এই অংশে ৩৯০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৩ হাজার টাকা। পাশাপাশি ওই পথে ৪৭৬ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) ও এএফডির (এজেন্সি ফ্রান্স ডেভেলপমেন্ট) অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে কাজটি হচ্ছে। দুটি প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শরীফ এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
গতকাল সোমবার সকালে বৈখর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজের জন্য সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি খনন করে রাখা হয়েছে। কোথাও মাটির স্তূপ, কোথাও বড় বড় নালা। পাশেই অনির্বাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে কিছু মানুষকে ওই পথ দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।
দুই শিশুশিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক বিউটি আক্তার। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় নালা। সড়কও উঁচু-নিচু। শুকনা অবস্থায়ও বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া যায় না, বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। বিকল্প পথে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরতে হয়। সামনে বাচ্চাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা। বিদ্যালয়ে না এসেও পারা যাচ্ছে না। কত ভোগান্তি আর গর্তে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়ক ও ড্রেনের কার্যাদেশ অনেক আগে হলেও প্রায় তিন মাস আগে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আর ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় ১০ দিন আগে। তাঁদের অভিযোগ, কাজ চলছে কচ্ছপগতিতে। খনন করা অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকছে। আবার খনন করা মাটি সড়কের অন্য অংশে ফেলে রাখায় চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দুই দিন কাজ করার পর আবার পাঁচ দিন কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে কাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে শহর ও বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। যাঁদের বাড়ি থেকে বের হলে এই পথ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই, তাঁদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এলাকাবাসীর আপত্তি নেই। বরং উন্নয়নকাজ হওয়ায় তাঁরা খুশি। তবে তাঁদের মূল অভিযোগ, কাজ শুরুর পর সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলেও মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। একই সঙ্গে ধীরগতিতে কাজ চলায় দুর্ভোগের মেয়াদও দীর্ঘ হচ্ছে।
বিকল্প পথে প্রতিদিন চলাচল করতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা রতন মৃধা। তিনি বলেন, ‘নির্মাণকাজের কারণে সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু সড়ক পুরোপুরি বন্ধ করে দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখলে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে আমাদের, যাঁদের সব কাজ শহরমুখী।’
সড়ক সরু হওয়ায় মাটি রাখার জায়গা না থাকায় সড়কের ওপরই মাটি রাখা হয়েছে বলে দাবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। শরীফ এন্টারপ্রাইজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাইদ টিটু প্রথম আলোকে বলেন, সড়কটি সরু। ড্রেনের জন্য মাটি কেটে কোথাও রাখার জায়গা নেই। তাই মাটি সড়কেই রাখা হয়েছে।
তবে উন্নয়নকাজের কারণে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঠিকাদারকে মানুষের জন্য চলাচলের ব্যবস্থা করে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সেই সঙ্গে কোনো কাজ নিয়ম মেনে না করা হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রাম বন্দর অভ্যন্তর থেকে তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় তদন্ত নিয়ে নতুন করে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় গত ১ সেপ্টেম্বর সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এর ছয় দিন পর, ৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার জন্য অভিযোগকারী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়। চিঠিতে ৯ সেপ্টেম্বর হাজির হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা বলা হলেও অভিযোগকারী ‘এস আর এস সিন্ডিকেট সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেড’ চিঠিটি পায় ১৫ সেপ্টেম্বর। বন্দর তদন্ত কমিটির দেওয়া ওই চিঠিতে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মালিকের মোবাইল নম্বরও ভুল দেওয়া হয়েছে। সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনটি করেছে। আরও পড়ুন চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েব এ বিষয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান ‘এস আর এস সিন্ডিকেট সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা ৩০ আগস্ট এফসিএল কনটেইনারটি খালাস নেওয়ার জন্য বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ডে যাই। কিন্তু ওইদিন কনটেইনারটি না পেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা কনটেইনারটি খুঁজে দেখার পরামর্শ দেয়। পরে ১ সেপ্টেম্বর আমরা লিখিত অভিযোগ দিই।’ তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে কনটেইনারটি নিয়ে বন্দরে দৌড়ঝাঁপ করছিলাম। কিন্তু বিষয়টি সুরাহা হচ্ছিল না। পরে ৭ সেপ্টেম্বর জাগো নিউজসহ গণমাধ্যমে কনটেইনার গায়েবের খবর প্রকাশের পর বন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি তড়িঘড়ি করে ৯ সেপ্টেম্বর সশরীরে হাজির হওয়ার সময় দিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি দেয়। চিঠিটি আমরা পাই ১৫ সেপ্টেম্বর।’ আরও পড়ুন চট্টগ্রাম বন্দর / ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েব: গ্রেফতার ২ হাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘চিঠিতে দেখা যায়, আমার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের শেষ দুই ডিজিট ৯৫-এর স্থলে ৫৯ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া কাস্টমস, সিঅ্যান্ডএফসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট সব ম্যানুয়ালে আমাদের সিঅ্যান্ডএজেন্টের ই-মেইল ঠিকানা আছে। চিঠির বিষয়টি আমাদের ই-মেইলে জানালে আমরা নির্ধারিত সময়ে তদন্ত কমিটির কাছে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতাম। এখানে মনে হচ্ছে, পুরো ঘটনাটি বন্দর জেনেশুনে চাতুরতার আশ্রয় নিচ্ছে।’ এ ব্যাপারে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের হোয়াটসঅ্যাপে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি অবগত করে বক্তব্য চাওয়া হয়। পরে মোবাইলে কথা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান চাইলে তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’ এদিকে, ৭ সেপ্টেম্বর জাগো নিউজে খবর প্রকাশের পর জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্যভর্তি কনটেইনার চুরির ঘটনা উল্লেখ করে ৮ সেপ্টেম্বর বন্দর থানায় মামলা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মামলায় ‘প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের দুই জেটি সরকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বিরুলিয়া ছোট কালিয়াকৈর এলাকার গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেড কাপড়ভর্তি কনটেইনারটি আমদানি করে। গত ৩০ আগস্ট ‘এসআরএস এসওয়াইএনডি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিমিটেড’ নামের সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান কনটেইনারটি খালাসের জন্য অনুমতি নেয়। পরে সিসিটি ইয়ার্ডে অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের কাছে গেলে দেখা যায়, কনটেইনারটি সেখানে নেই। সাইফ পাওয়ারটেক জানায়, গত ১১ আগস্ট কনটেইনারটি ডেলিভারির জন্য সিস্টেমে তালিকাভুক্ত করা হয়। নির্দিষ্ট তারিখে কনটেইনারটি গাড়িতে তোলার আগে কাগজপত্রে সিসিটি ও এনসিটি ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. এস্কান্দর ফারুকের যে সই দেওয়া হয়েছে, তা ছিল ভুয়া। পরবর্তীতে সিস্টেম চেক করে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চ বহিঃসহকারী নেয়ামূল হক সরকারের আইডি নম্বর ১৪৫৩২ ব্যবহার করে গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার সময় কনটেইনারটি সম্পর্কে সিস্টেমে ইনপুট দেওয়া হয়। এমডিআইএইচ/এমএএইচ/
ইরানি দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে সুইডেন ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্টকহোমে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের ওই কর্মকর্তাকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। তবে ঠিক কোন কর্মকাণ্ডের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি মন্ত্রণালয়। সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ওই কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড ছিল কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ বিষয়ে সুইডেনের বিচারমন্ত্রী গুনার স্ট্রোমার বলেছেন, ইরান সুইডেনের ভেতরে এবং সুইডেনের বিরুদ্ধে এমন কিছু কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, যা দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য ছিল ইরান সরকারের বিরোধীদের পাশাপাশি সুইডেনে থাকা বিভিন্ন ইহুদি ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। স্ট্রোমারের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে অপরাধী চক্রের সদস্যদেরও ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে সুইডেনের নিরাপত্তা সংস্থা সাপো অভিযোগ করেছিল, ইরান সুইডেনে ইসরায়েলি ও অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সহিংস কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য অপরাধী চক্রের সদস্যদের নিয়োগ করেছে। তবে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানি দূতাবাসের কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সুইডেন ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমএসএম
চামড়া শিল্পের প্রসারে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, চামড়াজাত শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী রাষ্ট্র। তাই এ শিল্পের প্রসারে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশকে স্বনির্ভর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কুটির শিল্প বিকাশের বিকল্প নেই। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের পাঁচদিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সংগ্রহ করা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতেই সরকারকে হিমশিম খেতে হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে জুতার কারখানা তৈরি করতে পারলে শতভাগ জুতা রপ্তানি করা সম্ভব। সরকারের পলিসি এমন হওয়া উচিত যেখানে ট্যানারির আশেপাশে বসতি করা হবে না। খাল-বিল নদীতে চামড়ার বর্জ্য গেলে এটি ভয়ঙ্কর বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। সে বিষয়টিও লক্ষ্য রাখতে হবে। আরও পড়ুন বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলার উদ্বোধন বেকার সমস্যা দূরীকরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিসিকের জায়গায় চকলেটসহ নানান কারখানা গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। পরে মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। মেলায় মোট ৪৯ স্টলের মধ্য ৪৩টি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উদ্যেক্তা অংশ নিয়েছেন বলে জানা যায়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নূরুজ্জামান এনডিসি ও বিসিক চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিল্প উদ্যোক্তারা বক্তব্য রাখেন। এনএইচ/এমকেআর