জাতীয়

নারী-শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
নারী-শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
নারী-শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘নারী-শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ: অংশীজন সংলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়। আজ বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এ সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সাংবাদিক, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান। তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন, নীতি এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবা ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, দ্রুত প্রতিকার, সহজলভ্য সেবা ও আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ে ঘাটতি রয়েছে।

তাহমিনা রহমান বলেন, দেশে শেল্টার হোমের সংখ্যা অপ্রতুল। নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরও শেল্টার সাপোর্ট প্রয়োজন।

সংলাপে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি রেজমিন সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ; উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোছা. লিজা বেগম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা আইভী আক্তার, ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী চিকিৎসক তাইয়েবা সুলতানা, নারীপক্ষের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কামরুন্নাহার, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, ঢাকার সহকারী পরিচালক প্রবীর দত্ত এবং নাগরিকতা-সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের (সিইএফ) ডেপুটি টিম লিডার ক্যাটরিনা কইনিগ বক্তব্য দেন।

বক্তারা নারী, শিশু ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, এনজিও, নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অন্তর্ভুক্তি, রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ে অনলাইনে প্রচার বাড়ানোর সুপারিশ করেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
দুই কোটি টাকার গাড়ি না কিনে কৃষকদের টাকা দিলেন অভিনেতা, কেন?
দুই কোটি টাকার গাড়ি না কিনে কৃষকদের টাকা দিলেন অভিনেতা, কেন?

বলিউডে নানা পাটেকারের রাগী স্বভাবের গল্প কম শোনা যায় না। তবে পর্দার বাইরের এই অভিনেতার মানবিক একটি দিকও রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। একবার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই কোটি টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কেনার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন নানা। কিন্তু কৃষক আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে বদলে ফেলেন সিদ্ধান্ত। গাড়ি না কিনে সেই অর্থই বিলিয়ে দেন অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে। সম্প্রতি নানা পাটেকারকে নিয়ে এমনই একটি ঘটনা জানিয়েছেন চিত্রনাট্যকার রণবীর পুষ্প। ১৯৯৬ সালের ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে নানার সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি। রণবীরের দাবি, নানা পাটেকারকে নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত অনেক ধারণাই সঠিক নয়। অভিনেতা নাকি প্রযোজকদের আর্থিক ক্ষতি করেন, এমন অভিযোগেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে নানার মানবিকতার একটি ঘটনা তুলে ধরেন রণবীর। তিনি জানান, একবার কৃষক আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পারেন নানা। সে সময় দেড় কোটি টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন অভিনেতা। কিন্তু পরিবারগুলোর পরিস্থিতির কথা জানার পর গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। এরপর সেই দেড় কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নানা। রণবীরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে সেই অর্থ পৌঁছে দেন অভিনেতা। রণবীর বলেন, যে মানুষ কৃষকদের চোখের জল মোছানোর চেষ্টা করেন, তিনি কারও ক্ষতি করতে পারেন না। কৃষকদের সহায়তার জন্য নানা ‘নাম’ নামে একটি সংস্থাও গড়ে তুলেছেন। ওই সংস্থার মাধ্যমে কৃষকদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে নানার রাগী স্বভাবের বিষয়টিও অস্বীকার করেননি রণবীর। তার দাবি, নানার রাগের পেছনেও অনেক সময় কারণ থাকে। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথাও জানান তিনি। রণবীরের ভাষ্য, একদিন চলন্ত গাড়ি থেকে এক ব্যক্তি প্লাস্টিকের বোতল রাস্তায় ছুড়ে ফেলছিলেন। বিষয়টি দেখে নানা গাড়ি থামিয়ে নিজেই বোতলটি তুলে নেন। পরে ট্রাফিক সিগন্যালে ওই গাড়িটি থামিয়ে চালককে জানালা খুলতে বলেন। সামনে মহাত্মা গান্ধীর ছবি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের বার্তা থাকা একটি বিজ্ঞাপনের দিকে ইঙ্গিত করে নানা ওই ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেন, দেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব কার? তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, একজন নাগরিক হিসেবে নিজের ব্যবহৃত আবর্জনা রাস্তায় না ফেলার দায়িত্ব প্রত্যেকেরই রয়েছে। রণবীরের মতে, ঘটনাটিকে নানার রাগ বলা যায় ঠিকই, তবে একই সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে সচেতন করার চেষ্টাও ছিল এতে। এদিকে, ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে নানার সঙ্গে কাজ করেছিলেন অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। সেই সময় দুজনের মধ্যে প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। এ প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন রণবীর। তার দাবি, নানা ও মনীষার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেটি বন্ধুত্ব নাকি প্রেম তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে দুজন একে অপরকে বুঝতেন এবং শুটিংয়ের আগে নিজেদের দৃশ্য নিয়ে আলোচনা করতেন বলে জানান তিনি। নানা পাটেকার ও মনীষা কৈরালা একসঙ্গে ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘অগ্নিসাক্ষী’ ও ‘যুগপুরুষ’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাদের জুটি নিয়ে সেই সময়েও দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ।   এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে রাজধানীতে জামায়াতের গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ

ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে রাজধানীতে জামায়াতের গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ

ধসে পড়লো হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা, আহত ৪

ধসে পড়লো হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা, আহত ৪

নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল তাঁরা

নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল তাঁরা

পাকিস্তান-চীনের নতুন সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান ভারতের
পাকিস্তান-চীনের নতুন সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান ভারতের

পাকিস্তান ও চীনের নতুন সীমান্ত কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো ধরনের সীমান্ত-সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি ভিত্তি নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন নামে যে কাঠামো চালু করা হয়েছে, ভারত তা মেনে নিচ্ছে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের এই উদ্যোগ ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এসব ভূখণ্ড নিয়ে অন্য কোনো দেশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব এলাকায় পাকিস্তানের কোনো ধরনের চুক্তি বা সমঝোতায় যাওয়ার অধিকার নেই। ভারত বিশেষভাবে ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির কথাও উল্লেখ করেছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত গিলগিট-বালতিস্তান ও চীনের শিনজিয়াংয়ের মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ভারত দীর্ঘদিন ধরে এই চুক্তিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ বলে আসছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের অবস্থান পরিবর্তন বা সেখানে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করবে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর প্রভাব ফেলে। কী বলেছে পাকিস্তান? এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাকিস্তান জানিয়েছে, এই কমিশনের মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। অর্থাৎ ইসলামাবাদ এই উদ্যোগকে মূলত পাকিস্তান-চীন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে নয়াদিল্লি বলছে, ভারতীয় ভূখণ্ডকে ঘিরে এমন কোনো উদ্যোগের আইনি বৈধতা তারা স্বীকার করে না। পুরোনো বিরোধে নতুন মাত্রা পাকিস্তান ও চীনের সীমান্ত সহযোগিতা নিয়ে ভারতের আপত্তি নতুন নয়। এর আগে চীন-পাকিস্তান যৌথ বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ ওঠার পরও ভারত আপত্তি জানিয়েছিল। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নিয়ে কোনো তৃতীয় দেশের মন্তব্য বা চুক্তি ভারতের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে না। ফলে নতুন সীমান্ত কমিশনকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি চীনের ভূমিকাও আবার আলোচনায় এসেছে। একদিকে পাকিস্তান ও চীন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ বাড়ানোর কথা বলছে, অন্যদিকে ভারত স্পষ্ট করেছে যে ভারতীয় দাবিকৃত ভূখণ্ড নিয়ে দুই দেশের যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা তারা স্বীকার করবে না। এই অবস্থায় পাকিস্তান-চীন সীমান্ত সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধে আরও একটি কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। সূত্র: এনডিটিভি এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ঠাকুরগাঁও-১: বিএনপির মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন মির্জা ফখরুলের ভাইসহ ৩ জন

ঠাকুরগাঁও-১: বিএনপির মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন মির্জা ফখরুলের ভাইসহ ৩ জন

বাখরাবাদের অভিযানে ৩০ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

বাখরাবাদের অভিযানে ৩০ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা সব সংঘাতের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে: চরমোনাই পীর

মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা সব সংঘাতের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে: চরমোনাই পীর

ডাকসুর নেতারা আরও ৩ মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন, তবে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে রুটিন কাজে
ডাকসুর নেতারা আরও ৩ মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন, তবে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে রুটিন কাজে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছরের নিয়মিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন বা তিন মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন নির্বাচিত নেতারা। এ সময় তাঁদের দায়িত্ব মূলত রুটিন কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। গত সোমবার ডাকসুর বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। এ কারণে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী, অতিরিক্ত ৯০ দিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন বর্তমান নেতারা। এর আগে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে তাঁদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে।ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (গ) উপধারা অনুযায়ী, নির্বাচিত পদাধিকারীরা ৩৬৫ দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে নির্বাচিত সদস্যরা অতিরিক্ত ৯০ দিন অথবা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত—যেটি আগে ঘটে—দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ডাকসু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।তবে নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরের এই সময়ে ডাকসুর বর্তমান নেতাদের দায়িত্ব রুটিন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তাঁরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রথম আলোকে বলেন, এই সময়ে ডাকসু নেতাদের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার থাকবে না। তাঁরা শুধু অফিশিয়াল কাজ করতে পারবেন। যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাজের নথিতে ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং সেগুলো সম্পন্ন না হলে সমস্যা হবে, শুধু সেসব কাজই তাঁরা করতে পারবেন।নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রত্ব থাকা সাপেক্ষে ডাকসু থেকে নির্বাচিত বর্তমান নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন।দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি বর্তমান কমিটিরঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর কার্যালয়ে যান ডাকসু নেতারা। উপাচার্য চীন সফরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় তাঁকে না পেয়ে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর কাছে তাঁরা এ দাবি জানান।সাক্ষাৎ শেষে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর ডাকসুর বর্তমান কমিটির নিয়মিত মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ডাকসুর সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও তিন মাস বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে তাঁরা সেই মেয়াদ বাড়াতে চান না। প্রশাসনের কাছে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি উল্লেখ করে ফরহাদ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবারও সেই ঘোরপ্যাঁচের উত্তর দেওয়া হয়েছে—‘আমরা চেষ্টা করছি, আমরা জানাব।’নতুন নির্বাচন কবেবর্তমান ডাকসুর নিয়মিত মেয়াদ শেষ হলেও এখনো নতুন নির্বাচনের তারিখ বা তফসিল ঘোষণা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ডাকসুর নেতারা দাবি করেছিলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনই যেন নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন কবে হবে, এ বিষয়ে বুধবার সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রথম আলোকে জানান, ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ আন্তরিক। কারণ, তারা চায় ডাকসু কার্যকর থাকুক।অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, ইতিমধ্যে সব হলের প্রভোস্টদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ চারজনের একটি সভা হয়েছে। সেখানে তাঁদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রভোস্টদের বলা হয়েছে, তাঁরা যেন হলের ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গেও প্রশাসন আলাদাভাবে বসবে।অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী আরও বলেন, তাঁরা চান অধিকসংখ্যক ও বড় বড় ছাত্রসংগঠন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এবং ডাকসুকে কার্যকর করে তুলুক। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রস্তাব নিয়ে যখন সব সংগঠন সম্মিলিত ও সর্বসম্মতভাবে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য প্রশাসনকে বলবে, তখনই তফসিল ঘোষণা করা হবে। সে লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ঢিল ছুড়ে মশার ওষুধ বাছাই, ধোঁয়া দেওয়ার ২০ মিনিট পর নকডাউন পরীক্ষা

ঢিল ছুড়ে মশার ওষুধ বাছাই, ধোঁয়া দেওয়ার ২০ মিনিট পর নকডাউন পরীক্ষা

দৌড়ে পালানোর চেষ্টা, ধাওয়া দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে ধরলো পুলিশ

দৌড়ে পালানোর চেষ্টা, ধাওয়া দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে ধরলো পুলিশ

বাংলাদেশের কাছে ধাক্কা খাওয়া অস্ট্রেলিয়া আগের মতো নেই, বললেন ডোনাল্ড

বাংলাদেশের কাছে ধাক্কা খাওয়া অস্ট্রেলিয়া আগের মতো নেই, বললেন ডোনাল্ড

0 Comments