জাতীয়

ডাকসুর নেতারা আরও ৩ মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন, তবে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে রুটিন কাজে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ডাকসুর নেতারা আরও ৩ মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন, তবে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে রুটিন কাজে
ডাকসুর নেতারা আরও ৩ মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন, তবে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে রুটিন কাজে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছরের নিয়মিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন বা তিন মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন নির্বাচিত নেতারা। এ সময় তাঁদের দায়িত্ব মূলত রুটিন কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

গত সোমবার ডাকসুর বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। এ কারণে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী, অতিরিক্ত ৯০ দিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন বর্তমান নেতারা। এর আগে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে তাঁদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে।

ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (গ) উপধারা অনুযায়ী, নির্বাচিত পদাধিকারীরা ৩৬৫ দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে নির্বাচিত সদস্যরা অতিরিক্ত ৯০ দিন অথবা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত—যেটি আগে ঘটে—দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ডাকসু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

তবে নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরের এই সময়ে ডাকসুর বর্তমান নেতাদের দায়িত্ব রুটিন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তাঁরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রথম আলোকে বলেন, এই সময়ে ডাকসু নেতাদের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার থাকবে না। তাঁরা শুধু অফিশিয়াল কাজ করতে পারবেন। যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাজের নথিতে ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং সেগুলো সম্পন্ন না হলে সমস্যা হবে, শুধু সেসব কাজই তাঁরা করতে পারবেন।

নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রত্ব থাকা সাপেক্ষে ডাকসু থেকে নির্বাচিত বর্তমান নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন।

দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি বর্তমান কমিটির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর কার্যালয়ে যান ডাকসু নেতারা। উপাচার্য চীন সফরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় তাঁকে না পেয়ে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর কাছে তাঁরা এ দাবি জানান।

সাক্ষাৎ শেষে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর ডাকসুর বর্তমান কমিটির নিয়মিত মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ডাকসুর সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও তিন মাস বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে তাঁরা সেই মেয়াদ বাড়াতে চান না। প্রশাসনের কাছে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি উল্লেখ করে ফরহাদ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবারও সেই ঘোরপ্যাঁচের উত্তর দেওয়া হয়েছে—‘আমরা চেষ্টা করছি, আমরা জানাব।’

নতুন নির্বাচন কবে

বর্তমান ডাকসুর নিয়মিত মেয়াদ শেষ হলেও এখনো নতুন নির্বাচনের তারিখ বা তফসিল ঘোষণা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ডাকসুর নেতারা দাবি করেছিলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনই যেন নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন কবে হবে, এ বিষয়ে বুধবার সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রথম আলোকে জানান, ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ আন্তরিক। কারণ, তারা চায় ডাকসু কার্যকর থাকুক।

অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, ইতিমধ্যে সব হলের প্রভোস্টদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ চারজনের একটি সভা হয়েছে। সেখানে তাঁদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রভোস্টদের বলা হয়েছে, তাঁরা যেন হলের ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গেও প্রশাসন আলাদাভাবে বসবে।

অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী আরও বলেন, তাঁরা চান অধিকসংখ্যক ও বড় বড় ছাত্রসংগঠন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এবং ডাকসুকে কার্যকর করে তুলুক। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রস্তাব নিয়ে যখন সব সংগঠন সম্মিলিত ও সর্বসম্মতভাবে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য প্রশাসনকে বলবে, তখনই তফসিল ঘোষণা করা হবে। সে লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন মোদি
নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি।বৃহস্পতিবার রাতে এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা। জন্মদিনে আপনার জন্য রইল অনেক শুভকামনা। ভারতের জনগণের প্রতি আপনার নিবেদিত সেবার পথচলা সব সময় সুস্বাস্থ্য ও প্রফুল্লতার সঙ্গে অব্যাহত থাকুক।’বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই পোস্ট দেওয়ার আধা ঘণ্টার মাথায় তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এক্সে তারেক রহমানের পোস্ট শেয়ার করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আপনার আন্তরিক শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আপনার সদয় কথাগুলোকে আমি গভীরভাবে মূল্যায়ন করছি।’বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ৭৬তম জন্মদিন পার করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
মানুষের অজানাকে জানার চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা ‘চাঁদের পাহাড়’

মানুষের অজানাকে জানার চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা ‘চাঁদের পাহাড়’

জেলা জজ বা সমপর্যায়ের ৪০ জনসহ ৯৯ বিচারককে বদলি-পদায়ন

জেলা জজ বা সমপর্যায়ের ৪০ জনসহ ৯৯ বিচারককে বদলি-পদায়ন

১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান

১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান

কম দামি সিগারেটের দাম আবারও বাড়ল
কম দামি সিগারেটের দাম আবারও বাড়ল

দেশে সিগারেটের দাম আবার বেড়েছে। নিম্নস্তরের বা কম দামি প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের প্যাকেটের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা করা হয়েছে।গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছিল। এর দুই মাসের মাথায় নিম্নস্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য আরও ৩ টাকা বাড়ানো হলো। তবে অন্য তিন স্তরের সিগারেটের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাঝারি স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য আগের মতোই ৯২ টাকা থাকবে। আর উচ্চ স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ২১০ টাকা বা এর বেশি বহাল থাকছে।২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার চারটি স্তরেই সিগারেটের দাম বাড়িয়েছিল। তবে সর্বশেষ এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু নিম্নস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।সম্প্রতি মন্ত্রিসভা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সিগারেটকে সাধারণত চারটি মূল্য স্তরে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে বাজারের সবচেয়ে কম দামি সিগারেটগুলো নিম্নস্তরের অধীনে ধরা হয়।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
‘অ্যাটলাস ইভি’র চার বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বাজারে

‘অ্যাটলাস ইভি’র চার বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বাজারে

নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তৈরি কমিক বই পড়ানো হবে পশ্চিমবঙ্গের শিশু স্কুলে

নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তৈরি কমিক বই পড়ানো হবে পশ্চিমবঙ্গের শিশু স্কুলে

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কী উদ্যোগ, প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কী উদ্যোগ, প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

আবাহনী মাঠের বরাদ্দ বাতিল, দেখভাল করবে সরকার
আবাহনী মাঠের বরাদ্দ বাতিল, দেখভাল করবে সরকার

কাগজে-কলমে ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ হলেও মাঠটা ‘আবাহনী মাঠ’ নামেই বেশি পরিচিত। মোট ১০.৬৪৯ একর জায়গার মধ্যে ১ একর জমি ক্লাবের নিজস্ব; বাকি ৯.৬৪৯ একর ১৯৯৮ সালে সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ পেয়েছিল আবাহনী। কিন্তু জমির ‘সালামি’ বা বাৎসরিক কিস্তির টাকা বকেয়া পড়ার কথা জানিয়ে গত ১১ মে বরাদ্দ বাতিল করে ক্লাবকে চিঠি দিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।বরাদ্দ বাতিল করে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জমির মূল মালিক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আজ সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ই এখন থেকে মাঠটি দেখভাল করবে।‘শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব মাঠ’ নামে পরিচিত আগের ধানমন্ডি মাঠটি নিয়েও দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।১৯৭২ সালে ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাঠের একপাশে আবাহনীর ফুটবল দলের অনুশীলন হতো। আরেক পাশের অংশ ক্রিকেট মাঠ; যেখানে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ছাড়াও ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন আসর বসত। মাঠের এই অংশ সর্বসাধারণের খেলাধুলার জন্যও উন্মুক্ত ছিল। সেই সময়টা হারিয়ে গেছে বেশ কয়েক বছর আগেই, যখন মাঠের একপাশে আবাহনী ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু হয়। এরপর থেকেই ‘আবাহনী মাঠ’ আর আগের চেহারায় নেই। ২০২৪ সালে সরকার বদলের পর কমপ্লেক্সের অবশিষ্ট ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কাজও আর এগোয়নি।জমির মূল মালিক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আজ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করেছেশর্ত অনুযায়ী বরাদ্দের বিপরীতে সালামি ও ভূমি কর; এই দুই ভাগে আবাহনীর সরকারকে অর্থ পরিশোধ করতে হতো। সর্বশেষ খাজনা ছিল বছরে ৬৩ হাজার ৯০০ টাকা এবং সালামি বছরে ৫০ হাজার টাকা। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, শর্ত ভঙ্গ হওয়ায় আবাহনী লিমিটেডের অনুকূলে দেওয়া ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠের বরাদ্দ ও সম্পাদিত ইজারা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। ৩ আগস্ট ইজারা পুনর্বহালের জন্য আবাহনীর তৎকালীন ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু আবেদন করলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাতে সাড়া দেয়নি বলে জানান ক্লাবটির ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান এবং প্রশাসক আশিষ রায় চৌধুরী।১৯৭২ সালে ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই মাঠ ব্যবহার করে আসছিল আবাহনীআজ সন্ধ্যায় ক্লাব ভবনে বসে তিনি প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভূমি কর পরিশোধ করা হয়েছে এবং সালামির টাকা পরিশোধ করা আছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। আশিষ বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী দুই বছরের সালামি বকেয়া পড়লে বরাদ্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। কিন্তু আমাদের বকেয়া বাকি শুধু ২০২৫ সালের। এ বছর আমরা ব্যাংকে গিয়ে দেখি সিস্টেমে সালামি ফি নিচ্ছে না, পোর্টাল ব্লক। অথচ দেড় শতাংশ জরিমানা দিয়ে এক বছরের বকেয়া পরিশোধ করার নিয়ম আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সুযোগ আমরা পাইনি।’আবাহনীর বরাদ্দ বাতিলের পর মাঠ উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলেছে সরকারআবাহনীর অন্যতম পরিচালক শেখ বশীর আহমেদের দাবি, ‘এটা করেছেন আসিফ সাহেব (সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া)। তিনি তখন এই বরাদ্দ বাতিল করেন। আমরা তা জেনেছি অনেক পরে।’তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে দুজন মন্ত্রীই বলেছেন, জটিলতার জন্যই বরাদ্দ বাতিল করে যুব মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আমাদের বলেছে, এটা আবাহনীকে আবার বরাদ্দ দেওয়া হবে।’এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, ‘আমরা মাঠটা উন্মুক্ত করে দেব, যাতে সবাই খেলতে পারে। যে কাঠামো আছে, সেটা রেখেই কীভাবে মাঠে খেলাধুলা রাখা যায়, সেই ব্যবস্থা করা করা হবে।’

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
সমালোচনার মুখে ‘অচেনা’ তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

সমালোচনার মুখে ‘অচেনা’ তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

৩০ বলে সেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লেতে বিশ্ব রেকর্ড—ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অভিষেকের ইতিহাস

৩০ বলে সেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লেতে বিশ্ব রেকর্ড—ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অভিষেকের ইতিহাস

রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এবং অন্যান্য খবর

রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এবং অন্যান্য খবর

0 Comments