জাতীয়

‘অ্যাটলাস ইভি’র চার বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বাজারে

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
‘অ্যাটলাস ইভি’র চার বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বাজারে
‘অ্যাটলাস ইভি’র চার বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বাজারে

অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙার পর থেকেই শুরু হয় সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। কর্মব্যস্ত নগরজীবনে প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময়ে ছুটতে হয় অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা নির্ধারিত কাজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। রাস্তায় বের হলেই বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়, যানবাহনের সারি আর যানজট পেরিয়ে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশের সাম্প্রতিক জ্বালানিসংকট। দিনের ব্যস্ততম সময়ে ফুয়েল স্টেশনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করা, বাড়তি খরচ এবং সময়ের হিসাব—সব মিলিয়ে প্রতিদিনের যাতায়াত হয়ে উঠছে আরও চ্যালেঞ্জিং।

শহরের এমন ব্যস্ততা ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে সময় বাঁচিয়ে সহজে চলাচলের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দুই চাকার ইলেকট্রনিক ভেহিকেল (ইভি)। জ্বালানি খরচের চাপ কমানোর পাশাপাশি যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা থাকায় এই বিশেষ ধরনের বাইক হয়ে উঠছে দৈনন্দিন যাতায়াতের একটি বাস্তবসম্মত অনুষঙ্গ। আর সহজ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে সিনিয়র সিটিজেন এবং নারীদের জন্যও এটি সুবিধাজনক একটি যাতায়াতের সমাধান।

ব্যস্ত জীবনে বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা

বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) অধীন এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অ্যাটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিএল) দেশে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে চীনের ঝেজিয়াং লুইউয়ান ইলেকট্রিক ভেহিকেল কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার (ওইএম) ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের বৈদ্যুতিক বাহন খাতের বিকাশ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়াই এর অন্যতম লক্ষ্য।

উদ্যোগটির অংশ হিসেবে ৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাটলাস ইভি বাজারজাত করছে। সম্প্রতি তারা বাজারে এনেছে নতুন মডেলের চারটি অ্যাটলাস ইভি। মডেলগুলো হলো এস৭০, এস৮০, এস৯০-এ এবং এস১০০।

দৈনন্দিন শহুরে চলাচল থেকে শুরু করে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বের যাতায়াত—ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী মডেলগুলোয় রাখা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মোটর, ব্যাটারি, রেঞ্জ ও অন্যান্য ফিচার।

‘এস৭০’ মডেলের ইভিটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারে

কোন বাইকে কেমন মোটর ও ব্যাটারি

অ্যাটলাস ইভির মডেল এস৭০-এ রয়েছে ৬০ ভোল্ট, ৬০০ ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর ও ৬০ ভোল্ট ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারি। এস৮০ ও এস৯০-এ মডেলে রয়েছে ৭২ ভোল্ট ১ হাজার ২০০ ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর ও ৭২ ভোল্ট ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারি। আর এস১০০-এ রয়েছে ৭২ ভোল্ট ও ২ হাজার ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর। এতে ৭২ ভোল্ট ৩৫ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন অথবা ৭২ ভোল্ট ৩২ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার লেড অ্যাসিড ব্যাটারির বিকল্প রয়েছে।

এক চার্জে কত দূর, ছুটবে কত গতিতে

এস৭০ মডেলের ইভিটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারে। এস৮০ ও এস৯০-এ মডেল দুটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার এবং রেঞ্জ ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। আর এস১০০ মডেলের ইভিটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার রেঞ্জ দিতে পারে।

‘এস৮০’ মডেলে রয়েছে ৭২ ভোল্ট ১২০০ ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর এবং ৭২ ভোল্ট ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারি

ব্রেকিং সিস্টেম ও টায়ারে যা থাকছে

ব্রেকিংয়ের ক্ষেত্রে এস৭০ মডেলটিতে রয়েছে ১৮০ মিলিমিটার ডিস্ক ব্রেক ও সিরামিক ড্রাম ব্রেক। এস৮০-তে রয়েছে ডিস্ক ব্রেক, আর এস৯০-এ-তে রয়েছে ডিস্ক বা ডিস্ক ব্রেক। এস৮০-তে ব্যবহার করা হয়েছে ৩.০০-১০ অ্যান্টি-পাংচার টায়ার এবং এস৯০-এ-তে ৯০/৮০-১২ রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার। এস১০০-এ সামনে ও পেছনে ১৮০ মিলিমিটার ডিস্ক ব্রেক এবং ৯০/৯০-১২ রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার রয়েছে। এস৭০-তেও রয়েছে রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার।

বাংলাদেশের বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে ‘এস৯০’ মডেলসহ সব মডেলেই ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধা রয়েছে

ওজন ও ক্লাইম্বিং অ্যাবিলিটি

ব্যাটারিসহ এস৭০ মডেলের ইভিটির ওজন ৯৫ কেজি, এস৮০-এর ১০২ কেজি এবং এস৯০-এ-এর ১২১ কেজি। এস১০০-এর ওজন ব্যাটারির ধরন অনুযায়ী ১২৮ বা ১৩৫ কেজি। ক্লাইম্বিং অ্যাবিলিটির ক্ষেত্রে এস৮০ ও এস৯০-এ ১২ ডিগ্রি পর্যন্ত এবং এস১০০ ১৪ ডিগ্রি পর্যন্ত ঢাল অতিক্রম করতে পারে।

‘এস১০০’ মডেলের ইভিটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার রেঞ্জ দিতে পারে

নিরাপত্তা ও ওয়ারেন্টি

চারটি মডেলেই এনএফসি অ্যান্টি-থেফট সিস্টেম রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে সব মডেলেই ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধা রয়েছে। অ্যাটলাস ইভির চারটি মডেলের মোটরের জন্য পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়েছে।

অ্যাটলাস ইভির স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক বলেন, শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিনের যাতায়াত এখন শুধু দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয় নয়; পরিবেশ, জ্বালানি ও টেকসই পরিবহনের বিষয়টিও সামনে আসছে। বাংলাদেশ সরকারও আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় রুফটপ সোলার ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে আরও পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানিব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক আরও বলেন, ‘সেই বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলও প্রচলিত জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের পাশাপাশি একটি বিকল্প তৈরি করছে। “গো উইথ গ্রিন” স্লোগানে অ্যাটলাস ইভিগুলো দৈনন্দিন যাতায়াতে পরিবেশবান্ধব বাহনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ভূমিকা রাখছে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসিকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে
ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসিকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে

সরকার ও পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা পুলিশ কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসানকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ছড়িয়ে পড়া অডিওর বিষয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে এ ধরনের অনুসন্ধান করতে হয়।তবে অনুসন্ধান কি ডিবি করছে নাকি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কোনো কমিটির অধীনে হচ্ছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি ওই কর্মকর্তা। কখন রাকিবুল হাসানকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে, সেটিও তিনি জানাতে চাননি। রাত ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় রাকিবুল হাসান ডিবি কার্যালয়ে ছিলেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।পুলিশের পরিদর্শক রাকিবুল হাসান ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে ছিলেন। গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাকিবুল হাসানকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অডিওটি রাকিবুল হাসানের বলে প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছে।অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায় রাকিবুল হাসানকে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশে বিভিন্ন পদে পদায়নে অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন।এই অডিও রেকর্ড নিয়ে আলোচনার মধ্যে বুধবার রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপির সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা অফিস আদেশে এর পেছনে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়।ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে রাকিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।‘চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না’, অডিও ছড়ানোর পর ওসি প্রত্যাহার

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
এক্সে পোস্ট করে নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা তারেক রহমানের, ধন্যবাদ জানালেন মোদি

এক্সে পোস্ট করে নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা তারেক রহমানের, ধন্যবাদ জানালেন মোদি

মানুষের অজানাকে জানার চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা ‘চাঁদের পাহাড়’

মানুষের অজানাকে জানার চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা ‘চাঁদের পাহাড়’

জেলা জজ বা সমপর্যায়ের ৪০ জনসহ ৯৯ বিচারককে বদলি-পদায়ন

জেলা জজ বা সমপর্যায়ের ৪০ জনসহ ৯৯ বিচারককে বদলি-পদায়ন

১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান
১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান

২০৩০ বিশ্বকাপের সুদূর দিগন্তকে চোখে রেখে নতুন এক ভোরের সুর বেঁধেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। আর সেই নবযাত্রার ক্যানভাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠে এসেছে এক ১৬ বছরের কিশোর—কাভান সুলিভান।সুলিভান নামটা পরিচিত ঠেকছে? ঠিকই ধরেছেন, বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের দুই ফুটবলার রোনান ও ডেকলান সুলিভানের ভাই এই কাভান। তাঁদের নানি সুলতানা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসত গড়েছিলেন।পেরু, চিলি, মেক্সিকো ও কানাডার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য পচেত্তিনোর ঘোষিত ২৮ জনের দলে সুলিভানসহ ঠাঁই পেয়েছেন আটজন উঠতি তরুণ। কেবল ফুটবলের ব্যাকরণে নয়, রোমাঞ্চের নতুন অধ্যায় হয়ে দলে নাম লিখিয়েছে এই টিনএজার।মরিসিও পচেত্তিনো, কোচ, যুক্তরাষ্ট্র যে আলো আজ ওকে ঘিরে আছে, তার পুরোটাই ওর প্রাপ্য। সে ভালো খেলছে, গোল করছে, করাচ্ছে। বয়সটা তার মাত্র ১৬, এখনো শৈশবের ঘ্রাণ গায়ে।ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সবুজ গালিচায় যার ফুটবলার হয়ে ওঠা, সেই বিস্ময়–বালক ২৮ সেপ্টেম্বর পা দেবে ১৭-তে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে তাকে ভাবা হচ্ছে সোনালি সম্ভাবনার প্রতীক। বল পায়ে তার জাদুকরি ছন্দ ইতিমধ্যেই কাঁপিয়ে দিয়েছে ইংলিশ পরাশক্তি ম্যানচেস্টার সিটিকে—আঠারোর কোঠায় পা রাখলেই যে কিশোরের নতুন ঠিকানা হবে ইতিহাদ স্টেডিয়াম।এমএলএসে সান দিয়েগোর বিপক্ষে গোল করার পর ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের জার্সিতে কাভান সুলিভানের উল্লাসমেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ১৬টি ম্যাচে শুরুর একাদশে নেমে বল পায়ে একের পর এক চিত্রকর্ম এঁকেছেন সুলিভান—করেছেন ৬টি গোল, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৯টি। সুলিভানের এই রাজকীয় পদার্পণকে কেবল সুযোগ নয়, তার প্রতিভার অবধারিত স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন পচেত্তিনো।কিশোরের প্রশংসায় মুগ্ধ পচেত্তিনোর কণ্ঠে যেন ঝরে পড়ল মুগ্ধতার সুর, ‘যে আলো আজ ওকে ঘিরে আছে, তার পুরোটাই ওর প্রাপ্য। সে ভালো খেলছে, গোল করছে, করাচ্ছে। বয়সটা তার মাত্র ১৬, এখনো শৈশবের ঘ্রাণ গায়ে। তবে আমাদের জন্য আনন্দের বিষয় হলো, এবার তার সঙ্গে একসূত্রে বাঁধার সুযোগ এসেছে। জাতীয় দলের আঙিনায় ওর সঙ্গে স্বপ্ন ভাগ করে নেওয়া যাবে। এই বয়সে এমএলএসের কঠিন মঞ্চে এভাবে দ্যুতি ছড়ানো সত্যিই দুর্লভ। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশ আরও বড়, আরও ঝোড়ো। আমাদের দায়িত্ব ওর ডানায় এমন বাতাস দেওয়া, যেন সে প্রতিদিন আরও উঁচুতে উড়তে পারে।’রোনান সুলিভান: বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন আশার আলোগেল মাসেই মার্কিন ফুটবলের সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিজের বাঁধন পোক্ত করেছেন পচেত্তিনো। ২০২ বিশ্বকাপে তাঁর অধীনেই শেষ ১৬-এর রোমাঞ্চ ছুঁয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, যদিও বেলজিয়ামের কাছে হেরে সেবার থামতে হয়েছিল। সেই স্বপ্নের দলের ১৩ জন অভিজ্ঞ যোদ্ধাকে এবারও পাশে রেখেছেন তিনি। তবে চোটের অনাহূত বাধায় মাঠের বাইরে রয়ে গেছেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক ও ফোলারিন বালোগানের মতো তারকারা।মা–বাবার সঙ্গে সুলিভান ভাইয়েরানতুন এই পথচলাকে পচেত্তিনো দেখছেন এক নতুন সূর্যোদয় হিসেবে, ‘এটি সবার জন্য নতুন করে বেঁচে ওঠার সুযোগ। অভিজ্ঞতার প্রজ্ঞা আর তাজা রক্তের তারুণ্য মিলিয়ে আমরা নতুন এক রসায়ন তৈরি করতে চাই। আমাদের সংস্কৃতি, কাজের ধরন আর ফুটবলের মূল দর্শনকে বুকে ধারণ করাই এখন প্রধান কাজ। আর সবকিছুর ওপরে, লাল-সাদা-নীল জার্সিটার মর্যাদা বজায় রাখার ব্যাকুলতা থাকতে হবে প্রত্যেকের মাঝে।’২৬ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে পেরুর মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। তিন দিন পর সেন্ট লুইসে মাঠে নামবে চিলির বিপক্ষে। এরপর ৩ অক্টোবর অ্যারিজোনার গ্লেনডেলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেক্সিকোর বিরুদ্ধে চিরচেনা দ্বৈরথ, আর ৬ অক্টোবর মিনেসোটার সেন্ট পলে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ।ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
কম দামি সিগারেটের দাম আবারও বাড়ল

কম দামি সিগারেটের দাম আবারও বাড়ল

‘অ্যাটলাস ইভি’র চার বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বাজারে

‘অ্যাটলাস ইভি’র চার বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বাজারে

নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তৈরি কমিক বই পড়ানো হবে পশ্চিমবঙ্গের শিশু স্কুলে

নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তৈরি কমিক বই পড়ানো হবে পশ্চিমবঙ্গের শিশু স্কুলে

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কী উদ্যোগ, প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কী উদ্যোগ, প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান, অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে আলোচনা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে কমিটির অন্তত দুজন সদস্য ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। তখন মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে জানানো হয়, ভারতের সঙ্গে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তির আলোকে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো গাফিলতি নেই। সরকার তাঁকে শর্তহীনভাবে ফেরত আনতে চায়।স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে মন্ত্রণালয় মৌখিকভাবে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে জানিয়েছে। সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে দিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে কমিটি আগামী অক্টোবরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব থাকবে; তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্বারোপ করেছেন।বৈঠকে বলা হয়, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বৈঠকে অংশ নেন।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
আবাহনী মাঠের বরাদ্দ বাতিল, দেখভাল করবে সরকার

আবাহনী মাঠের বরাদ্দ বাতিল, দেখভাল করবে সরকার

সমালোচনার মুখে ‘অচেনা’ তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

সমালোচনার মুখে ‘অচেনা’ তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

৩০ বলে সেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লেতে বিশ্ব রেকর্ড—ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অভিষেকের ইতিহাস

৩০ বলে সেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লেতে বিশ্ব রেকর্ড—ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অভিষেকের ইতিহাস

0 Comments