‘আপনি তো দেখতে পান না, কাজ করবেন কীভাবে?’ চাকরির জন্য আবেদন করতে গিয়ে এমন প্রশ্ন বহুবার শুনেছেন নাজমা আক্তার। কখনো সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়েছে, কখনো নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগই মেলেনি। অথচ একটি সুযোগই বদলে দিয়েছে তাঁর গল্প। এখন কল সেন্টারে নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের দক্ষতা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করছেন।
জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নাজমা আক্তারের জীবনে বাধা নতুন নয়। তবে কোনো বাধাই পড়াশোনার পথে তাঁকে থামাতে পারেনি। একসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। পড়াশোনা শেষে শুরু হয় নতুন লড়াই—চাকরি পাওয়ার লড়াই।
বিভিন্ন চাকরির মেলায় গেছেন, প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন। কোথাও পরীক্ষা দিয়েছেন, কোথাও সাক্ষাৎকার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতাই হয়ে উঠেছে প্রধান বাধা। নাজমার আক্ষেপ ছিল, তাঁকে কাজটি করে দেখানোর সুযোগই দেওয়া হতো না।
অবশেষ প্লেক্সাস ক্লাউডের ব্র্যান্ড স্বাধীন ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানটি নাজমাকে কল সেন্টার কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়।
কল সেন্টারের কাজ মূলত যোগাযোগ ও সেবাকেন্দ্রিক। গ্রাহকের কথা শোনা, তাদের সমস্যা বোঝা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া—এসব কাজ করতে নাজমার চোখের দৃষ্টি প্রয়োজন হয় না। প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্য প্রযুক্তি এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; শিক্ষা ও কর্মসংস্থানেরও হাতিয়ার। পর্দার তথ্য পড়ে শোনানো, কণ্ঠনির্ভর নির্দেশনা এবং বিভিন্ন সহায়ক প্রযুক্তি ডিজিটাল কর্মপরিবেশে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়িয়েছে। নাজমার জীবন সেই পরিবর্তনেরই একটি বাস্তব উদাহরণ।
নাজমার এই পথচলায় সবচেয়ে কাছের মানুষ স্বামী রাকিব। বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠী হিসেবে তাঁদের পরিচয়। রাকিবও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। পরিচয় থেকে ভালোবাসা, পরে বিয়ে। এখন সংসারের পাশাপাশি দুজনই নিজেদের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছেন। রাকিব আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নাজমার কাছে এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়। তিনি বলেন, ‘এটি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর গল্প। আর একই সঙ্গে সমাজের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিতে পেরেছি।’
প্লেক্সাস ক্লাউড লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমরা নাজমার মতো প্রতিবন্ধীদের কাজে খুশি। গত তিন বছরে তাঁদের নামে কোনো অভিযোগ আসেনি। তাঁরা প্রত্যেকেই শিক্ষিত। তাঁদের সবাইকে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলেছি, যাতে তাঁরা নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারেন।’
প্লেক্সাস ক্লাউড কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকসেবা বিভাগে তথা কল সেন্টারে ১২ প্রতিবন্ধী কাজ করেন, যাঁদের মধ্যে ৪ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। অন্যদের কেউ শারীরিক প্রতিবন্ধী, কেউ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তাঁরা নিজেদের বাসায় বসে কাজ করেন। একজন গ্রাহক যিনি সমস্যার কথা জানিয়ে ফোন করেন, তিনি আসলে সমাধান চান। কল সেন্টারের কর্মী কোথায় বসে তাঁদের সেবা দিচ্ছেন, এটা কেউ জানতে চায় না।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উত্তর সুহিলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০টি অবৈধ গ্যাস সংযোগের রাইজার উচ্ছেদ ও নিষ্ক্রিয় করেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)। এসময় পাঁচজনকে এক লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উত্তর সুহিলপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার। বিজিডিসিএল কুমিল্লা কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অভিযানে ৮টি রাইজার কর্তনসহ মোট ৩০টি অবৈধ গ্যাস সংযোগের রাইজার উচ্ছেদ ও নিষ্ক্রিয় করা হয়। এসময় ১৫টি গ্যাস রেগুলেটর উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৩/৪ ইঞ্চি ব্যাসের ৭৩১ মিটার অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন অপসারণ করা হয়। নিষ্ক্রিয় করা প্রায় ৪০০ মিটার অবৈধ গ্যাস নেটওয়ার্ক। অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার দায়ে পাঁচজনকে মোট এক লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। জাহিদ পাটোয়ারী/এসআর
যশোরের কেশবপুরে বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিসকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, মাদক ও নাশকতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোছা. রোকসানা খাতুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে আনিসুর রহমান আনিসের বাড়িতে অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আনিস দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে আটক করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আনিসুর রহমান আনিস ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। স্থানীয় রাজনীতিতেও তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, আটকের পর আনিসকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিলন রহমান/এসআর
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর এক গ্রামে গত দুই বছরে পাঁচ সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিন শিশুর খোঁজ নেই পরিবারের কাছে। বিস্তারিত ভিডিওতে….