কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর এক গ্রামে গত দুই বছরে পাঁচ সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিন শিশুর খোঁজ নেই পরিবারের কাছে। বিস্তারিত ভিডিওতে….
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘চাঁদের পাহাড়’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের হতাশা চত্বরে এটি অনুষ্ঠিত হয়।পাঠচক্রে বন্ধুরা উপন্যাসটির কাহিনি, শঙ্করের অভিযাত্রা, প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ, সাহস, স্বপ্ন এবং অজানাকে জানার মানুষের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন।আলোচনায় উঠে আসে, ‘চাঁদের পাহাড়’ শুধু একটি রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প নয়। শঙ্করের চরিত্রের মধ্য দিয়ে একজন তরুণের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা, প্রতিকূলতার মুখে সাহস এবং স্বপ্নের প্রতি অটুট থাকার মানসিকতা ফুটে উঠেছে। আফ্রিকার বিস্তৃত প্রকৃতি ও বিপজ্জনক পরিবেশের বর্ণনার মধ্য দিয়ে লেখক পাঠককে এক ভিন্ন জগতে নিয়ে যান।বন্ধু সাইফ উদ্দিন বলেন, ‘“চাঁদের পাহাড়” আমার কাছে শুধু একটি অভিযানের গল্প নয়, এটি স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। শঙ্করের চরিত্র আমাদের শেখায় পরিচিত নিরাপদ গণ্ডির বাইরে যাওয়ার সাহস থেকেই নতুন পৃথিবীকে আবিষ্কার করা সম্ভব।’বন্ধু মো. ইসনাইন বলেন, ‘শঙ্করের সবচেয়ে বড় শক্তি তার কৌতূহল ও অদম্য মানসিকতা। অজানা জায়গা, ভয় ও প্রতিকূলতা তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। এই জায়গা থেকেই “চাঁদের পাহাড়” তরুণদের কাছে এত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।’বন্ধু ফারজানা বলেন, ‘বিভূতিভূষণের প্রকৃতিবর্ণনা “চাঁদের পাহাড়”কে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আফ্রিকার অচেনা প্রকৃতি, বন্য পরিবেশ ও অভিযানের উত্তেজনা পাঠকের কল্পনাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একই সঙ্গে উপন্যাসটি আমাদের প্রকৃতির বিশালতা ও মানুষের সীমাবদ্ধতাও অনুভব করায়।’সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ‘“চাঁদের পাহাড়” প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাঠককে আকৃষ্ট করে আসছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের অজানাকে জানার চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা। পাঠচক্রে আমরা শুধু উপন্যাসের রোমাঞ্চ নয়; শঙ্করের স্বপ্ন, সাহস ও জীবনবোধকেও বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি।’পাঠচক্রটি সঞ্চালনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক হাসান করিম।
অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙার পর থেকেই শুরু হয় সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। কর্মব্যস্ত নগরজীবনে প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময়ে ছুটতে হয় অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা নির্ধারিত কাজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। রাস্তায় বের হলেই বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়, যানবাহনের সারি আর যানজট পেরিয়ে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশের সাম্প্রতিক জ্বালানিসংকট। দিনের ব্যস্ততম সময়ে ফুয়েল স্টেশনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করা, বাড়তি খরচ এবং সময়ের হিসাব—সব মিলিয়ে প্রতিদিনের যাতায়াত হয়ে উঠছে আরও চ্যালেঞ্জিং। শহরের এমন ব্যস্ততা ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে সময় বাঁচিয়ে সহজে চলাচলের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দুই চাকার ইলেকট্রনিক ভেহিকেল (ইভি)। জ্বালানি খরচের চাপ কমানোর পাশাপাশি যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা থাকায় এই বিশেষ ধরনের বাইক হয়ে উঠছে দৈনন্দিন যাতায়াতের একটি বাস্তবসম্মত অনুষঙ্গ। আর সহজ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে সিনিয়র সিটিজেন এবং নারীদের জন্যও এটি সুবিধাজনক একটি যাতায়াতের সমাধান।ব্যস্ত জীবনে বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) অধীন এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অ্যাটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিএল) দেশে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে চীনের ঝেজিয়াং লুইউয়ান ইলেকট্রিক ভেহিকেল কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার (ওইএম) ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের বৈদ্যুতিক বাহন খাতের বিকাশ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়াই এর অন্যতম লক্ষ্য।উদ্যোগটির অংশ হিসেবে ৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাটলাস ইভি বাজারজাত করছে। সম্প্রতি তারা বাজারে এনেছে নতুন মডেলের চারটি অ্যাটলাস ইভি। মডেলগুলো হলো এস৭০, এস৮০, এস৯০-এ এবং এস১০০।দৈনন্দিন শহুরে চলাচল থেকে শুরু করে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বের যাতায়াত—ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী মডেলগুলোয় রাখা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মোটর, ব্যাটারি, রেঞ্জ ও অন্যান্য ফিচার।‘এস৭০’ মডেলের ইভিটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারেকোন বাইকে কেমন মোটর ও ব্যাটারি অ্যাটলাস ইভির মডেল এস৭০-এ রয়েছে ৬০ ভোল্ট, ৬০০ ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর ও ৬০ ভোল্ট ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারি। এস৮০ ও এস৯০-এ মডেলে রয়েছে ৭২ ভোল্ট ১ হাজার ২০০ ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর ও ৭২ ভোল্ট ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারি। আর এস১০০-এ রয়েছে ৭২ ভোল্ট ও ২ হাজার ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর। এতে ৭২ ভোল্ট ৩৫ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন অথবা ৭২ ভোল্ট ৩২ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার লেড অ্যাসিড ব্যাটারির বিকল্প রয়েছে।এক চার্জে কত দূর, ছুটবে কত গতিতে এস৭০ মডেলের ইভিটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারে। এস৮০ ও এস৯০-এ মডেল দুটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার এবং রেঞ্জ ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। আর এস১০০ মডেলের ইভিটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার রেঞ্জ দিতে পারে।‘এস৮০’ মডেলে রয়েছে ৭২ ভোল্ট ১২০০ ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর এবং ৭২ ভোল্ট ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারিব্রেকিং সিস্টেম ও টায়ারে যা থাকছে ব্রেকিংয়ের ক্ষেত্রে এস৭০ মডেলটিতে রয়েছে ১৮০ মিলিমিটার ডিস্ক ব্রেক ও সিরামিক ড্রাম ব্রেক। এস৮০-তে রয়েছে ডিস্ক ব্রেক, আর এস৯০-এ-তে রয়েছে ডিস্ক বা ডিস্ক ব্রেক। এস৮০-তে ব্যবহার করা হয়েছে ৩.০০-১০ অ্যান্টি-পাংচার টায়ার এবং এস৯০-এ-তে ৯০/৮০-১২ রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার। এস১০০-এ সামনে ও পেছনে ১৮০ মিলিমিটার ডিস্ক ব্রেক এবং ৯০/৯০-১২ রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার রয়েছে। এস৭০-তেও রয়েছে রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার।বাংলাদেশের বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে ‘এস৯০’ মডেলসহ সব মডেলেই ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধা রয়েছেওজন ও ক্লাইম্বিং অ্যাবিলিটি ব্যাটারিসহ এস৭০ মডেলের ইভিটির ওজন ৯৫ কেজি, এস৮০-এর ১০২ কেজি এবং এস৯০-এ-এর ১২১ কেজি। এস১০০-এর ওজন ব্যাটারির ধরন অনুযায়ী ১২৮ বা ১৩৫ কেজি। ক্লাইম্বিং অ্যাবিলিটির ক্ষেত্রে এস৮০ ও এস৯০-এ ১২ ডিগ্রি পর্যন্ত এবং এস১০০ ১৪ ডিগ্রি পর্যন্ত ঢাল অতিক্রম করতে পারে।‘এস১০০’ মডেলের ইভিটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার রেঞ্জ দিতে পারেনিরাপত্তা ও ওয়ারেন্টি চারটি মডেলেই এনএফসি অ্যান্টি-থেফট সিস্টেম রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে সব মডেলেই ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধা রয়েছে। অ্যাটলাস ইভির চারটি মডেলের মোটরের জন্য পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়েছে।অ্যাটলাস ইভির স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক বলেন, শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিনের যাতায়াত এখন শুধু দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয় নয়; পরিবেশ, জ্বালানি ও টেকসই পরিবহনের বিষয়টিও সামনে আসছে। বাংলাদেশ সরকারও আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় রুফটপ সোলার ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে আরও পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানিব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক আরও বলেন, ‘সেই বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলও প্রচলিত জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের পাশাপাশি একটি বিকল্প তৈরি করছে। “গো উইথ গ্রিন” স্লোগানে অ্যাটলাস ইভিগুলো দৈনন্দিন যাতায়াতে পরিবেশবান্ধব বাহনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ভূমিকা রাখছে বলে আমাদের বিশ্বাস।’
সিলেট মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদে তিনজন ‘অচেনা’ প্রবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। আপত্তি, সমালোচনা এবং গঠনতন্ত্র না মানা—মূলত এই তিন কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চার দিনের মাথায় বিষয়টি নিয়ে পিছু হটেছেন সিলেট মহানগর নেতৃত্ব। উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা তিনজন হলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ফয়ছল আহমদ ও মোহাম্মদ হুমায়ুন মিলাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাইফুর হারুন। তাঁদের উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ১৩ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। এর পর থেকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়।সাদিকুর রহমান, সহসভাপতি, মহানগর বিএনপিকমিটি সিলেট মহানগরের। আর উপদেষ্টা করা হচ্ছে প্রবাসীদের। প্রবাসে থেকে তাঁরা কীভাবে দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের উপদেশ দেবেন? এটি উল্লেখ করেই সাংগঠনিক সভায় আমি প্রতিবাদ জানিয়েছি।সিলেট মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছিল, যাঁদের উপদেষ্টা করা হয়েছে, তাঁরা দলীয় রাজনীতিতে ‘অচেনা’। কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়াই তাঁদের অগঠনতান্ত্রিকভাবে উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি (উপদেষ্টা পরিষদের তিনজন সংযোজনের বিজ্ঞপ্তি) আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এর গঠনপ্রক্রিয়া যথাযথ ছিল না।’তিনজন প্রবাসীকে উপদেষ্টার পদ দেওয়া নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকা বিএনপির দুজন নেতা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা একজন এবং সিলেট মহানগরের চারজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলেছেন, উপদেষ্টা পরিষদে পদ পাওয়া তিনজনের কেউই রাজনৈতিকভাবে পরিচিত নন। তাঁরা সেভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে (যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে) কখনো অংশ নেননি।শহীদুল ইসলাম, সদস্য, যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিফয়সল আহমদ জাসাসের একটি পদে ছিলেন, তবে তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নন। অন্যদিকে মোহাম্মদ হুমায়ুন দলীয় রাজনীতিতে তেমন পরিচিত নন। আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীরা উনাকে চিনি না। মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদে তাঁরা ঠাঁই পাওয়ায় যুক্তরাজ্য বিএনপিতেও সমালোচনা হচ্ছে।যুক্তরাজ্য বিএনপির দুইবারের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলামের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, ‘ফয়সল আহমদ জাসাসের একটি পদে ছিলেন, তবে তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নন। অন্যদিকে মোহাম্মদ হুমায়ুন দলীয় রাজনীতিতে তেমন পরিচিত নন। আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীরা উনাকে চিনি না। মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদে তাঁরা ঠাঁই পাওয়ায় যুক্তরাজ্য বিএনপিতেও সমালোচনা হচ্ছে।’ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাইফুর হারুনের বিষয়ে সেখানে থাকা বিএনপির একজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। একই বিষয়ে প্রথম আলো কথা বলেছে সিলেট মহানগর বিএনপির চারজন নেতার সঙ্গে। কেউই তাঁর বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি।তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাইয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ওই তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অথচ দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ ধরনের পদে কোনোভাবেই মহানগর বিএনপির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই।’বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে দলের মহাসচিব মহানগর নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেবেন। স্থানীয়ভাবে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের এ ধরনের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই।মহানগর কমিটিতে তিনবার সভাপতি বদলসিলেট মহানগর বিএনপির কমিটি গঠিত হয় ২০২৩ সালের ১০ মার্চ সম্মেলনে, ভোটের মাধ্যমে। এতে সভাপতি পদে নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক পদে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সৈয়দ সাফেক মাহবুব দায়িত্ব পান। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সভাপতির পদ থেকে নাসিম হোসাইনকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।এরপর ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর সিলেট মহানগর বিএনপির ১৭০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে। পরে চলতি বছরের ৬ আগস্ট আবার নাসিম হোসাইনকে স্বপদে বহাল করে কেন্দ্রীয় কমিটি।রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও ইমদাদ হোসেন চৌধুরী দায়িত্ব পালনকালে প্রথমবারের মতো বর্তমান মহানগর কমিটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। গত জুন মাসে ৫৭ জন নেতাকে ওই উপদেষ্টা পরিষদে রাখা হয়।জুনে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘প্রথমে মৌখিকভাবে, পরে লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় কমিটির সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেই আমরা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছিলাম।’সর্বশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন করে আরও তিনজনকে উপদেষ্টা পরিষদে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ।মহানগর বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রকে অবহিত না করে উপদেষ্টা পরিষদে তিনজন প্রবাসীকে পদ দেওয়ার বিষয়ে ওই সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জি কে গউছ। এ ছাড়া আরও দু–তিনজন নেতা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।এই সভার বিষয়ে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাদিকুর রহমান প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘কমিটি সিলেট মহানগরের। আর উপদেষ্টা করা হচ্ছে প্রবাসীদের। প্রবাসে থেকে তাঁরা কীভাবে দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের উপদেশ দেবেন? এটি উল্লেখ করেই সাংগঠনিক সভায় আমি প্রতিবাদ জানিয়েছি।’