জাতীয়

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি অপেক্ষা

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি অপেক্ষা
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি অপেক্ষা

যুব সমাজের স্বপ্ন ছিল আধুনিক প্রযুক্তিকেন্দ্র। লক্ষ্য ছিল তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ তরুণ তৈরি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ আট বছরের দীর্ঘসূত্রতা, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগে মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মাগুরার আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার নির্ধারিত সময়ের বহু বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি।

মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন ছয়তলা গোলাকৃতির দৃষ্টিনন্দন ভবনটি বাইরে থেকে যতটা আকর্ষণীয়, ভেতরের বাস্তবতা ততটাই হতাশাজনক। পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে আগাছা-জঙ্গল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলাতেও সেখানে শিয়াল, সাপ ও বেজির আনাগোনা দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্তপ্রায় অবস্থার কারণে ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে প্রকল্পটির নাম দিয়েছেন- ‘ফক্স পার্ক’।

২০১৭ সালের জুলাইয়ে দেশের আটটি জেলার সঙ্গে মাগুরাতেও ‘আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘লিটন ট্রেডার্স’ নির্মাণকাজ শুরু করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা যেন কাগজেই আটকে গেছে।

এক দফা নয়, দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় নেওয়া হলেও সেই সময়সীমাও পার হয়ে গেছে। অথচ প্রকল্পের কাজ এখনো মাত্র ৬৪ শতাংশ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অর্থাৎ যে প্রকল্প দেড় বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, সেটি প্রায় আট বছরেও শেষ হয়নি।

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, একই প্রকল্পের আওতায় দেশের অন্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সাতটির নির্মাণকাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। অন্য জেলার তরুণরা যখন প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, তখন মাগুরার তরুণদের কপালে জুটেছে শুধু নির্মাণাধীন ভবন আর বছরের পর বছর অপেক্ষা।

প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় এক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, এখানে হরিলুট করা হয়েছে। ঠিকাদারসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রায় ৮০ শতাংশ বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এমন অভিযোগ ওঠার পরও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে, তাহলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হওয়াই স্বাভাবিক। অভিযোগ সত্য হলে সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে তদন্তের মাধ্যমেই তা পরিষ্কার করা উচিত।

স্টেডিয়াম পাড়ার বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, ২০১৮ সাল থেকে এই কাজ চলমান। সরকার পরিবর্তনের পর এই কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন সরকারের কাছে আমাদের বিনীত আবেদন, দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করা হোক।

আরেক বাসিন্দা মো. আব্দুল আলিম বলেন, আইটি পার্কটি অনেকদিন ধরে এভাবে পড়ে আছে। দ্রুত বাস্তবায়ন করে এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হোক।

স্থানীয় আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের কাজগুলো কখনো সঠিকভাবে হয় না। ২০১৮ সালে শুরু হয়েছে, এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। যারা দায়িত্ব নিয়েছে, মনে হয় তারা হরিলুট করেছে। না হলে এতদিনেও কাজ কেন হবে না? শুনেছি, কাজ করার আগেই ঠিকাদার ৮০ শতাংশ বিল তুলে নিয়ে গেছে।

শুধু ভবন নির্মাণই নয়, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অবস্থাও তৈরি করেছে নতুন প্রশ্ন। আইটি পার্কে কর্মরত এক কর্মচারী বলেন, আমি আইটি পার্কে কাজ করি। লিপ কোম্পানি থেকে এসেছি। গত তিন বছর ধরে কাজ করছি। দ্রুত কাজ শেষ হলে আমরা এখান থেকে চলে যেতে পারি।

আরেক কর্মী রাকিব হাওলাদার বলেন, শুরুতে কাজের অগ্রগতি খুব ভালো ছিল। এখন কাজের অবস্থা খুবই খারাপ। আমরাও ১৪ মাসের বেতন পাব। যদি খুব শিগগির কাজ শেষ হয়, তাহলে আমরাও বাঁচি।

অর্থাৎ প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার খেসারত শুধু সরকারই দিচ্ছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শ্রমিক-কর্মচারীরাও ভুগছেন অনিশ্চয়তায়।

এদিকে মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. মোতাকাব্বির আহমেদ বলেন, আপনারা এরইমধ্যে জানেন যে, এই ভবনটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইটি পার্ক করা হচ্ছে। এটাকে দ্রুত শেষ করে কর্মসংস্থান করা হবে।

স্বপ্ন ছিল আইটি পার্কের-বাস্তবে মিলেছে আট বছরের অপেক্ষা। প্রতিশ্রুতি ছিল কর্মসংস্থানের-মিলেছে জঙ্গল আর পরিত্যক্ত প্রাঙ্গণ। বরাদ্দ ছিল কোটি কোটি টাকা, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কাজের অগ্রগতি ও অর্থব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে। স্থানীয়দের দেওয়া ‘ফক্স পার্ক’ নামটি তাই এখন শুধু ব্যঙ্গ নয়; এটি দীর্ঘ আট বছরের হতাশা, ক্ষোভ এবং জবাবদিহির দাবির প্রতিচ্ছবি।


মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এফএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ৭ ধাপে, ভোট শুরু ১২ নভেম্বর
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ৭ ধাপে, ভোট শুরু ১২ নভেম্বর

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।  তিনি বলেন, আমরা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে চাই। প্রথম ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল ও সপ্তম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ২৭ মে। প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলায় ভোট হবে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার। এমওএস/ইএ 

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ২ মামলা হচ্ছে

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ২ মামলা হচ্ছে

টাঙ্গাইলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার

টাঙ্গাইলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার

ভারতে নতুন দেওয়ানি আইন চালুর ঘোষণা বিজেপির, মুসলিমদের উদ্বেগ

ভারতে নতুন দেওয়ানি আইন চালুর ঘোষণা বিজেপির, মুসলিমদের উদ্বেগ

চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী করিম খুনে চারজন গ্রেপ্তার, হত্যার যে কারণ জানাল পুলিশ
চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী করিম খুনে চারজন গ্রেপ্তার, হত্যার যে কারণ জানাল পুলিশ

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র এবং দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার চট্টগ্রাম নগর ও হাটহাজারী এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট বাজারে মোটরসাইকেলে করে এসে ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেন যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে। পরদিন নিহত করিমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।গ্রেপ্তার চারজন হলেন সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮), মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিন (২৯)। তাঁদের মধ্যে শুক্কুর ও জাবেদকে নগরের চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেলিম ও আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয় হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে। তাঁদের সবার বাড়ি রাউজানের উরকিরচরে।চারজন গ্রেপ্তারের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের প্রেস ব্রিফিং। আজ বেলা আড়াইটার দিকেএকজন কোপ দেয় কিরিচ দিয়ে, কয়েকজন করে গুলি, ঘটনাস্থলেই যুবদল কর্মীর মৃত্যুপুলিশ জানায়, শুক্কুর ও জাবেদের তথ্যে হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. পারভেজের পরিত্যক্ত একটি গরুর খামার থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি এবং দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে মো. পারভেজের মামা আজগর আলীর একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ ওই চুরির ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করে আসছিলেন। মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য করিমকে বলেন তিনি। তবে করিম চুরির বিষয়টি অস্বীকার করায় পারভেজ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।মোটরসাইকেলে আসে অস্ত্রধারীরা, প্রকাশ্যে বাজারে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যানিহত মোহাম্মদ করিমপুলিশ জানায়, ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পারভেজ এক ব্যক্তির মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানীহাট বাজারে ডেকে আনেন। করিম আসা মাত্রই তাঁকে প্রথমে কুপিয়ে ও পরে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত যুবদল কর্মী করিম অন্তত ১০টি মামলার আসামি ছিলেন।প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
হুতির হামলায় মক্কা চুক্তি কি কার্যকর হবে

হুতির হামলায় মক্কা চুক্তি কি কার্যকর হবে

দখল-দূষণ আর ভরাটে বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে হাকালুকি হাওর

দখল-দূষণ আর ভরাটে বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে হাকালুকি হাওর

নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে আগের বিয়ে-সন্তানের তথ্য কাবিননামায় যুক্ত করতে রুল

নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে আগের বিয়ে-সন্তানের তথ্য কাবিননামায় যুক্ত করতে রুল

৫৭ টাকা কেজি দেখিয়ে ইলিশ আমদানি
৫৭ টাকা কেজি দেখিয়ে ইলিশ আমদানি

গত বছর থেকে ভারত থেকে নিয়মিত ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছে। এবার ভরা মৌসুমেও ইলিশ আসছে ভারত থেকে। এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছর সাড়ে ৯ মাসে ভারত থেকে ইলিশ এসেছে ৪ লাখ ২৭ হাজার কেজি। যেমন—ঢাকার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর রুপা এন্টারপ্রাইজ ৭ হাজার ৭২৩ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে, ৫৭ টাকা কেজি ঘোষিত মূল্যে। কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা শুল্ক–কর দিয়েছে তারা।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
নজরুলকে নতুন করে চেনায় ‘আমারে দেব না ভুলিতে’

নজরুলকে নতুন করে চেনায় ‘আমারে দেব না ভুলিতে’

বিমা খাতে বকেয়া দাবি ৭ হাজার কোটি টাকা: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

বিমা খাতে বকেয়া দাবি ৭ হাজার কোটি টাকা: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

রাবিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি

রাবিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি

0 Comments