বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাত নিয়ে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৮ সাল শুরু হওয়ার আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে পাঁচটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এরই মধ্যে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন এবং সরকারের দুই বছর, পাঁচ বছর এবং ১০ বছর মেয়াদি অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি যে পরিকল্পনা রয়েছে বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের ক্ষেত্রে সেটি বিস্তারে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি উদাহরণ হিসেবে দেখি, গ্যাসের ক্ষেত্রে আমরা এরই মধ্যে জানি যে, দুটো এফএসআরইউ থাকার কারণে আমাদের একটা ডিপেন্ডেন্স তৈরি হয়েছে এবং তার মাঝে একটা দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ছিল। বর্তমান সরকার শুধু সেটি রিপেয়ারই করছে না, সামনের দিনগুলোতে কীভাবে এফএসআরইউ সংখ্যা বাড়ানো যায়, প্রাথমিকভাবে তিনটি এবং তারপর আরও দুটি অর্থাৎ পাঁচটি করে দেওয়া যায়, সেজন্য একটা কার্যকর লক্ষ্যে কাজ শুরু হচ্ছে। ২০২৮ সাল শুরুর আগেই চেষ্টা করা হচ্ছে তৃতীয় এফএসআরইউটা সম্পৃক্ত করার জন্য, যার মাধ্যমে আমাদের গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে।’
মধ্যমেয়াদে প্রায় ১৫০টি গ্যাস কূপ খননের প্রক্রিয়া চলমান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী উপস্থাপন করেছেন কীভাবে ১৫০টির মতো গ্যাসের কূপ খননের প্রক্রিয়া চলমান মধ্যমেয়াদে এবং তারপর এটি সম্পন্ন হওয়ার পর আরও ১৫০টি কূপ খননের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘শুধু এফএসআরইউ স্থাপন করা হচ্ছে না, এর পাশাপাশি ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল কীভাবে করা যায় এবং কীভাবে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন করা যায়, সেগুলো নিয়ে সরকারের দিক থেকে বহুমুখী উদ্যোগ রয়েছে।’
বিদ্যুৎখাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আমাদের তেল, গ্যাস এবং কয়লা থেকে একটা সমন্বিত উৎপাদনমুখী ব্যবস্থা যেখানে আমাদের বিদ্যুতের স্বনির্ভরতা থাকবে এবং এর পাশাপাশি বিশেষভাবে সোলার এনার্জিকে প্রাইওরিটাইজ করা হয়, সেটা উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে আমরা চাই আমাদের যেন বিদ্যুৎখাত বৈচিত্র্যময় হয় এবং আমাদের এনার্জি রিসোর্সে আমরা একদিকে যেমন সেলফ সাফিসিয়েন্ট হবো, একই সঙ্গে সোলার এনার্জিকে সবচেয়ে বেশি প্রাইওরিটাইজ করবো।’
তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের ২১টি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন এবং এপেক্স বডির যারা শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন এবং আমাদের গণমাধ্যমের কিছু পরিচিত মুখ, ওনারা ওনাদের বিভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন।’

ব্যবসায়ীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ‘বিশেষভাবে আমাদের ব্যবসায়ী নেতারা যাদের ট্যাক্স, শ্রম এবং ঘামের ওপর ভিত্তি করে দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা হয়, সেটাকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কীভাবে আমরা চাই যে পাবলিক সেক্টর থেকে পলিসি সাপোর্ট দেওয়া হবে এবং প্রাইভেট সেক্টর থেকে সেগুলো এক্সিকিউট করবো এবং একসঙ্গে পাবলিক সেক্টর, প্রাইভেট সেক্টর, সরকার এবং আমাদের বেসরকারি খাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।’
অনেক পুঞ্জীভূত সমস্যা রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘হয়তো একদিনে বা এক মাসে বা এক বছরে সেটার পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব নয়, তবে সরকারের সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা রয়েছে, আন্তরিকতা রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আজ বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে সেটা উপস্থাপন করা হয়েছে।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘ব্যবসায়ী নেতারা ওনাদের কিছু সমস্যার কথা বলেন এবং সরকার বিশ্বাস করে প্রতিটি সমস্যাই একেকটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। সেটি ধারণ করেই ব্যবসায়ী নেতাদের এবং ওনাদের যে অ্যাসোসিয়েশন এবং এপেক্স বডি রয়েছে, ওনাদের সঙ্গে সরকারের সহযোগিতা আরও কীভাবে বাড়ানো যায় এবং এই যে মতবিনিময় সভা, এটি ধারাবাহিকভাবে সামনের দিনগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে।’
আরএমএম/ইএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র এবং দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার চট্টগ্রাম নগর ও হাটহাজারী এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট বাজারে মোটরসাইকেলে করে এসে ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেন যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে। পরদিন নিহত করিমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।গ্রেপ্তার চারজন হলেন সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮), মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিন (২৯)। তাঁদের মধ্যে শুক্কুর ও জাবেদকে নগরের চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেলিম ও আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয় হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে। তাঁদের সবার বাড়ি রাউজানের উরকিরচরে।চারজন গ্রেপ্তারের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের প্রেস ব্রিফিং। আজ বেলা আড়াইটার দিকেএকজন কোপ দেয় কিরিচ দিয়ে, কয়েকজন করে গুলি, ঘটনাস্থলেই যুবদল কর্মীর মৃত্যুপুলিশ জানায়, শুক্কুর ও জাবেদের তথ্যে হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. পারভেজের পরিত্যক্ত একটি গরুর খামার থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি এবং দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে মো. পারভেজের মামা আজগর আলীর একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ ওই চুরির ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করে আসছিলেন। মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য করিমকে বলেন তিনি। তবে করিম চুরির বিষয়টি অস্বীকার করায় পারভেজ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।মোটরসাইকেলে আসে অস্ত্রধারীরা, প্রকাশ্যে বাজারে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যানিহত মোহাম্মদ করিমপুলিশ জানায়, ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পারভেজ এক ব্যক্তির মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানীহাট বাজারে ডেকে আনেন। করিম আসা মাত্রই তাঁকে প্রথমে কুপিয়ে ও পরে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত যুবদল কর্মী করিম অন্তত ১০টি মামলার আসামি ছিলেন।প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত বছর থেকে ভারত থেকে নিয়মিত ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছে। এবার ভরা মৌসুমেও ইলিশ আসছে ভারত থেকে। এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছর সাড়ে ৯ মাসে ভারত থেকে ইলিশ এসেছে ৪ লাখ ২৭ হাজার কেজি। যেমন—ঢাকার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর রুপা এন্টারপ্রাইজ ৭ হাজার ৭২৩ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে, ৫৭ টাকা কেজি ঘোষিত মূল্যে। কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা শুল্ক–কর দিয়েছে তারা।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুবাহী ডাম্পট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হন আরও দুইজন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কানিহারি ইউনিয়নের কালীরবাজার সংলগ্ন বালুর খলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সিএনজিচালক জসিম (৪০) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সুতিয়াখালী এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে। নিহত অপরজন একজন নারী যাত্রী। তবে তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্থানীয়রা জানান, বালুবাহী ডাম্পট্রাকটি গফরগাঁও থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে ময়মনসিংহ থেকে গফরগাঁওয়ের দিকে যাচ্ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি। পথে কানিহারি-তিরখী এলাকায় যানবাহন দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজিচালক জসিম নিহত হন। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারী মারা যান। ত্রিশাল থানার এসআই পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সিএনজিচালক নিহত হন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে এক নারী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। হোসাইন সুলভ/এসজেডএইচ/এএসএম