জাতীয়

বিমা খাতে বকেয়া দাবি ৭ হাজার কোটি টাকা: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বিমা খাতে বকেয়া দাবি ৭ হাজার কোটি টাকা: আইডিআরএ চেয়ারম্যান
বিমা খাতে বকেয়া দাবি ৭ হাজার কোটি টাকা: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

দেশের বিমা খাতে গ্রাহকদের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বলেন, বর্তমানে সামগ্রিকভাবে দাবি নিষ্পত্তির হার ৫৭ শতাংশ। এ হার অন্তত ৭৫ শতাংশে উন্নীত করতে চায়।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আইডিআরএ’র কার্যায়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে দ্বিতীয় দফায় গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বকেয়া দাবি পরিশোধের বিষয়টি আইডিআরএ দুই ধরনের কৌশলে মোকাবিলা করছে। একদিকে, বিভিন্ন বিমা কোম্পানির সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে দাবি পরিশোধে বাধা ও কমপ্লায়েন্সসংক্রান্ত বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সংকটে থাকা কয়েকটি কোম্পানিকে আলাদাভাবে তদারকি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের ক্লেইম ডিসপোজাল রেট হচ্ছে ৫৭ শতাংশ। যে ইন্ডাস্ট্রির ৫৭ শতাংশ ডিসপোজাল রেট হয়, তার বকেয়া তো অনেক বেশি থাকে। আইডিআরএর হিসাবে টোটাল সেক্টরের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ডিউ (বকেয়া) রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বকেয়া দাবি নিষ্পত্তিতে একটি ধারায় বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান ‘গভর্ন্যান্স রিভিউ মিটিং’ করা হচ্ছে। এসব বৈঠকে কোম্পানিগুলো কেন দাবি পরিশোধ করতে পারছে না বা কোন কোন সমস্যার কারণে তা আটকে আছে, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক ও কমপ্লায়েন্সসংক্রান্ত সমস্যাও রয়েছে জানিয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, এসব সমস্যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, সংকটে থাকা সাত-আটটি কোম্পানিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে কাজ করা হচ্ছে। তবে শুধু এসব কোম্পানির ওপরই আইডিআরএ নজর দিচ্ছে না। পুরো বিমা খাতের দাবি নিষ্পত্তি পরিস্থিতি উন্নয়নে একটি সামগ্রিক বা ‘হোলিস্টিক’ পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের ৮২টি বিমা কোম্পানির মধ্যে জীবন বিমার প্রায় আটটি কোম্পানি বাদ দিলে বাকি প্রায় ৭২টি কোম্পানির কার্যক্রমও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব কোম্পানির মধ্যে যেগুলো মাঝারি পর্যায়ের সমস্যায় রয়েছে, তাদের সঙ্গে নিয়মিত বসা হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনার পাশাপাশি গ্রাহকদের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, ওভারঅল অবজেক্টিভটা হচ্ছে এই ৫৭ শতাংশকে আমরা অন্তত ৭৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই। অন্তত ৭৫ শতাংশ যদি আমরা সেক্টরওয়াইজ যেতে পারি, তাহলে আমরা একটা জায়গায় পৌঁছাতে পারব।

এদিকে, অপরিশোধিত দাবি নিষ্পত্তির ধারাবাহিকতায় সোমবার দ্বিতীয় দফায় পাঁচটি বিমা কোম্পানির ৫ হাজার ৮৬৮ জন পলিসিধারীর দাবি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ দফায় মোট ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকার অপরিশোধিত বিমা দাবি পরিশোধ করা হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচটি কোম্পানির সারাদেশের পলিসিধারীদের দাবির বিপরীতে এসব অর্থ পরিশোধ করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বৈধ বিমা দাবি নিষ্পত্তির পাশাপাশি পলিসিধারীদের আস্থা পুনর্গঠনে আরও একটি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

আইডিআরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিমা খাতে দীর্ঘদিনের অপরিশোধিত বৈধ দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা ও সমস্যাগুলো আলাদাভাবে বিবেচনায় নিয়ে দাবি পরিশোধের হার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইডিআরএ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৩ হাজার ৬০০ জন পলিসিধারীর ১২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হবে। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এক হাজার ১৪৫ জন পাবেন ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৮ হাজার ৫১৪ টাকা।

এছাড়া ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫৮০ জন পলিসিধারীর ৫ কোটি টাকা, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩০০ জনের ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৪৩ জন পলিসিধারীর ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭ টাকা পরিশোধ করা হবে।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফায় ৫ হাজার ৮৬৮ জন পলিসিধারীর ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকা বিমা দাবি নিষ্পত্তি হচ্ছে।  

এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর আইডিআরএর উদ্যোগে প্রথম দফায় সাতটি জীবন বিমা কোম্পানির ২ হাজার ৫৪৯ জন পলিসিধারীর বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়। ওই দফায় মোট ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৩ হাজার ১৪৬ টাকা ৫৮ পয়সা পরিশোধ করা হয়।  

দুই দফা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৪১৭ জন পলিসিধারীর ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ টাকা ৫৮ পয়সা বিমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এমএএস/এমএএইচ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
শুধু ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, রাষ্ট্রের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি
শুধু ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, রাষ্ট্রের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি

শুধু  ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রের স্ট্রাকচারাল কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। শিবির সভাপতি বলেন, একটা দৈত্য-দানব আমাদের হাত থেকে বিতাড়িত হয়েছে। নতুন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, যে বাংলাদেশ ইনসাফ আর ন্যায়ের ভিত্তিতে গঠিত হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই বাংলাদেশ আমরা গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছি, পারিনি। শুধু একটা ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রের স্ট্রাকচারাল কোনো পরিবর্তন আমাদের দেশে এখনো ঘটেনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি জানিয়ে শিবিরের এই শীর্ষ নেতা বলেন, জুলাই চার্টারে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়ে স্বাক্ষর করেছিল, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারা একসঙ্গে হয়ে স্বাক্ষর করে হাতে হাত রেখে বলেছিল, জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছিল যে, আমরা জুলাই সনদ নির্বাচিত হওয়ার পর অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। লক্ষ-কোটি মানুষের সামনে তারা যে ওয়াদা রেখেছিল, সেই ওয়াদা তারা বাস্তবায়ন করেনি। তারা জাতীয় মুনাফিক হিসেবে নিজেদেরকে এখন জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে। আরও পড়ুন চাকরির লোভে দুই বোনকে ভারতে পাচার, আসামীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ​নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এই উত্তরবঙ্গেই তারা বলেছিল যে, আপনারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিন, দয়া করে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিন। এমন ভিক্ষা যারা চেয়েছিল, এই ভিক্ষুকের জাতি ক্ষমতায় আসার পরে নিজেদেরকে এখন মুনিব মনে করা শুরু করেছে।  কী পরিমাণে ভণ্ড আর প্রতারক এরা। এদের হাতে এখন ক্ষমতা। আমরা বলেছি, আপনারা এই টালবাহানা বন্ধ করেন। জাতি সব বোঝে, তরুণ প্রজন্ম সব বোঝে। আপনাদেরকে কিন্তু লাল কার্ড দিতে একমুহূর্ত দেরি করবে না।  তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি উল্লেখ করে শিবির সভাপতি বলেন, কারণ সংবিধানের এই মৌলিক সংস্কার তারা করতে চায় না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা বলেছিলাম। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অজুহাত দিয়ে তারা ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে, শত শত মানুষ জীবন দিয়েছে, চোখ হারিয়েছে, হাত হারিয়েছে, পা হারিয়েছে, তাদের নেতা ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে, তাদের অনেক নেতাকর্মী পঙ্গু হয়েছে, দেশান্তরিত হয়েছে। কিন্তু সেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা এখন আবার পুনর্বহাল করার মধ্য দিয়ে তারা একটি নতুন যুগের সূচনা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদের সে কথা তারা রাখেনি। তিনি আরও বলেন, ​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টানা এক বছরের মধ্যে এমন কোনো ভায়োলেন্সের ঘটনা  ঘটেনি। যেই ভায়োলেন্সের কারণে বাইরের মানুষেরা বলতে পারে যে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাতে অমুক আক্রান্ত হয়েছে। বরং আমরা বলতে পারি, আমরা নির্বাচিত হওয়ার পরেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ভিপি-জিএস এর গায়ে তারা হাত দিয়েছে, এরপরে তারা হাসপাতালে গিয়ে হামলা করেছে। তারা স্বীকৃত সন্ত্রাসী! তারা হামলা করেছে হাসপাতালের মধ্যে ঘুমন্ত মানুষের উপরে, রোগীদের উপরে। ইসরাইল হামলা করেছিল হাসপাতালের উপরে, ছাত্রলীগ হামলা করেছে, আর তৃতীয় দল হিসেবে ছাত্রদল হাসপাতালে হামলা করেছে। লংমার্চ প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন, একটা টেলিভিশন টকশোতে দেখলাম যে, জামায়াত ইসলামী যে লংমার্চ করছে, এটা কি লংমার্চ নাকি লং ড্রাইভ? আলোচনার বিষয় এইটা। এইটা কি আলোচনার বিষয়? আমরা যদি লংমার্চ হোক, লং ড্রাইভ হোক, লং স্লিপিং হোক, লং ওয়াকিং হোক আর লং বসে থাকা হোক-যাই হোক, জিনিসটা তো একটা প্রতিবাদের। প্রতিবাদ তো হচ্ছে-গণঅভ্যুত্থানের রায় পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন, চাঁদাবাজি বন্ধ, হত্যা-খুন এগুলা বন্ধ করো- এসব দাবিতে।  রংপুর মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন মন্ডল ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে অনার্স প্রথম বর্ষের ১৮ বিভাগের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে দুই শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। জিতু কবীর/এনএইচআর

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
‘আওয়ারাপন’-এর নায়িকা শ্রিয়া সরন, সাদামাটা সাজেই ছড়ালেন মুগ্ধতা

‘আওয়ারাপন’-এর নায়িকা শ্রিয়া সরন, সাদামাটা সাজেই ছড়ালেন মুগ্ধতা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি নিয়ে ‌‘বিভ্রান্তি’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি নিয়ে ‌‘বিভ্রান্তি’

জাতীয় দলের ৯ ফুটবলার ফেরত চেয়ে বাফুফেকে মোহামেডানের চিঠি

জাতীয় দলের ৯ ফুটবলার ফেরত চেয়ে বাফুফেকে মোহামেডানের চিঠি

বোয়ালখালীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিন ঘরে ডাকাতি
বোয়ালখালীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিন ঘরে ডাকাতি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিন বসতঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ভোরে বোয়ালখালী থানার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল ধারালো অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের হাত ও চোখ বেঁধে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল সেট এবং একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ডাকাত কবলিত পরিবারগুলো একই ভবনে পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকেন। ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা সাদিয়া আফরোজ জানান, রাত ৩টার দিকে ৬-৭ জনের একটি দল অস্ত্র দেখিয়ে তাদের জিম্মি করে ফেলে। এসময় তার স্বামী শরিফুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্যদের হাত ও চোখ বেঁধে মারধর করে। তিনি বলেন, দুই ভরি সোনার চেইন, দুই জোড়া সোনার কানের দুল, একটি নাকফুল, এক জোড়া ডায়মন্ডের কানের দুল, দুই জোড়া রুপার নুপুর, পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও নগদ ৪১ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। আরেক ভুক্তভোগী অটোরিকশা চালক নুরুল আবছার রুবেল বলেন, রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে ডাকাত দল দরজা খোলে। এরপর তার গলায় ছুরি ধরে হাত বেঁধে ফেলে। তার ঘরের সদস্যদের নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে। ক্ষতিগ্রস্ত রুবেল জানায়, ঘর তছনছ করে ২৫ হাজার টাকা এবং তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কাটার দিয়ে গ্রিল কেটে এক শিশুকে ভেতরে ঢুকিয়ে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এমডিআইএইচ/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
আগামীকাল রাত থেকে শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরানোর  আশ্বাস

আগামীকাল রাত থেকে শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরানোর আশ্বাস

ঋতুপর্ণাদের না খেলিয়ে ১০ গোল হজমের দায় নিলেন বাটলার

ঋতুপর্ণাদের না খেলিয়ে ১০ গোল হজমের দায় নিলেন বাটলার

ডাকসুর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে যা বললো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

ডাকসুর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে যা বললো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

আগস্টে ডিএমপিতে সেরা মিরপুর বিভাগ, গোয়েন্দায় লালবাগ
আগস্টে ডিএমপিতে সেরা মিরপুর বিভাগ, গোয়েন্দায় লালবাগ

ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানে উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে ২০২৬ সালের আগস্টের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব পুরস্কার দেওয়া হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। আগস্ট মাসের মূল্যায়নে ডিএমপির অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিভাগ হয়েছে মিরপুর বিভাগ। শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি পেয়েছে মিরপুর মডেল থানা। দ্বিতীয় হয়েছে উত্তরা-পশ্চিম থানা এবং তৃতীয় শাহজাহানপুর থানা। আরও পড়ুন রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে ৫৪৭ জন গ্রেফতার সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল বাসার মোল্যা প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। শ্রেষ্ঠ এসআইদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মিরপুর থানার এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন। দ্বিতীয় যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মহিবুল্লাহ এবং তৃতীয় বনানী থানার এসআই জুম্মান খান। এএসআইদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার এএসআই মো. কামাল উদ্দিন। দ্বিতীয় যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই মো. আখতারুজ্জামান মণ্ডল পলাশ এবং তৃতীয় পল্টন থানার এএসআই মো. নাজিম উদ্দিন। এদিকে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এনায়েত কবীর সোয়েব। আরও পড়ুন মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মিরপুর ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. সামসুদ্দীন সরকার এবং দ্বিতীয় হয়েছেন যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট টুটুল মালো। মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হকসহ যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন থানার ওসি এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   টিটি/ইএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
সৌদির বিমানঘাঁটিতে হুথিদের হামলা, ইরানের সঙ্গে জিসিসির বৈঠক বাতিল

সৌদির বিমানঘাঁটিতে হুথিদের হামলা, ইরানের সঙ্গে জিসিসির বৈঠক বাতিল

বাইরের অপরাধী ঠেকাতে ঢাকার প্রবেশপথে ‘ব্লক চেক’ জোরদারের নির্দেশ

বাইরের অপরাধী ঠেকাতে ঢাকার প্রবেশপথে ‘ব্লক চেক’ জোরদারের নির্দেশ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

0 Comments