জাতীয়

প্রবাসীদের উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন করা দেশের জন্য অপরিহার্য

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
প্রবাসীদের উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন করা দেশের জন্য অপরিহার্য
প্রবাসীদের উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন করা দেশের জন্য অপরিহার্য

চার বছর ধরে বাংলাদেশ ইউএসএ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ মূলধারার গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে যৌথভাবে বৃহৎ পরিসরে ট্রেড ফেয়ার ও রেমিট্যান্স ফেয়ারের আয়োজন করে আসছে। এই যৌথ উদ্যোগের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের আস্থা অর্জন করে একটি সম্মানিত অংশীদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি-আমেরিকান পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত ও উৎসাহিত করার জন্য আমরা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।

২.

প্রথম দুই বছর মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, শিক্ষক, গবেষক, ফার্মাসিউটিক্যাল পেশাজীবী ও বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক অনলাইন সভা করেছি। নিজ নিজ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁরা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে বিষয়ে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। এসব আলোচনার ভিত্তিতে প্রস্তুত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছিল। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আমরা ব্যাপক সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে প্রত্যাশিত উৎসাহ ও সমন্বয় না থাকায় তাঁদের অনেকেই হতাশ হয়েছেন। তবে কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত এবং অনেক সরকারি সংস্থা প্রবাসীদের উদ্যোগ ও সক্ষমতাকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে না। অথচ উন্নত দেশগুলোতে বসবাসকারী দ্বৈত নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই নিজ নিজ পেশা ও কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্মানিত। তাঁদের মেধা, অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান সম্পদ হতে পারে।

৩.

কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কার্যকর ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি। সে সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্কে এসে বলেছিলেন, বাংলাদেশে সংক্রমণ তুলনামূলক কম থাকায় যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বাংলাদেশকে টিকা দেবে না। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ৫০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার মাধ্যমে সহযোগিতা শুরু করে। এই উদ্যোগের পেছনে প্রভাবশালী বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের প্রচেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ডা. মাসুদের সঙ্গে আলোচনার পর আমি নেভাদার বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. চৌধুরী হাফিজ আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ ছিল। তিনি হোয়াইট হাউসের কোভিড-সংক্রান্ত আলোচনায় একজন আমেরিকান চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। অনলাইন সভাগুলোতে আমাদের নিয়মিত পরামর্শের ভিত্তিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বোঝাতে সক্ষম হন যে বাংলাদেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা অত্যন্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশে ব্যাপকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে মৃত্যুর হার ভয়াবহ হতে পারে। ধারাবাহিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নেয়।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ও ভারতের মতো দেশকেও পর্যাপ্ত টিকা দিতে পারেনি। বাংলাদেশের সরকার ও সাধারণ মানুষ যখন টিকা পাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগে ছিলেন, তখন সম্মানিত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অনুরোধ ও প্রচেষ্টায় সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত হয়। এ অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় সম্মানিত ও প্রভাবশালী বহু প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাঁদের যথাযথ সম্মান দিয়ে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা গেলে রাষ্ট্র ও জনগণ—উভয়েই উপকৃত হবে।

৪.

২০২৫ সালের নিউইয়র্ক রেমিট্যান্স ফেয়ার বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান কেলি লোফলার। তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে দেশীয় ও বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য সৃষ্ট নতুন ব্যবসায়িক সুযোগের বিষয়টি উঠে আসে। দিনব্যাপী আয়োজনে আন্তর্জাতিক মানের বক্তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার; যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির প্রভাব মোকাবিলার কৌশল; বৈশ্বিক ব্যবসা সম্প্রসারণ; বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা; বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা; বাংলাদেশের আর্থিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্য, ইতালি, পোল্যান্ড ও কানাডার বাংলাদেশি এনআরবি বিজনেস চেম্বারের নেতারা এই আয়োজনে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কোরিয়ান, লাতিন আমেরিকান, ইতালিয়ান ও নেপালিজ-আমেরিকান চেম্বারের নেতারা আমাদের এই আন্তর্জাতিক জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। লাতিন আমেরিকান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সুযোগ প্রদানের আগ্রহ জানান। অনেক ফ্যাশন গ্রুপের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার গ্লোরিয়া স্টার কিন বাংলাদেশের ফ্যাশন ও তৈরি পোশাককে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য তাঁর সঙ্গে আসা ডিজাইনারদের প্রতি আহ্বান জানান।

৫.

গত চার বছরে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, তৈরি পোশাকশিল্পের সংগঠন বিজিএমইএ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা এসব আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবার ম্যানহাটানের ম্যারিয়ট বা হিলটন হোটেলে আয়োজিত বড় ট্রেড ফেয়ারে কয়েক শ আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলও স্থান পেয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে একটি বিশেষ যোগাযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রায় ৩৫ হাজার সদস্যের কাছে বাংলাদেশের ব্যবসা, পণ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

৬.

রেমিট্যান্স ফেয়ারে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বড় ব্যাংক অংশ নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করেছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির জন্য প্রবাসীদের হুন্ডির পরিবর্তে ব্যাংক ও অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো তাদের বিশেষ সেবা, প্রণোদনা ও অর্থ স্থানান্তরের নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় রোড শোর আয়োজন করে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর অর্থনৈতিক গুরুত্ব প্রবাসীদের কাছে আরও ঘনিষ্ঠভাবে ব্যাখ্যা করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্সপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক সময় মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে গেছে। দেশের ডলার-সংকট মোকাবিলায় এই রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য, আন্তর্জাতিক চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নতুন বৈশ্বিক শুল্কনীতির প্রভাবের মুখোমুখি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কব্যবস্থার কারণে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী তৈরি পোশাকশিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক সেবা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিনের বিদেশি সাহায্যনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এটি একটি কঠিন কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।

৭.

বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁদের এগিয়ে আসতে হবে। এর কোনো তাৎক্ষণিক বিকল্প নেই। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত আয়ের বড় অংশ দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের জন্য পাঠান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত এবং তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে এখন দেশের জন্য আরও বিস্তৃতভাবে অবদান রাখার সুযোগ এসেছে। তাঁদের অনেকেই বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা খরচে বা অল্প খরচে পড়াশোনা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠেছেন। শত ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁরা মাতৃভূমির প্রতি নিজেদের নৈতিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করতে পারেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা যদি প্রত্যেকে বছরে কমপক্ষে ২০০ ডলার করে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মানবিক সহায়তা, সড়ক সংস্কার অথবা অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে প্রদান করেন, তাহলে বিপদগ্রস্ত বহু প্রতিষ্ঠান ও মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অনেকে নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে আত্মীয়স্বজনকে সহায়তা করেন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বাড়িঘর নির্মাণে অর্থ পাঠান কিংবা মসজিদ, মন্দির, গির্জা, এতিমখানা ও দরিদ্র মানুষের জন্য দান করেন। এসব সহায়তার পাশাপাশি তাঁরা যদি দেশের সংকটে থাকা উন্নয়ন প্রকল্প ও মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে সম্মিলিতভাবে অসাধ্যসাধন সম্ভব। জাতীয় পর্যায়ের এনজিও বা বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রবাসীরা নিজ নিজ এলাকার স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পেও সহায়তা করতে পারেন।

৮.

প্রবাসীদের অর্থ ও অনুদান বৈধ পথে দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এনজিওবিষয়ক ব্যুরো, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা সহজ করতে হবে। হয়রানি বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে বিদেশ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দাতব্য কাজের জন্য অর্থ পাঠানো অনেক ক্ষেত্রেই অত্যন্ত কঠিন। দেশে অর্থ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে এনজিও হিসেবে নিবন্ধনের কথা বলা হয়; কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘসূত্রতা ও অনুমোদন-জটিলতার কারণে সেই নিবন্ধন পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। আমি নিজেও এ ধরনের জটিলতার ভুক্তভোগী।

কোভিডের সময় সিলেট কিডনি হাসপাতালের পক্ষ থেকে সিলেটসংলগ্ন খাদিমপাড়া ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার দুটি নতুন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিড আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়েছিল। নিজস্ব অর্থায়নে অক্সিজেন, ওষুধ, বিছানাপত্র, খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ৪৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে অন্যান্য হাসপাতাল কোভিড রোগী গ্রহণ শুরু করলে প্রায় ছয় মাস পর আমরা কার্যক্রমটি বন্ধ করি। সরকারি কোনো অনুদান না থাকায় তখন আমাদের তহবিল প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়। সে সময় নিউইয়র্কে থাকা আমার বন্ধু, ফার্মাসিস্ট লিয়াকত, ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিডনি ফাউন্ডেশন এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধনভুক্ত না হওয়ায় অর্থটি পাঠানো সম্ভব হয়নি। প্রায় আট বছর ধরে দাতব্য হাসপাতাল হিসেবে কাজ করার পরও বহু চেষ্টা করেও প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় নিবন্ধন পায়নি। ফলে দরিদ্র রোগীদের বিনা মূল্যে ডায়ালাইসিস করানোর জন্য বিদেশ থেকে সরাসরি হাসপাতালের ব্যাংক হিসাবে অনুদান পাঠানো যাচ্ছে না। আমার বন্ধু শিহাবও জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের উন্নয়নের জন্য বিদেশ থেকে অনুদান পাঠাতে গিয়ে একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

৯.

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সরকারের অর্থবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের প্রতি আমার অনুরোধ—প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর সুযোগ শুধু ব্যক্তি বা এনজিওবিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত সামাজিক সংগঠন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানকেও বৈধভাবে বিদেশি অনুদান গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণ, নিরীক্ষা, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা যেতে পারে। তাতে একদিকে যেমন অর্থের অপব্যবহার রোধ হবে, অন্যদিকে দেশের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রমে প্রবাসীদের অবদান রাখার পথও সহজ হবে।

১০.

ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক আয়োজনগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সংযোগ গড়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউইয়র্ক সিটিতে এবারের আয়োজন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নিউইয়র্কের গভর্নরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (SBA) জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। ফলে এই আয়োজন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক পরিসরে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে। প্রবাসীদের প্রতিটি ইতিবাচক উদ্যোগকে যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা জানানো, দেশের ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিক নির্দেশনা দেওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সরকার, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দেশকে বর্তমান চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারে।

প্রবাসীরা কেবল রেমিট্যান্স প্রেরণকারী নন; তাঁরা বাংলাদেশের আর্থিক শক্তি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অংশীদার। তাই তাঁদের দেশের উন্নয়ন-সহযোগী, বিনিয়োগকারী, নীতিপরামর্শক এবং বৈশ্বিক প্রতিনিধি হিসেবে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। প্রবাসীদের উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন করা কোনো অনুগ্রহ নয়; বরং এটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অপরিহার্য শর্ত।

  • অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, কনভেনর, রেমিট্যান্স ফেয়ার। সভাপতি, বাংলাদেশ ইউএসএ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

    মতামত লেখকের নিজস্ব

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই উপজেলায় ১৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলা সদর ও সরাইল উপজেলায় গ্যাস থাকবে না। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন রাত ১২টা বাজার অপেক্ষায় থাকেন গৃহিণীরা তিনি জানান, ঘাটুরা এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে একটি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে কাজটি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় কাজটি শুরু করা হবে। এটি টানা রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। ফলে টানা ১৪ ঘণ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও সরাইল উপজেলায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই কর্মকর্তা আরও জানান, রক্ষণাবেক্ষণ কাজটি করলে শহরে গ্যাসের চাপ বাড়বে। এটি উভয় পক্ষের জন্যই লাভ। তাই দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
নির্বাচনে হেরেও কথা রাখলেন আরিফ, রাবিতে দিলেন ৭২৫টি গাছ

নির্বাচনে হেরেও কথা রাখলেন আরিফ, রাবিতে দিলেন ৭২৫টি গাছ

আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়: দুদক

আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়: দুদক

শেষ হলো বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব

শেষ হলো বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব

লেনোভোর নতুন দুটি মডেলের মনিটর বাজারে
লেনোভোর নতুন দুটি মডেলের মনিটর বাজারে

বাংলাদেশের বাজারে লেনোভোর নতুন দুটি মডেলের মনিটর এনেছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি। ‘লেনোভো এল২২-৪২’ ও ‘লেনোভো এল২৭-৪ই’ মডেলের মনিটর দুটির পর্দার আকার যথাক্রমে ২১.৫ ইঞ্চি ও ২৭ ইঞ্চি। মনিটরগুলোর পর্দার রিফ্রেশ রেট ১০০ হার্টজ হওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহারের পাশাপাশি ভালো মানের ভিডিও দেখা যায়। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লেনোভো এল২২-৪২ মডেলের মনিটরটিতে ২৫০ নিটস ব্রাইটনেস ও ১ হাজার ৩০০ বাই ১ কন্ট্রাস্ট রেশিও রয়েছে। অপর দিকে লেনোভো এল২৭-৪ই মডেলের মনিটরটিতে রয়েছে ৩০০ নিটস ব্রাইটনেস ও ১ হাজার ৫০০ বাই ১ কন্ট্রাস্ট রেশিও। ফলে দুটি মনিটরেই প্রাণবন্ত ছবি দেখা যায়।এইচডিএমআই ১.৪, ভিজিএ পোর্ট এবং ভেসা ওয়াল মাউন্ট সুবিধাযুক্ত মনিটর দুটির সঙ্গে ৩ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যাবে। মনিটর দুটির দাম ধরা হয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার ৭৫০ টাকা ও ১৪ হাজার ৪০০ টাকা।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ, মৃত্যু ৮

ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ, মৃত্যু ৮

স্টেশনে এসে ‘ফোন ধরিস না কেন’ বলেই ট্রেনকর্মীদের থাপড়াতে থাকেন যুবদল নেতা

স্টেশনে এসে ‘ফোন ধরিস না কেন’ বলেই ট্রেনকর্মীদের থাপড়াতে থাকেন যুবদল নেতা

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

বাড়িতে গাঁজার ‘খুচরা দোকান’, মা-ছেলেসহ গ্রেফতার ৩
বাড়িতে গাঁজার ‘খুচরা দোকান’, মা-ছেলেসহ গ্রেফতার ৩

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার বাসিন্দা কল্পনা খাতুন (৪৬)। তার স্বামী এনামুল হক ও ছেলে শফিউল ইসলামকে নিয়ে নিজের বসতঘরটিকেই বানিয়েছিলেন গাঁজা বেচাকেনার ‘খুচরা দোকান’। প্রতিদিন ভোর থেকেই সেখানে শুরু হতো গাঁজা বেচাকেনা। কেউ গাঁজা কিনে নিয়ে যেতেন, আবার কেউ আশপাশেই বসেই সেবন করতেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিলেন পাঁচগাছি চরপাড়া গ্রামের মানুষ। অবশেষে কল্পনা খাতুন ও তার ছেলে শফিউল ইসলামকে দুই কেজি ৭৫ গ্রাম গাজাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সোনামুখী এলাকার আব্দুর রাজ্জাক নামের আরও এক মাদক কারবারিকে ২১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের বাড়িতে হেফাজতে থাকা মাদক জব্দ করা হয়। কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক তিনজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। এম এ মালেক/এসআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ জন গ্রেফতার

জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ জন গ্রেফতার

নতুন সড়ক পুনরায় কেটে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

নতুন সড়ক পুনরায় কেটে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

ওটিটিতে ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’, দর্শকদের উচ্ছ্বাস

ওটিটিতে ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’, দর্শকদের উচ্ছ্বাস

0 Comments