জাতীয়

পরিবেশবান্ধব গাড়িতে অর্থায়নে অগ্রাধিকার

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
পরিবেশবান্ধব গাড়িতে অর্থায়নে অগ্রাধিকার
পরিবেশবান্ধব গাড়িতে অর্থায়নে অগ্রাধিকার

পেশাজীবীদের জন্য গাড়ি কেনাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সুবিধা দিচ্ছে প্রাইম ব্যাংক। ব্যাংকটি কাস্টমাইজড প্যাকেজ, নারী গ্রাহকদের জন্য সবুজ অর্থায়ন ও অ্যাপ ব্যবহারে গাড়ির ঋণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অটো লোন সুবিধা, ইভি অর্থায়ন এবং গ্রাহকবান্ধব ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক।

ডাক্তার, প্রকৌশলী ও করপোরেট পেশাজীবীদের জন্য প্রাইম ব্যাংকের অটো লোনে কী কী বিশেষ সুবিধা রয়েছে?

ফয়সাল রহমান: বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও করপোরেট কর্মকর্তাদের জন্য সময় বাঁচানো এবং দ্রুত সেবা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই প্রাইম ব্যাংক পেশাজীবীদের জন্য বিশেষ কাস্টমাইজড অটো লোন প্যাকেজ সাজিয়েছে। এখানে আমরা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার, দ্রুত ঋণ অনুমোদন, সহজ ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া এবং সুবিধাজনক মেয়াদের কিস্তি সুবিধা নিশ্চিত করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য কেবল গাড়ি কেনায় ঋণ দেওয়া নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়াটিকে ঝামেলামুক্ত রাখা। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে আমাদের কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে গ্রাহকেরা বিশেষ মূল্যছাড়, আকর্ষণীয় অফার এবং সেরা বিক্রয়োত্তর সেবার সুবিধা পাচ্ছেন।

নারী গাড়িচালকদের জন্য হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ি অর্থায়নে সুদের হার বা প্রসেসিং ফিতে কোনো সুবিধা আছে কি?

ফয়সাল রহমান: প্রাইম ব্যাংক টেকসই অর্থায়ন ও নারীর ক্ষমতায়নকে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়। আমাদের বিশেষায়িত ‘নীরা’ উইমেন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নারী গ্রাহকদের ইভি ও হাইব্রিড গাড়ি কেনায় সাশ্রয়ী প্রসেসিং ফি, প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার ও দ্রুত ঋণের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নারীদের যাতায়াত সহজ ও পরিবেশবান্ধব করতে আমরা ইলেকট্রিক টু-হুইলার অর্থায়নের উদ্যোগও নিয়েছি।

আপনাদের করপোরেট পে-রোল গ্রাহকদের জন্য অটো লোন পাওয়ার প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও সহজ?

ফয়সাল রহমান: পে-রোল গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং প্রক্রিয়া হওয়া উচিত সম্পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্যময় ও গতিশীল। যেহেতু ব্যাংকের কাছে তাঁদের চাকরির স্থায়িত্ব ও আয়ের ধারাবাহিকতার তথ্য পূর্ব-যাচাইকৃত থাকে, তাই ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট এবং অনুমোদনপ্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। ফলে গ্রাহকেরা সামান্য নথিপত্র জমা দিয়েই দ্রুততম সময়ে ঋণছাড়ের সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। আমাদের ‘মাইপ্রাইম’ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা খুব সহজেই প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সমাধান পান। কম সময়ের প্রসেসিং, আকর্ষণীয় সুদের হার এবং ডেডিকেটেড গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

প্রথাগত গাড়ির তুলনায় হাইব্রিড ও ইভি গাড়ি ক্রয়ে ডাউন পেমেন্ট ও সর্বোচ্চ ঋণের সীমানায় কীভাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন?

ফয়সাল রহমান: পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে আমরা সুনির্দিষ্ট সুবিধা দিচ্ছি। হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়িতে মোট মূল্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গ্রিন যানবাহনের প্রাথমিক আর্থিক বাধা দূর করে টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা।

অটো লোনের প্রসেসিং ফি, ডকুমেন্টেশন ও অন্যান্য চার্জের ক্ষেত্রে বর্তমানে কেমন ছাড় চলছে?

ফয়সাল রহমান: আমরা নিয়মিত সময়ে ফি ও চার্জের ওপর বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি। আমাদের নিজস্ব পে-রোল গ্রাহকদের জন্য লোন প্রসেসিং ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে এবং বিশেষ সুদের হারের অফার রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অংশীদার শোরুমগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকেরা অতিরিক্ত মূল্যছাড় ও বিশেষ প্রিভিলেজ পাচ্ছেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাড়ছে কোমল পানীয়র বাজার
চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাড়ছে কোমল পানীয়র বাজার

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ। বদলে যাওয়া আড্ডার ধরন আর ক্রমাগত নগরায়ণের হাত ধরে দেশের কোমল পানীয়র চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। একসময় কোমল পানীয় মানেই ছিল পারিবারিক অনুষ্ঠান বা অতিথি আপ্যায়নের অনুষঙ্গ; এখন বন্ধুদের আড্ডা, অফিসের বিরতি কিংবা যেকোনো করপোরেট আয়োজন আর গেট টুগেদারে কোমল পানীয়, জুস বা এনার্জি ড্রিংকের উপস্থিতি যেন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।এতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কোমল পানীয়র বাজার, যা ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে কয়েক বছর হলো। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নগরায়ণ ও তরুণ প্রজন্মের বদলে যাওয়া জীবনযাত্রার হাত ধরে পাঁচ বছরের মধ্যে এই খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে বিশাল সম্ভাবনার পাশাপাশি খাতটি নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বারবার করনীতি পরিবর্তনের ফলে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ পড়ছে, এতে এ খাতের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের ঘরে ঘোরাফেরা করছে।এর সঙ্গে বৈশ্বিক উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, দেশের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা এবং জ্বালানিসংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বাড়ায় উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। কনসেনট্রেট, কিছু খাদ্য উপাদান এবং প্যাকেজিং–সামগ্রী এখনো আমদানির ওপর ভর করেই চলছে।একই সঙ্গে দেশের ভেতরেও চিনি, পিইটি বোতল, ক্যাপ, কার্টন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে; তবে ক্রেতার সক্ষমতায় দাম বাড়ানোর সুযোগ বরাবরের মতো রয়েছে সীমিত।গেল চার বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভোক্তার নাগালের মধ্যে কোমল পানীয় রাখতে এ খাত–সংশ্লিষ্টদের মান ও খাদ্যনিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।ছোট ও সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য বাজারজাত করে আর উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়িয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখে বাজারে টিকে থাকতে হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রুচি ও চাহিদা মাথায় রেখে নতুন স্বাদ, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং এবং উদ্ভাবনী পণ্য তৈরির সুযোগও দেখছেন খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) কাজী মো. মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের কোমল পানীয় ও বেভারেজ শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা যথেষ্ট শক্তিশালী। বিশাল জনগোষ্ঠী, তরুণ ভোক্তাশ্রেণি, নগরায়ণ এবং পরিবর্তিত জীবনযাত্রা এ বাজারের প্রবৃদ্ধির বড় ভিত্তি।তবে বর্তমানে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ—দুই দিক থেকেই শিল্পটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বাজারে টিকে থাকতে কী করতে হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ছোট ও সাশ্রয়ী প্যাকেজ, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যেখানে সম্ভব স্থানীয় কাঁচামাল ও প্যাকেজিং–সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ভোক্তাদের জন্য নতুন স্বাদ, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং এবং পরিবর্তিত চাহিদার উপযোগী পণ্য তৈরিতে উদ্ভাবনের বড় সুযোগ রয়েছে।বাধা করকাঠামোকোমল পানীয়র বাজার সম্প্রসারণ হতে হতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা ও আড্ডার ধরনের কারণে বোতলজাত পানি, কার্বোনেটেড পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, দুগ্ধজাত পানীয় ও চা-কফির মতো বৈচিত্র্যময় পণ্যের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকভাবে।অতীতে বছরে গড়ে ২০ শতাংশ হারেও এ খাতের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করনীতি কাঠামো বারবার বদলে দিয়ে যেমন এ খাতের প্রবৃদ্ধি আটকে দিয়েছে, তেমনি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ের হালচিত্রেও।বর্তমানে কোমল পানীয় থেকে সরকার নানাভাবে রাজস্ব আদায় করে থাকে। সবচেয়ে বেশি আদায় হয়ে থাকে মূল্য সংযোজন কর মূসক বা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক থেকে।ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক থেকে আদায়ের তথ্য বলছে, এনবিআর ২০২০-২১ অর্থবছরে কোমল পানীয় খাতে রাজস্ব আদায় করেছে ১ হাজার ৭২ কোটি টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ১৪৪ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৫৩৩ কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।উচ্চ সম্পূরক শুল্ক সত্ত্বেও রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি না হয়ে উল্টো কমে যাওয়ার মূলে ছিল ওই অর্থবছরে টার্নওভার কর দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা। টার্নওভার কর বোঝায় ন্যূনতম কর। প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হোক বা না হোক, বার্ষিক বিক্রির ওপর ৩ শতাংশ হারে বাড়তি কর দিয়ে যেতে হবে। এতে এ খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে ভাটা দেখা যায়।এনবিআর ওই সময়ে করছাড় না দিয়ে উল্টো রাজস্ব আদায় বাড়াতে সম্পূরক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়। এতে মোট করভার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ হার ৪০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩০ শতাংশের মতো, নেপালে ৩৮ শতাংশের মতো এবং ভুটানে ৩০ শতাংশ রয়েছে কেবল।পরে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে টার্নওভার কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে আড়াই শতাংশ করা হয়।মানসম্পন্ন পণ্য লক্ষ্যকোমল পানীয় উৎপাদনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ বেভারেজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ১৩০টির বেশি কোম্পানি দেশে পানি, কোমল পানীয় ও অন্যান্য বেভারেজ তৈরি করছে, যার বাজার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী দিনগুলোতে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ আরও বাড়বে; এতে কোমল পানীয়র জ্যামিতিক হারে বাড়বে চাহিদাও। এই প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকে দেশি ও আন্তর্জাতিক বেভারেজ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও বাড়াচ্ছে। এ খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।দেশে বর্তমানে পেপসিকো ও কোকা-কোলার মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ট্রান্সকম বেভারেজেস, প্রাণ, আব্দুল মোনেম, মেঘনা ও আকিজ ভেঞ্চারের মতো দেশীয় কোম্পানিগুলোও বাজারে নিজেদের অবস্থান দিন দিন শক্ত করছে।নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাজার সম্ভাবনায় এমজিআইর সিএমও কাজী মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের বৃহৎ ও তরুণ ভোক্তাবাজার এ খাতের অন্যতম বড় শক্তি। দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানসম্পন্ন পণ্য সাধারণ ভোক্তার নাগালের মধ্যে রাখা।’এ শিল্পের সম্ভাবনা সামনে রেখে সহায়ক নীতিকাঠামো তৈরি ও ঘন ঘন করকাঠামো পরিবর্তন না করার পরামর্শ খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। না হলে চাহিদা বাড়লেও বিনিয়োগ ও সরবরাহ সক্ষমতা সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে না বলে শঙ্কা তাদের।শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং বিনিয়োগবান্ধব একটি কর পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এ খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি হবে এবং এতে বাড়তি রাজস্ব আদায় হবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
সিলেট বিএনপির নীরব ‘দ্বন্দ্ব’ এখন প্রকাশ্যে 

সিলেট বিএনপির নীরব ‘দ্বন্দ্ব’ এখন প্রকাশ্যে 

জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে দুই তৃণমূলের শুনানি আজ, সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে দুই তৃণমূলের শুনানি আজ, সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

চকচকে চালের কাছে হেরে যাচ্ছে লালচে চাল, বন্ধ হচ্ছে হাসকিং মিল

চকচকে চালের কাছে হেরে যাচ্ছে লালচে চাল, বন্ধ হচ্ছে হাসকিং মিল

মক্কার কাছে হুতিদের ড্রোন হামলা বলে প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৫ সালের মদিনার
মক্কার কাছে হুতিদের ড্রোন হামলা বলে প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৫ সালের মদিনার

পবিত্র মক্কা নগরীর আকাশসীমার কাছে হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, এমন দাবি করে ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে আকাশ থেকে একটি আলোকিত বস্তু নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়।ভিডিও ক্লিপটি পোস্ট করে কোথাও কোথাও দাবি করা হয়েছে, মক্কার দক্ষিণে হুতিদের ড্রোন প্রতিহত করেছে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।তবে যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটি মক্কার গত মঙ্গলবারের ঘটনার নয়। বরং এক বছর আগের সৌদির আরেক পবিত্র শহর মদিনার একটি ঘটনার।ওই সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ভিডিওটি অন্তত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে রয়েছে।এক বছর আগের হওয়া সত্ত্বেও মক্কার ঘটনায় ভিডিওটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক প্ল্যাটফর্মে শতাধিক পেজ ও প্রোফাইলে প্রচারিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি পেজেই গতকাল রাত ১২টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক, পঞ্চম লিংক, ষষ্ঠ লিংকএক বছর আগের ভিডিওপ্রচারিত ভিডিওটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দৃশ্য নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, হুবহু একই ভিডিও ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংককোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকস‘ইসলাম চ্যানেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজেও ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর একই ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে ভিডিওটির সঙ্গে সৌদি আরবের মদিনা শহর এবং মসজিদে নববির কাছাকাছি আকাশে একটি বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ করা হয়।লিংক: এখানেপ্রাসঙ্গিক কি–ওয়ার্ড দিয়ে আরও অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম মদিনার ওই ঘটনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।কোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকসগত বছর মদিনার আকাশে কী ঘটেছিলপ্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে মদিনায় একটি অননুমোদিত ড্রোন শনাক্ত করে সেটি ভূপাতিত করা হয়েছিল।ঘটনার সময় মদিনার স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর আকাশ থেকে আলোকিত একটি বস্তু নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়।প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংকতবে ড্রোনটি কোন দেশ বা কোন স্থান থেকে ছোড়া হয়েছিল বা এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা ওই সব প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।ওই ঘটনায় মসজিদে নববি বা এর আশপাশে কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। সে সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।কোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকসমক্কার ঘটনায় ব্যবহার করা হচ্ছে মদিনার সেই ভিডিওযাচাইয়ে পাওয়া তথ্যগুলো পাশাপাশি রাখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এখন ভাইরাল ভিডিওটির অনলাইন অস্তিত্ব অন্তত ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পাওয়া যাচ্ছে। তখন ভিডিওটি মদিনা শহরের ঘটনা হিসেবে প্রচারিত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমগুলোও মদিনার আকাশে ড্রোন শনাক্ত ও ভূপাতিত করার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।কিন্তু মদিনার সেই পুরোনো ভিডিও বর্তমানে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ড্রোন প্রতিহতের বলে প্রচার করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সৌদি আরব গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই হুতিদের একটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করলেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। অন্যদিকে হুতিরা সৌদির দাবি নাকচ করে দিয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
হাওরের মাছেই ভরসা

হাওরের মাছেই ভরসা

আপনি কত পার্সেন্ট বাঙালি

আপনি কত পার্সেন্ট বাঙালি

তালের পায়েসের রেসিপি

তালের পায়েসের রেসিপি

২ হাজার ই–মেইল থেকে চুলের রহস্য, জোড়া খুনের রহস্য সমাধানে দম্পতির অবিশ্বাস্য যাত্রা
২ হাজার ই–মেইল থেকে চুলের রহস্য, জোড়া খুনের রহস্য সমাধানে দম্পতির অবিশ্বাস্য যাত্রা

২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের টোপেকায় খুন হন কারেন হার্কনেস ও মাইক সিসকো। সন্দেহের তির গিয়ে পড়ে সিসকোর সাবেক স্ত্রী ডানা চ্যান্ডলারের দিকে। গ্রেপ্তার, তিন দফা বিচার, সাজা—সবই হয়েছে। কিন্তু খুনের রহস্য কি সত্যিই সমাধান হয়েছে? দুই দশক ধরে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন ইলিন ও কিন উমবের। তাঁদের অনুসন্ধান, জেদ ও সন্দেহ নিয়েই এইচবিওর তিন পর্বের তথ্যচিত্র ‘আ কিলার স্টোরি’। ২০১৭ সালে কানসাসের আলমা শহর থেকে সাংবাদিক জো সেক্সটনের কাছে একটি ই–মেইল আসে। পাঠিয়েছেন ইলিন উমবের, পেশায় গৃহিণী। জানতে চেয়েছেন, ২০০২ সালে টোপেকায় ঘটে যাওয়া একটি জোড়া খুনের সত্যিটা সেক্সটন জানতে চান কি না। অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিক সেক্সটনের তখন এ মামলায় আগ্রহ ছিল না। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও প্রোপাবলিকায় কাজ করা এই সাংবাদিকের কাছে মামলাটি প্রায় সমাধান হয়ে যাওয়া একটি ঘটনা। ২০০২ সালের ৭ জুলাই গভীর রাতে কারেন হার্কনেস ও তাঁর প্রেমিক মাইক সিসকোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, হত্যার পেছনে ছিলেন সিসকোর সাবেক স্ত্রী ডানা চ্যান্ডলার। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০১২ সালে প্রথম ডিগ্রির খুনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।তাই সেক্সটন ইলিনকে জানিয়ে দেন, তিনি এ বিষয়ে আগ্রহী নন। কিন্তু ইলিন থামেননি। কখনো এক সপ্তাহে ১০টি ই–মেইল, কখনো দুই সপ্তাহ কোনো বার্তা নেই, আবার এক দিনেই ২৫টি। প্রতিটি ই–মেইলে আদালতের নথি, ব্যালিস্টিকস রিপোর্ট, সম্পত্তির কাগজপত্রসহ নানা তথ্য। কয়েক শ ই–মেইল একসময় কয়েক হাজারে পৌঁছায়। ইলিনের এই অনুসন্ধান অবশ্য নিছক শখ ছিল না। তাঁর স্বামী কিন উমবের একজন আইনজীবী। তাঁরা নিজেদের অর্থ খরচ করে বহু বছর ধরে চ্যান্ডলারের মামলা খতিয়ে দেখছিলেন এবং তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।এরপর আসে ই–মেইল নম্বর ২ হাজার ৭১৪। ইলিন জানান, কানসাস সুপ্রিম কোর্ট চ্যান্ডলারের দুই খুনের সাজা বাতিল করেছেন। এবার সেক্সটন আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলেন না। উত্তর দিলেন, ‘সম্ভবত আমার আপনার সঙ্গে দেখা করতে আসা উচিত।’সেই সাক্ষাৎ থেকেই শুরু হয় নতুন অধ্যায়। এই যাত্রার গল্পই এখন এইচবিওর তিন পর্বের তথ্যচিত্র ‘আ কিলার স্টোরি’। ১০ সেপ্টেম্বর সিরিজটির প্রচার শুরু হয়েছে। পরিচালক ম্যাথিউ গ্যালকিন। নির্বাহী প্রযোজকদের মধ্যে আছেন অস্কারজয়ী ড্যান কোঘান, জোশুয়া লেভিন এবং লিজ গারবাস ও জন বার্ডিনের স্টোরি সিন্ডিকেট।মামলার শেষ ছয় বছরের ঘটনাপ্রবাহ ক্যামেরায় ধারণ করেছেন নির্মাতারা। তবে তাঁদের লক্ষ্য শুধু খুনি কে, সেই উত্তর খোঁজা নয়; বরং তাঁরা দেখেছেন, সত্য সম্পর্কে মানুষের নিশ্চিত হওয়ার প্রবণতা কখনো কখনো সত্যের কাছাকাছি যাওয়ার বদলে উল্টো দূরে সরিয়ে দিতে পারে।‘আ কিলার স্টোরি’র পোস্টার। আইএমডিবি খুনে ছিল ‘ওভারকিল’–এর ছাপ২০০২ সালের ৭ জুলাইয়ের ঘটনার শুরু আগের সন্ধ্যায়। কারেন হার্কনেস ও মাইক সিসকো একটি ক্যাসিনোয় গিয়েছিলেন। রাত দেড়টা পর্যন্ত ক্যামেরায় তাঁদের দেখা যায়। এরপর তাঁরা হার্কনেসের টোপেকার টাউনহাউসে ফিরে যান। রাত তিনটার আগেই সেখানে পৌঁছেছিলেন তাঁরা।পরে হার্কনেসের বাবা তাঁদের মরদেহ খুঁজে পান। দুজনকেই একাধিকবার গুলি করা হয়েছিল।শুরুতেই ডাকাতির সম্ভাবনা বাদ দেয় পুলিশ। ঘরে টাকা পড়ে ছিল, সিসকোর মানিব্যাগেও টাকা ছিল। হার্কনেসের গয়নাও অক্ষত ছিল। গুলির খোসায় কোনো আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি। কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। হত্যার অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি।তবে গুলির খোসায় ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। সেগুলো ইসরায়েলি তৈরি সাবসনিক বুলেট, যা সাধারণত উজি ধরনের অস্ত্রে ব্যবহার করা হয়। কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কর্মকর্তা রে লানডিন ঘটনাটিকে ‘ওভারকিল’ হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর ধারণা, এটি ছিল আবেগ থেকে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড।সিসকোর পরিবার শুরু থেকেই সন্দেহ করেছিল তাঁর সাবেক স্ত্রী ডানা চ্যান্ডলারকে। তাঁদের ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ ছিল তিক্ত। সিসকো বাড়ি ও সন্তানদের হেফাজত পেয়েছিলেন। চ্যান্ডলারের মদ্যপানের সমস্যাও ছিল।পরে চ্যান্ডলার হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন, মদ ছেড়ে দেন এবং টোপেকা থেকে প্রায় ৫৪০ মাইল দূরে ডেনভারে চলে যান।হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর গোয়েন্দা রিচার্ড ভোল চ্যান্ডলারের সঙ্গে কথা বলেন। চ্যান্ডলার ৬ জুলাইয়ের বিভিন্ন কাজের কথা বলেন, যার মধ্যে অটোজোনে যাওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু তদন্তকারীরা এমন রসিদ পান, যাতে দেখা যায় তিনি দুটি পাঁচ গ্যালনের গ্যাস ক্যান কিনেছিলেন।তদন্তকারীদের ধারণা হয়, এই জ্বালানি নিয়ে ডেনভার থেকে টোপেকা গিয়ে আবার ফিরে আসা সম্ভব।প্রায় এক দশক সেটি ছিল কেবল একটি তত্ত্ব। তৎকালীন জেলা অ্যাটর্নি রবার্ট হেখট অভিযোগ আনেননি। কারণ, হত্যার সময় চ্যান্ডলার টোপেকায় ছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ ছিল না।২০১১ সালে ওকলাহোমা থেকে চ্যান্ডলারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১২ সালের মার্চে টোপেকার জুরি মাত্র ৮৩ মিনিটের আলোচনার পর তাঁকে দুটি প্রথম ডিগ্রির খুনে দোষী সাব্যস্ত করে; দেওয়া হয় পরপর দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০০ বছর পর্যন্ত প্যারোলের সুযোগ ছাড়া।কিন্তু মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তখনো সামনে আসেনি। বিচারের সময় প্রসিকিউটর জ্যাকুই স্প্র্যাডলিং দাবি করেছিলেন, সিসকো চ্যান্ডলারের বিরুদ্ধে ‘প্রটেকশন ফ্রম অ্যাবিউজ’ আদেশ নিয়েছিলেন। গোয়েন্দা ভোলও আদালতে সেই আদেশের কথা বলেন। কিন্তু কিন উমবের নথি খুঁজে দেখেন, এমন কোনো আদেশই ছিল না।চ্যান্ডলার আপিল করেন। ২০১৮ সালের এপ্রিলে কানসাস সুপ্রিম কোর্ট তাঁর দুই সাজা বাতিল করে দেন। আদালত অবশ্য জানান, পারিপার্শ্বিক প্রমাণ নতুন বিচারের জন্য যথেষ্ট। ফলে চ্যান্ডলার মুক্তি পাননি; নতুন বিচারের পথ খুলে যায়।প্রসিকিউটর স্প্র্যাডলিংয়ের বিরুদ্ধেও পরে নৈতিক অভিযোগ করেন কিন। ২০২২ সালের মে মাসে কানসাস সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আইন পেশা থেকে বহিষ্কার করেন।দুই অপরিচিত মানুষের লড়াইকেন ইলিন ও কিন উমবের এই মামলায় নিজেদের জীবন ঢেলে দিলেন? তাঁরা ছিলেন হাইস্কুলের প্রেমিক–প্রেমিকা। আলমায় সংসার পাতেন। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত কিন আবর্জনা সংগ্রহের কাজ করতেন এবং স্থানীয় পত্রিকায় অনুসন্ধানী কলাম লিখতেন। তাঁর লেখা নিয়ে ওয়াবাউনসি কাউন্টির কমিশনারদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। চাকরি হারানোর পর তিনি মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, স্বাধীন ঠিকাদারদেরও সরকারি প্রতিশোধ থেকে মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত।পরে কিন আইন পড়েন এবং আইনজীবী হন। ইলিন ছিলেন সত্যিকারের অপরাধ কাহিনির ভক্ত। তবে চ্যান্ডলারের মামলায় তাঁর আগ্রহের পেছনে ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাসও। তাঁর ভাষায়, ধর্মীয় শিক্ষাই তাঁকে এমন মানুষের পক্ষে কথা বলতে অনুপ্রাণিত করেছে, যারা নিজের হয়ে কথা বলতে পারে না।‘আ কিলার স্টোরি’র দৃশ্য। এইচবিও ২০১২ সালে চ্যান্ডলার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ইলিন তাঁকে চিঠি লিখতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত চ্যান্ডলার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে রাজি হন। কিন হয়ে ওঠেন মামলাটির আইনজীবী।একপর্যায়ে নিজের আইন পেশাও বন্ধ করে দেন কিন। মামলাটি নিয়ে পুরো সময় কাজ করতে তাঁরা পরিবারের ৫০০ একর জমি বিক্রি করে দেন।ইলিন ও কিনের বিশ্বাস ছিল, চ্যান্ডলার নির্দোষ। তবে একই সঙ্গে তাঁরা বিশ্বাস করতেন, হত্যাকারী অন্য কেউ। তাঁদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে কারেন হার্কনেসের জামাই জেফ সাটনের ওপর। সাবেক এই কাউন্টি অ্যাটর্নিকে ঘিরে তাঁরা ২০০ পৃষ্ঠার একটি নথি তৈরি করেন। সেখানে তাঁর সহিংসতার ইতিহাস, টাউনহাউসে প্রবেশের সুযোগ এবং উচ্চক্ষমতার অস্ত্র ব্যবহারের লাইসেন্সের মতো বিষয় তুলে ধরা হয়।ইলিন ও কিনের ধারণা ছিল, শেরিফের জব্দ করা অস্ত্রের তালিকা থেকে একটি উজি হারিয়ে গিয়েছিল। একজন ডেপুটিও তাঁদের বলেছিলেন, তিনি সাটনকে ওই ধরনের অস্ত্র হাতে দেখেছেন।কিন্তু কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাই ইলিন ও কিনের সন্দেহকে গুরুত্ব দেয়নি।গুলির খোসায় পাওয়া চুলমামলায় একটি চুল পাওয়া গিয়েছিল, যা গুলির খোসায় পুড়ে লেগে ছিল। ২০১২ সালের প্রথম বিচারের ঠিক আগে সেটি পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল—চুলটি কারেন, মাইক বা চ্যান্ডলারের কারও নয়।কিনের নিজস্ব তত্ত্ব ছিল, গুলি বের হওয়ার সময় খোসাটি ডান দিকে ছিটকে যায়। একজন বাঁহাতি শুটারের হাতের ওপর দিয়ে সেই গরম খোসা গেলে তাতে চুল পুড়ে লেগে থাকতে পারে।অর্থাৎ হত্যাকারী বাঁহাতি। ইলিন তখন পুরোনো একটি সংবাদপত্রের ছবি খুঁজে পান। সেখানে সাটনকে শপথ নেওয়ার সময় বাঁ হাতে স্বাক্ষর করতে দেখা যায়। তাঁরা আদালতের মাধ্যমে সাটনের ডিএনএ নমুনা নেওয়ার উদ্যোগ নেন। বহু বছর পর সাটন তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দিতেও রাজি হন। তিনি হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন।পরীক্ষার ফল অবশ্য উমবের দম্পতির তত্ত্বের পক্ষে যায়নি। গুলির খোসায় পাওয়া চুলটি সাটনেরও নয়।‘আ কিলার স্টোরি’র দৃশ্য। এইচবিও তবু ওই দম্পতির সন্দেহ কাটেনি। নির্মাতাদের কাছে এটিই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মানুষের বিশ্বাস অনেক সময় প্রমাণকে ব্যাখ্যা করার বদলে প্রমাণকেই নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করে।দ্বিতীয় বিচারেও মেলেনি উত্তর‘আ কিলার স্টোরি’র শুটিং শুরু হয়েছিল চ্যান্ডলারের দ্বিতীয় বিচারের আগেই। ফলে নির্মাতারাও জানতেন না, তাঁদের গল্পের শেষ কোথায়।২০২২ সালের দ্বিতীয় বিচারে প্রসিকিউটর চার্লস কিট স্বীকার করেন, মামলাটি ডিএনএ, চুল বা আঙুলের ছাপের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। তাঁর যুক্তি ছিল, এটি ঈর্ষা, ক্রোধ ও আসক্তির গল্প।আবারও চ্যান্ডলারের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি হত্যার সময় কোথায় ছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন কথা বলেছিলেন।চ্যান্ডলারের বন্ধু জেফ বেইলি জানান, চ্যান্ডলার তাঁকে বলেছিলেন, তিনি একা পাহাড়ে ক্যাম্প করছিলেন এবং গাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন। পুলিশের কাছে তিনি অন্য আলিবি দিয়েছিলেন, কারণ তাঁর ধারণা ছিল, সত্যিকারের আলিবি পুলিশ বিশ্বাস করবে না।বিচারের ১১তম দিনে আসে আরেক চমক। প্রতিবেশী টেরি অ্যান্ডারসন দাবি করেন, তিনি গুলির শব্দ শুনেছিলেন এবং অল্প সময়ের জন্য চ্যান্ডলারের মতো একটি মুখ দেখেছিলেন। তিনি ৯১১–এ ফোন করার কথাও বলেন।কিন্তু আদালতে কোনো ৯১১ কলের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, এমন প্রমাণও নেই। তার ওপর ক্যাসিনোর ভিডিও দেখায়, অ্যান্ডারসনের বলা সময়ের পরও নিহত দুজন জীবিত ছিলেন।ছয় দিন আলোচনার পর জুরি বিভক্ত হয়ে যায়—সাতজন দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে, পাঁচজন বিপক্ষে। ফলে মিসট্রায়াল হয়।পরে অ্যান্ডারসন সেক্সটনের সঙ্গে বসে নথিগুলো দেখেন। নিজের স্মৃতি নিয়েই তখন তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়। তবে নির্মাতারা মনে করেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেননি; নিজের স্মৃতিকেই সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন।খুনের তদন্তের আড়ালে নিজেকে ফিরে পাওয়ার গল্প, বেবি হয়ে উঠলেন ববিতানিজের মামলা নিজেই লড়লেন চ্যান্ডলার২০২৫ সালে তৃতীয়বার বিচার শুরু হয়। এবার টোপেকার বাইরে ওয়েস্টমোরল্যান্ডে। বিচার শুরুর আগে চ্যান্ডলার তাঁর আইনজীবীদের সরিয়ে দেন। নিজের মামলায় নিজেই আইনজীবী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।আগের কোনো বিচারে চ্যান্ডলার সাক্ষ্য দেননি। এবার কয়েক দিন ধরে নিজেই নিজের জীবনের গল্প বলেন। এমনকি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে আসা নিজের সন্তানদেরও জেরা করেন।চ্যান্ডলার জানান, নিউ মেক্সিকোয় তাঁর জন্ম, পরে কলোরাডোয় বেড়ে ওঠা, সিসকোর সঙ্গে পরিচয়, সন্তান, মদ্যপান ও ভেঙে পড়া দাম্পত্যের কথা।কিন্তু প্রসিকিউশন চ্যান্ডলারের ভিন্ন ভিন্ন আলিবি তুলে ধরে। সমাপনী বক্তব্যে প্রসিকিউটর কিট এবার প্রতিশোধ বা ঈর্ষার বদলে ‘নিয়ন্ত্রণ’–এর ওপর জোর দেন।চ্যান্ডলার পাল্টা বলেন, হত্যার সময় তিনি টোপেকায় ছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই। তিনি ৯ মিলিমিটারের অস্ত্র কিনেছেন বা তার মালিক ছিলেন, এমন প্রমাণও নেই। তাই যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।জুরি অবশ্য চ্যান্ডলারের সঙ্গে একমত হননি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে দুই হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এবার সাজা—পরপর দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ বছর পর্যন্ত প্যারোলের সুযোগ ছাড়া।‘আ কিলার স্টোরি’র দৃশ্য। এইচবিও রায় হয়েছে, রহস্য কি মিটেছে‘আ কিলার স্টোরি’ দর্শককে সহজ কোনো উত্তর দেয় না। পরিচালক গ্যালকিন সাত বছর ধরে মামলাটি অনুসরণ করেও বলেন, তিনি এখনো নিশ্চিত নন ডানা চ্যান্ডলার সত্যিই খুনি কি না। কারণ, শারীরিক প্রমাণ খুবই কম। চ্যান্ডলার যদি সত্যিই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকেন, তাহলে কীভাবে করলেন, সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে।আর সবচেয়ে বড় অনুপস্থিতি ছিল চ্যান্ডলারের নিজের কণ্ঠ। এত বছর অন্যরা তাঁর হয়ে কথা বলেছেন। তৃতীয় বিচারে তিনি প্রথমবার নিজের গল্প নিজের মতো করে বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু জুরিকে তা বিশ্বাস করাতে পারেননি।সাংবাদিক সেক্সটনের পর্যবেক্ষণ, নিজের গল্প জানা আর সেই গল্প আদালতে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা এক বিষয় নয়। এই তথ্যচিত্র তাই শুধু একটি জোড়া খুনের গল্প নয়। এটি নিশ্চিত হওয়ার মানুষের প্রবণতা, দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, বিচারব্যবস্থা ও সত্যের সীমাবদ্ধতার গল্পও। দুই দশকের সন্দেহ ও অনুসন্ধান তিনটি বিচার পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবু কোনো রায়ই এই মামলার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।সাধারণ সত্যানুসন্ধানী গল্পে দর্শক শেষ পর্যন্ত জানতে চান, খুনি কে? ‘আ কিলার স্টোরি’ বরং দর্শককে এমন এক অস্বস্তিকর জায়গায় দাঁড় করায়, যেখানে রায় আছে, কিন্তু নিশ্চিত উত্তর নেই।টাইম অবলম্বনে

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
নীতির পরিবর্তনে ঘুরছে পরিবেশবান্ধব গাড়ির চাকা

নীতির পরিবর্তনে ঘুরছে পরিবেশবান্ধব গাড়ির চাকা

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টাকা নেওয়ার ঘটনায় এনসিপি নেত্রীকে সাময়িক অব্যাহতি

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টাকা নেওয়ার ঘটনায় এনসিপি নেত্রীকে সাময়িক অব্যাহতি

পরিবেশবান্ধব গাড়িতে অর্থায়নে অগ্রাধিকার

পরিবেশবান্ধব গাড়িতে অর্থায়নে অগ্রাধিকার

0 Comments