সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের একটি টাকাও অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যয় করা যাবে না—প্রধানমন্ত্রী এমন নীতি অনুসরণ করছেন। এ কারণে ব্যক্তিগত জীবনযাপনেও তিনি ব্যয় সাশ্রয়ের চেষ্টা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পোশাকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তার জন্য নিজে সাদা কাপড় পরেন, মোটা কাপড় পরেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
তার দাবি, জনগণের করের অর্থ যাতে কোনোভাবেই অপচয় না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত জীবনযাপন থেকে শুরু করে সরকারি কার্যক্রমেও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
সরকারি কাজে ব্যয় কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে যাতায়াত কমিয়েছেন, নিজের গাড়ি ও লোকবহর কমিয়েছেন এবং নিজের অফিসেই খাবারের ব্যবস্থা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের খাবারের ব্যয় প্রসঙ্গে আগের সরকারের সঙ্গে তুলনা করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা। তার ১৫০ টাকা বিল, একজনের।’
চিফ হুইপ দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে নেওয়া ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যে লোন (ঋণ) করে গেছে শেখ হাসিনা ও তার সরকার, সেই টাকা থেকে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছি এই গত পাঁচ মাসে।’
সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। নুরুল ইসলাম মনি বলেন, কোনো এমপি বা মন্ত্রী সরকারি কাজে বাইরে গিয়ে ব্যয়ের হিসাব দিলে শুধু মৌখিকভাবে তা গ্রহণ করা হবে না; ব্যয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থের একটি টাকাও অপচয় না হয়।
তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের ট্যাক্সের টাকা, আপনাদের টাকা শেখ হাসিনা নিয়ে চলে গেছে। সেই টাকা এখন এই সরকারকে দিতে হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ লোক দেখানো নয় বলেও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ। তার ভাষায়, ‘এই কাজ ভদ্রলোক (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) করেন, আর এটা তো দেখাবার জন্য করে না, এটা বাস্তবেই করে।’
এমওএস/এমআইএইচএস
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
অপসংস্কৃতির প্রভাব থেকে নতুন প্রজন্মকে দূরে রেখে শেকড়ের সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দিতে ময়মনসিংহে নিয়মিত বসছে বাউল গানের আসর ভাব তরঙ্গ। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে জয়নুল উদ্যানের ব্যাটবল চত্বর বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে প্রতি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বসছে এই মরমী গানের আসর। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হয় ভাব তরঙ্গ এর তৃতীয় পর্ব করিম পর্ব। রাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিমের কালজয়ী ও আধ্যাত্মিক ভাবধারার বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন স্থানীয় বাউল শিল্পীরা। ব্রহ্মপুত্রের হিমেল বাতাসের সঙ্গে দোতারা, একতারা, হারমোনিয়াম, ঢোল, মন্দিরা ও তবলার সুরে পুরো প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে মরমী গানের আসর। দেশীয় সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ এ আয়োজনের উদ্যোক্তা। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মাটির কাছাকাছি থেকে বাউল সাধকদের সহজাত ও কোমল দর্শন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই ভাব তরঙ্গ আয়োজন করা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম যেন বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও মরমী গানের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে, সে বিষয়টি আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ১০ জুলাই লালনগীতি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ভাব তরঙ্গ এর যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় পর্ব জালাল পর্ব। ওই আয়োজনে বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁর দেহতত্ত্ব ও সৃষ্টিতত্ত্বের গান পরিবেশন করেন স্থানীয় বাউল শিল্পীরা। ইমতিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, এবার অনুষ্ঠিত হলো তৃতীয় পর্ব করিম পর্ব। এতে বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিমের বিভিন্ন ঘরানার গান পরিবেশন করা হয়েছে। এরই মধ্যে সচেতন সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মাঝে ভাব তরঙ্গ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এবারের করিম পর্বে শাহ আব্দুল করিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অসাম্প্রদায়িক ভাবনার গান তুমিও মানুষ আমিও মানুষ, সবাই এক মায়ের সন্তান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে গানের আসর শুরু করেন শিল্পীরা। এরপর একে একে গেয়ে শোনানো হয় মুর্শিদ ধন হে, গাড়ি চলে না, চলে না, আমি কুলহারা কলঙ্কিনীসহ তার বিভিন্ন জনপ্রিয় ও আধ্যাত্মিক গান। আসরে গান পরিবেশন করেন বাউল সাধক জালাল শাহ চিশতি, জ্যেষ্ঠ বাউল শিল্পী আব্দুল জব্বার, বাউল স্বদেশ তালুকদার, বাউল মো. শহীদুল ইসলাম, বাউল মো. আব্দুল হাফিজ, বাউল মো. সিরাজ মণ্ডল ও বাউল বিল্লাল ফকিরসহ স্থানীয় শিল্পীরা। আরও পড়ুন বাউফলে কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিলো প্রশাসন গানের সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রের সুরের মেলবন্ধনও দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। হারমোনিয়ামে বাউল মো. শহীদুল ইসলাম ও স্বদেশ সরকার, ঢোলে আলমগীর হোসেন রানা, মন্দিরায় বিল্লাল হোসেন এবং তবলায় সৈয়দ আরমান হোসেন ইমনের বাদ্যযন্ত্রের যুগলবন্দিতে তৈরি হয় মোহময় পরিবেশ। শিল্পীদের প্রতিটি পরিবেশনার শেষে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। ব্রহ্মপুত্রের তীরে খোলা আকাশের নিচে মাটিতে বসে বাউল গান শোনার এমন আয়োজন দর্শক-শ্রোতাদের কাছে তৈরি করে ভিন্ন এক আবহ। আয়োজকরা বলছেন, লোকসংগীত শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এর সঙ্গে বাংলার মানুষের জীবন, দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও শেকড়ের সংস্কৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। নিয়মিত এমন আয়োজনের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। হোসাইন সুলভ/এমআরএম
কলকাতার মঞ্চে মেঘদল। আকাশে যেমন মেঘ ভেসে আসে, তেমনি মঞ্চে উঠে একের পর এক গান দিয়ে সুরের বর্ষণ ঘটাল মেঘদল। ‘এসো আমার শহরে’, ‘বনবিবি’ ও ‘এ হাওয়া’সহ একাধিক গান পরিবেশন করেছে ব্যান্ডটি। কলকাতার শ্রোতাদের মধ্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। ৫ সেপ্টেম্বর জি ডি বিড়লা সভাঘরে গাইলেন শিবু কুমার শীলরা।তরুণ প্রজন্ম গানের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে, নেচেছে, আবার অনেকেই নিজেদের মতো করে গানগুলো অনুভব করেছেন। তবে আয়োজনটি কোনো বয়সের সীমায় আটকে থাকেনি। মেঘদলের গানে মুগ্ধ হয়েছেন বিভিন্ন বয়সী শ্রোতা।মঞ্চে গাইছে মেঘদল ‘মেঘের সঙ্গে চাঁদের দেখা’‘মেঘের সঙ্গে চাঁদের দেখা’ শীর্ষক কনসার্টে প্রথমবার একমঞ্চে গাইল মেঘদল ও চন্দ্রবিন্দু। কনসার্টটি আয়োজন করেছে জেন নেক্সট গ্রুপ, চিলেকোঠা ও ট্যালেন্টওয়ালা। ‘মন’, ‘গীতগোবিন্দ’ ও ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেছে চন্দ্রবিন্দু।আয়োজনের শেষটা ছিল বিশেষ। দুই ব্যান্ড একসঙ্গে মঞ্চে উঠে গাইল ‘বন্ধু চল’। তখন আর মেঘদল বা চন্দ্রবিন্দু আলাদা কোনো ব্যান্ড নয়। একসঙ্গে গলা মেলাল দুই বাংলার শিল্পীরা।কলকাতা থেকে ফেরার পথে শিবু কুমার শীল প্রথম আলোকে জানান, কলেজে পড়ার সময় তাঁরা চন্দ্রবিন্দুর গান প্রচুর শুনতেন। তাঁদের কাছে চন্দ্রবিন্দু ছিল অনুপ্রেরণার মতো। তাঁর ভাষায়, রাজনীতি ও অস্থিরতা যখন চারদিকে ঘৃণার চাষ করছে, তখন গানই পারে সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে।মেঘদলের এই কলকাতা সফর শুধু কনসার্টেই শেষ হয়নি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখেছেন ব্যান্ডের সদস্যরা। সাহিত্য ও গানের মধ্য দিয়ে যে কলকাতাকে এত দিন চিনেছেন, এবার সেই শহরকে কাছ থেকে দেখেছেন তাঁরা।আবারও কলকাতায় গাইবে মেঘদলশেকড়ের সন্ধানে ২০ আগস্ট ‘মুল্লুক’ শিরোনামে গানটি প্রকাশ করেছে কোক স্টুডিও বাংলা। গানটি গেয়েছে মেঘদল। দিন সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৩ লাখের বেশিবার গানের ভিডিও দেখেছেন দর্শক। ভারতের আসাম থেকে সুবহান আলী নামে এক দর্শক গানটি শুনে লিখেছেন, ‘এই গানটা শুনে সত্যিই অনেক ভালো লাগল। গানের সুর, কথা আর অনুভূতিটা মন ছুঁয়ে গেল। দেশ আলাদা হলেও ভালো গান আর সুন্দর অনুভূতির কোনো সীমান্ত নেই। সত্যিই অসাধারণ একটি গান—বারবার শুনতে ইচ্ছে করছে।’কোক স্টুডিও জানিয়েছে, ‘পিঞ্জরাকে পুষল ময়না’ গানের পঙ্ক্তি ও সুর ভিত্তি করে গানটি তৈরি হয়েছে। শতবর্ষ আগে চা–শিল্পীদের জীবনসংগ্রাম ও ঐতিহাসিক ‘মুল্লুক চলো আন্দোলন’–এর ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গানটি নতুন রূপ দিয়েছে মেঘদল। মেঘদলের সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন চা–শিল্পী রনজু তাঁতি ও রঞ্জিত তাঁতি।গানটির সঙ্গে মেঘদলের পরিচয় হয় পুরোনো একটি সূত্র ধরে। ২০০৪ সালে তারেক মাসুদের অন্তর্যাত্রা সিনেমায় চা-বাগানের একটি গানের ছোট্ট অংশ ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের কাছ থেকে গানটির কথা জানতে পারেন মেঘদলের সদস্যরা।গানটি শোনার পরই তাঁদের আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু গানটি কোথা থেকে এসেছে, কারা গেয়েছেন, এর সঙ্গে কারা যুক্ত—এসব জানার জন্য শুরু হয় খোঁজ। শুধু কোনো পুরোনো রেকর্ড শুনে থেমে থাকতে চাননি তাঁরা। গানটির সঙ্গে যুক্ত মানুষ ও শিল্পীদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এভাবে ধীরে ধীরে গানটির কাছে পৌঁছান তাঁরা। সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের খুঁজে বের করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর গানটি রেকর্ড করার উদ্যোগ নেন।মেঘদল শুধু জনপ্রিয় হওয়ার জন্য গান করতে চায় না। তাদের ভাবনায়, পপুলিস্টিক হওয়ার চেয়ে গানের আইডিয়া ও শিকড়ের দিকে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সংস্কৃতি, মানুষের অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস তাদের সংগীতের অন্যতম অনুপ্রেরণা। এই জায়গা থেকেই নিজেদের গানকে আলাদা করতে চায় তারা। শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের সংগীতের ভাষা ও অবস্থান ধরে রাখা।মঞ্চে গাইছে মেঘদল সামনে কীএদিকে নতুন গান নিয়েও ব্যস্ত ব্যান্ডটি। তিনটি গান প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। শিবু কুমার শীলের গাওয়া ‘কার্নিভ্যাল’ এবং মেজবাউর রহমান সুমনের ‘তারে কোথায় খুঁজে পাই’, ‘বাঘ’সহ কয়েকটি গান নিয়ে চলছে কাজ। রেকর্ডিংয়ের কাজও এগিয়েছে।স্টুডিওর পাশাপাশি এবার কিছু গান লাইভ রেকর্ড করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁদের। শিবু কুমার শীল জানান, নিজেদের তৈরি গানকে আঙ্গিকগতভাবে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টাও থাকবে। একই গানকে অন্যভাবে শোনানোর ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছেন তাঁরা।পাশাপাশি ২৬ সেপ্টেম্বর কাভিশের সঙ্গে শো করার কথা রয়েছে ব্যান্ডটির।
সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের একটি টাকাও অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যয় করা যাবে না—প্রধানমন্ত্রী এমন নীতি অনুসরণ করছেন। এ কারণে ব্যক্তিগত জীবনযাপনেও তিনি ব্যয় সাশ্রয়ের চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর পোশাকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তার জন্য নিজে সাদা কাপড় পরেন, মোটা কাপড় পরেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। তার দাবি, জনগণের করের অর্থ যাতে কোনোভাবেই অপচয় না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত জীবনযাপন থেকে শুরু করে সরকারি কার্যক্রমেও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারি কাজে ব্যয় কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে যাতায়াত কমিয়েছেন, নিজের গাড়ি ও লোকবহর কমিয়েছেন এবং নিজের অফিসেই খাবারের ব্যবস্থা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের খাবারের ব্যয় প্রসঙ্গে আগের সরকারের সঙ্গে তুলনা করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা। তার ১৫০ টাকা বিল, একজনের।’ চিফ হুইপ দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে নেওয়া ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যে লোন (ঋণ) করে গেছে শেখ হাসিনা ও তার সরকার, সেই টাকা থেকে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছি এই গত পাঁচ মাসে।’ সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। নুরুল ইসলাম মনি বলেন, কোনো এমপি বা মন্ত্রী সরকারি কাজে বাইরে গিয়ে ব্যয়ের হিসাব দিলে শুধু মৌখিকভাবে তা গ্রহণ করা হবে না; ব্যয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থের একটি টাকাও অপচয় না হয়। তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের ট্যাক্সের টাকা, আপনাদের টাকা শেখ হাসিনা নিয়ে চলে গেছে। সেই টাকা এখন এই সরকারকে দিতে হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ লোক দেখানো নয় বলেও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ। তার ভাষায়, ‘এই কাজ ভদ্রলোক (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) করেন, আর এটা তো দেখাবার জন্য করে না, এটা বাস্তবেই করে।’ এমওএস/এমআইএইচএস