কলকাতার মঞ্চে মেঘদল। আকাশে যেমন মেঘ ভেসে আসে, তেমনি মঞ্চে উঠে একের পর এক গান দিয়ে সুরের বর্ষণ ঘটাল মেঘদল। ‘এসো আমার শহরে’, ‘বনবিবি’ ও ‘এ হাওয়া’সহ একাধিক গান পরিবেশন করেছে ব্যান্ডটি। কলকাতার শ্রোতাদের মধ্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। ৫ সেপ্টেম্বর জি ডি বিড়লা সভাঘরে গাইলেন শিবু কুমার শীলরা।
তরুণ প্রজন্ম গানের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে, নেচেছে, আবার অনেকেই নিজেদের মতো করে গানগুলো অনুভব করেছেন। তবে আয়োজনটি কোনো বয়সের সীমায় আটকে থাকেনি। মেঘদলের গানে মুগ্ধ হয়েছেন বিভিন্ন বয়সী শ্রোতা।
‘মেঘের সঙ্গে চাঁদের দেখা’
‘মেঘের সঙ্গে চাঁদের দেখা’ শীর্ষক কনসার্টে প্রথমবার একমঞ্চে গাইল মেঘদল ও চন্দ্রবিন্দু। কনসার্টটি আয়োজন করেছে জেন নেক্সট গ্রুপ, চিলেকোঠা ও ট্যালেন্টওয়ালা। ‘মন’, ‘গীতগোবিন্দ’ ও ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেছে চন্দ্রবিন্দু।
আয়োজনের শেষটা ছিল বিশেষ। দুই ব্যান্ড একসঙ্গে মঞ্চে উঠে গাইল ‘বন্ধু চল’। তখন আর মেঘদল বা চন্দ্রবিন্দু আলাদা কোনো ব্যান্ড নয়। একসঙ্গে গলা মেলাল দুই বাংলার শিল্পীরা।
কলকাতা থেকে ফেরার পথে শিবু কুমার শীল প্রথম আলোকে জানান, কলেজে পড়ার সময় তাঁরা চন্দ্রবিন্দুর গান প্রচুর শুনতেন। তাঁদের কাছে চন্দ্রবিন্দু ছিল অনুপ্রেরণার মতো। তাঁর ভাষায়, রাজনীতি ও অস্থিরতা যখন চারদিকে ঘৃণার চাষ করছে, তখন গানই পারে সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে।
মেঘদলের এই কলকাতা সফর শুধু কনসার্টেই শেষ হয়নি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখেছেন ব্যান্ডের সদস্যরা। সাহিত্য ও গানের মধ্য দিয়ে যে কলকাতাকে এত দিন চিনেছেন, এবার সেই শহরকে কাছ থেকে দেখেছেন তাঁরা।
শেকড়ের সন্ধানে
২০ আগস্ট ‘মুল্লুক’ শিরোনামে গানটি প্রকাশ করেছে কোক স্টুডিও বাংলা। গানটি গেয়েছে মেঘদল। দিন সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৩ লাখের বেশিবার গানের ভিডিও দেখেছেন দর্শক। ভারতের আসাম থেকে সুবহান আলী নামে এক দর্শক গানটি শুনে লিখেছেন, ‘এই গানটা শুনে সত্যিই অনেক ভালো লাগল। গানের সুর, কথা আর অনুভূতিটা মন ছুঁয়ে গেল। দেশ আলাদা হলেও ভালো গান আর সুন্দর অনুভূতির কোনো সীমান্ত নেই। সত্যিই অসাধারণ একটি গান—বারবার শুনতে ইচ্ছে করছে।’
কোক স্টুডিও জানিয়েছে, ‘পিঞ্জরাকে পুষল ময়না’ গানের পঙ্ক্তি ও সুর ভিত্তি করে গানটি তৈরি হয়েছে। শতবর্ষ আগে চা–শিল্পীদের জীবনসংগ্রাম ও ঐতিহাসিক ‘মুল্লুক চলো আন্দোলন’–এর ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গানটি নতুন রূপ দিয়েছে মেঘদল। মেঘদলের সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন চা–শিল্পী রনজু তাঁতি ও রঞ্জিত তাঁতি।
গানটির সঙ্গে মেঘদলের পরিচয় হয় পুরোনো একটি সূত্র ধরে। ২০০৪ সালে তারেক মাসুদের অন্তর্যাত্রা সিনেমায় চা-বাগানের একটি গানের ছোট্ট অংশ ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের কাছ থেকে গানটির কথা জানতে পারেন মেঘদলের সদস্যরা।
গানটি শোনার পরই তাঁদের আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু গানটি কোথা থেকে এসেছে, কারা গেয়েছেন, এর সঙ্গে কারা যুক্ত—এসব জানার জন্য শুরু হয় খোঁজ। শুধু কোনো পুরোনো রেকর্ড শুনে থেমে থাকতে চাননি তাঁরা। গানটির সঙ্গে যুক্ত মানুষ ও শিল্পীদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এভাবে ধীরে ধীরে গানটির কাছে পৌঁছান তাঁরা। সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের খুঁজে বের করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর গানটি রেকর্ড করার উদ্যোগ নেন।
মেঘদল শুধু জনপ্রিয় হওয়ার জন্য গান করতে চায় না। তাদের ভাবনায়, পপুলিস্টিক হওয়ার চেয়ে গানের আইডিয়া ও শিকড়ের দিকে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সংস্কৃতি, মানুষের অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস তাদের সংগীতের অন্যতম অনুপ্রেরণা। এই জায়গা থেকেই নিজেদের গানকে আলাদা করতে চায় তারা। শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের সংগীতের ভাষা ও অবস্থান ধরে রাখা।
সামনে কী
এদিকে নতুন গান নিয়েও ব্যস্ত ব্যান্ডটি। তিনটি গান প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। শিবু কুমার শীলের গাওয়া ‘কার্নিভ্যাল’ এবং মেজবাউর রহমান সুমনের ‘তারে কোথায় খুঁজে পাই’, ‘বাঘ’সহ কয়েকটি গান নিয়ে চলছে কাজ। রেকর্ডিংয়ের কাজও এগিয়েছে।
স্টুডিওর পাশাপাশি এবার কিছু গান লাইভ রেকর্ড করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁদের। শিবু কুমার শীল জানান, নিজেদের তৈরি গানকে আঙ্গিকগতভাবে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টাও থাকবে। একই গানকে অন্যভাবে শোনানোর ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছেন তাঁরা।
পাশাপাশি ২৬ সেপ্টেম্বর কাভিশের সঙ্গে শো করার কথা রয়েছে ব্যান্ডটির।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বায়ুদূষণের শীর্ষে আজ মালয়েশিয়ার কুচিং শহর। অন্যদিকে, তৃতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকার বায়ুর মান আজ অস্বাস্থ্যকর। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা গেছে এসব তথ্য। স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। আরও পড়ুন দেশে বায়ুদূষণে বছরে প্রাণ যাচ্ছে ৮৮ হাজার মানুষের: জাবির গবেষণা অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। সে হিসেবে কুচিং শহরটির দূষণ স্কোর ১৯১ অর্থাৎ সেখানকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা। এসএনআর
দেশে শিশুধর্ষণের মামলার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান গভীর উদ্বেগজনক। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিশুধর্ষণের অভিযোগে ১ হাজার ৪৮৫টি মামলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৯৮। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। ২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে মামলা হয়েছিল ৭৫১টি। সেই হিসাবে দুই বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধির হার প্রায় ৯৮ শতাংশ। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কোনোভাবেই একটি সভ্য ও মানবিক সমাজের চিত্র হতে পারে না। এগুলো শুধু অপরাধের পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি মামলার পেছনে রয়েছে একটি শিশুর বিপর্যস্ত জীবন, একটি পরিবারের অসহায়ত্ব এবং রাষ্ট্র ও সমাজের ব্যর্থতা। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে পরিচিত পরিসরে। পুলিশের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে, শিশুধর্ষণের বড় অংশের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তি, স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা বিশ্বাসভাজন ব্যক্তিরা জড়িত। মাগুরায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশুটির বোনের শ্বশুরই ছিলেন অপরাধী। নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। ডিএনএ পরীক্ষায় ওই শিক্ষকই শিশুটির নবজাতকের জৈবিক বাবা বলে শনাক্ত হয়েছেন। এসব ঘটনা দেখায়, শিশুর জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরিচিত সামাজিক পরিসরও সব সময় নিরাপদ নয়। অনেক পরিবার সামাজিক লজ্জা, ভয়, হুমকি ও চাপের কারণে ঘটনা গোপন করে। কেউ কেউ অভিযোগ করতে বিলম্ব করে। এতে ভুক্তভোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়। নষ্ট হয়ে যেতে পারে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামতও। তাই শিশুধর্ষণকে পরিবারের ‘সম্মানের’ প্রশ্ন হিসেবে দেখার মানসিকতা বদলাতে হবে। অপরাধীর দায় কোনোভাবেই ভুক্তভোগী শিশুর ওপর চাপানো যাবে না। অভিযোগ জানানোর জন্য নিরাপদ, গোপনীয় ও ভুক্তভোগীবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।পল্লবীতে শিশুধর্ষণ ও হত্যার মামলায় মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে রায় হওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু এটি এখনো ব্যতিক্রম। উচ্চ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ৩০ হাজার ৩৬৫টি মামলা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলছে। বিচার দীর্ঘায়িত হলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়ে। সাক্ষ্য ও আলামত দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। অন্যদিকে অপরাধীদের কাছে ভুল বার্তা যায় যে শাস্তি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।শুধু মৃত্যুদণ্ডের বিধান বা বিচ্ছিন্নভাবে দ্রুত রায় দিয়ে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। প্রয়োজন দক্ষ তদন্ত, সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বৈজ্ঞানিকভাবে আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসন। থানা, হাসপাতাল, সমাজসেবা অধিদপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আদালতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকতে হবে। প্রতিটি মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক কাজকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুদের বয়স উপযোগীভাবে নিরাপদ ও অনিরাপদ স্পর্শ সম্পর্কে শেখাতে হবে। কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ জানাতে হবে, সে ধারণাও দিতে হবে। পরিবারকে সন্তানের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ গ্রহণ ও শিশু সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে। সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিশুর অধিকার সম্পর্কে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রকে এখন দৃশ্যমান ও পরিমাপযোগ্য কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের অপরিহার্য দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে আর কোনো শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনিই আপনার ভাগ্যনিয়ন্ত্রক। গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব জীবনে ভূমিকা রাখলেও আপনার সিদ্ধান্ত ও কর্মই চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে। সাহস, ধৈর্য ও সঠিক মানসিকতা আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। প্রতি শনিবার ‘এ সপ্তাহের রাশিফল’ লিখছেন জ্যোতিষী চিন্ময় বড়ুয়াএ সপ্তাহের রাশিফল (১২–১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬)মেষ রাশিমেষ রাশিনিজের আনন্দ, ভালো লাগা ও ব্যক্তিগত ইচ্ছার জায়গা থেকে এবার জীবনের বাস্তব দায়িত্বের দিকে মন ঘুরবে। কাজের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে, তবে তার সঙ্গে নিজের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগও থাকবে। কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকলেও অন্যকে হারানোর চেয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করা বেশি জরুরি। অর্থের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে পারে, তাই আবেগের বশে কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের চাওয়া স্পষ্টভাবে জানানো দরকার, তবে কথার ভঙ্গি যেন কঠিন না হয়। কাছের কারও আচরণে বিরক্ত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে; বরং একটু সময় নিয়ে উত্তর দিন। দৈনন্দিন জীবনযাপনেও শৃঙ্খলা আনার প্রয়োজন হবে। অন্যের ভুল ধরতে আপনি যতটা দ্রুত, নিজের ক্লান্তি বুঝতে ততটা দ্রুত না–ও হতে পারেন! তাই কাজের পাশাপাশি বিশ্রামকেও গুরুত্ব দিন। এই পরিবর্তন আপনাকে আরও বাস্তববাদী, সংগঠিত ও দায়িত্বশীল করে তুলবে। বৃষ রাশিবৃষ রাশি ঘর, পরিবার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঘিরে যে ব্যস্ততা ছিল, সেখান থেকে এবার মন ফিরবে নিজের আনন্দ, সৃজনশীলতা ও ভালো লাগার দিকে। কাজের জায়গায় দায়িত্ব থাকবে, কিন্তু সেই দায়িত্বের মধ্যেই নিজের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাবেন। নকশা, সৌন্দর্য, বিনোদন, সৃজনশীল কাজ কিংবা কোনো ব্যক্তিগত শখ নতুন গুরুত্ব পেতে পারে। প্রেমের সম্পর্কে উষ্ণতা বাড়লেও অতিরিক্ত প্রত্যাশা ছোট বিষয়কে বড় করে তুলতে পারে। সন্তানের পড়াশোনা বা ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবনা থাকতে পারে। অর্থের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের জিনিস, বিনোদন বা শখের পেছনে খরচ বাড়তে পারে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি নিজের জন্যও কিছু সময় রাখুন। সবকিছু ঠিকঠাক রাখার দায়িত্ব নিতে নিতে নিজের আনন্দকে যেন ভুলে না যান। এবার জীবনে একটু স্বস্তি, ভালো লাগা ও সৃজনশীলতা ফিরিয়ে আনার সময়। আনন্দও জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ—শুধু দায়িত্ব পালন করলেই জীবন সম্পূর্ণ হয় না। মিথুন রাশি মিথুন রাশিনানা কথা, যোগাযোগ, ছোটখাটো কাজ আর একসঙ্গে অনেক কিছু সামলানোর ব্যস্ততা থেকে এবার মন ধীরে ধীরে পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের দিকে ফিরবে। আপনার মাথায় অনেক পরিকল্পনা থাকবে, কিন্তু সব কটি একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে গেলে কোনো কাজই ঠিকমতো শেষ না–ও হতে পারে। তাই অগ্রাধিকার ঠিক করা জরুরি। কর্মক্ষেত্রে আপনার কথা বলার দক্ষতা ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত প্রশংসা পেতে পারে। পরিবারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং সেখানে আপনার মতামতের মূল্য থাকবে। ঘর সাজানো, বাসস্থান পরিবর্তন কিংবা পারিবারিক পরিবেশকে আরও স্বস্তিদায়ক করার ইচ্ছা জাগতে পারে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের অনুভূতি চেপে রাখার বদলে কাছের মানুষের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন। তবে কথা বলতে গিয়ে পুরোনো হিসাবের খাতা খুলবেন না—সেটা খুললে রাত শেষ হয়ে যেতে পারে! অর্থের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ও ইচ্ছার পার্থক্য বুঝে চলা ভালো। এই সময় আপনাকে বাইরের ব্যস্ততা থেকে একটু সরিয়ে নিজের ভিতটা শক্ত করার সুযোগ দেবে। শান্তি কখনো কখনো নতুন কোনো অর্জনের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। কর্কট রাশিকর্কট রাশিঅর্থ, পরিবার ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবনার পর এবার নিজের উদ্যোগ, যোগাযোগ ও সাহসের জায়গায় গতি বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে নিজের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ আসতে পারে এবং নতুন কোনো দায়িত্বও হাতে নিতে হতে পারে। কোনো দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত আয় বা নতুন কাজের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ভাই–বোন, কাছের আত্মীয় কিংবা পরিচিত কারও সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ আপনার কাজে লাগবে। তবে কথাবার্তায় আবেগ বেশি ঢুকে গেলে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। আপনি যা বলতে চান, সেটাই অন্যজন শুনবে—এমন নিশ্চয়তা নেই; তাই বলার ধরনটিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থের ক্ষেত্রে ছোট ছোট খরচের দিকে নজর রাখুন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রেখে অন্যজনকে বুঝে নেওয়ার পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হবে না। সরাসরি বলুন, তবে কোমলভাবে। নতুন কোনো কাজ শুরু করার সাহস পাবেন, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই পরিবর্তন আপনাকে শুধু ভাবতে নয়, নিজের জন্য সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতেও শেখাবে। আপনার কণ্ঠস্বর এবার আরও স্পষ্ট হবে।সিংহ রাশি সিংহ রাশিনিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিগত সাফল্যের ভাবনা থেকে এবার অর্থ, পরিবার ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার দিকে গুরুত্ব বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে আপনার উপস্থিতি আগের মতোই দৃশ্যমান থাকবে, তবে এবার শুধু প্রশংসা নয়—সাফল্যকে কীভাবে স্থায়ী করবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে, আবার নিজের পছন্দের জিনিসে খরচ করার ইচ্ছাও বাড়বে। তাই উপার্জন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সঞ্চয়ও ততটাই জরুরি। পরিবারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আপনার ভূমিকা থাকতে পারে। প্রেমের সম্পর্কে নিজের ইচ্ছার পাশাপাশি অন্যজনের প্রয়োজনও বুঝতে হবে। সব সময় নিজের কথাই শেষ কথা হবে—এই ধারণা সম্পর্কের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। বন্ধুদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ এলেও সব দায়িত্ব একা কাঁধে নেওয়ার দরকার নেই। আপনি সাধারণত আলোয় থাকতে অভ্যস্ত; এবার সেই আলো অন্যদের সঙ্গেও ভাগ করে নিন। নিজের মূল্য বুঝবেন, কিন্তু অন্যের মূল্য কমিয়ে নয়। এই পরিবর্তন আত্মবিশ্বাসকে বাস্তব স্থিরতা ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করবে।কন্যা রাশি কন্যা রাশিঅনেক দিন ধরে যে বিষয়গুলো আপনাকে ভেতরে–ভেতরে ক্লান্ত করেছে, সেগুলো থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসে নিজের দিকে নতুন করে তাকানোর সময়। বিশ্রাম, একাকিত্ব ও পুরোনো চিন্তার জায়গা পেরিয়ে এবার আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ বাড়বে। নিজের চেহারা, পোশাক, জীবনযাপন কিংবা দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনার ইচ্ছা হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার সাহস পাবেন এবং নিজের দক্ষতা দেখানোর সুযোগও মিলবে। অর্থের ক্ষেত্রে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিন; অন্যের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে নিজের সঞ্চয় নষ্ট করবেন না। সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব কথা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সহজ মুহূর্তগুলো নষ্ট করবেন না। কাছের মানুষ দুটি কথা বললেই তার পেছনে দশটি কারণ খুঁজে বের করার প্রয়োজন নেই! কিছু বিষয় সরলভাবেও নেওয়া যায়। অসম্পূর্ণতা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে এগিয়ে চলুন। সবকিছু নিখুঁত হওয়ার অপেক্ষায় থাকলে নতুন শুরু পিছিয়ে যাবে। এই পরিবর্তন আপনাকে নিজের প্রয়োজন, পরিচয় ও ইচ্ছাকে নতুনভাবে গুরুত্ব দিতে শেখাবে। এবার অন্যের প্রত্যাশার তালিকা নয়, নিজের জীবনের তালিকাটাও একবার দেখুন।তুলা রাশিতুলা রাশি বন্ধু, পরিচিতি, সামাজিক যোগাযোগ ও ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনার ব্যস্ততা থেকে এবার একটু সরে এসে নিজের ভেতরের শান্তির দিকে মন যাবে। অনেক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও মনে হতে পারে, কিছুটা একা থাকতে ইচ্ছা করছে। এটিকে দুর্বলতা ভাববেন না; বরং মানসিকভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হিসেবেই দেখুন। পুরোনো কোনো বিষয়, সম্পর্ক কিংবা অসমাপ্ত কাজ নিয়ে ভেতরে–ভেতরে ভাবনা বাড়তে পারে। অর্থের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত খরচ, পুরোনো পাওনা কিংবা এমন কোনো ব্যয় সামনে আসতে পারে, যার কথা আপনি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন! তাই হিসাব পরিষ্কার রাখুন।সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। কিছু অনুভূতিকে সময় দিলে তার প্রকৃত অর্থ বোঝা যায়। বন্ধুত্বেও বুঝতে পারবেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ শুধু অভ্যাস আর কার সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক। ঘুম, বিশ্রাম ও নিজের মানসিক স্বস্তিকে গুরুত্ব দিন। সবাইকে খুশি রাখার দায়িত্ব আপনার নয়। সমঝোতা সুন্দর, কিন্তু নিজের শান্তির বিনিময়ে নয়। এই পরিবর্তন আপনাকে বাইরের কোলাহল থেকে একটু দূরে গিয়ে নিজের ভেতরের প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করবে।বৃশ্চিক রাশি বৃশ্চিক রাশিদীর্ঘদিনের কর্মব্যস্ততা, দায়িত্ব ও পরিশ্রমের পর এবার সেই পরিশ্রমের ফল পাওয়ার দিকে সময় এগোবে। কর্মক্ষেত্রে আপনার কাজের স্বীকৃতি বাড়তে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিচিতি ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করতে পারে। আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও বড় কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হিসাব পরিষ্কার করুন। নতুন পরিকল্পনা, দলগত কাজ কিংবা পরিচিত মানুষের সহযোগিতা কাজে আসবে। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কেউ আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, আবার কারও সঙ্গে দূরত্ব স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হতে পারে।সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুরোনো অভিজ্ঞতা নতুন সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে অতীতের প্রতিটি ঘটনা বর্তমানের মানুষের ওপর প্রয়োগ করার দরকার নেই। সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা আপনার স্বভাব হতে পারে, কিন্তু সব উত্তর জোর করে বের করতে হয় না। কিছু মানুষ ও কিছু ঘটনা সময়ের হাতেই ছেড়ে দেওয়া ভালো। এবার শুধু কাজ করার নয়, কাজের ফল গ্রহণ করারও সময়। নিজের যোগ্যতার প্রতি আস্থা রাখুন, তবে সুযোগ এলে গ্রহণ করতেও ভুলবেন না।ধনু রাশি ধনু রাশি শেখা, ভ্রমণ, নতুন চিন্তা ও জীবনের বড় প্রশ্ন নিয়ে ভাবার পর এবার সেই অভিজ্ঞতাকে বাস্তব কর্মজীবনে কাজে লাগানোর সময়। কোনো শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দূরের জায়গা কিংবা নতুন অভিজ্ঞতা আপনাকে এমন সুযোগ দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে পেশাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কর্মক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব আসতে পারে এবং আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পরীক্ষা হতে পারে। অর্থের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয়ের পরিকল্পনা জরুরি। আয় ভালো হলেও খরচ হিসাব করে করতে হবে।বন্ধুদের মাধ্যমে নতুন সুযোগ বা প্রয়োজনীয় যোগাযোগ তৈরি হতে পারে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাজের ব্যস্ততার কারণে কাছের মানুষকে সময় কম দেওয়া হতে পারে, তাই সচেতনভাবে সময় বের করুন। নিজের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অন্যের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিন। শুধু নতুন কিছু জানার জন্য ছুটে বেড়ানো নয়—এবার যা শিখেছেন, সেটাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার পালা। জ্ঞান তখনই মূল্যবান, যখন তা সিদ্ধান্তকে বদলাতে পারে।মকর রাশিমকর রাশিপুরোনো চাপ, অনিশ্চয়তা ও জটিলতার একটি পর্যায় পেরিয়ে এবার নতুন জ্ঞান, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোনোর সময়। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব বাড়তে পারে, তবে তার সঙ্গে প্রশংসা, স্বীকৃতি ও কর্তৃপক্ষের সমর্থনও পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সহকর্মীদের সহযোগিতা আপনার কাজকে অনেক সহজ করে দেবে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবার দৃশ্যমান ফল দিতে পারে। উচ্চশিক্ষা, নতুন কোনো বিষয়ে শেখা, দূরের কোথাও যাওয়া কিংবা নিজের চিন্তার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ আসতে পারে। অর্থের ক্ষেত্রে আগের কোনো আটকে থাকা বিষয় মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অতীতের আর্থিক ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুরোনো অভিমানকে নতুন করে টেনে এনে বর্তমানকে ভারী করবেন না। আপনি সাধারণত দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে চলতে অভ্যস্ত; এবার অন্যের সহযোগিতাও গ্রহণ করুন। সবকিছু একা সামলানো শক্তির পরিচয় নয়। কখনো কখনো সঠিক মানুষের সহযোগিতা গ্রহণ করাও পরিণত বুদ্ধির লক্ষণ। এই পরিবর্তন আপনাকে শুধু টিকে থাকতে নয়, আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।কুম্ভ রাশি কুম্ভ রাশিসম্পর্ক, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার জায়গা থেকে এবার জীবনের আরও গভীর ও ব্যক্তিগত দিক সামনে আসবে। কাছের মানুষের সঙ্গে শুধু ভালো সময় কাটানো নয়; অর্থ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত দুর্বলতার মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে। যৌথ অর্থ, বিনিয়োগ, ঋণ, কর কিংবা সঙ্গীর আর্থিক সহযোগিতার বিষয় সামনে আসতে পারে। হঠাৎ কোনো আর্থিক সুবিধা বা অপ্রত্যাশিত সহায়তাও পাওয়া সম্ভব। তবে অর্থের ক্ষেত্রে আবেগের সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।প্রেমের সম্পর্কে আকর্ষণ ও আবেগ বাড়তে পারে, কিন্তু তার সঙ্গে অধিকারবোধ বা সন্দেহ মিশে গেলে সমস্যা তৈরি হবে। কাছের মানুষটির প্রতিটি গোপন চিন্তা জানতে হবে—এমন দাবি সম্পর্ককে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে। বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করুন। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও গভীর সম্পর্কের মূল্য বুঝবেন। জীবনের এই পরিবর্তন আপনাকে শেখাবে, সত্যিকারের ঘনিষ্ঠতা শুধু পাশাপাশি থাকার নাম নয়; বরং একে অন্যের জটিলতা, ভয় ও দুর্বলতাকেও গ্রহণ করার ক্ষমতা। সব রহস্যের উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দরকার নেই—কিছু সত্য সময় নিজেই প্রকাশ করে।মীন রাশি মীন রাশিকাজের চাপ, দায়িত্ব ও প্রতিদিনের ছোটখাটো সমস্যা সামলানোর ব্যস্ততা থেকে এবার মনোযোগ যাবে সম্পর্ক, অংশীদারত্ব ও কাছের মানুষের দিকে। কর্মক্ষেত্রে অন্যের সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে নিজের কাজ যেন পিছিয়ে না যায়। তবে সহযোগিতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, চুক্তি কিংবা যৌথ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্পষ্টতা খুব জরুরি।ব্যক্তিগত সম্পর্কে গভীরতা বাড়বে; উপরিতলের কথাবার্তার চেয়ে সত্যিকারের বোঝাপড়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আবেগ তীব্র হলে সন্দেহ, অভিমান বা অধিকারবোধ বাড়তে পারে। তখন সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটু সময় নিন। যৌথ অর্থ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ কিংবা সঙ্গীর আর্থিক সহায়তার বিষয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। হঠাৎ কোনো আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলুন। আপনি অনেক সময় সবকিছু নিজে সামলে নিতে চান, কিন্তু এবার সেই অভ্যাস একটু বদলানো দরকার। সঠিক মানুষের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিলে পথ সহজ হয়। সব সমস্যার উত্তর আজই খুঁজতে হবে না—কিছু বিষয়কে সময় দিলে তারাই নিজের উত্তর নিয়ে সামনে আসে।ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনো লক্ষ্য নির্ধারণে সময়টি কোন রাশির জন্য অনুকূল