জাতীয়

বিয়ে না করার ১০ উপকারিতা...১টা ফাউ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইকে নিয়ে থাকেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বোন, মানুষ দিলে জোটে খাবার
শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইকে নিয়ে থাকেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বোন, মানুষ দিলে জোটে খাবার

কলাগাছ আর ঝোপঝাড়ের মধে৵ দোচালা জংধরা একটি মাত্র টিনের ঘর। টিনের বেড়াও জোড়াতালি দেওয়া। দূর থেকে দেখে মনে হয় পরিত্যক্ত ঘর। এই ঘরেই থাকেন দুই ভাই–বোন—শারীরিক প্রতিবন্ধী শফিকুল খলিফা (৪৭) ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ফাতেমা আক্তার (৩৯)। প্রতিবেশীরা খেতে দিলে ভাই–বোনের খাবার জোটে, না হয় থাকতে হয় উপোস।টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামের প্রতিবন্ধী ভাইবোনের এমন দুর্বিষহ জীবন যে কাউকে নাড়া দেবে।অবশ্য ভাই–বোনের জীবনের শুরুটা এতটা কঠিন ছিল না। এলাকাবাসী জানান, ওই গ্রামের মুদিদোকানি রশিদ খলিফার সংসারে তেমন অভাব ছিল না। প্রায় ২৫ বছর আগে স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে মারা যান তিনি। এর পরই যেন সবকিছু বদলে যায়।বাবার মৃত্যুর পর শফিকুলের কাঁধে সংসারের বোঝা চাপে। তিনি রিকশা চালিয়ে আয় করতে থাকেন। এরই মধ্যে বড় ভাই মজিদ খলিফা বিয়ে করে পাশের সখিপুরে চলে যান। প্রায় ১০ বছর আগে হঠাৎ শফিকুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে তাঁর হাত-পা একটু বেঁকে গেলে চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়। অর্থকষ্টে ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারেননি।প্রায় আট বছর আগে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে শফিকুলের মা মালেকা বেগম মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর সংসারের অভাবের তাড়নায় ছোট বোন সমতা আক্তার আত্মহত্যা করেন। এতে পুরো পরিবারটি একেবারেই বিপর্যন্ত হয়ে পড়ে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ফাতেমা আক্তার ভাইকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন।গতকাল শুক্রবার প্রতিবেশী শাকিল খলিফার মাধ্যমে শফিকুল ও ফাতেমার সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান এই প্রতিবেদক। কিছু সময় অপেক্ষার পর ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন ফাতেমা। সালাম দিয়ে এগিয়ে গেলে দরজার সামনে থেকে ফাতেমা একাধারে বলতে থাকেন, ‘মাইনষে খাওন দ্যায়। দিলে খাই। কষ্ট অইলে আর কী করুম। কিছুই নাই। ওর বাতাস নাগছে (অশুভ কিছু স্পর্শ করেছে)। মানুষের যে বাতাস নাগে, সেই বাতাস।’মেঝের একপাশে বিছানো পুরোনো চাদরে শুয়ে থাকেন শফিকুল খলিফা। ফাতেমা আক্তার থাকেন ভাঙাচোরা চৌকিটাতে। আগধল্যা গ্রাম, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঘরের দরজা থেকে দেখা যায়, মেঝের একপাশে বিছানো পুরোনো চাদরে শুয়ে আছেন শফিকুল। ভেতের ঢুকতেই উঠে বসেন। তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আগে রিকশা চালাইছি, আটে-বাজারে (হাট–বাজারে) গেছি, কামও করছি। বুঝাও আনা হারছি (বোঝা বহন করতে পেরেছি)। পাও টইলা (পা বেঁকে) ন্যাংড়া অইলাম। ভালো শরীল, ভিতরে ভালোই; কি অইলো জানি না।’শফিকুলের অনেক কথাই মুখে জড়িয়ে যায়। এর মধ্যে বললেন, ‘ভাত বোইনে দিছিলো। আমার ইচ্ছা অয় বাইরে যাই। আটা হারি (হাঁটতে পারি) না তো। ডাক্তারের কাছে নেয় নাই।’প্রতিবেশী গৃহবধূ সুলতানা বেগম বলেন, ‘এত অভাবে কেউ থাকে তা দেহি নাই। হ্যারা কী খায়, কী পরে! দশজনে দিলে খ্যায়া হারে (খেতে পারে)। কেউর কাছে তো চ্যাহাও (চাইতেও) পারে না। জোয়ান পোলাহান প্রতিবন্ধী অইছে।’মন চাইলে হামাগুড়ি দিয়ে ঘরের দরজা পর্যন্ত আসেন শফিকুল। বোনের সহায়তা ছাড়া প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কাজটাও করতে পারেন না। এ ছাড়া টিনের এই ঘরটা ছাড়া নেই রান্নাঘর ও শৌচাগারও।গ্রামের কয়েক ব্যক্তি ও প্রবাসীদের সহায়তা ভাইবোনের জন্য রান্নাঘর ও শৌচাগারসহ একটি আধা পাকা ঘর করে দিতে প্রায় এক লাখ টাকা জোগাড় করা হয়েছে বলে জানান প্রতিবেশী শাকিল খলিফা। আরও প্রায় চার লাখ টাকার প্রয়োজন। তাঁর আগে দুজনেরই চিকিৎসা করানো দরকার বলে জানান তিনি।বিষয়টি নজরে আনলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ দুজনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর তাঁদেরকে সরকারি ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোবারক হোসেন।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
একই বৃত্তে ঘুরপাক নারী ক্রিকেটের, সমাধান কী

একই বৃত্তে ঘুরপাক নারী ক্রিকেটের, সমাধান কী

অসমাপ্ত ঝগড়াগুলো

অসমাপ্ত ঝগড়াগুলো

‘খেতে বসলেই ভাবি, আসলে কী খাচ্ছি’

‘খেতে বসলেই ভাবি, আসলে কী খাচ্ছি’

ঢাকার বায়ুর মান আজ অস্বাস্থ্যকর
ঢাকার বায়ুর মান আজ অস্বাস্থ্যকর

বায়ুদূষণের শীর্ষে আজ মালয়েশিয়ার কুচিং শহর। অন্যদিকে, তৃতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকার বায়ুর মান আজ অস্বাস্থ্যকর। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা গেছে এসব তথ্য। স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। আরও পড়ুন দেশে বায়ুদূষণে বছরে প্রাণ যাচ্ছে ৮৮ হাজার মানুষের: জাবির গবেষণা অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। সে হিসেবে কুচিং শহরটির দূষণ স্কোর ১৯১ অর্থাৎ সেখানকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা। এসএনআর

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
গণপতি পরিবার হত্যা: বিচার বিভাগীয় তদন্তের রিটের শুনানি ৮ সপ্তাহ মুলতবি

গণপতি পরিবার হত্যা: বিচার বিভাগীয় তদন্তের রিটের শুনানি ৮ সপ্তাহ মুলতবি

বন ও পাহাড়খেকোদের থামাতেই হবে

বন ও পাহাড়খেকোদের থামাতেই হবে

ইউনিসেফে ইন্টার্নশিপ, আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকেরা

ইউনিসেফে ইন্টার্নশিপ, আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকেরা

শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই
শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই

দেশে শিশুধর্ষণের মামলার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান গভীর উদ্বেগজনক। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিশুধর্ষণের অভিযোগে ১ হাজার ৪৮৫টি মামলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৯৮। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। ২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে মামলা হয়েছিল ৭৫১টি। সেই হিসাবে দুই বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধির হার প্রায় ৯৮ শতাংশ। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কোনোভাবেই একটি সভ্য ও মানবিক সমাজের চিত্র হতে পারে না। এগুলো শুধু অপরাধের পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি মামলার পেছনে রয়েছে একটি শিশুর বিপর্যস্ত জীবন, একটি পরিবারের অসহায়ত্ব এবং রাষ্ট্র ও সমাজের ব্যর্থতা।  আরও উদ্বেগের বিষয় হলো শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে পরিচিত পরিসরে। পুলিশের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে, শিশুধর্ষণের বড় অংশের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তি, স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা বিশ্বাসভাজন ব্যক্তিরা জড়িত। মাগুরায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশুটির বোনের শ্বশুরই ছিলেন অপরাধী। নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। ডিএনএ পরীক্ষায় ওই শিক্ষকই শিশুটির নবজাতকের জৈবিক বাবা বলে শনাক্ত হয়েছেন। এসব ঘটনা দেখায়, শিশুর জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরিচিত সামাজিক পরিসরও সব সময় নিরাপদ নয়।  অনেক পরিবার সামাজিক লজ্জা, ভয়, হুমকি ও চাপের কারণে ঘটনা গোপন করে। কেউ কেউ অভিযোগ করতে বিলম্ব করে। এতে ভুক্তভোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়। নষ্ট হয়ে যেতে পারে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামতও। তাই শিশুধর্ষণকে পরিবারের ‘সম্মানের’ প্রশ্ন হিসেবে দেখার মানসিকতা বদলাতে হবে। অপরাধীর দায় কোনোভাবেই ভুক্তভোগী শিশুর ওপর চাপানো যাবে না। অভিযোগ জানানোর জন্য নিরাপদ, গোপনীয় ও ভুক্তভোগীবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।পল্লবীতে শিশুধর্ষণ ও হত্যার মামলায় মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে রায় হওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু এটি এখনো ব্যতিক্রম। উচ্চ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ৩০ হাজার ৩৬৫টি মামলা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলছে। বিচার দীর্ঘায়িত হলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়ে। সাক্ষ্য ও আলামত দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। অন্যদিকে অপরাধীদের কাছে ভুল বার্তা যায় যে শাস্তি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।শুধু মৃত্যুদণ্ডের বিধান বা বিচ্ছিন্নভাবে দ্রুত রায় দিয়ে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। প্রয়োজন দক্ষ তদন্ত, সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বৈজ্ঞানিকভাবে আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসন। থানা, হাসপাতাল, সমাজসেবা অধিদপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আদালতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকতে হবে। প্রতিটি মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জরুরি।  একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক কাজকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুদের বয়স উপযোগীভাবে নিরাপদ ও অনিরাপদ স্পর্শ সম্পর্কে শেখাতে হবে। কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ জানাতে হবে, সে ধারণাও দিতে হবে। পরিবারকে সন্তানের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ গ্রহণ ও শিশু সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে। সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিশুর অধিকার সম্পর্কে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রকে এখন দৃশ্যমান ও পরিমাপযোগ্য কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের অপরিহার্য দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে আর কোনো শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
দায়িত্বে নতুন পিএসসি প্রধান, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু

দায়িত্বে নতুন পিএসসি প্রধান, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু

ভুয়া ৭৪ শিশুর জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন করলেন ইউপি সচিব

ভুয়া ৭৪ শিশুর জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন করলেন ইউপি সচিব

টিভিতে আজকের খেলা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টিভিতে আজকের খেলা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

0 Comments