জাতীয়

মোবাইলের চ্যাট-হিসাবে মিললো সাড়ে ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
মোবাইলের চ্যাট-হিসাবে মিললো সাড়ে ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য
মোবাইলের চ্যাট-হিসাবে মিললো সাড়ে ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য

মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন মেসেজ ও হিসাবের ছবি বিশ্লেষণ করে সিগারেট উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডে এ আকস্মিক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দলিলাদি ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ঢাকার প্রিভেন্টিভ টিম। পরে জব্দ করা মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে রাজস্ব ফাঁকির এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দুটি টিম একযোগে সিগারেট কারখানা এবং এর কাছাকাছি একটি গুদামে অভিযান চালায়। এসময় কারখানার গেট বাইরে থেকে বন্ধ থাকলেও ভেতরে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। বারবার গেট খুলতে বলা হলেও কেউ সাড়া না দেওয়ায় গোয়েন্দা দলের সদস্যরা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন।

এনবিআর জানায়, কারখানার ভেতরে গিয়ে গোয়েন্দা দল সিগারেট উৎপাদনের কার্যক্রম দেখতে পায়। এসময় কারখানা চত্বরে ধোঁয়া দেখে সেখানে গিয়ে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল ও নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পোড়ানোর বিষয়টি দেখতে পান কর্মকর্তারা।

সংস্থাটি জানায়, পোড়ানো সিগারেটের দলিলাদি দেখতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে পারেননি। এ ধরনের সিগারেট ও ব্যান্ডরোল পোড়ানোর জন্য বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে তারা জানান। পরে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার লিখিত বিবৃতিতে আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পোড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গোয়েন্দা দল পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ আলামত হিসেবে জব্দ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানে কারখানা এবং তৎসংলগ্ন গুদাম ও আবাসিক ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এসময় কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেটও পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।

ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জব্দ করা আলামত পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল।

জব্দ করা মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন মেসেজ এবং হিসাবের ছবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে অধিদপ্তরের আইটি ও সাইবার ফরেনসিক টিম।

প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনো ভ্যাট চালান ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করে আসছিল। এসব তথ্য মূল হিসাব বইয়ে গোপন রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এনবিআর জানায়, উদ্ধার করা পণ্য ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সরকারের প্রাপ্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটন হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এসএম/এমআইএইচএস

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বেহাল সড়কে ঝরা ধান থেকে চারা, ফলনও এসেছে
বেহাল সড়কে ঝরা ধান থেকে চারা, ফলনও এসেছে

সড়কটি পাকা ছিল, ভেঙে গেছে। ভাঙা সড়কের মাটি বের হয়ে আছে। ধানের বীজ পড়ে চারা হয়েছে। পরে সেই গাছের ধান পেকে গেছে; কিন্তু সড়কটি মেরামত বা পাকা হয়নি এখনো। এখন সড়কে পাকা ধানের শিষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। এই চিত্র রাজশাহীর পবা-তানোর সড়কের। সড়কের ওই ধান পথচারী ও যাত্রীদের হাসি–তামাশার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।পবা উপজেলার বায়া মোড় থেকে তানোর উপজেলার কাশিমবাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার ভেঙে গেছে। গত এক বছর সেটি কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। সড়কে চলাচল করা মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বায়ার মোড়ের দুটি স্থানে বড় দুটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন পার হতে গেলেই দেবে যায়। এলাকার লোকজন ওই দুটি স্থানে কাঠি পুঁতে তাতে চিপসের দুটি প্যাকেট রেখে দিয়েছেন, যাতে চালকদের চোখে পড়ে।সড়কের বায়া মোড় থেকে কাশিমবাজারের দিকে যেতে প্রথম ৫০০ মিটার সড়কের মাটি বের হয়ে আছে। স্থানীয় লোকজন জানান, রাস্তার পাশে গত বৈশাখ মাসে ট্রাকে ধান বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। সেই ধান থেকে চারা বের হয়। ধীরে ধীরে সেই চারা বড় হয়। ধানের শিষ বের হয়। সেই ধান এখন পেকেছে। তবে যত ধান পেকেছে, তার চেয়ে আরও বেশি ধান এখনো শিষ বের হওয়ার অপেক্ষায় আছে।হাসমত আলী, দোকানি গত বৈশাখ মাসে  ধানের গাড়ি বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। তারপর সেই ধানের চারা হয়েছে। পাকা সড়কে ধানগাছের চারা গজানো দেখে তাঁরা রেখে দিয়েছেন।গত রোববার ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, দোকানি হাসমত আলীর দোকানের সামনে ধান মোটামুটি পেকেছে। তিনি বলেন, গত বৈশাখ মাসে  ধানের গাড়ি বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। তারপর সেই ধানের চারা হয়েছে। পাকা সড়কে ধানগাছের চারা গজানো দেখে তাঁরা রেখে দিয়েছেন। যত্ন করেছেন; কাউকে নষ্ট করতে দেননি। এখন সেই ধান পেকে গেছে।এটা ‘প্রকৃতির প্রতিবাদ’ উল্লেখ করে হাসমত আলী বলেন, টানা এক বছর ধরে এই সড়কের যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে পথচারীদের কাদা মেখে বাড়ি যেতে হয়। রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি পার হতে গেলে পথচারীর গায়ে কাদা লাগবেই।বৃহস্পতিবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসমত আলী তাঁর দোকানের সামনে কয়েক ঝাড় ধান কেটে দোকানে রেখেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধান পেকে ঝরে পড়ে যাচ্ছিল। তাই কেটে দোকানে রেখেছেন। এক ঝাড়েই এক কেজি ধান হয়েছে।পাশের আরেক দোকানি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাস্তা খারাপ বলেই সুন্দর ধান হয়েছে। এটা একটি সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্যই একটা প্রতিবাদ।’বেসরকারি সংস্থার এক কর্মকর্তা রসিকতা করে বলেন, এবার বৃষ্টি বেশি হলে মানুষ রাস্তার গর্তে মাছ ছাড়বে।ধানের ছবি তুলে নিয়ে পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মান্নানকে দেখালে তিনি বলেন, এটা ব্রি-৮৭ অথবা ১০৩ জাতের হতে পারে। তবে ব্রি-৮৭ জাতের ধান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, ব্রি–১০৩ জাত এর চেয়ে একটু বেশি লম্বা হয়ে থাকে।দুর্ঘটনা এড়াতে বেহাল সড়কে কাঠি পুঁতে তাতে চিপসের দুটি প্যাকেট ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে জনদুর্ভোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে বুধবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। তাঁর কার্যালয়ে দেখা করতে বলেন। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ে কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সাইটে আছেন। কতক্ষণ পরে আসবেন জানতে চাইলে বলেন, সাইটে এলেই সময় বেশি লেগে যায়। তিনি এসে কথা বলবেন। ঘণ্টাখানেক বসতে হবে। তবে তিনি আর আসেননি। ঘণ্টাখানেক পর উপসহকারী প্রকৌশলী মসিউর রহমান সড়ক সংস্কারের বিষয়ে তথ্য দেন। তিনি বলেন, এই রাস্তা সংস্কারের জন্য ১৪ কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মে মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে এজিংয়ের (সড়কের দুই পাশের মেরামত) কাজ চলছে। কাজের মেয়াদ রয়েছে এক বছর। আগামী মে মাসে কাজ শেষ হবে।সড়কের বায়া মোড়ে মানুষের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ। সেখান থেকে কেন শুরু করা হয়নি, জানতে চাইলে মসিউর রহমান বলেন, এই জায়গায় ‘সয়েল কন্ডিশন’ খারাপ। তাই এখানে আরসিসি কনস্ট্রাকশন হবে। পরে কাজ শুরু হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে উৎসবমুখর ‘ফ্যামিলি ডে’ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে উৎসবমুখর ‘ফ্যামিলি ডে’ অনুষ্ঠিত

ডুপার নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন

ডুপার নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে অ্যাওয়ার্ড পেল এআইইউবি

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে অ্যাওয়ার্ড পেল এআইইউবি

সিইউএফএল চালুর দুই দিনের মাথায় আবার সার উৎপাদন বন্ধ
সিইউএফএল চালুর দুই দিনের মাথায় আবার সার উৎপাদন বন্ধ

টানা ছয় মাস গ্যাস–সংকটের কারণে বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছিল চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। কিন্তু চালুর দুই দিনের মাথায় আবারও কারখানাটির ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটি বন্ধ করে দিতে হয়। কারখানা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম।সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর কারখানাটিতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়। এরপর গত মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। দুই দিন পর আজ ভোর চারটার দিকে আরসি পাম্পের সিল লিকেজ দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।কারখানার কর্মকর্তারা জানান, আরসি পাম্পের ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হলেও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ আগামী শনিবার পর্যন্ত কম থাকবে। এ কারণে ত্রুটি মেরামত হলেও শনিবারের আগে সিইউএফএলে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে না।সিইউএফএল চালু থাকলে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ৩৮ হাজার টাকা হিসাবে দৈনিক প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে কারখানাটির। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে কারখানাটি।সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত দুই বছরে কখনো যান্ত্রিক ত্রুটি, আবার কখনো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মাত্র পাঁচ দিন কারখানাটি চালু ছিল। এরপর ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। টানা প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর ওই বছরের ১৩ অক্টোবর আবার উৎপাদন শুরু হয়।তবে ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ মেরামতের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে কারখানাটি চালু করা হয়। এরপর প্রায় দেড় মাস চালু থাকার পর ১১ এপ্রিল গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।সূত্র জানায়, এরপর টানা প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ২ নভেম্বর কারখানাটি চালু করা হয়। কিন্তু চালুর দিনই আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে ২ মার্চ আবার উৎপাদন শুরু হলেও গ্যাস–সংকটের কারণে ৪ মার্চ কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সবশেষে টানা ছয় মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর পাঁচটার দিকে উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু দুই দিনের মাথায় আজ ভোর চারটার দিকে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।সিইউএফএল সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র ৬৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।সিইউএফএলে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কারখানাটি পুরোপুরি গ্যাসনির্ভর হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।সিইউএফএল সূত্র জানায়, দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন কারখানাগুলো, সিইউএফএলসহ প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে। চাহিদার বাকি প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি করতে হয়।সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর জাপানের কারিগরি সহায়তায় কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করে সরকার। চালুর সময় কারখানাটির দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ও বার্ষিক ৫ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে পারে কারখানাটি।এ ছাড়া দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন ও বছরে ৩ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে সিইউএফএলের।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
মাকসুদ কামাল নজরদারিতে আছেন, দেশে থাকলে পালানোর সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর

মাকসুদ কামাল নজরদারিতে আছেন, দেশে থাকলে পালানোর সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর

কৃষিজমি ভরাট করে আবাসন, কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল রাজউক

কৃষিজমি ভরাট করে আবাসন, কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল রাজউক

প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের মাঝে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের মাঝে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর শঙ্কা, এডিস নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর শঙ্কা, এডিস নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথম দিকে এডিস মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন বাড়ছে এডিস মশার প্রকোপ? নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন? বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে—

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
মেঘনায় ধরা পড়ল ৭ মণের শাপলা পাতা মাছ, বিক্রি ৯০ হাজারে

মেঘনায় ধরা পড়ল ৭ মণের শাপলা পাতা মাছ, বিক্রি ৯০ হাজারে

বাংলা কিউআরে সঙ্গে সঙ্গেই টাকা পাবেন বিক্রেতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

বাংলা কিউআরে সঙ্গে সঙ্গেই টাকা পাবেন বিক্রেতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

খাঁচায় মশা আটকে ওষুধের ধোঁয়া, ২৪ ঘণ্টা পর পাওয়া গেল ফল

খাঁচায় মশা আটকে ওষুধের ধোঁয়া, ২৪ ঘণ্টা পর পাওয়া গেল ফল

0 Comments