খেলার মাঠকে শুধু খেলাধুলার স্থান হিসেবে নয় বরং আগামী দিনের সুস্থ প্রজন্ম গঠন, সভ্যতা-সংস্কৃতির বিকাশ এবং জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরে তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। খেলার মাঠ থেকে শুধু ভালো খেলোয়াড় নয়, আগামী দিনের যোগ্য জাতীয় নেতৃত্বও তৈরি হোক–আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে চাই।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগর উন্নয়ন ফোরাম, ঢাকা উত্তর সিটির আয়োজনে ক্রীড়া সংগঠকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেওড়াপাড়ার একটি রেস্তোরাঁয় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রিভাইবার স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্লাবটির সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা যে খেলার মাঠে যাই তা শুধু খেলার মাঠ হতে পারে না। এটিকে আগামী দিনের একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার বিনিয়োগের জায়গা হিসেবে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা খেলার মাঠকে সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। খেলাধুলার মাধ্যমে সহনশীলতার বিকাশ ঘটাতে চাই এবং খেলার মাঠ থেকেই জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, যারা খেলাধুলায় অংশ নেবেন, তাদের পথচলা শুধুমাত্র খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। আগামী দিনে দেশ গড়ার প্রতিটি সেক্টরে যারা খেলাধুলায় নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তারা যেন রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় নেতৃত্ব দিতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সুযোগ তৈরি করতে হবে।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে চাই। খেলার মাঠ থেকেও সেই ধরনের যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে দেখা গেছে, ক্রীড়াজগতে যারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, তারা পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বেও ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশেও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে দেখতে চান বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কলম তৈরি করে তারা দেখিয়েছেন, ইচ্ছা থাকলে ভালো কাজ করার জন্য সব সময় সরকারে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। বেসরকারি উদ্যোগ থেকেও জনকল্যাণমূলক ও পরিবেশবান্ধব নানা পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ঢাকা নগরীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নগরীকে সঠিক নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়া গেলে আগামী দিনে কোনো অঙ্গনের মানুষ বেকার থাকবে না। দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের যোগ্য নেতৃত্বে পরিণত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ নগর গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়বিদ অজয় কুমার নন্দী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভলিবল কোচ খন্দকার মাহবুবুর রশিদ দালু, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আব্দুর রাজ্জাক, আন্তর্জাতিক সাঁতার প্রশিক্ষক ও সাফ গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী মো. শাহজাহান আলী, মাহফুজা খাতুন প্রমুখ।
এমএমকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো ও দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সবসময় কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিসেস প্রীতি চক্রবর্তী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিসিআই বোর্ডরুমে ‘সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা এবং ই-জিপি ব্যবস্থা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ‘বিসিআই সবসময় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই প্রশিক্ষণ ই-জিপি ব্যবস্থার কারিগরি দিক সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে আরও দক্ষতার সঙ্গে অংশ নিতে পারবেন এবং ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সক্ষম হবেন।’ সকাল ১০টায় শুরু হওয়া দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সরকারি ক্রয় আইন ও ২০২৫ সালের সরকারি ক্রয় বিধিমালার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং ই-জিপি ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিসিআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মো. হেলাল উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির সাবেক সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। কর্মশালার প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ই-জিপি ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। আলোচনায় সরকারি দরপত্রে কীভাবে ই-জিপি ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে হয়, দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ কী এবং কীভাবে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সময় ও শ্রম সাশ্রয় করে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া যায়- এসব বিষয়ও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিসিআইয়ের সদস্য, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা নানা প্রশ্ন করেন এবং প্রশিক্ষক সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ করা হয়। এ সময় বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) সংগঠনটির ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে বিসিআই নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করে আসছে। ভবিষ্যতেও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরে বিসিআই সভাপতি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন। একই সঙ্গে কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষক ও সব অংশগ্রহণকারীকে বিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা জানান, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহারিক বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ায় কর্মশালাটি তাদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণটি তাদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন। ইএইচটি/এমএএইচ/
বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরে জ্বালানি ব্যয় কমেনি। বরং কয়েকটি দপ্তরে সর্বশেষ মাসে আগের মাসের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে। চলতি বছরের ৫ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং দেশের সব নাগরিককে অবিলম্বে সাশ্রয়মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আগস্ট মাসের মাসিক সমন্বয় সভায় জ্বালানি খরচের এ হিসাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ২৫৫ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬২৩ টাকা এবং মার্চে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৫৫ টাকা। এরপর এপ্রিল মাসে ব্যয় বেড়ে হয় ২ লাখ ২৭ হাজার ২৫৪ টাকা। মে মাসে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৬ টাকা, জুনে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯৩ টাকা এবং জুলাইয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭১৯ টাকা ৭৩ পয়সা ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ মার্চের তুলনায় জুলাইয়ে মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জুনের তুলনায়ও জুলাইয়ে ব্যয় বেড়েছে ৩২ হাজার ৩২৬ টাকা। মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে ১১টি জিপ, ৬টি মাইক্রোবাস, ২টি মোটরসাইকেল ও একটি জেনারেটরে জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। এ দপ্তরেও মাসভেদে জ্বালানি ব্যয়ে ওঠানামা রয়েছে। জুলাইয়ে সেখানে জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৯ লাখ ৮৪ হাজার ২১৯ টাকা। মার্চে ব্যয় ছিল ১৮ লাখ ৭ হাজার ৮২৯ টাকা। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জুলাইয়ে জ্বালানি ব্যয় আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। জুনে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ১৫৭ টাকা ব্যয় হলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬ হাজার ৫৯৭ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, ক্যাডেটদের এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সাভারে হওয়ায় গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং লোডশেডিং বেশি হওয়ায় ক্যাডেট ও ট্রেনিজ হোস্টেলে জেনারেটর ব্যবহার বাড়ায় ব্যয় বেড়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসেও প্রতিষ্ঠানটির জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। মার্চে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৩৮ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে এপ্রিলে ব্যয় হয় ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭০১ টাকা। তখন এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সাভারে হওয়া, তৃণমূল ক্যাম্প ও আত্মরক্ষা প্রকল্পের ক্যাম্প এবং লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর ব্যবহার বৃদ্ধিকে ব্যয় বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আরএমএম/জেএইচ