জাতীয়

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫০ হাজার ছাড়ালো, মৃত্যু ১৪৩

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫০ হাজার ছাড়ালো, মৃত্যু ১৪৩
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫০ হাজার ছাড়ালো, মৃত্যু ১৪৩

দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একদিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার ৫৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ভর্তি হলেন মোট ৫০ হাজার ২৭৬ জন।

এছাড়া একদিনে মারা গেছেন আরও দুজন। এর ফলে এ বছর মোট ১৪৩ জনের মৃত্যু হলো।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মারা যাওয়া দুজনই পুরুষ। তাদের মধ্যে একজন ছয় থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু এবং অন্যজনের বয়স ৫৬ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৪৩ জনের মধ্যে নারী ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ।

মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৪৬ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।

আরও পড়ুন

আগস্টে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর রেকর্ড সেপ্টেম্বরের ১১ দিনেই ভাঙলো

ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৪৮, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৮ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৫, ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।

এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০ হাজার ২৭৬ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৯৯ জন।

মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৩০ জন। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হন ৮ সেপ্টেম্বর।

এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন।

একিউএফ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ব্যবসায়ীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে বিসিআই
ব্যবসায়ীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে বিসিআই

দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো ও দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সবসময় কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিসেস প্রীতি চক্রবর্তী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিসিআই বোর্ডরুমে ‘সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা এবং ই-জিপি ব্যবস্থা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ‘বিসিআই সবসময় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই প্রশিক্ষণ ই-জিপি ব্যবস্থার কারিগরি দিক সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে আরও দক্ষতার সঙ্গে অংশ নিতে পারবেন এবং ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সক্ষম হবেন।’ সকাল ১০টায় শুরু হওয়া দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সরকারি ক্রয় আইন ও ২০২৫ সালের সরকারি ক্রয় বিধিমালার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং ই-জিপি ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিসিআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মো. হেলাল উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির সাবেক সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। কর্মশালার প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ই-জিপি ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। আলোচনায় সরকারি দরপত্রে কীভাবে ই-জিপি ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে হয়, দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ কী এবং কীভাবে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সময় ও শ্রম সাশ্রয় করে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া যায়- এসব বিষয়ও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিসিআইয়ের সদস্য, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা নানা প্রশ্ন করেন এবং প্রশিক্ষক সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ করা হয়। এ সময় বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) সংগঠনটির ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে বিসিআই নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করে আসছে। ভবিষ্যতেও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরে বিসিআই সভাপতি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন। একই সঙ্গে কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষক ও সব অংশগ্রহণকারীকে বিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা জানান, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহারিক বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ায় কর্মশালাটি তাদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণটি তাদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন। ইএইচটি/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
নবীজির দ্বিতীয় শাম সফর: একটি নতুন ভবিষ্যতের সূচনা

নবীজির দ্বিতীয় শাম সফর: একটি নতুন ভবিষ্যতের সূচনা

খালে ভেসে আসে স্কুলব্যাগ, ভেতরে ছিল নারীর খণ্ডিত মরদেহ

খালে ভেসে আসে স্কুলব্যাগ, ভেতরে ছিল নারীর খণ্ডিত মরদেহ

বাসে যাত্রী জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, আটক ‘মূলহোতা’

বাসে যাত্রী জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, আটক ‘মূলহোতা’

জ্বালানি সাশ্রয়ের মধ্যে মার্চের চেয়ে জুলাইয়ে খরচ বেড়েছে সোয়া লাখ টাকা
জ্বালানি সাশ্রয়ের মধ্যে মার্চের চেয়ে জুলাইয়ে খরচ বেড়েছে সোয়া লাখ টাকা

বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরে জ্বালানি ব্যয় কমেনি। বরং কয়েকটি দপ্তরে সর্বশেষ মাসে আগের মাসের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে।  চলতি বছরের ৫ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং দেশের সব নাগরিককে অবিলম্বে সাশ্রয়মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।  সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আগস্ট মাসের মাসিক সমন্বয় সভায় জ্বালানি খরচের এ হিসাব উপস্থাপন করা হয়।  এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ২৫৫ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬২৩ টাকা এবং মার্চে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৫৫ টাকা। এরপর এপ্রিল মাসে ব্যয় বেড়ে হয় ২ লাখ ২৭ হাজার ২৫৪ টাকা। মে মাসে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৬ টাকা, জুনে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯৩ টাকা এবং জুলাইয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭১৯ টাকা ৭৩ পয়সা ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ মার্চের তুলনায় জুলাইয়ে মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জুনের তুলনায়ও জুলাইয়ে ব্যয় বেড়েছে ৩২ হাজার ৩২৬ টাকা।  মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে ১১টি জিপ, ৬টি মাইক্রোবাস, ২টি মোটরসাইকেল ও একটি জেনারেটরে জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। এ দপ্তরেও মাসভেদে জ্বালানি ব্যয়ে ওঠানামা রয়েছে। জুলাইয়ে সেখানে জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৯ লাখ ৮৪ হাজার ২১৯ টাকা। মার্চে ব্যয় ছিল ১৮ লাখ ৭ হাজার ৮২৯ টাকা।  বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জুলাইয়ে জ্বালানি ব্যয় আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। জুনে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ১৫৭ টাকা ব্যয় হলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬ হাজার ৫৯৭ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, ক্যাডেটদের এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সাভারে হওয়ায় গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং লোডশেডিং বেশি হওয়ায় ক্যাডেট ও ট্রেনিজ হোস্টেলে জেনারেটর ব্যবহার বাড়ায় ব্যয় বেড়েছে।  এর আগে এপ্রিল মাসেও প্রতিষ্ঠানটির জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। মার্চে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৩৮ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে এপ্রিলে ব্যয় হয় ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭০১ টাকা। তখন এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সাভারে হওয়া, তৃণমূল ক্যাম্প ও আত্মরক্ষা প্রকল্পের ক্যাম্প এবং লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর ব্যবহার বৃদ্ধিকে ব্যয় বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আরএমএম/জেএইচ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
কলকাতায় সহসাই মিটছে না হোটেল সমস্যা, ভোগান্তিতে বাংলাদেশিরা

কলকাতায় সহসাই মিটছে না হোটেল সমস্যা, ভোগান্তিতে বাংলাদেশিরা

দুই ছাত্রকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ৩ মাদরাসা শিক্ষক গ্রেফতার

দুই ছাত্রকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ৩ মাদরাসা শিক্ষক গ্রেফতার

ব্যবসার সামনে অবারিত সুযোগ, উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে সরকার

ব্যবসার সামনে অবারিত সুযোগ, উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে সরকার

0 Comments