জাতীয়

নবীজির দ্বিতীয় শাম সফর: একটি নতুন ভবিষ্যতের সূচনা

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
নবীজির দ্বিতীয় শাম সফর: একটি নতুন ভবিষ্যতের সূচনা
নবীজির দ্বিতীয় শাম সফর: একটি নতুন ভবিষ্যতের সূচনা

প্রথম শাম সফরের প্রায় তেরো বছর পর, পঁচিশ বছর বয়সে মুহাম্মদ (সা.) দ্বিতীয়বার সিরিয়ার পথে রওনা হন—তবে এবার চাচার সহযাত্রী হিসেবে নয়, বরং মক্কার এক প্রতিষ্ঠিত ধনী নারী ব্যবসায়ী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.)–এর বাণিজ্য কাফেলার প্রতিনিধি হিসেবে।

ততদিনে মক্কার চারণভূমি আর বাজারে সততা ও আমানতদারির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ‘আল-আমিন’ ও ‘আস-সাদিক’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। এই সফরই পরবর্তীকালে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবাহের পটভূমি তৈরি করে।

খাদিজার প্রস্তাব ও মুদারাবা চুক্তি

খ্রিষ্টীয় ৫৯৫ অব্দে মক্কায় তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা ও খরা দেখা দেয়। আবু তালিবের আর্থিক অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়লে তিনি মুহাম্মদ (সা.)–কে ডেকে বলেন, “ভাতিজা, আমি এক কপর্দকহীন মানুষ। দিন দিন আমাদের অবস্থা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই মুহূর্তে খুওয়াইলিদের মেয়ে খাদিজার একটি কাফেলা শামের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি তাঁর বাণিজ্যের জন্য বিশ্বস্ত লোক খুঁজছেন। তুমি যদি তাঁর কাছে গিয়ে প্রস্তাব করো, তবে তোমার সততার সুনামের কারণে তিনি নিশ্চিতভাবেই তোমাকে অগ্রাধিকার দেবেন। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১৩০, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)

তৎকালীন আরব সমাজে নারীরা সরাসরি দূরপাল্লার বাণিজ্যযাত্রায় যেতেন না; বরং ‘মুদারাবা’ রীতিতে বিশ্বস্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে ব্যবসা চালাতেন—পুঁজি বিনিয়োগকারীর, শ্রম ও দক্ষতা প্রতিনিধির, আর মুনাফা নির্দিষ্ট অনুপাতে ভাগ হতো।

তরুণ মুহাম্মদ (সা.)-এর সততার সুনাম ইতিমধ্যে মক্কার ধনাঢ্য নারী খাদিজার কানে পৌঁছেছিল, আর তিনি চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে এই প্রস্তাব পাঠান।

পারিশ্রমিকের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নিয়ে বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতা আছে। কোথাও বলা হয়েছে দুটি উট, কোথাও লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ, আবার একাধিক সিরাত-বিবরণে বলা হয়েছে প্রচলিত পারিশ্রমিকের দ্বিগুণ। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১৩০, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮; ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/১৮৭, দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত, ১৯৯০)

খাদিজা তাঁর বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ কর্মচারী মাইসারাকে সহকারী হিসেবে সঙ্গে দেন।

মক্কা থেকে উত্তরমুখী প্রাচীন বাণিজ্যপথ ধরে মদিনা, খাইবার, ওয়াদিউল কুরা, তাইমা ও তাবুক হয়ে কাফেলাটি রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্ত নগরী বুসরা আল-শামে পৌঁছায়।

যাত্রাপথ ও দূরত্ব

সিরাতের ধারাবাহিক কালপঞ্জি ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক সফরটি সম্পন্ন হয়েছিল ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে (২৮ হিজরি পূর্ব সনে)। সে সময় মহানবীর বয়স ছিল পূর্ণ ২৫ চন্দ্রবছর। কোরআন বর্ণিত ‘রিহলাতাস সাইফ’ বা কোরাইশদের ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন কাফেলাটি মক্কা ত্যাগ করত সাধারণত বসন্তের শেষভাগে—অর্থাৎ মে-জুন ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে।

মক্কা থেকে উত্তরমুখী প্রাচীন বাণিজ্যপথ ধরে মদিনা, খাইবার, ওয়াদিউল কুরা, তাইমা ও তাবুক হয়ে কাফেলাটি রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্ত নগরী বুসরা আল-শামে পৌঁছায়। আধুনিক সিরাত-বক্তারাও বুসরাকে দামেস্কের প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণের একটি সুপরিচিত বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে ইয়েমেন-মিসরসহ নানা অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করতেন।

মক্কা থেকে বুসরা পর্যন্ত মোট দূরত্ব বিভিন্ন রুটে ১,৩০০ থেকে ১,৬০০ কিলোমিটার। ঐতিহাসিক বর্ণনায় রয়েছে ‘প্রায় ১,৩৫০ কিলোমিটার’। (ইবনে সাইয়িদ আন-নাস, উয়ুনুল আসার, ১/৪১, দারুল কলম, বৈরুত, ১৯৯৩)

দৈনিক এক মারহালাহ গতিতে একমুখী যাত্রায় সময় লাগত মোটামুটি এক মাস, আর বুসরার বাজারে কেনাবেচা ও ফেরার পথ মিলিয়ে সমগ্র সফরে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন মাস (মে থেকে আগস্ট ৫৯৫ খ্রি.)।

সন্ন্যাসী নাসতুরের সাক্ষ্য

বুসরায় পৌঁছে মুহাম্মদ (সা.) একটি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেন, যার কাছেই বাস করতেন নাসতুর নামের এক সন্ন্যাসী। এই ঘটনা প্রথম শাম সফরের পাদ্রি বাহিরার কাহিনি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি স্বতন্ত্র বিবরণ, যা একাধিক স্বাধীন সূত্রে সংরক্ষিত আছে।

নাসতুর গির্জা থেকে নেমে এসে মাইসারাকে জিজ্ঞেস করেন, “গাছের নিচে বিশ্রামরত এই যুবকটি কে?” মাইসারা উত্তর দেন, “তিনি মক্কার হারাম সীমানার বাসিন্দা, কুরাইশ বংশীয় এক সম্মানিত যুবক।” নাসতুর বলেন, নবী ইসার পর থেকে আজ পর্যন্ত এই গাছের নিচে আর কোনো নবী ছাড়া কেউ বসেননি।

তিনি আরও লক্ষ করেন তরুণের চোখে একধরনের লালচে আভা, যা প্রাচীন সেমেটিক ধর্মগ্রন্থে নবুয়তের একটি চিহ্ন বলে উল্লেখ আছে বলে তিনি জানান। (বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ২/৬৫, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৯৮৮)

পাদ্রি বাহিরার কাহিনির মতোই নাসতুরের এই ঘটনাও হাদিসশাস্ত্রে সমালোচনামূলক পর্যালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। এই বর্ণনা মূলত এসেছে ইবনে ইসহাক ও ওয়াকিদির সূত্রে, আর মুহাদ্দিসদের বিচারে এর অধিকাংশ সনদই ‘মুরসাল’ (অসম্পূর্ণ শৃঙ্খল) বা ‘মুনকাতি’ (বিচ্ছিন্ন সূত্র)।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি ও ইমাম জাহাবি উভয়েই মন্তব্য করেছেন, ঘটনার মূল কাঠামো ঐতিহাসিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও এতে ব্যবহৃত কিছু বিস্তারিত উক্তি পরবর্তী বর্ণনাকারীদের স্মৃতিনির্ভর সংযোজন হতে পারে। (আজ-জাহাবি, শামসুদ্দিন, তারিখুল ইসলাম, ১/৫৬, দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত, ১৯৯০)

মুহাম্মদ (সা.) অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সমকালীন অন্য সমস্ত ব্যবসায়ীর আগেই আকর্ষণীয় মূল্যে তাঁর কাফেলার সমস্ত চামড়া ও সুগন্ধি বিক্রি করে দেন। একই সঙ্গে তিনি মক্কার স্থানীয় চাহিদার কথা মাথায় রেখে উচ্চমানের সিরীয় বস্ত্র ও জলপাই তেল ক্রয় করেন।

লাত-উজ্জার নামে শপথ প্রত্যাখ্যান

বাজারে দরকষাকষির এক পর্যায়ে এক ক্রেতা মুহাম্মদ (সা.)-কে আরবের প্রচলিত রীতিতে মক্কার প্রধান দুই দেবী লাত ও উজ্জার নামে শপথ করতে বলে।

তিনি স্পষ্ট জবাব দেন, “মা হালফতু বি-হিমা ক্বাত্তু, ওয়া ইন্নি লা-আমুররু ফা-উ’রিদু আনহুমা...(আমি জীবনে কখনোই লাত ও উজ্জার নামে শপথ করিনি। এমনকি পথ চলার সময়ও যদি আমি সেগুলোর সামনে দিয়ে অতিক্রম করি, তবে মুখ ফিরিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাই)।

এই দৃঢ়তা দেখে ক্রেতা মুগ্ধ হয়ে তাঁর কথা মেনে নেন। এরপর তিনি মাইসারার কাছে গিয়ে মন্তব্য করেন, আল্লাহর শপথ, এই ব্যক্তি কোনো সাধারণ মানুষ নন; ইনি সেই ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব, যাঁর কথা আমাদের ধর্মগ্রন্থগুলোতে বর্ণিত রয়েছে।” (ইবনে আসাকির, তারিখু দিমাশক, ৩/৩৫)

বাণিজ্যিক স্বার্থের মুহূর্তেও পৌত্তলিক আচার থেকে এই সচেতন দূরত্ব বজায় রাখা নবুয়তপূর্ব জীবনেও তাঁর স্বতন্ত্র নৈতিক অবস্থানের একটি স্পষ্ট নজির।

পণ্যের ধরন ও বিনিময়

প্রাক-ইসলামী যুগে হেজাজ থেকে রোমান সাম্রাজ্যে কী ধরনের পণ্য রপ্তানি হতো এবং বিনিময়ে কী আনা হতো, তা প্রাচীন আরব বিশ্বের অর্থনৈতিক ইতিহাসের একটি মৌলিক প্রশ্ন। হেজাজের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং মক্কার মরুময় ভূমির কারণে কোরাইশদের এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আদান-প্রদান ছিল তাদের সমাজ ও অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি।

হেজাজ থেকে মূলত ইয়েমেনি ও মাক্কী প্রক্রিয়াজাত চামড়া, উৎকৃষ্ট পশম ও লোমজাত বস্ত্র, রৌপ্য ও ধাতব বার এবং সুদূর ইয়েমেনের বিখ্যাত সুগন্ধি ও লোবান রপ্তানি করা হতো।

তৎকালীন রোমান সাম্রাজ্যের অভিজাত শ্রেণি এবং বিশাল সেনাবাহিনীর মধ্যে চামড়াজাত পণ্য যেমন—উন্নত জুতো, ঘোড়ার জিন ও সামরিক তাঁবুর ব্যাপক চাহিদা ছিল। কোরাইশদের প্রক্রিয়াজাত করা চামড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তার টেকসই গুণমানের জন্য শীর্ষস্থানীয় হিসেবে স্বীকৃত ছিল।

বিনিময়ে শাম (রোমান সিরিয়া অঞ্চল) থেকে হেজাজে নিয়ে আসা হতো সিরীয় মিহি রেশম ও সুতি বস্ত্র, জলপাই তেল (জাইতুন), বিভিন্ন ফলের মিষ্টি রস বা সিরপ, গম, ময়দা এবং উন্নত মানের রোমান ধাতব অস্ত্র ও কাচপাত্র।

মক্কার অনুর্বর মাটিতে কোনো কৃষিকাজ হতো না বলে সাধারণ খাদ্যশস্যের দৈনন্দিন জোগান এবং অভিজাত শ্রেণির বিলাসবহুল বস্ত্রের চাহিদার জন্য কোরাইশরা পুরোপুরি শামের আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, কোরাইশদের সমগ্র যৌথ বাণিজ্য কাফেলায় যত পণ্য থাকত, তার প্রায় সমপরিমাণ পণ্য থাকত খাদিজার একক মালিকানাধীন। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১৩০)।

মুহাম্মদ (সা.) অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সমকালীন অন্য সমস্ত ব্যবসায়ীর আগেই আকর্ষণীয় মূল্যে তাঁর কাফেলার সমস্ত চামড়া ও সুগন্ধি বিক্রি করে দেন। একই সঙ্গে তিনি মক্কার স্থানীয় চাহিদার কথা মাথায় রেখে উচ্চমানের সিরীয় বস্ত্র ও জলপাই তেল ক্রয় করেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ৩/১১৯, দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, ১৯৮৮)

মাইসারার পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যাবর্তন

গোটা সফরে মাইসারা মুহাম্মদ (সা.)-এর লেনদেনের সততা, ধৈর্য আর আচরণের সৌজন্য গভীরভাবে লক্ষ করেন। দেখেন যে ওজনে কম না দেওয়া, পণ্যের ত্রুটি গোপন না করা এবং ক্রেতার দুর্বলতার সুযোগ না নেওয়া তার ব্যবসার মূলনীতি। ফেরার পথে প্রচণ্ড গরমে তিনি লক্ষ করেন, দুটি মেঘখণ্ড নিয়মিত তাঁর মাথার ওপর ছায়া দিয়ে চলছে। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/১৮৮)

কাফেলা মক্কায় ফেরার সময় খাদিজা নিজেও, বর্ণনামতে, তাঁর গৃহের ছাদ থেকে দূর থেকে কাফেলাকে আসতে দেখেন। কাফেলাটি মক্কায় প্রবেশ করেছিল তীব্র গরমের এক দ্বিপ্রহরে (তৎকালীন আরবের পরিভাষায় ‘জাহীরা’ বা ঠিক দুপুরবেলা)।

মক্কায় প্রবেশকারী কাফেলার অগ্রভাগে উটের পিঠে আরোহী মুহাম্মদকে তিনি প্রথম দূর থেকে দেখতে পান এবং মাইসারার বর্ণনার আগেই নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেন যে দুটি মেঘখণ্ড বা অতিপ্রাকৃত ছায়া তাঁকে দুপুরের প্রখর খরতাপ থেকে রক্ষা করে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসছে।

মক্কায় প্রবেশকারী কাফেলার অগ্রভাগে উটের পিঠে আরোহী মুহাম্মদকে তিনি প্রথম দূর থেকে দেখতে পান এবং মাইসারার বর্ণনার আগেই নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেন যে দুটি মেঘখণ্ড বা অতিপ্রাকৃত ছায়া তাঁকে দুপুরের প্রখর খরতাপ থেকে রক্ষা করে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসছে। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/১৮৮)

বুসরার ব্যবসা শেষে দেখা যায়, খাদিজা তাঁর আগের যেকোনো সফরের তুলনায় বেশি মুনাফা অর্জন করেছেন। মুহাম্মদ (সা.) সততার সঙ্গে সব হিসাব বুঝিয়ে দেন, আর মাইসারা খাদিজাকে নাসতুরের কথা আর সফরের খুঁটিনাটি বিস্তারিত জানান।

ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুযায়ী, এই বিবরণ শুনে খাদিজা তাঁর জ্ঞাতিভাই ওয়ারাকা ইবনে নওফালের সঙ্গে আলোচনা করেন, আর ওয়ারাকা মন্তব্য করেন, বর্ণনা সত্য হলে মুহাম্মদই হতে পারেন প্রতীক্ষিত সেই নবী।

খাদিজার সঙ্গে অন্যান্য বাণিজ্যিক অভিজ্ঞতা

খাদিজার আস্থা অবশ্য এক সফরেই তৈরি হয়নি। কিছু বর্ণনায় এসেছে, শাম সফরের আগে মুহাম্মদ (সা.) তিহামা অঞ্চলের (মক্কা থেকে প্রায় ৬-৮ দিনের পথ দক্ষিণে) বিখ্যাত বার্ষিক মেলা সুক্ব হুবাশাতেও খাদিজার পক্ষে বাণিজ্য করেছিলেন এবং সেখান থেকে ভালো মুনাফা নিয়ে ফেরেন। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১৩১)

এ ছাড়া ইয়েমেন সীমান্তের ‘জুরাশ’ নামক বিখ্যাত বাণিজ্যকেন্দ্রেও তিনি খাদিজার পক্ষে একটি বাণিজ্যিক অভিযানে গিয়েছিলেন বলে কিছু বর্ণনায় এসেছে, যেখানে পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি দুটি তরুণ উট পেয়েছিলেন তিনি। (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৪৮৫২; সুনানুল কুবরা লিল-বাইহাকি, ৬/৬৩)

এই ছোট-বড় স্থানীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্যেই ধীরে ধীরে প্রমাণিত হয় তাঁর ব্যবসায়িক দক্ষতা, যার ভিত্তিতেই খাদিজা তাঁকে শামের মতো দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সফরের দায়িত্ব দিতে আস্থা পান।

দ্বিতীয় শাম সফর শুধু একটি সফল বাণিজ্যিক অভিযান ছিল না; এটি ছিল সেই সেতু, যা তরুণ মুহাম্মদ (সা.)-এর সততা আর বিচক্ষণতাকে খাদিজার আস্থার সঙ্গে যুক্ত করে দেয়, আর সেই সূত্র ধরেই আসে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবাহ।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
পাবনার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে পৌরসভা-স্কয়ার-ব্র্যাকের চুক্তি
পাবনার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে পৌরসভা-স্কয়ার-ব্র্যাকের চুক্তি

পাবনা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে পৌরসভা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও ব্র্যাকের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। পাবনা পৌরসভার আয়োজনে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও ব্র্যাকের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাবনা শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০৩ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। বর্তমানে আংশিক সংগ্রহ ব্যবস্থা এবং সরাসরি ল্যান্ডফিলে বর্জ্য ফেলার কারণে ড্রেন ও ইছামতি নদীতে ময়লা জমে জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। উদ্যোগটির প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে শক্তিশালী ও ঢাকনাযুক্ত কমিউনিটি বিন স্থাপন, বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ, স্কুল ও কাঁচাবাজারে সচেতনতামূলক প্রচার এবং স্থানীয় মানুষের মাধ্যমে ডাস্টবিন ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬ মাসের কর্মপরিকল্পনায় বর্জ্য ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করার মাধ্যমে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগে পাবনা পৌরসভা সেবা কর্তৃপক্ষ ও অবকাঠামো নিয়ন্ত্রক হিসেবে, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে এবং ব্র্যাক সিস্টেম আর্কিটেক্ট ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা পালন করবে বলে আগের যৌথ সভায় জানানো হয়। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, সরকারি উদ্যোগের আশায় না থেকে আমরা নিজেরাই যদি আমাদের প্রত্যাশা পূরণে উদ্যোগ নিতে পারি, নিজেদের উদ্যোগকে সূত্রবদ্ধ করে একটি কর্মে পরিণত করতে পারি, তাহলে সেটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো পাবনা পৌরসভাকে ঘিরে আগামী একশ বছরের একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছিলাম। আমাদের সৌভাগ্য, বাংলাদেশ পরিবর্তনের একটি গেটওয়েতে গেছে। তার সঙ্গে পাবনাও এগিয়ে যাচ্ছে। পাবনা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পাবনা পৌরসভার প্রশাসক খায়রুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মন্ডল, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিষু, পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাড. মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল গাফফার খান, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও ব্র্যাকের পরিচালক লিয়াকত আলী। আলমগীর হোসাইন নাবিল/এসজেডএইচ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
মেয়ের জন্মদিনে নেইমারের অদ্ভূত কাণ্ডে অবাক সবাই

মেয়ের জন্মদিনে নেইমারের অদ্ভূত কাণ্ডে অবাক সবাই

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পুলিশের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পুলিশের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

রুমি কারিমকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য, বললেন ‘হিরো আলমই ভালো ছিল’

রুমি কারিমকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য, বললেন ‘হিরো আলমই ভালো ছিল’

গুলশানে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি
গুলশানে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত রয়েছেন। আরও উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) নির্বাহী পরিচালক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ। কেএইচ/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
আমাদের দেশ এখন ভালো নেই, সরকারও তা স্বীকার করতে বাধ্য

আমাদের দেশ এখন ভালো নেই, সরকারও তা স্বীকার করতে বাধ্য

কোকোর নামে সারা দেশে টি-২০, খেলবেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্রিকেটাররাও

কোকোর নামে সারা দেশে টি-২০, খেলবেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্রিকেটাররাও

ইতালির ‘রেডি টু শো’ সোর্সিং মেলায় বাংলাদেশের ১৪ প্রতিষ্ঠান

ইতালির ‘রেডি টু শো’ সোর্সিং মেলায় বাংলাদেশের ১৪ প্রতিষ্ঠান

0 Comments