গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার পশ্চিম ঝাঝড়ের সাক্রাউরী এলাকায় মাদরাসার দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের পর আগুনে উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর পরিবার গাছা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে ওই মাদরাসা শিক্ষকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের গাছার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী এ তথ্য জানিয়েছেন।
এঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার চরমুহুরী গ্রামের মাওলানা রইছ উদ্দিন আহাম্মদের ছেলে মাওলানা শোয়াইব হোসেন (২৬), ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার বরমা গ্রামের মো: ওয়াদুদের ছেলে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মো: হাবিবুর রহমান (২৬) ও শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার ভাইডাঙ্গা গ্রামের মো. শাহিন (১৯)। মাওলানা শোয়াইব হোসেন আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুর মাদ্রাসার পরিচালক, হাবিবুর রহমান ও শাহিন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা হলো- কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার সিংপুর গ্রামের নাজমুল মিয়া ছেলে মো. বায়েজীদ (১৩) ও শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার বানিয়াপাড়া গ্রামের মো. লাল মিয়ার ছেলে বোরহান আলী (১৩)। বায়েজীদ ও বোরহান ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী। এঘটনায় গাছা থানায় বাদী হয়ে পৃথক মামলা করেছেন বায়েজীদ ও বোরহানের বাবা।
কাজের সুবাদে পরিবার নিয়ে নাজমুল গাজীপুরে পশ্চিম ঝাজড় এলাকায় ও লাল মিয়া সাক্রাউরী এলাকা ভাড়া থাকেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার পশ্চিম ঝাঝড়ের সাক্রাউরী এলাকায় আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুর নামের মাদরাসায় পড়াশোনা করে বায়েজীদ ও বোরহান। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় বায়েজীদ মাদরাসা থেকে বাসায় আসে। এসময় তার বাবা নাজমুল মিয়া খেয়াল করেন যে, বায়েজীদ স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও বসতে পারছে না।
এর কারণ জিজ্ঞেস করলে বায়েজীদ জানায়, তার নিতম্বে ফোঁড়া হয়েছে। পরদিন নিতম্বে ফোঁড়ার জায়গাতে ওষুধ লাগানোর চেষ্টা করলে বায়েজীদ অপারগতা প্রকাশ করে। এক পর্যায় জোর করেই ওষুধ লাগানোর চেষ্টা করলে দেখা যায় বায়েজীদের নিতম্বে আগুনে পোড়ার স্পষ্ট জখমের দাগ দেওয়া যায়। পরে তাকে জিজ্ঞেস করলে জানায় যে, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাদ্রাসা মাঠে ছাত্রদের সঙ্গে খেলাধুলা করার সময় এক ছাত্রের পায়জামা অসাবধানতাবশত খুলে যায়। পরে মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব আহাম্মদ বায়েজীদকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে লোহার খুন্তি গরম করে বায়েজীদের নিতম্বে ছ্যাঁকা দেয়।
একই কথা জানিয়েছেন অপর ছাত্র বোরহানের বাবা লাল মিয়া। তিনি জানান, একই দিন বিকেলে মাদরাসা মাঠে খেলাধুলার একপর্যায়ে পায়জামা খোলাকে কেন্দ্র করে তার ছেলেকে মাওলানা শোয়াইব একটি কক্ষে আটকে রেখে মুখে স্কপ্টেপ দেয়। তার হাত-পা দঁড়ি দিয়ে বেঁধে এবং পরনের পোশাক খুলে উলঙ্গ অবস্থায় বাঁশের কঞ্চি মারধর করে এক পর্যায়ে মাওলানা শোয়াইব আগুনে লাল উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে তার ছেলের তলপেটে ছ্যাঁকা দেয়। হাবিবুর ও শাহিন গরম লোহার খুন্তি দিয়ে উরু ও নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে আমি আমার সন্তানকে দেখতে মাদ্রাসা যাই, কিন্ত বিবাদীরা কৌশলে জানায় যে, তাকে অন্য শাখায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর মাদরাসার অন্য ছাত্রদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, আমার ছেলেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিক হাসপাতালে গিয়ে আমার ছেলেকে চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখতে পাই।
গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের গাছার থানার ওসি গোলাম রব্বানী জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বায়েজীদের পরিবারের করা মামলায় মাওলানা শোয়াইবকে শুক্রবার গ্রেফতার করে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে ও অপর ভুক্তভোগী বোরহান আলীর বাবা মো. লাল মিয়ার করা মামলায় শনিবার হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
শিহাব খান/এনএইচআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সামনে দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য। ব্যানার-পতাকা হাতে নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিল প্রায় ৩০টি রোবট। পোল্যান্ড সরকারের কাছে তাদের দাবি ছিল, এআই প্রযুক্তি মানুষের সব চাকরি কেড়ে নেওয়ার আগেই কঠোর নিয়মকানুন ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালু করা।মানুষের মতো দেখতে হিউম্যানয়েড রোবট থেকে শুরু করে রোবট কুকুরের দল সারিবদ্ধভাবে গোল হয়ে হাঁটে, পতাকা ওড়ায় আর লাউডস্পিকারে স্লোগান দিতে থাকে। ‘ডেমোক্রেটিজম’ নামের একটি সংস্থা এ অভিনব প্রতিবাদের আয়োজন করে। কর্মক্ষেত্রে এআই ও রোবটের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার যে মানুষের কর্মসংস্থানকে হুমকির মুখে ফেলছে, সেই সতর্কবার্তা বিশ্ববাসীকে দেওয়ার জন্যই রোবটদের এ আন্দোলন।এমনকি সেখানে উপস্থিত এআই–চালিত হিউম্যানয়েড রোবট ‘অ্যাজিবট এ৩’ সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তরও দেয়। রোবটটি বলে, ‘আমরা এখানে এসেছি এটা প্রমাণ করতে যে এ প্রযুক্তি কিন্তু এখন আর কোনো সাই–ফাই গল্প নয়, বরং আজকের বাস্তব সত্য।’ রোবটগুলো নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সময় লাউডস্পিকার থেকে বিভিন্ন দাবি বাজছিল। ‘মানুষের চাকরি বাঁচাও’, ‘এআই নিয়ন্ত্রণের সময় এসেছে’ এবং ‘অপেক্ষা না করে নিয়ম বানাও’।যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীদের কি বুদ্ধি কমে যাচ্ছেমানুষের মতো দেখতে হিউম্যানয়েড রোবট থেকে শুরু করে রোবট কুকুরের দল সারিবদ্ধভাবে গোল হয়ে হাঁটে, পতাকা ওড়ায় আর লাউডস্পিকারে স্লোগান দিতে থাকেকেন রোবট দিয়ে এ প্রতিবাদ?আয়োজকেরা ইচ্ছা করেই এ কাজ করেছেন। মূলত সাধারণ মানুষের নজর কাড়তেই এ আন্দোলনে মানুষের বদলে রোবট ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে সবাই বোঝে যে যন্ত্র কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। রোবটগুলো এখন কীভাবে একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছে, এমনকি ওরা আন্দোলনও করছে।আন্দোলনের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা গ্রেগর্জ কুলিস। তিনি জানান, প্রতিবাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং সেই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত রোবট এখন কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, তা সবাইকে স্বচক্ষে দেখানো। তবে গ্রেগর্জ কুলিসকে জিজ্ঞাসা করা হয়, একটি রোবট শুধু রেকর্ড করা কথা মুখস্থ বলে দিলে তাকে সত্যিই বিক্ষোভ বলা যায় কি না। এ প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর ‘এআই অ্যাক্ট’ বাস্তবায়নের এই সময়েই প্রতিবাদটি অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালে কার্যকর হওয়া এই আইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে নিয়ম ঠিক করা হয়েছে। অর্থাৎ যেসব এআই প্রযুক্তি মানুষের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে সবচেয়ে কঠোর নিয়মকানুন।নিষেধাজ্ঞা, কাজের স্বচ্ছতা ও বহুমুখী এআই প্রযুক্তির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এসব নিয়ম ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পোল্যান্ড সরকার তাদের নিজেদের দেশেও নতুন আইন তৈরি করেছে।সম্প্রতি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট একটি এআই–সংক্রান্ত বিলে সই করেন। এ আইনের মাধ্যমে দেশে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও নিরাপত্তাবিষয়ক কমিশন’ গঠন করা হয়েছে। পোল্যান্ডে এআই প্রযুক্তির নিয়মকানুন নজরদারি করা এবং ক্ষতিকর এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে তা খতিয়ে দেখার মূল দায়িত্ব থাকবে এই বিশেষ কমিশনের ওপর।মহাবিপর্যয় এলে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হবে কোনটিএমনকি সেখানে উপস্থিত এআই–চালিত হিউম্যানয়েড রোবট ‘অ্যাজিবট এ৩’ সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তরও দেয়যন্ত্রগুলোর পেছনে কারা ছিল?পোল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ওপোলস্কা৩৬০ জানায়, এ বিক্ষোভে ব্যবহৃত সব রোবটই তৈরি করেছে ‘ডেল্টা রোবটস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা এক দশকের বেশি সময় ধরে মানুষের মতো হিউম্যানয়েড ও চার পায়ের রোবট কুকুর তৈরি করে আসছে।মজার বিষয় হলো, আন্দোলনটির আয়োজক গ্রেগর্জ কুলিস নিজেও ‘উইগ্রি’ নামের ২০ বছরের পুরোনো একটি চাকরি বা কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান। অর্থাৎ যেসব রোবট চাকরি হারানোর ভয় দেখাচ্ছে, সেগুলো তৈরি আর প্রদর্শনের পেছনে কিন্তু জড়িয়ে আছে রোবোটিকস এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই।তবে কুলিস স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের উদ্দেশ্য কোনো প্রযুক্তি বা রোবটের বিরোধিতা করা নয়। বরং এআইয়ের কারণে কাজের বাজারে যেসব ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে, তা আগেভাগেই কীভাবে সামলানো যায়, সেটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।ঘটনাস্থলে এসে পোল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী গাওকোভস্কি জানান, পোল্যান্ড প্রথম দেশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই বাজার নজরদারি শুরু করেছে। তিনি এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠনের পাশাপাশি ‘রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স’ চালুর কথা বলেন। যাতে বড় পরিসরে ব্যবহারের আগেই এআই প্রযুক্তির সুরক্ষা পরীক্ষা করে দেখা যায়।সম্প্রতি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ইইউর এই এআই আইন বাস্তবায়নের বিলে সই করেছেন। এর মাধ্যমে দেশে একটি শক্ত জাতীয় কর্তৃপক্ষ তৈরি হলো, যারা বাজারে ক্ষতিকর এআই ঠেকানো ও সঠিক নিয়ম নিশ্চিত করার মূল কাজগুলো দেখভাল করবে।সূত্র: ইয়াহু নিউজ ও ইউরো নিউজমাছরাঙা যেভাবে পানির নিচে শিকার করে
খাবার দেওয়া নিয়ে ঝগড়ার পর রাত ১০টার দিকে মেয়েকে নিয়ে একটি ছোট কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন রিনা বেগম (৩২)। স্বামী সুমন সরকার (৪০) পাশের বড় কক্ষে ঘুমান। রাত আনুমানিক একটার দিকে তিনি স্ত্রীর কক্ষে যান। আট বছরের মেয়ের পাশে ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন তিনি। সুমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আজ রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম। এর আগে ভোরে অভিযান চালিয়ে গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তাঁর স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে পুরো ঘটনা জানিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।নিহত রিনা বেগম গজারিয়ার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ে। সুমন সরকার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের বাছেদ সরকারের ছেলে। পেশায় তিনি রংমিস্ত্রি। প্রায় ১৭ বছর আগে রিনা ও সুমনের বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে মো. আবদুল্লাহ (১৪) আর মেয়ে সিনহা আক্তার (৮)।পুলিশের ভাষ্য, এ দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রায়ই তাঁদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হতো। গত শুক্রবার রাত নয়টার দিকে সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রী রিনা বেগমকে খাবার দিতে বলেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমন তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ভেঙে ফেলেন। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে স্বজনেরা মীমাংসা করে দেন। এরপরও মাঝরাতে স্ত্রীকে হত্যা করেন সুমন।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে শ্বাস রোধ করে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন সুমন। পরে বাড়িতেই অবস্থান করেন তিনি। ভোরে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে কুমিল্লার দিকে চলে যান।পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা থানা এলাকায় অবস্থান করেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে গজারিয়া থানা-পুলিশের একটি দল কুমিল্লায় অনুসরণ করতে থাকে। শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে পুলিশের অপর একটি দল টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুন্সিগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইমরান আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন।এ ঘটনায় নিহত রিনা বেগমের ভাই সাফায়েত হোসেন বাদী হয়ে আজ গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পরে আসামি সুমনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানী কদমতলী থানাধীন পূর্ব জুরাইন এলাকায় অটোরিকশার গ্যারেজে ইলেকট্রিকের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জাহাঙ্গীর শিকদার (৪১) নামে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। জাহাঙ্গীর শিকদারের ভাই সজল জানান, তার ভাই একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। সন্ধ্যার দিকে নিজের রিকশার গ্যারেজে ইলেকট্রিকের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে খবর পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জাহাঙ্গীর শিকদার মাদারীপুরের রাজৈর থানাধীন মৃত ইস্কান্দার শিকদারের ছেলে। বর্তমানে পূর্ব জুরাইনে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে। কাজী আল-আমিন/এমকেআর