আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অপারেটরদের কাছে উড়োজাহাজের জ্বালানি ‘জেট এ-১’ বা ‘জেট ফুয়েল’ বিক্রির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা (মার্কিন ডলার) আয় করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বর্তমানে জেট ফুয়েল বিক্রির আয়ের এসব ডলার স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর না করে সরাসরি আমদানি বিল পরিশোধ করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫০ বছর পর প্রথমবারের মতো নিজেদের আয়ের বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা তেলের দাম পরিশোধ করেছে সরকারি সংস্থাটি। এতে প্রথম পার্সেলেই পাঁচ কোটি টাকার মতো সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি। ফলে ডলার বিনিময় হারের তারতম্যে বর্তমান হিসাবে বছরে শত কোটি টাকার মতো সাশ্রয়ের আশা করছে বিপিসির।

বিপিসি বলছে, তরল জ্বালানি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল পিএলসি দেশের বিমানবন্দরগুলোয় উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ দেয়। দেশি রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজ থেকে স্থানীয় মুদ্রা টাকায় বিল পেলেও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলারে বিল আদায় হতো।
বিদেশি ফ্লাইট অপারেটররা এই জ্বালানির মূল্য ডলারে পরিশোধ করলেও পদ্মা অয়েলের নিজস্ব কোনো ‘বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব’ বা ‘এফসি অ্যাকাউন্ট’ ছিল না। এতে তারা স্থানীয় ব্যাংকের মাধ্যমে তা তাৎক্ষণিকভাবে টাকায় (টিটি ক্লিন রেটে) রূপান্তর করে ফেলতো। ফলে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ও টিটি ক্লিনের রেটের মধ্যে তফাতের কারণে ডলারপ্রতি কমবেশি এক টাকা গচ্চা দিতে হতো।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি নানামুখী দেনদরবারের মাধ্যমে বিপিসি ও পদ্মা অয়েল আলাদাভাবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে এফসি অ্যাকাউন্ট খুলে জেট ফুয়েল বিক্রির আয়ের মার্কিন ডলার জমা রাখছে। গত ২ জুন থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিপিসি ও পদ্মা অয়েলের দুই হিসাবে ১১ কোটি ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৭১১ মার্কিন ডলার জমা হয়। ৩১ আগস্ট জ্বালানি তেল আমদানির একটি চালানের বিল হিসাবে তিন কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪২ ডলার ৫০ সেন্ট পরিশোধ করা হয়। সবশেষ ১০ সেপ্টেম্বর ওই দুই হিসাবে জমা রয়েছে ৯ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট বিপিসির আমদানি করা ৩০ হাজার ৪৪৭ টন ডিজেলের চালান নিয়ে বাংলাদেশে আসে ‘এমটি চাং হ্যাং ফেং চাই’। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডকে গত ৩১ আগস্ট চালানটির বিল নিজের আয়ের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে পরিশোধ করে বিপিসি।
বিদেশ থেকে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য প্রতি মাসেই বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খুলতে হয় বিপিসিকে। জেট ফুয়েল বিক্রির ডলার স্থানীয় মুদ্রায় (টাকা) রূপান্তর করতো পদ্মা অয়েল। সোনালী ব্যাংকের বিসি সেলিং রেটে ডলার কিনে আমদানির বিল পরিশোধ করতে হতো।
সবশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকে বিসি সেলিং রেট ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা। কিন্তু টিটি ক্লিন রেট ১২২ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ, এফসি অ্যাকাউন্ট না থাকলে একই পণ্য কিনে বিক্রিলব্ধ অর্থ দিয়ে আমদানি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলার প্রতি কমপক্ষে এক টাকা গচ্চা দিতে হতো বিপিসিকে।
আমদানি করা ডিজেলের চালানের বিপরীতে পরিশোধ করা তিন কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪২ ডলারে ডলারপ্রতি এক টাকা হিসাবে বিপিসির সাশ্রয় হয়েছে তিন কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪২ টাকা।
পাশাপাশি এক প্রতিবেদনে বিপিসি দাবি করছে, এলসি খুলতে আমদানিমূল্য পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা গচ্ছিত রাখতে হয়। জমানো এসব টাকার বিপরীতে ব্যাংকগুলো ৬ শতাংশ হারে মুনাফা দেয়। কিন্তু এফসি অ্যাকাউন্টে এলসি মূল্যের বিপরীতে কোনো টাকা জমা রাখতে হয় না। ফলে একই পরিমাণ টাকা অন্য ব্যাংকে কমপক্ষে দুই শতাংশ বেশি মুনাফায় জমা রাখা যায়। এতে তিন কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪২ ডলারের বিপরীতে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা বেশি মুনাফা হবে বিপিসির। ফলে এ পার্সেলে চার কোটি ৯২ লাখ টাকার মতো সাশ্রয় হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এফসি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে বিপিসিকে কোনো টাকা ব্যয় করতে হয়নি। আবার এলসির বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। এফসি অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমা করার প্রয়োজন হয় না। ফলে ব্যাংক সুদ থেকেও একটি নির্ধারিত পরিমাণ মুনাফা আসবে।’
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অন্য পেট্রোলিয়াম জ্বালানির মতো জেট ফুয়েলের দামও নির্ধারণ করে। সবশেষ ৪ সেপ্টেম্বর জেট ফুয়েলের দাম পুনর্নির্ধারণ করে বিইআরসি। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ১৬৫ দশমিক ৬৫ টাকা (শুল্ক ও মূসকসহ) এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক শূন্য ৭৭ মার্কিন ডলার।
বিপিসির জেট ফুয়েল শতভাগ বিক্রি করে পদ্মা অয়েল পিএলসি। তথ্য বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯৪ টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ লাখ ২৮ হাজার ২৪ টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ টন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৩ টন জেট ফুয়েল বিক্রি করেছে বিপিসি।

সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিক্রি করেছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৪ টন জেট এ-১ (জেট ফুয়েল)। অর্থাৎ, বিগত অর্থবছরে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৪ টন বা ৬৮ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার ৩৭২ লিটার (প্রতিটনে ১২৪৩ লিটার) জেট ফুয়েল বিক্রি করেছে বিপিসি, যা বিইআরসির বর্তমান ঘোষিত আন্তর্জাতিক রুটের রেটে বিক্রিমূল্য দাঁড়ায় ৭৩ কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ২৪০ ডলার। জেট ফুয়েল বিক্রিতে প্রতি বছর ৮ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়।
১৩ সেপ্টেম্বর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ডলারের ক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৩৫ পয়সা এবং বিক্রিমূল্য ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা। অর্থাৎ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ডলারপ্রতি ক্রয়-বিক্রয়ে তারতম্য ১ টাকা ২০ পয়সা। সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৩ সেপ্টেম্বর ডলারের বিসি রেট ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা এবং টিটি ক্লিন রেট ১২২ টাকা ৬০ পয়সা। তাতে ডলারপ্রতি তারতম্য ১ টাকা । ফলে এক টাকা তারতম্যের হিসাবে জেট ফুয়েল বিক্রির ৭৩ কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ২৪০ ডলারে সমপরিমাণ ৭৩ কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ২৪০ টাকা সাশ্রয় হতো।
তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক রুটের উড়োজাহাজে জেট ফুয়েল বিক্রি করা মূল্য মার্কিন ডলারে সংগ্রহের জন্য ২০২১ সালের ডিসেম্বরে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে বিপিসি। পরবর্তীসময়ে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হলেও ২০২৫ সালে পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা অ্যাভিয়েশন ডিপোতে বিপিসি, পদ্মা অয়েল, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, এইচএসবিসি ব্যাংকের সঙ্গে বেশ কয়েকটি সভা হয়।
সবশেষ চলতি বছরের ৮ মার্চ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে বিপিসি ও পদ্মা অয়েলের এফসি অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দেয়। ধারাবাহিক পদক্ষেপে গত ২ জুন থেকে এফসি অ্যাকাউন্টে জেট ফুয়েল বিক্রি ডলার জমা করে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট অপারেটররা।
দেশে বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের মধ্যে জেট ফুয়েল বিক্রি থেকে অর্জিত মার্কিন ডলার দিয়ে আমদানি চালানের বিল পরিশোধের মধ্যে স্বস্তির কথা বলছে বিপিসি।
আগে এসব ডলার টিটি ক্লিন রেটে বিক্রি করে দিতে হতো। তখন ডলার প্রতি এক টাকা কম পাওয়া যেত। আবার এলসি মূল্য পরিশোধে বিসি রেটে বেশি দরে ডলার কিনতে হতো। এতে ডলারপ্রতি এক টাকা বেশি খরচ করতে হতো বিপিসিকে।-বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ
কথা হলে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন বিপণন বিভাগে কাজ করেছি। অর্থ বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদেশি উড়োজাহাজে জেট ফুয়েল বিক্রির বিপরীতে ডলার সরাসরি নিজেদের এফসি অ্যাকাউন্টে নেওয়ার পদক্ষেপ নিই। এর মধ্যে পরিচালক (অর্থ) ম্যাডামের নিরলস প্রচেষ্টায় এফসি অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব হয়েছে। এখন বিদেশি উড়োজাহাজ অপারেটরগুলো ডলারে তাদের জ্বালানির বিল পরিশোধ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আগে এসব ডলার টিটি ক্লিন রেটে বিক্রি করে দিতে হতো। তখন ডলারপ্রতি এক টাকা কম পাওয়া যেত। আবার এলসি মূল্য পরিশোধে বিসি রেটে বেশি দরে ডলার কিনতে হতো। এতে ডলারপ্রতি এক টাকা বেশি খরচ করতে হতো বিপিসিকে।’
এখন জেট ফুয়েল বিক্রি থেকে পাওয়া ডলার দিয়ে এলসিমূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপিসির বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হবে। ইতোমধ্যে এফসি অ্যাকাউন্টে জমানো ডলার থেকে আমরা একটি আমদানি চালানের এলসি বিল পরিশোধ করেছি। বর্তমানে যা জমা আছে তাতে আরও তিনটির মতো চালানের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে।’
এমডিআইএইচ/এএসএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এই রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ এমন মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, একটা আনপপুলার অপিনিয়ন দেই। ১১ হাজার কোটি না, আমি যদি এর ১% অর্থাৎ ১১০ কোটি টাকারও দুর্নীতি করতাম তাহলে দুদক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানই আমার বিরুদ্ধে কিছু করতো না। এই করাপ্টেড রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ লেখেন, জায়গামতো সালামি আর গিফ্ট পাঠিয়ে দিলে হাজার হাজার অভিযোগও কখনো অনুসন্ধানের মুখ দেখতো না। মাঝেমধ্যে মনে হয় সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। শুধু টাকা থাকার কারণে এস আলমরা টিকে যায় রাষ্ট্রের লাখ কোটি টাকা লোপাট করেও। এনসিপির এই নেতা লেখেন, বড় বড় নেতার ছেলেদের সঙ্গে সমঝোতা করে বিসিবি ডিরেক্টর না বানানো, সমঝোতা করে ফ্যাসিবাদের আইকন খেলোয়াড়কে দেশে না আনা, জোর করে সিটি করপোরেশনে বসতে সহযোগিতা না করা, গণপ্রতিরক্ষা বাস্তবায়নে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু, ভারতীয় দূতাবাসসহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম ফেলানীর নামে নামকরণ করাসহ ভুড়ি ভুড়ি বোল্ড কাজ করার পরেও যে এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে বেঁচে আছি এটাই অনেক। আরও পড়ুন আসিফ মাহমুদ / বিদেশে ১ পয়সা বিনিয়োগের প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, আমি আমার নীতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণের প্রশ্নে কখনো মাথানত করিনাই। শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই সমঝোতা না করে বোল্ড পজিশন বা চ্যালেঞ্জ নেওয়াকে আমার ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন। রাজনীতিতে কম্প্রোমাইজ করে চললে হয়তো অনেক ভালো থাকতে পারতাম, তবে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকা লাগতো সারাজীবন। শেষে তিনি লেখেন, এমন বড় বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করিনি যাদের কথা এই রাষ্ট্রের কেউই সহজে ফেলার সাহস করে না। এমনটা তো হওয়ারই ছিল। এএমএ
ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে ছুটির দিনে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে শিক্ষাসফরের আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এই নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছিল।‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করছেন নৃত্যশিল্পীরা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্বে দেশের নয়টি নাট্যদল নয়টি নাটক মঞ্চস্থ করে। এর মধ্যে প্রাচ্যনাটের ‘কিনু কাহারের থেটার’, লোক নাট্যদল (বনানী)-এর ‘কঞ্জুস’, ঢাকা পদাতিকের ‘ট্রায়াল অব সূর্য সেন’, বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটারের ‘আলেয়া’, আরণ্যক নাট্যদলের ‘কম্পানি’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘আমিনা সুন্দরী’, তীরন্দাজ রেপার্টরির ‘কণ্ঠনালীতে সূর্য’, দৃষ্টিপাত নাট্য দলের ‘সে এক স্বপ্নের রাত’ এবং বাংলাদেশ থিয়েটারের ‘সী-মোরগ’ উল্লেখযোগ্য।জাতীয় নাট্যশালায় সমাপনী আয়োজনে নৃত্যশিল্পীদের সমবেত নৃত্য পরিবেশনা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকাসমাপনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব শুধু পরিচ্ছন্নতা ও কর আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা এবং ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, লালকুঠিসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সংস্কারকাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির দিনে কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলসহ ঐতিহাসিক স্থানে শিক্ষাসফরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ব্যবহারের জন্য ডিএসসিসির আওতাধীন মিলনায়তন ও কমিউনিটি সেন্টারে বিশেষ ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ একটি নাটকের দৃশ্য। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকাপরে উৎসবে অংশ নেওয়া নাট্যদলগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৬ থেকে ২৩ আগস্ট পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে উৎসবের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমান।