জাতীয়

২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের বাংলাদেশ দল ঘোষণা

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের বাংলাদেশ দল ঘোষণা
২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের বাংলাদেশ দল ঘোষণা

আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের ২৩তম আসর বসতে যাচ্ছে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায়। আগামী ২ থেকে ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্য ৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ দল ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিত এতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

এবারের আইজেএসও দলের সদস্যরা হলো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবরার জাহিন পাঠান, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহমেদ সাদ, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাজী সুনেহরা ইসলাম সমৃদ্ধি, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইফান হায়দার, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজানা মানহা ও ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাশওয়ান হক মাহির। 

এই দলের সঙ্গে প্রধান দলনেতা হিসেবে থাকছেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সহকারী দলনেতা হিসেবে থাকছেন বিডিজেএসওর কো-অর্ডিনেটর ও সমিতির সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. রেজাউল ইসলাম এবং বিডিজেএসও ২০২৬-এর একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ও সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের প্রজেক্ট ম্যানেজার ফারজানা আক্তার লিমা।

নির্বাচিত ৬ শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্য প্রস্তুত করতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ধানমন্ডির মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগারে (ম্যাসল্যাবে) শুরু হবে বিশেষ প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্প ও ব্যবহারিক বিজ্ঞানের প্রশিক্ষণ। প্রস্তুতি শেষে দলটি সোফিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে ১ ডিসেম্বর।

১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে বাছাই করা হয়েছে এই ৬ জনকে। গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্বে স্কুল অলিম্পিয়াড ও অনলাইন বাছাই পর্ব পেরিয়ে আসা প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সেখান থেকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় ৫৯ জনকে। এরপর ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে তিন দিনের জাতীয় অনাবাসিক ক্যাম্প ও টিম সিলেকশন টেস্ট শেষে ঘোষণা করা হয় এই চূড়ান্ত ৬ সদস্যের বাংলাদেশ দল।

এবারের ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন। জাতীয় পর্বের হোস্ট হিসেবে ছিল আইইউবিএটি। আয়োজনের প্লাটিনাম স্পন্সর আনিসুল হক ফাউন্ডেশন; সহযোগিতায় ছিল বিডিএএসএন, ম্যাসল্যাব, রকমারি ডটকম ও এসিআই অদম্য মেধাবী; মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও যমুনা টিভি। ম্যাগাজিন পার্টনার কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কারিগরি শিক্ষা: চীনা মডেল অনুসরণ কতটা কাজে আসবে
কারিগরি শিক্ষা: চীনা মডেল অনুসরণ কতটা কাজে আসবে

দেশে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য যে শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেটিই অনেক ক্ষেত্রে অবহেলা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং মানহীন সম্প্রসারণের কারণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। দেশে হাজার হাজার কারিগরি প্রতিষ্ঠান থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, আধুনিক ল্যাবরেটরি নেই, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই, অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীও নেই। এত দুর্বল একটি ভিত্তির ওপর বিদেশি কোনো মডেল বাস্তবায়ন করলে তা আদৌ কতটা কার্যকর হবে?সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চীন সফর শেষে ৩০ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, কারিগরি শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে চীনের মডেল বাংলাদেশে অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।চীন কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প খাত এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলেছে, তা বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই শিক্ষণীয়। তবে চীনের সফলতা শুধু একটি শিক্ষাপদ্ধতির কারণে নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শিল্পের অংশগ্রহণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফল।প্রকৌশল ও কারিগরি সংস্কার কমিশন কেন নয়কারিগরি শিক্ষার্থীদের প্রতি অবহেলা: ন্যায়বিচার কোথায়দেশে বর্তমানে কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মানের সংকট। কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের নামে অনেক প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেলেও সব জায়গায় প্রয়োজনীয় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভোকেশনাল শিক্ষা পরিচালনার অনুমোদন পাওয়া ৩ হাজার ৪৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২১টিতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি বা শিক্ষার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৩টি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং ১৭৮টি প্রতিষ্ঠানে দাখিল (ভোকেশনাল) কার্যক্রমের অনুমোদন রয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে টানা পাঁচ বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। (প্রথম আলো, ২৭ জুলাই ২০২৬)সমস্যাটি শুধু শিক্ষার্থীসংকটে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয় শিক্ষক, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগের ঘাটতি রয়েছে। দুর্বল তদারকি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানে কাগজ–কলমে ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু নতুন প্রকল্প বা বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করলে হবে না। শিক্ষার্থী আকর্ষণের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। সামাজিকভাবে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব, সচেতনতা ও প্রচারণা বাড়াতে হবে।এখানে মূল প্রশ্ন হলো কেন শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে? এর একটি বড় কারণ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশে এখনো অনেক পরিবার কারিগরি শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার তুলনায় কম মর্যাদার মনে করে। অথচ উন্নত দেশগুলোতে দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, কারিগর ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়।চীনের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় শিক্ষা নিতে পারে শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে। চীনে কারিগরি শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে বাস্তব প্রশিক্ষণ নেয় এবং শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা হয়। ফলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়েছে।চীনের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। দেশটিতে ৯ হাজারের বেশি মধ্যম কারিগরি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৫৬২টি উচ্চ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৮৭টি কারিগরি স্নাতক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী যুক্ত। তবে চীনের সাফল্যের মূল কারণ শুধু প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নয়, বরং শিল্প খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ। অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের বাস্তব উৎপাদনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা দেয়।অপরিকল্পিত মেগাপ্রকল্প: শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষাতবে চীনা মডেল বাংলাদেশে হুবহু প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। কারণ, দুই দেশের শিল্প কাঠামো, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং শিক্ষা–সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। চীনে কারিগরি শিক্ষা সফল হয়েছে। কারণ, সেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার অংশ। বাংলাদেশে এখনো অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে বিনিয়োগে আগ্রহী নয়।বাংলাদেশে প্রথম কাজ হওয়া উচিত বিদ্যমান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়ন। যেসব প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না, সেগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে হবে। প্রয়োজন হলে দুর্বল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক ল্যাব, দক্ষ শিক্ষক, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম এবং শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু নতুন প্রকল্প বা বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করলে হবে না। শিক্ষার্থী আকর্ষণের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। সামাজিকভাবে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব, সচেতনতা ও প্রচারণা বাড়াতে হবে।চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এটি কোনো প্রস্তুত সমাধান নয়। প্রয়োজন চীনের কার্যকর উপাদানগুলো বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প খাত এবং সরকারের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করতে পারলেই কারিগরি শিক্ষা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি শক্ত ভিত্তি হতে পারে। কারিগরি শিক্ষার লক্ষ্য শুধু সনদ প্রদান নয়; বরং এমন দক্ষ মানুষ তৈরি করা, যারা দেশের উৎপাদনব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে বাস্তব অবদান রাখতে পারে।● ড. মো. সাহাবুল হক অধ্যাপক, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
নতুন কারা মহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শকের নিয়োগ বাতিল

নতুন কারা মহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শকের নিয়োগ বাতিল

‘অতিমাত্রায় রাজনীতিতে শিক্ষকরা’, লাগাম টানতে হচ্ছে আচরণবিধি

‘অতিমাত্রায় রাজনীতিতে শিক্ষকরা’, লাগাম টানতে হচ্ছে আচরণবিধি

সমুদ্রসৈকতে তোলা ছবি দিয়ে দীঘি লিখেছেন, ‘ব্লেসড মেস’

সমুদ্রসৈকতে তোলা ছবি দিয়ে দীঘি লিখেছেন, ‘ব্লেসড মেস’

মসজিদে পিস্তল-গুলি দেখে পুলিশকে জানালেন মুয়াজ্জিন
মসজিদে পিস্তল-গুলি দেখে পুলিশকে জানালেন মুয়াজ্জিন

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি মসজিদ থেকে পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি আড়াইহাজার থানার বলে দাবি করেছে পুলিশ। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে অস্ত্র ও গুলি লুট হয়েছিল।আড়াইহাজার বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে আজ শনিবার দুপুরে মসজিদ ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে অস্ত্র ও গুলিগুলো উদ্ধার করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মসজিদে প্রায় ২০ বছর ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন নাসির উদ্দিন। আজ দুপুরে তিনি মসজিদের দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ পাশের তাকের ওপর অস্ত্র ও গুলিগুলো দেখতে পান। বিষয়টি তিনি থানায় অবহিত করলে বেলা একটার দিকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সবজেল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কখন ও কীভাবে অস্ত্রগুলো মসজিদের তাকের ওপর রাখা হয়েছিল, তা এখনো জানা যায়নি।এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী প্রথম আলোকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আড়াইহাজার থানা থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও ম্যাগাজিন লুট হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ৯ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ২০টি গুলি মসজিদের ভেতর থেকে পাওয়া গেছে।তারেক আল মেহেদীর ধারণা, যাঁরা অস্ত্রগুলো লুট করেছিলেন, পুলিশের অভিযানের ভয়ে তাঁরা সেগুলো মসজিদের তাকের ওপর রেখে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
চেকপোস্টে থামার সংকেত অমান্য, এসআইকে ধাক্কা দিয়ে পালালেন দুই বাইকার

চেকপোস্টে থামার সংকেত অমান্য, এসআইকে ধাক্কা দিয়ে পালালেন দুই বাইকার

লাল বলের ক্রিকেটই আমার শেষ আশ্রয়: আফ্রিদি

লাল বলের ক্রিকেটই আমার শেষ আশ্রয়: আফ্রিদি

মাদ্রাসায় দুই শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ৩ শিক্ষক গ্রেপ্তার

মাদ্রাসায় দুই শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ৩ শিক্ষক গ্রেপ্তার

0 Comments