তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা যেমন ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছে, তেমনি সময়ের পরীক্ষা পেরিয়ে কালোত্তীর্ণতার মর্যাদাও পেয়েছে। সহজ করে বললে তারাশঙ্কর একই সঙ্গে পাঠকপ্রিয়, জনপ্রিয় ও কালোত্তীর্ণ সাহিত্যিক। আজও তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। মানের বিচারের দিক থেকে তাঁর সমালোচকেরাও এ কথা অস্বীকার করতে পারবেন না। সাধারণত বাণিজ্যিক পাঠকপ্রিয়তা ও শিল্পমানকে দুটি ভিন্ন মেরুর মনে করা হলেও, তারাশঙ্করের কলমে এই দুইয়ের সংমিশ্রণ ঘটেছে। কীভাবে এটা সম্ভব হলো? তারাশঙ্কর কেন আলাদা? কেন তিনি একই সঙ্গে পাঠকপ্রিয় ও কালোত্তীর্ণ?
বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্য থেকে নজর বুলিয়ে এলে বুঝতে বেগ হবে না যে তারাশঙ্কর তাঁর সময়ে তো বটেই এখনো, এই সময়েও ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার হিসেবে কিংবদন্তিতুল্য। তাঁর আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যে যোগ করেছে সোনার ফসল। প্রায় চার দশকের সাহিত্যসাধনা দিয়ে বাংলা কথাসাহিত্যকে বিশাল মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি দান করেছেন এই শব্দশিল্পী। বিশেষ করে রবীন্দ্রোত্তর বাংলা সাহিত্যের ত্রয়ী; তারাশঙ্কর, মানিক ও বিভূতিভূষণের মধ্যে তারাশঙ্কর অন্যতম স্বতন্ত্র ধারার স্রষ্টা। তাঁর রচনায় মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষের জীবনের ঘনঘটা এত বিস্তৃতভাবে বিস্তার পেয়েছে, যা আঞ্চলিক সাহিত্যের প্রভাবকে ত্বরান্বিত করেছে।
তারাশঙ্কর ছাত্রজীবনে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে ১৯২১ সালে কারাভোগ করেন। তারপর সরাসরি যুক্ত হন বাংলার কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে। ১৯৩০ সালের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে গ্রেপ্তার হন। কারাবাসের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং রাজনীতির উপদলীয় কোন্দল ও সংঘাত ধীরে ধীরে রাজনীতির প্রতি তাঁকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। কারামুক্তির দিনই প্রতিজ্ঞা করেন, সাহিত্যসাধনার মধ্য দিয়েই মানুষের মুক্তির কথা বলবেন। উল্লেখ্য, পাষাণপুরী ও চৈতালী ঘূর্ণি এই সময়ের রচনা। ফলে তাঁর উপন্যাসে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ছবি সহজাতভাবে চিত্রিত হয়েছে। ধাত্রী দেবতার কথাও বলা যায়। শিবনাথ চরিত্রের মধ্য দিয়ে উপন্যাসটিতে স্বাধীনতা আন্দোলনের যে আবেগ ও জাতীয়তাবোধের দৃঢ়তা প্রস্ফুটিত হয়েছে তা বিস্মিত করে।

লেখায় উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন এবং তাদের ছোট–বড় গুণ ও মহত্ত্বকে ফুটিয়ে তুলতে তারাশঙ্করের দক্ষতা ঈর্ষণীয়। উপরন্তু মানুষের প্রবৃত্তি, নিয়তি এবং সহমর্মিতার মেলবন্ধনের মহৎ দিকটিও লেখনীর মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করানোর চেষ্টা করেছেন। তাই তাঁর চরিত্ররা নিয়তির কাছে যেমন অসহায়, তেমনি জীবনসংগ্রামে প্রত্যয়ীও।
তাঁর রচনায় প্রত্যন্ত গ্রামীণ জীবন যেমন ভাষা পেয়েছে, তেমনি লোকাচার, প্রথা, ধর্মবিশ্বাস ও ভাষার বিবর্তনও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোকিত হয়েছে। সাঁওতাল, বাগদি, বোষ্টম, বাউরি, ডোম, বেদে, পটুয়া, কাহারদের জীবনযাত্রার ছবি দারুণভাবে এঁকেছেন তারাশঙ্কর। ফুটিয়ে তুলেছেন গ্রামবাংলার সামাজিক ভাঙন, মূল্যবোধের সংঘাত, শ্রেণিচেতনা এবং নিম্নবর্গীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম ও অস্তিত্বের সংগ্রামও।
আঞ্চলিক ভাষার সহজ সাবলীল ব্যবহারের কৌশলও প্রশংসাযোগ্য। স্থানীয় উপভাষা চরিত্রগুলোর মুখে এত স্বাভাবিকভাবে তিনি ব্যবহার করেছেন যে আঞ্চলিক পটভূমিকে তা আরও জীবন্ত করে তুলেছে। কবিয়ালদের গান, ঝুমুর দলের জীবন, গ্রাম্য নানা আচার-অনুষ্ঠান ও সংস্কারের নানা দিক কোনো রকম ভণিতার আশ্রয় না নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তুলে ধরেছেন। আর সমাজ-সংস্কৃতি তুলে ধরার এই বৈচিত্র্যময়তা তারাশঙ্করের রচনাকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে।
সামাজিক পরিবর্তনের দিকে দৃষ্টি দিলেও দেখা যাবে, এই জায়গাটিও দারুণভাবে তুলে ধরেছেন তারাশঙ্কর। এর পেছনে কারণ হতে পারে, নিজের চোখে দেখা জমিদারি প্রথার অবসান ও নতুন এক ধনিক শ্রেণির উদ্ভব। ফলে গ্রামের চিরায়ত স্থিতিশীল সমাজের ভাঙন ও যন্ত্রনির্ভর নগরজীবনের বিকাশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও নৈতিক দ্বন্দ্ব, খুব সহজেই তাঁর রচনার উপজীব্য হয়েছে।
শ্রেণিসংঘাতের বিষয়টিও আলাদাভাবে নজর পাওয়ার দাবি রাখে। কারণ, লেখায় উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন এবং তাদের ছোট–বড় গুণ ও মহত্ত্বকে ফুটিয়ে তুলতে তারাশঙ্করের দক্ষতা ঈর্ষণীয়। উপরন্তু মানুষের প্রবৃত্তি, নিয়তি এবং সহমর্মিতার মেলবন্ধনের মহৎ দিকটিও লেখনীর মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করানোর চেষ্টা করেছেন। তাই তাঁর চরিত্ররা নিয়তির কাছে যেমন অসহায়, তেমনি জীবনসংগ্রামে প্রত্যয়ীও।

রচনারীতির দিক থেকে তারাশঙ্কর সহজ ও গতিশীল, ব্যাপ্তির দিক থেকে মহাকাব্যিক। তাঁর বর্ণনা ক্ষীণ কিন্তু সুদূরপ্রসারী। তিনি চিরায়ত ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে সমাজ ও জীবনের ক্ষয়িষ্ণুতাকে গভীর বেদনার সঙ্গে উপলব্ধি করেছেন। তাঁর নিতাই, বনওয়ারী, করালী, জীবন মশায় চরিত্রগুলো বাংলা সাহিত্যের চিরন্তন সম্পদ। মানবচরিত্রের জটিলতা, প্রেম, প্রতিহিংসা, কুসংস্কার ও মানবতাবাদের জয়গান তাঁর রচনার প্রধান সুর।
পুরাতনের সঙ্গে নতুনের দ্বন্দ্ব চিরন্তন। বিষয়টিকে কৌশলের সঙ্গে রচনায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন তারাশঙ্কর। তাঁর উপন্যাসে চিরায়ত সংস্কার, ধর্মবিশ্বাস এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি বা নতুন মূল্যবোধের মধ্যে গভীর দ্বন্দ্ব রয়েছে। আরোগ্য–নিকেতন–এর উদাহরণ টানা যায়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক জীবন মশায় এবং আধুনিক অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক পৌত্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব মূলত চিরায়ত ভাবনা ও আধুনিক বিজ্ঞানের মধ্যকার সংঘাত। জীবন মশায়ের জীবনদর্শন, মৃত্যুচিন্তা এবং তাঁর পুরাতন চিকিৎসাপদ্ধতির প্রতি বিশ্বাস উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
তারাশঙ্করের উপন্যাসের সংখ্যা ৬০–এর বেশি। গল্পও লিখেছেন প্রচুর। সৃষ্টি করেছেন বহু কালজয়ী চরিত্র ও কাহিনি। বীরভূমের কোপাই নদীর ‘হাঁসুলি বাঁক’ নামে পরিচিত অঞ্চলের মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হাঁসুলি বাঁকের উপকথা উপন্যাসটি আঞ্চলিক সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। গণদেবতায় গ্রাম্য জীবনের রূপান্তর ও রাজনৈতিক চেতনার বিস্তারের প্রভাব লক্ষণীয়। সিক্যুয়েল পঞ্চগ্রাম-এ পঞ্চায়েতি ব্যবস্থার বিলুপ্তি, মধ্যস্বত্বভোগী ও মহাজন শ্রেণির উদ্ভবের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জাগরণ ও অধিকার বিষয়েও আলোকপাত আছে। কবি উপন্যাসের নিতাইয়ের কণ্ঠে লেখক ধ্বনিত করেছেন মানুষের চিরন্তন আক্ষেপের বাণী—
হায় এ খেদ মোর মনে
ভালবেসে মিটল না আশ—কুলাল না এ জীবনে।
জীবন এত ছোট কেনে? হায়—
জীবনে যা মিটল নাকো মিটবে কি তাই হায় মরণে?
এ ভুবনের কান্না যত হয় কি হাসি ও ভুবনে?
জীবন এত ছোট কেনে? হায়—
রচনারীতির দিক থেকে তারাশঙ্কর সহজ ও গতিশীল, ব্যাপ্তির দিক থেকে মহাকাব্যিক। তাঁর বর্ণনা ক্ষীণ কিন্তু সুদূরপ্রসারী। তিনি চিরায়ত ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে সমাজ ও জীবনের ক্ষয়িষ্ণুতাকে গভীর বেদনার সঙ্গে উপলব্ধি করেছেন। তাঁর নিতাই, বনওয়ারী, করালী, জীবন মশায় চরিত্রগুলো বাংলা সাহিত্যের চিরন্তন সম্পদ। মানবচরিত্রের জটিলতা, প্রেম, প্রতিহিংসা, কুসংস্কার ও মানবতাবাদের জয়গান তাঁর রচনার প্রধান সুর।
তারাশঙ্কর যে নিজের ঘর ছেড়ে ঘরের বাইরে, দুয়ার ছেড়ে পৃথিবীর দুয়ারে পৌঁছাতে পেরেছেন, এখানেই কি তিনি আলাদা নন? তা ছাড়া উপন্যাসে, গল্পে জীবনকে দেখার সহজ, স্বাভাবিক দৃষ্টিও তাঁকে আলাদা করেছে। সাহিত্যের প্রান্তরে দিয়েছে নিজস্বতা, তৈরি হয়েছে তারাশঙ্করীয় রীতি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ঐকতান’ কবিতায় বলেছেন,
‘সাহিত্যের ঐকতান-সংগীতসভায়
একতারা যাহাদের তারাও সম্মান যেন পায়—
মূক যারা দুঃখে সুখে,
নতশির স্তব্ধ যারা বিশ্বের সম্মুখে।
ওগো গুণী,
কাছে থেকে দূরে যারা তাহাদের বাণী যেন শুনি।
তুমি থাকো তাহাদের জ্ঞাতি,
তোমার খ্যাতিতে তারা পায় যেন আপনারি খ্যাতি—
আমি বারংবার
তোমারে করিব নমস্কার।’
তারাশঙ্কর যে নিজের ঘর ছেড়ে ঘরের বাইরে, দুয়ার ছেড়ে পৃথিবীর দুয়ারে পৌঁছাতে পেরেছেন, এখানেই কি তিনি আলাদা নন? তা ছাড়া উপন্যাসে, গল্পে জীবনকে দেখার সহজ, স্বাভাবিক দৃষ্টিও তাঁকে আলাদা করেছে। সাহিত্যের প্রান্তরে দিয়েছে নিজস্বতা, তৈরি হয়েছে তারাশঙ্করীয় রীতি।
১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র আট বছর বয়সে পিতৃহীন হওয়ায় মা প্রভাবতী দেবী এবং বিধবা পিসিমা শৈলজা ঠাকুরাণীর স্নেহ-শাসনে বড় হন। পিতা হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তৎকালীন জমিদার সমাজের প্রতিনিধি। আর মা ছিলেন শিক্ষার প্রসারে আগ্রহী ও ধর্মশাস্ত্রের অনুরাগী।

তারাশঙ্কর শৈলজানন্দকে বলেছিলেন, দ্যাখো আমি জীবন আর সাহিত্যকে আলাদা করে দেখি না। গল্প-উপন্যাসে ভালো ভালো কথা বলব, নিজের জীবনে সেটা মানব না, সেটা কী করে সম্ভব? অগত্যা যা ঘটার তা–ই ঘটল। তারাশঙ্কর আটক হলেন। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েও আপস করেননি এই কথাশিল্পী। মাথা উঁচু করে জেল বরণ করে নিয়েছিলেন।
সাহিত্যের পথে হেঁটে যেমন দুহাত ভরে দিয়েছেন, তেমনি পেয়েছেনও অনেক। ভূষিত হয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার, পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণসহ নানা পদক ও পুরস্কারে। শুধু কি তাই? ১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য সুইডিশ একাডেমি তাঁকে মনোনীত করেছিল বলে জানা যায়। তাঁর গল্প-উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত জলসাঘর এবং অভিযান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তপন সিংহ হাঁসুলি বাঁকের উপকথা উপন্যাসটিকেও সফলভাবে চলচ্চিত্রে রূপান্তর করেছেন।
একটা ঘটনা দিয়ে লেখা শেষ করব। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকথা মানুষ তারাশঙ্কর–এ পড়েছিলাম। স্বাধীনতা আন্দোলনের দামামা বাজছে চারদিকে। ইংরেজ ভারত ছাড়, কলরবে আকাশ-বাতাস মুখর। তারাশঙ্কর সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলেন এই মহারণে। অনেকেই তাঁকে সক্রিয়ভাবে না জড়িয়ে পড়ার জন্য অনুরোধ, উপদেশ, পরামর্শ দিলেন। এই প্রসঙ্গে আলাপকালে তারাশঙ্কর শৈলজানন্দকে বলেছিলেন, দ্যাখো আমি জীবন আর সাহিত্যকে আলাদা করে দেখি না। গল্প-উপন্যাসে ভালো ভালো কথা বলব, নিজের জীবনে সেটা মানব না, সেটা কী করে সম্ভব? অগত্যা যা ঘটার তা–ই ঘটল। তারাশঙ্কর আটক হলেন। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েও আপস করেননি এই কথাশিল্পী। মাথা উঁচু করে জেল বরণ করে নিয়েছিলেন। তাই প্রশ্ন জাগে গণদেবতার দেবু পণ্ডিতের মধ্যে কি নিজেকে খুঁজতে চেয়েছেন তারাশঙ্কর?
১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর না–ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা কথাসাহিত্যের মহাকাব্যিক এই শিল্পী। কিন্তু সৃষ্টিশীল মানুষ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে চিরভাস্বর হয়ে থাকেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার বাসিন্দা কল্পনা খাতুন (৪৬)। তার স্বামী এনামুল হক ও ছেলে শফিউল ইসলামকে নিয়ে নিজের বসতঘরটিকেই বানিয়েছিলেন গাঁজা বেচাকেনার ‘খুচরা দোকান’। প্রতিদিন ভোর থেকেই সেখানে শুরু হতো গাঁজা বেচাকেনা। কেউ গাঁজা কিনে নিয়ে যেতেন, আবার কেউ আশপাশেই বসেই সেবন করতেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিলেন পাঁচগাছি চরপাড়া গ্রামের মানুষ। অবশেষে কল্পনা খাতুন ও তার ছেলে শফিউল ইসলামকে দুই কেজি ৭৫ গ্রাম গাজাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সোনামুখী এলাকার আব্দুর রাজ্জাক নামের আরও এক মাদক কারবারিকে ২১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের বাড়িতে হেফাজতে থাকা মাদক জব্দ করা হয়। কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক তিনজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। এম এ মালেক/এসআর/এএসএম
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক ডিআইটি মসজিদ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ও মহানগরীর পৃথক দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে হেফাজতভুক্ত ইসলামী দল, বিভিন্ন থানা থেকে নেওয়া তালিকা ও বড় মাদ্রাসাগুলো ও তাবলীগ জামাতের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। উভয় কমিটিতে কয়েকটি পদ খালি রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে পূর্ণ করে জানিয়ে দেওয়া হবে। জেলা কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে ডিআইটি রেলওয়ে কলোনী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়ালকে। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিরও নায়েবে আমীর। এর আগেও জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। সেই সঙ্গে আমলাপাড়া মাদরাসার মাওলানা আব্দুল কাদেরকে জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি, মাদানীনগর মাদরাসার মুফতি বশিরউল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। আরও পড়ুন পদ্মার তীরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ, ওড়নার সঙ্গে বাঁধা ছিল সিমেন্টের ব্লক একই সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খান (সোনারগাঁ), অর্থ সম্পাদক মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী এবং প্রচার সম্পাদক মুফতি শেখ শিব্বিরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে হেফাজতে ইসলামের মহানগর কমিটির সভাপতি হয়েছেন মুফতি জাকির হোসেন কাসেমী, অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে দেওভোগ মাদরাসার মাওলানা আব্দুর রহমানকে। এছাড়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি মামুনুর রশীদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ ইবনে আউয়াল। জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, আমরা প্রত্যেকেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। সেই সাথে ইসলামের বিপক্ষে যারা থাকবে তাদের দাঁত ভাঙ্গা জওয়াব দেয়ার জন্য হেফাজতে ইসলাম আছে এবং থাকবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত রাখার জন্য কাজ করে যাবো। এদিকে এই কমিটিতে বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের দল উল্লেখ করে পদ দেওয়া হলেও জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকে রাখা হয়নি। জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, আমাদের উলামায়ে দেওবন্দের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে জামায়াতে ইসলামকে আমরা ইসলামী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেইনি বিধায় হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে নিতে পারিনি। তারা যতদিন পর্যন্ত নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার না করবে আমরা তাদের ব্যাপারে সেভাবেই থাকবো। মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর
দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর নিয়ে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন ‘বার্তাসংক্ষেপ’। অল্প সময়ে দিনের বড় ঘটনা ও খবরের ভেতরের খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের এ বিশেষ আয়োজনে। সঠিক তথ্য আর দ্রুততম আপডেট নিয়ে প্রথম আলো আছে সব সময় আপনার সঙ্গে। থাকুন ভালোর সাথে, আলোর পথে...