ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বরের কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পেতে আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না বিনিয়োগকারীদের। ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে। এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার থেকে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের ব্যবস্থা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, অর্থ বিভাগের বাস্তবায়িত ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি’ (এসপিএফএমএস) শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় আজ থেকে জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) চালু করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বর তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে।
অর্থ বিভাগ বলেছে, গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মুঠোফোন নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু ছিল। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ব্যাংক হিসাব যাচাই। এত দিন অনলাইন পদ্ধতিতে ব্যাংক হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না।
বিভাগটি আরও বলেছে, এত দিন আবেদনকারী যে হিসাব নম্বর দিতেন, সেটিই হুবহু সিস্টেমে সংরক্ষণ করা হতো। কোনো সংখ্যা ভুল হলে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পাঠানো মুনাফা বা মূল অর্থ ফেরত আসত। পরে তথ্য সংশোধন করে আবার টাকা পাঠাতে হতো। এতে বিনিয়োগকারীর ভোগান্তির পাশাপাশি ইস্যু অফিস, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাজ বাড়ত। ভুল নম্বরের কারণে একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্য ব্যক্তির হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এভিএস পদ্ধতি চালু না থাকায় এ পর্যন্ত কয়েক হাজার গ্রাহককে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রথমেই দেখা হবে হিসাব নম্বরটি সঠিক ও সচল কি না। এরপর এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। ফলে টাকা পাঠানোর আগেই ভুল বা অসামঞ্জস্য ধরা পড়বে।
এভিএস দুটি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় ব্যাংক হিসাব যাচাই হবে। আবার কেনার পর বিনিয়োগকারী ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে নতুন হিসাবটিও একইভাবে তাৎক্ষণিক যাচাই করা হবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বলছে, এভিএস চালুর ফলে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বর ভুক্তির হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ইএফটি ফেরত আসার ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগকারীর ভোগান্তি কমবে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অতিরিক্ত কাজ কমবে। গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ প্রকৃত হিসাবধারীর হিসাবে নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হবে।
অর্থ বিভাগের মতে, এভিএস জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কল্যাণে সঞ্চয়পত্রের লেনদেন আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হবে। প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক লেনদেন ভুল কমিয়ে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত ও নিরাপদে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে অর্থ বিভাগ।
সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেন জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এই সিস্টেমে নিবন্ধিত একক গ্রাহকের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪। প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ইএফটির মাধ্যমে মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। একই সময়ে দৈনিক গড়ে ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়।
সঞ্চয়পত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়লেও সরকারের নতুন ঋণ নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। পুরোনো সঞ্চয়পত্রের মূল টাকা ফেরত দিতে গিয়ে নতুন বিক্রির প্রায় পুরো অর্থই চলে যাচ্ছে। ফলে বাজেটঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্রের বদলে ব্যাংক ও সরকারি সিকিউরিটিজের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে সরকারের।
গত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরকার ৯২ হাজার ৫১৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে। একই সময়ে পুরোনো সঞ্চয়পত্রের আসল ফেরত দিতে হয়েছে ৯২ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। ফলে পুরো অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ হয়েছে মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকা। অথচ ওই অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল। পরে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কয়েক বছর আগেও সঞ্চয়পত্র ছিল সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের অন্যতম বড় উৎস। ২০২০–২১ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে যে অর্থ আসছে, তার বড় অংশই পুরোনো বিনিয়োগকারীদের মূল টাকা পরিশোধে চলে যাচ্ছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের কাছে সঞ্চয়পত্র এখনো আকর্ষণীয়। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিনিয়োগের অঙ্ক অনুযায়ী মুনাফার হারও আলাদা।
অন্যদিকে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের বড় অংশ এখন ব্যাংক ও ট্রেজারি বিল-বন্ডের দিকে যাচ্ছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা হয়েছে। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগ্রহ থাকলেও সরকারের জন্য এটি আর আগের মতো বড় ঋণের উৎস নয়। বরং পুরোনো দায় পরিশোধের চাপ সামলাতেই সঞ্চয়পত্রের নতুন বিক্রির অর্থের বড় অংশ ব্যবহার হচ্ছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ডাকসুতে গোলাম আজম ও জিন্নাহর ছবি পদদলিত করেছেন শিক্ষার্থীরা। ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে ও ডাকসু সংগ্রহশালার ভেতরে ছবিগুলো পদদলিত করেন তাঁরা। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...
ডিজেলের পরিবর্তে বিদ্যুতের সাহায্যে রেলের ইঞ্জিন চলবে, এমন একটি নতুন প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। এতে খরচ হবে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। যার মাধ্যমে ঢাকা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে। সংগ্রহ করা হবে বিদ্যুৎ–চালিত ইঞ্জিনসহ কোচ। আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পটি পাসের জন্য উঠানো হতে পারে। প্রকল্পটি পাস হলে গণপরিবহনের উন্নতির পাশাপাশি পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সভায় সব মিলিয়ে ১৫টি প্রকল্প উঠছে। পরিকল্পনা কমিশনের সূত্রমতে, রেলপথে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা স্থাপনের পাশাপাশি ১৬ সেট বৈদ্যুতিক ট্রেন কেনা হবে, প্রতি সেটে ৫টি করে কোচ থাকবে। ২০৩১ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে। ‘নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি)।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক রেলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। ভবিষ্যতে এর কোনো বিকল্প দেখছেন না তাঁরা। জানতে চাইলে যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারতে ৭০ শতাংশ এবং চীনে ৯৫ শতাংশ ট্রেন বিদ্যুতে পরিচালিত হয়। আমাদের এই রূপান্তরে দীর্ঘ সময় লাগবে। কিন্তু সে জন্য শুরু করতে হবে। এটি ডিজেলের মতো জ্বালানি অপচয় ও অনিয়ম ঠেকাতেও কার্যকর হবে। রেলের গতিও বাড়বে।’নতুন এ ব্যবস্থায় যথাযথ প্রস্তুতির বিষয়ে সতর্ক করে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘এই রেল সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দরকার। আবার এ প্রযুক্তির জ্ঞানসম্পন্ন জনবলও দরকার। আগেও ডেমু ট্রেন যথাযথ লোকবল না থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়নি। তাই আমাদের সতর্ক হতে হবে, যেন এ উদ্যোগ সফল হয়।’কেন এই প্রকল্পপ্রকল্প প্রস্তাব অনুসারে, বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনে ট্রেন চালালে প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক ট্রেনের তুলনায় জ্বালানি ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমতে পারে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কম হয়ে থাকে। ভবিষ্যতে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব হিসেবে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করতে হবে। তাই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।বৈদ্যুতিক ট্রেনে দ্রুত গতি বৃদ্ধি করা যায়, আবার কমানোও যায়। এ কারণে এ পথে ট্রেনের গড় গতিবেগ ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণের সময়ও কমবে। ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলতে পারবে বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথ দেশের অন্যতম ব্যস্ত শিল্পাঞ্চল ও রাজধানীর প্রবেশপথের সঙ্গে যুক্ত। এই পথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি সড়কপথের ওপর চাপ কমবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একই সঙ্গে ডিজেলচালিত ট্রেনের ব্যবহার কমায় কার্বন নিঃসরণ ও বায়ুদূষণ কমবে।পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এখন বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচল করছে। ভবিষ্যতে সেদিকেই যেতে হবে। তাই বাংলাদেশেও সেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। নতুন লাইনটি সফলতা পেলে পর্যায়ক্রমে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটেও এই লাইন সম্প্রসারিত করা হবে।প্রকল্পের আওতায় ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেন চলাচলের জন্য ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ৫টি করে কোচ নিয়ে ১৬ সেট ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) ট্রেন কেনা হবে। ট্রেনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জয়দেবপুর প্রান্তে একটি ইএমইউ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কারখানাও নির্মাণ করা হবে।প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৯৪২ কোটি অর্থায়ন করা হবে। ঋণদাতা সংস্থা এডিবি ও ইআইবি থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এটিই এ ধরনের প্রথম প্রকল্প হওয়ায় খাতভিত্তিক আলাদা ব্যয় উল্লেখ করা হয়নি বলে প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে।দরপত্রের মাধ্যমে কোচ সংগ্রহ করা হবে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, চীন বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো বৈদ্যুতিক কোচও তৈরি করে থাকে। তাই চীন থেকেই কোচ সংগ্রহ করা হতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।ব্যয় কমেছে ৪৬০ কোটিপ্রকল্পটির প্রাথমিক প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ২৮২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। গত ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন খাতের ব্যয় যৌক্তিক করার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে যানবাহন কেনার ব্যয় বাদ দেওয়া হয়েছে।পিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনর্গঠিত প্রস্তাবে প্রকল্পের ব্যয় ৪৬০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বা ১২ শতাংশ কমানো হয়েছে। এতে চূড়ান্ত প্রস্তাবিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব রেলযোগাযোগের নতুন ব্যবস্থা তৈরি হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুরো রেলব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আমরা রেলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সে জন্যই এ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। রেলের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও একগুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেফতার গাজী সালাউদ্দিন তানভীর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও তানভীরের আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কারামুক্তির পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তানভীরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তার আইনজীবী। গাজী সালাউদ্দিন তানভীর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব। পুলিশ জানায়, গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মনিপুরী পাড়া থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তানভীরকে গ্রেফতার করে। একই দিন তাকে বগুড়া আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরও পড়ুন পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট: আসিফ মাহমুদ পরবর্তী সময়ে বগুড়া জেলা কারাগারে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তানভীরের শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে জামিন শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার আবেদন করে আসামিপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নির্দেশের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি উচ্চ আদালতে পৌঁছায়। পরে আসামিপক্ষের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তানভীরের এক বছরের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। আসামিপক্ষের আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী বলেন, গাজী সালাউদ্দিন তানভীর প্যানিক ডিজঅর্ডার, তীব্র মাথাব্যথা ও সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে গত ১৫ আগস্ট কারাগারে তিনি ব্রেন স্ট্রোক করেন। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি চিকিৎসার তাগিদে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এলবি/এসআর/জেআইএম