জাতীয়

এই সুযোগ যেন আমরা অবহেলায় না হারাই: রাষ্ট্রপতি

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
এই সুযোগ যেন আমরা অবহেলায় না হারাই: রাষ্ট্রপতি
এই সুযোগ যেন আমরা অবহেলায় না হারাই: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘দেশের মানুষ বারবার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে; কিন্তু বারবার বাধা পেয়েছে। যে সুযোগ এসেছে, সেই সুযোগ যেন আমরা কখনো অবহেলায় না হারাই।’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সিলেট সিটি করপোরেশন এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম সিলেট সফর করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে ঢাকার বাইরে ৬ সেপ্টেম্বর তিনি নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও প্রথম সফর করেন। এরপর সিলেটে সফর করলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি, সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। প্রধান দায়িত্ব হবে, যে সংসদ আছে সেই সংসদকে ফাংশনাল (কার্যকর) করা। দ্বিমত থাকতে পারে; সেই দ্বিমতগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিন্তু সমাধান করা সম্ভব।’

বাংলাদেশে হয়ে যাওয়া গত সংসদ নির্বাচনটি আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখানে সরকার গঠন হয়েছে। ওই সরকার চেষ্টা করছে অতি দ্রুততার সঙ্গে কী করে, সেই একটা ভগ্নস্তূপ থেকে আবার দেশকে জাগিয়ে তোলা যায়।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি প্রায়ই আপনাদের বলতাম, আমরা যাঁরা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করি, তাঁরা অনেকটা ফিনিক্স পাখির মতো। ধ্বংস হয়ে যায়, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। গণতন্ত্র পেয়েছি, গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ। সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অতীতে লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য। সামনের লড়াই হচ্ছে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আক্ষরিক অর্থেই একটা বাসযোগ্য আবাসস্থল যেন আমরা নির্মাণ করতে পারি—এ বিষয়গুলো আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সিলেটের কিছু সমস্যার কথা আপনারা বলেছেন। আমার মনে হয় আপনাদের মন্ত্রীবর্গ যাঁরা আছেন, আপনাদের সংসদ সদস্য যাঁরা আছেন; তাঁরা যথেষ্ট যোগ্য। এ বিষয়গুলো নিয়ে তাঁরা কথা বলছেন, কাজ শুরু হয়েছে।’

‘বাংলাদেশের সৌন্দর্য কমিউনাল হারমনি’

কমিউনাল হারমনি বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—আমরা এখানে অনেকগুলো জাতি একসঙ্গে বাস করি। বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌন্দর্য হচ্ছে, বাংলাদেশে এত কমিউনাল হারমনি আছে, এটা আর কোথাও আছে কি না আমার জানা নেই।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার বারবার করে মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা, যখন আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এখানে সমাবেশ করেছি, লংমার্চ করেছি। দীর্ঘকাল লড়াই করে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটা সুযোগ পেয়েছি।’

অভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যদি নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে না পারি, যদি নিজেরা নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে না পারি, কেউ এসে তা করে দিয়ে যাবে না। সে জন্যই বারবার বলছি, আসুন অন্তত আমাদের কমন (অভিন্ন) যে ইস্যুগুলো আছে, সেই ইস্যুগুলোতে একমত হই। একমত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। এখানে বিরোধী দল থাকবে, সরকারি দল থাকবে; সবকিছু নিয়ে এগোতে হবে।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি ঠিক আগে যেভাবে কথা বলতাম আপনাদের সঙ্গে একজন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে, কর্মী হিসেবে; এখন তো সেভাবে কথা বলতে পারি না। কারণ, আমি শপথ নিয়েছি যে আমি সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে কাজ করব, কথা বলব। কাজটি কঠিন হলেও আমি করার চেষ্টা করব। দলমত–নির্বিশেষে এবং বর্ণ–গোষ্ঠী—সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করা হবে আমাদের মূল কাজ।’

নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণ, সিলেট। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমৃদ্ধ জনপদ সিলেট

নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সিলেট আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটা জায়গা। আমি যখনই সুযোগ পাই, সিলেটে আসি। আসি দুটো কারণে—একটা হচ্ছে আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় দুজন আউলিয়া এখানে আছেন, তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতে আর আপনাদের সান্নিধ্য পেতে।’

এ সময় সিলেটকে সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘এই সিলেট নিজেই অত্যন্ত গর্বিত একটি জায়গা। কারণ, এখানে যাঁদের জন্ম হয়েছে, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁরা আপনাদের গর্বিত সন্তান।’

সিলেটের সাহিত্য–সংস্কৃতি, চা-বাগানসহ নানা ঐতিহ্যের বিষয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘গতকালই পাকিস্তানের হাইকমিশনার আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি বললেন যে কয়েক দিন আগে সিলেটে এসেছিলেন। চা এখান থেকে নিয়ে যাবেন, অর্থাৎ তাঁরা আমদানি করবেন। আমাদের এখান থেকে চা রপ্তানি হবে। এটা কো–অর্ডিনেট (সমন্বয়) করা দরকার।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। মঞ্চে রাষ্ট্রপতির স্ত্রী রাহাত আরা বেগম বসা থাকলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ।

সুধী সমাজের পক্ষে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কামাল আহমদ চৌধুরী, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আমিরুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম ইয়াহিয়া চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, দেবালয় রথযাত্রা কমিটির সভাপতি প্রশান্ত কুমার সিংহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উড়োজাহাজযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন। রাতেই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করার ফল কখনোই ভালো হবে না: সাদিক কায়েম
নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করার ফল কখনোই ভালো হবে না: সাদিক কায়েম

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মতো সংবিধিবদ্ধ এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ করার ফল কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার এবং ইলেকশন কমিশনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সরকারের তালবাহানা এবং সমন্বয়হীনতা এখন স্পষ্ট। সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসি সানাউল্লাহ ঘোষণা দেন, ৭ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। প্রথম ধাপের তারিখ জানানো হয় ১২ নভেম্বর। এদিকে আজ (মঙ্গলবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির দেওয়া তারিখ চূড়ান্ত নয়। স্পষ্টতই এখানে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকার এবং ইলেকশন কমিশনের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখা যাচ্ছে।’ তিনি আরও লেখেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, বোঝাই যাচ্ছে, সরকার ইলেকশন কমিশনের দেওয়া ডেট মানছে না। সরকারকে সুযোগ করে দিতে নিজেদের সুবিধামতো ইলেকশন কমিশনকে দিয়ে একটি ডেট ঘোষণা করাতে চাচ্ছে সরকার। ফলে জনগণের কাছে এটা স্পষ্ট যে সরকার ইলেকশন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। আরও পড়ুন ডাকসুর এক বছর, চিঠি দিয়ে যা বললেন ভিপি সাদিক কায়েম সাদিক কায়েম আরও লিখেন, ‘নির্বাচন কমিশন দেশের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে দেশে যে সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় না, তার উদাহরণ গত স্বৈরাচার সরকার। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে দেখা যাচ্ছে, বিএনপিও স্বৈরাচার আমলের মতো দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো নির্বাচন কমিশনকেও নিয়ন্ত্রণ করে দেশে একটি ‘কন্ট্রোলড ডেমোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’ এমআইএইচএস/

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
দুই মাসে ২৬ ট্রান্সফরমার চুরি, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতাসহ গ্রেফতার ৫

দুই মাসে ২৬ ট্রান্সফরমার চুরি, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতাসহ গ্রেফতার ৫

জানা গেলো পরবর্তী দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের ভেন্যু

জানা গেলো পরবর্তী দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের ভেন্যু

সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাজিদের কোনো কষ্ট-অবহেলা সহ্য করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী
হাজিদের কোনো কষ্ট-অবহেলা সহ্য করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, আল্লাহর মেহমান হজযাত্রীদের কোনো ধরনের কষ্ট, তাদের প্রতি অবহেলা বা জুলুম সহ্য করা হবে না। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ৩০টি অ্যালায়েন্স/লিড এজেন্সির অনুকূলে হজযাত্রী কোটা বণ্টনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার সব হজযাত্রী আমাদের। হজযাত্রীদের সেবায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। হাজিদের খেদমতে যা কিছু প্রয়োজন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে, যাতে কোনো হাজি ভোগান্তিতে না পড়েন। ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো কাজে ভুলত্রুটি হলে একে অপরের দোষ খোঁজার পরিবর্তে কীভাবে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে এবং সৌদি আরবের বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে হজ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বা কাজের জন্য কেউ এলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। কাউকে অযথা ঘোরানো বা হয়রানি করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের নিবন্ধিত কোটার সিংহভাগ বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তাই হজ এজেন্সিগুলোর কাজের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। ধর্মমন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের জন্য হজ অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আমানত। সবাইকে নিজেদের ‘খাদিম’ বা সেবক মনে করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সফলভাবে হজ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য তিনি সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, বর্তমানে সৌদি সরকারের প্রাথমিক নির্ধারণ অনুযায়ী বাংলাদেশের হজ কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এই প্রাথমিক কোটা থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনার নির্ধারিত অংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট কোটা বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে। সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরএমএম/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা

কাকে ছেড়ে কাকে দেখবেন? আম্বানিদের গণেশ পূজার অনুষ্ঠানে যেন ভেঙে পড়েছে বলিউড

কাকে ছেড়ে কাকে দেখবেন? আম্বানিদের গণেশ পূজার অনুষ্ঠানে যেন ভেঙে পড়েছে বলিউড

বাল্যবিয়ে বন্ধ, কাজিসহ বর ও কনের বাবাকে জরিমানা
বাল্যবিয়ে বন্ধ, কাজিসহ বর ও কনের বাবাকে জরিমানা

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাজি, বর ও কনের বাবাকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল মালেক। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের দশম শ্রেণির (১৬) এক ছাত্রীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের আকরাম আলীর ছেলে মারেফতের (১৯) বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। গোপনে বিয়ে সম্পন্ন করতে তারা পৌরশহরের ভোগাই সেতুসংলগ্ন কাজি অফিসে যান। পরে খবর পেয়ে সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। ইউএনও আব্দুল মালেক জাগো নিউজকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিয়ের কাজি মোহাম্মদ সায়েমকে ৩০ হাজার টাকা, বরের বাবা আকরাম আলীকে ১০ হাজার এবং কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। মো. নাঈম ইসলাম/এসআর/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রথমবার এক লাখ ছাড়ালো

জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রথমবার এক লাখ ছাড়ালো

নিশ্চিত হলো মেসিহীন আর্জেন্টিনার পরবর্তী সূচি! কবে খেলা জেনে নিন

নিশ্চিত হলো মেসিহীন আর্জেন্টিনার পরবর্তী সূচি! কবে খেলা জেনে নিন

পদদলিত করতে ডাকসুর প্রবেশপথে জিন্নাহর ছবি

পদদলিত করতে ডাকসুর প্রবেশপথে জিন্নাহর ছবি

0 Comments