দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চট্টগ্রাম নগরের পুকুর, দিঘি, ডোবা ও অন্যান্য জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নগরের ঐতিহাসিক আগ্রাবাদ ডেবায় আয়োজিত মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এরশাদ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে মৎস্যসম্পদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একসময় চট্টগ্রাম নগরের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিল পুকুর, দিঘি, ডোবা ও জলাধার। নগর যত বেড়েছে, ততই সংকুচিত হয়েছে এসব প্রাকৃতিক জলভূমি। কোথাও বহুতল ভবন, কোথাও দোকান-গুদাম, আবার কোথাও আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে দেশীয় মাছের আবাসস্থল যেমন হারিয়েছে, তেমনি বৃষ্টির পানি ধারণ ও ভূগর্ভে পানি প্রবেশের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও দুর্বল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এরশাদ উল্লাহ বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাদেশে খাল খননসহ নদী-নালা দখলমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। নদী ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকাও সমৃদ্ধ হবে।
কর্মসূচিতে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, নদী, খাল-বিল ও জলাশয় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্তকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সারাদেশে নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন এবং দখলমুক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে।
কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শওকত আজম খাজা ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য নুরুদ্দীন হোসেন নুরু, আবু মুসা ও জাফর আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক হাজী নুরুল হক, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া, মো. জাফর, সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, তৈয়ব চৌধুরী, মো. শাহজাহান ও সেকান্দর সুমনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমআরএএইচ/কেএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বিদ্যুতের চলমান সংকট মোকাবিলা এবং সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সচিবদের। পাশাপাশি কাজের দক্ষতা বাড়ানো, প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৪টায় সচিব সভা শুরু হয়। সভা শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সভায় ৬১ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সচিবদের এ বৈঠকটি মূলত অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে তাগিদ দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। কীভাবে কাজের দক্ষতা আরও বাড়ানো যায়, কোন কাজ কীভাবে করতে হবে, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো নিয়ে দপ্তরে সাধারণত কাঠামোবদ্ধভাবে আলোচনা হয়। তবে এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুতের চলমান সমস্যা এবং পরদিন কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, কীভাবে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা যায়, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া।’ অগ্রাধিকার প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রত্যেকের নিজ নিজ জেলার জন্য যে দায়িত্ব রয়েছে, সেসব বিষয়ে তাদের মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কী সমস্যা হচ্ছে, জনগণের সঙ্গে কথা বলে সেসব সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং সংস্কারের উপাদানগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে কাজ করে পরবর্তী সময়ে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে সবাই মিলে কাজের মান আরও উন্নত করতে পারে। সভা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারি অফিসগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিষয়েও সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬–২০৩০) নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এ ছাড়া সরকারের চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল, জনকল্যাণমুখী ও কার্যকর করার বিষয়টি সভার আলোচ্যসূচিতে ছিল। জনগণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বিষয়ে সিনিয়র সচিব ও সচিবদের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাব পর্যালোচনা এবং বিবিধ বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাস পর প্রথমবারের মতো সচিবদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ২১০ দিন পর প্রথম সচিব সভা অনুষ্ঠিত হলো। সচিব সভাকে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আরএমএম/কেএইচকে
অতিথি:অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদরাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সঞ্চালক:পার্থ শঙ্কর সাহা
কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বেদম প্রহার করা হয়েছে। পরে তার পিঠে ইটের ভার দিয়ে করা হয়েছে নির্মম নির্যাতন। একপর্যায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান ওই যুবক। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. ফয়সাল (২৬) বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে। ওই যুবককে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রিফাত মুহাম্মদ ত্বকি নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহেশখালী থানার ওসি আবদুস সোবহান। আরও পড়ুন বোরকা পরে চুরির অভিযোগ, ধরে ফেলে যুবককে রাতভর নির্যাতন স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে ফয়সালকে আটক করেন পূর্ব ফকিরাঘোনার কেফায়ত উল্লাহ। তার বাড়িতে ফয়সাল চুরি করতে ঢুকেছিলেন বলে এলাকার লোকজনকে জানান কেফায়েত। পরে সকালে রাস্তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তার পিঠের ওপর রাখা হয় কয়েকটি ইট। মুমূর্ষু হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে এলাকার অন্যরা ফয়সালকে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলী আকবরের দাবি, ফয়সাল একজন পেশাদার চোর। তার নেতৃত্বে এলাকায় প্রায় চুরি হচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোরের চুরি করতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন। পরে গণপিটুনিতে মারা যান। তবে চুরির দায়ে এভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা মোটেও উচিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফয়সালের বাবা বাদশাহ মিয়ার দাবি, তার ছেলে দিনমজুর। কোনো কারণ ছাড়াই চোর বলে সন্দেহ করে ছেলেকে প্রকাশ্যে বেঁধে পিঠের ওপর ইট দিয়ে হত্যা করেছে। তিনি এ জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায় পুলিশ। মরদেহের সুরতহাল তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মহেশখালী থানার ওসি আবদুস সুলতান বলেন, ফয়সালকে নির্মম নির্যাতন চালানোর কিছু ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিও ফুটেজগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ওসি আরও জানান, যে বাড়িতে চুরি করতে গেছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে এবং যারা আটক করে নির্যাতন করেছেন, ওই বাড়িরই একজন রিফাত মুহাম্মদ ত্বকিকে আটক করা হয়েছে। ফয়সালের মরদেহ রাতে এলাকায় এলে দাফন করার কথা জেনেছি। পরিবারের লোকজন লিখিত দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সায়ীদ আলমগীর/এসআর