জাতীয়

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা

আমার পরিচিত এক নারী রাজশাহীতে থাকেন। তাঁরা দুই বোন। সেদিন সকালেই পত্রিকায় তিনি পড়েছেন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীর খুঁটিনাঁটি। পড়েছেন এ নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের ব্যাখ্যা।

সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

৭ সেপ্টেম্বর সম্পত্তি হস্তান্তর–সংক্রান্ত ‘১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’ পাস হয়।

সদ্য কর্মজীবনে ঢোকা এই নারীর এরই মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে বললেন, ‘আমাদের কোনো ভাই নেই। এ কারণে আমার বাবা আমার ও আমার বোনদের নামে হেবা (জীবদ্দশায় কাউকে বিনামূল্যে নিজের সম্পত্তি হস্তান্তর) করেছেন। তবে আমার বাবার এ সিদ্ধান্তে মোটেও খুশি নন আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা। এমনকি সম্পত্তি দিয়ে দিলে মেয়েরা পরে আর মা–বাবাকে দেখবে না, স্বজনেরা এমন ভয় দেখাচ্ছেন। এতে বাবাও কিছুটা উদ্বিগ্ন।’

এই নারীর প্রশ্ন, ‘কন্যা সন্তানের পিতা-মাতার কেবল সম্পত্তিরই ভাগীদার আছে, তাদের সেবা করার ভাগীদাররা কোথায়? যদি কন্যা সন্তানের বাবা-মা কোনো ঋণ রেখে মারা যান তখন সেই ঋণের বোঝা কি আত্মীয়-স্বজন নেবেন? নাকি তা টানার দায়িত্ব কেবল কন্যাদেরই? তাহলে সেবা করবে মেয়েরা, ঋণের বোঝা টানবে মেয়েরা কিন্তু সম্পদের ভাগীদার হবে আত্মীয়-স্বজন?’

হেবা করা হলেও সম্পত্তি ঠিকঠাক বুঝে পাবেন কি না তা নিয়ে চিন্তায় আছেন এই নারী। তবে অনলাইনে, টিভিতে, পত্রিকার খবরে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হওয়ার খবরে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।

তাঁর মনে হয়েছে এতে মা–বাবাও স্বস্তি পাবেন। মেয়েদের সম্পত্তি দান করলেও ভোগের অধিকার থাকবে। আবার আইন হওয়ায় আত্মীয়স্বজনেরাও জোর করতে পারবেন না।

এটা মন্দের ভালো বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি চান রাষ্ট্র এমন আইন করুক যেখানে কন্যাসন্তান তাঁদের প্রাপ্য সহজে পেতে পারে।

আইন নিয়ে নানা মত

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও ব্যক্তি আইনের সংশোধনীর বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলছেন এটি শরিয়তসম্মত নয়।

এটি প্রত্যাহার না করলে আন্দোলন জোরদার করা হবে বলেছে বিরোধী দল। বাবা-মার নিরাপত্তার চিন্তা থেকেই তাঁদের জন্য এই আইনটা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সমাজে বাবা-মা অসহায় হয়ে যাচ্ছেন শেষ বয়সে।

সম্পত্তি ছেলেমেয়েরা লিখে নিলেও বাবা-মাকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রেই আইনটি প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। কেউ যদি তাঁর ধর্ম অনুসারে চলতে চান, সেখানে আইন বাধা হবে না।

এটা যাঁর ইচ্ছা করতে পারবেন। এই আইনকে একটা অপশন হিসেবে রাখা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও বলছেন, আইনের ১২২ (এ)-এর চার ধারায় সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, শুধু হেবা না, অন্য ধর্মের যে পারসোনাল ল আছে সেটি সুরক্ষিত থাকবে।

জামায়াতপন্থী আইনজীবী শিশির মনিরও এই আইনকে ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করেন না বলে ওই সাক্ষাৎকারে জানান মন্ত্রী।

দুশ্চিন্তা কমেছে এক বাবার

সম্পত্তির ভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন রাজধানীর কলাবাগানের বাসিন্দা ফারুক আহমেদ (ছদ্মনাম)। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই বাবা জানান, তাঁর দুই ছেলে, দুই মেয়ে। ছেলেরা সুপ্রতিষ্ঠিত। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। মেয়েদের একজন স্বল্প বেতনের চাকরি করেন। আরেকজন গৃহিনী।

এ অবস্থায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের কিছুটা বেশি সম্পদ দিতে চান এই বাবা। ভেবেছিলেন উইল করবেন। তবে এক ধরনের আশঙ্কাও ছিল। মেয়ের জামাইরা যদি পরে তাঁকে আর না দেখে! সময়ের সাথে সাথে মেয়েরাও যদি বদলে যায়!

বোনদের বেশি সম্পদ দিলে, ভাইরাও যদি নাখোশ হয়ে মা–বাবাকে না দেখে! সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাসের খবরে এতসব দুশ্চিন্তার অনেকটাই কমেছে।

এখন এই বাবা ভাবছেন, মেয়েদের কিছু বেশি সম্পত্তি তিনি দান হিসেবে দিতে পারবেন। আবার জীবদ্দশায় তাঁর ভোগেরও অধিকার থাকবে। ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা কমবে। এটি তাঁর কাছে অনেক গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে।

এই বিষয় নিয়ে কথা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীনের সঙ্গে। তিনি বললেন, মা–বাবা চাইলে ছেলে মেয়েকে সম্পত্তি লিখে দিতে পারেন। তবে উদ্বেগের বিষয়টা হলো, সন্তান ভবিষ্যতে তাঁর ভরণপোষণ করবে কি না।

মায়ের শঙ্কা সত্যি হলো

এবার বলি, এক মায়ের শঙ্কা ও তাঁর মেয়ের বঞ্চনার কথা। কেউই নামপ্রকাশে রাজি হননি। ঘটনাটি বেশ কয়েক বছর আগের। রংপুরে এক ব্যক্তির দুই স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর ছেলেসন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর একটিমাত্র মেয়ে।

ওই ব্যক্তি মৃত্যুর আগে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে কিছু সম্পত্তি দিয়ে যান। তাঁর ছেলেরা আপত্তি করেননি। তবে এই মায়ের আশঙ্কা ছিল, তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি মেয়ে ভোগ করতে পারবে কি না। তাঁর সেই আশঙ্কা সত্যিও হয়।

মৃত্যুর পর মেয়েটির মামারা সম্পত্তি দাবি করে বসলেন। মেয়েটি সম্পত্তির যে অংশটুকু প্রাপ্য ছিল তাও পেল না।

যদি সে সময় সম্পত্তি আইন পাস হতো তাহলে এই মা কী করতে পারতেন? তিনি তাঁর জীবদ্দশাতেই মেয়েকে সম্পত্তি দান করতে পারতেন। আবার ভোগও করতে পারতেন।

এই বিষয় নিয়ে কথা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীনের সঙ্গে। তিনি বললেন, মা–বাবা চাইলে ছেলে মেয়েকে সম্পত্তি লিখে দিতে পারেন।

তবে উদ্বেগের বিষয়টা হলো, সন্তান ভবিষ্যতে তাঁর ভরণপোষণ করবে কি না। ধরা যাক, কোনো মা মেয়েকে বাড়ি লিখে দিলেন।

পরে মেয়ে বা তাঁর পরিবার তাঁকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদও করতে পারে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন ধারায় সেই আশঙ্কা কম থাকছে।

মা–বাবা জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগ করতে পারছেন। তাঁদের নিরাপত্তা থাকছে। আবার সন্তানের উত্তরাধিকারও তাঁরা নিশ্চিত করতে পারছেন।

দুই প্রজন্মের হতাশা

শুরুতে রাজশাহীর যে নারীর কথা বলেছিলাম, সেই ঘটনারই ছাপ পাওয়া যায় ঢাকার মিরপুরের এক নারীর সঙ্গে আলাপে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে জানালেন দুই প্রজন্মের হতাশার গল্প।

২০০৩ সালে বাবাকে হারান তিনি। তিনবোন তাঁরা। তখন পড়াশোনা করছেন। বাবা হেবা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ করতে পারেননি।

দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে বাবার সম্পত্তি ভাগ হয়ে যাবে চাচা আর চাচাতো ভাইদের সঙ্গে। তবে চাচারা এই তিন বোনকে তাঁদের প্রাপ্য অংশটুকু দিতে নারাজ ছিলেন।

সেই অল্প বয়সে জমিজমা সংক্রান্ত আইন, দলিল তেমন কিছুই বুঝতেন না। ফলে নিজেদের অংশ পেতে নামজারি, রেজিস্ট্রি করতে এই আইনজীবী, সেই আইনজীবীর কাছে ঘুরেছেন।

এমনকি একটা সময়ে তাদের বাড়ি থেকে উৎখাতেরও চেষ্টা করেন চাচারা। শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় মিটিয়ে নেন এই তিন বোন। তবে সে জন্য নিজেদের প্রাপ্য অংশের অনেকটা ছেড়ে দিতে হয়।

একই ঘটনা ঘটেছে তাঁর মা–খালার সঙ্গে। নানা–নানি মারা যাওয়ার পর ভাইয়েরা বোনদের প্রাপ্য অংশ দিতে চাননি। পেতে হলে যেতে হবে আইনি ঝামেলায়। তাই তাঁরাও বেছে নিয়েছেন কিছুটা সমঝোতার পথ। যাতে আছে অনেকটা ছাড়।

মিরপুরের এই নারী জানালেন, নারীরা এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্মে সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। নিজের বা চাচাতো–মামাতো ভাইরা তাঁদের সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ দিতে চান না।

আবার স্বামীর বাড়িতেও সম্পত্তির ভাগ যথাযথ হয় না। জমি, আইন, সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে নারীদের পারিবারিকভাবেই কম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে তাঁদের এ নিয়ে জ্ঞানও কম থাকে। আর এই অজ্ঞানতাই তাঁদের দুর্বলতা হয়ে ওঠে।

তিনি মনে করেন, আইন পাসই যথেষ্ট নয়। সহিংসতা, নির্যাতনের ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য যেমন হেল্পলাইন ৯৯৯ আছে সে রকম কোনো একটা প্ল্যাটফর্ম থাকা দরকার সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে।

যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত নারীরা তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ পাবেন।

স্কুল, কলেজে এ বিষয়ে পড়ানো যেতে পারে বলে মনে করেন এই নারী। শিক্ষিত ও চাকরিজীবী নারীরাই যখন এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তখন নিম্নবিত্তদের পরিস্থিতি কী তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সম্পত্তির কিছুই পাননি এই গৃহকর্মী

ঢাকার এক গৃহকর্মী রহিমারা (ছদ্মনাম) চার বোন। থাকেন পশ্চিম রাজাবাজারে। জানতে চাইলাম, বাবার সম্পত্তি পেয়েছেন কি না। উত্তর যা এল তাতে বোঝা যায়, আর অধিকার কি, ওসব তো চাচারা খেয়ে নিয়েছে।

আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে কি না জানতে চাইলে রহিমা বলেন, ‘কোর্ট কাচারিতে টেহা লাগে ম্যালা’। রহিমা তাই চেষ্টা করেন নিজে কাজ করে ভালো থাকার। তাঁরও তিন মেয়ে। তাঁদের সম্পতি পাওয়ার কী হবে তা জানেন না রহিমা। আপাতত তাঁদের ভালো বিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় আছেন।

কী সহজ হলো

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন ধারা নারীদের ক্ষেত্রে কী ধরনের সুবিধা দিতে পারে তা নিয়ে কথা বললেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান মামুন। তিনি বলেন, ধরা যাক কারও দুই মেয়ে।

আইনের এই নতুন ধারায় তিনি যেকোনো সময় পুরো সম্পত্তি তাঁর দুই মেয়েকে দান করে দিতে পারবেন। আবার সেই সম্পত্তির মধ্যে যদি পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জমি থাকে তাহলে তা ভোগও করতে পারবেন আমৃত্যু।

উইল করতে হলে তিনি দিতে পারতেন তিন ভাগের এক ভাগ। আর হেবা করলে সঙ্গে সঙ্গেই সেটি দানগ্রহীতার কাছে চলে যেত। এই আইন মেয়েদের প্রাপ্য সম্পত্তি দেওয়ার ক্ষেত্র সহজ করল।

আইনের শিক্ষক মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, কেউ যদি চান ছেলেকে না দিয়ে, তিনি মেয়েকে বেশি সম্পত্তি দেবেন সেটিও সহজ হচ্ছে আইনের এই ধারায়। এতে পারিবারিক জটিলতাও কমবে বলে তিনি মানে করেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামে দেখেছেন কেউ যদি ছেলেকে কম দিয়ে মেয়েকে বেশি সম্পত্তি দেন তাহলে ছেলে আর মা–বাবার ভরণপোষণ করে না। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ারও ঘটনা ঘটে।

এ ক্ষেত্রে যেহেতু মা–বাবা জীবদ্দশায় সম্পদ ভোগ করতে পারছেন তাহলে পারিবারিক মামলা, ঝামেলাও কমবে। হেবা যেহেতু সুরক্ষিত থাকছে তাই সংশোধিত আইন মুসলিম পারিবারিক আইনে কোনো সমস্যা হবে বলে তিনি মনে করেন না।

  • শুভা জিনিয়া চৌধুরী সাংবাদিক
    ই–মেইল: shuva.chowdhury@prothomalo.com

    মতামত লেখকের নিজস্ব

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সচিবদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ
অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সচিবদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ

বিদ্যুতের চলমান সংকট মোকাবিলা এবং সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সচিবদের। পাশাপাশি কাজের দক্ষতা বাড়ানো, প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৪টায় সচিব সভা শুরু হয়। সভা শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সভায় ৬১ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সচিবদের এ বৈঠকটি মূলত অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে তাগিদ দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। কীভাবে কাজের দক্ষতা আরও বাড়ানো যায়, কোন কাজ কীভাবে করতে হবে, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো নিয়ে দপ্তরে সাধারণত কাঠামোবদ্ধভাবে আলোচনা হয়। তবে এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুতের চলমান সমস্যা এবং পরদিন কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, কীভাবে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা যায়, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া।’ অগ্রাধিকার প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রত্যেকের নিজ নিজ জেলার জন্য যে দায়িত্ব রয়েছে, সেসব বিষয়ে তাদের মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কী সমস্যা হচ্ছে, জনগণের সঙ্গে কথা বলে সেসব সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং সংস্কারের উপাদানগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে কাজ করে পরবর্তী সময়ে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে সবাই মিলে কাজের মান আরও উন্নত করতে পারে। সভা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারি অফিসগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিষয়েও সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬–২০৩০) নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এ ছাড়া সরকারের চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল, জনকল্যাণমুখী ও কার্যকর করার বিষয়টি সভার আলোচ্যসূচিতে ছিল। জনগণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বিষয়ে সিনিয়র সচিব ও সচিবদের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাব পর্যালোচনা এবং বিবিধ বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাস পর প্রথমবারের মতো সচিবদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ২১০ দিন পর প্রথম সচিব সভা অনুষ্ঠিত হলো। সচিব সভাকে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আরএমএম/কেএইচকে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইমরান খানের জন্য সরব বিশ্ব ক্রিকেট: আবেদন অস্ট্রেলিয়ার ৭ কিংবদন্তির

ইমরান খানের জন্য সরব বিশ্ব ক্রিকেট: আবেদন অস্ট্রেলিয়ার ৭ কিংবদন্তির

পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি অভিবাদন জানানোর জেরে বিতর্ক, নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি

পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি অভিবাদন জানানোর জেরে বিতর্ক, নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি

পুলিশের আট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

পুলিশের আট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

চুরির অপবাদে পিঠের ওপর ইটের ভার, মারাই গেলেন যুবক
চুরির অপবাদে পিঠের ওপর ইটের ভার, মারাই গেলেন যুবক

  কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বেদম প্রহার করা হয়েছে। পরে তার পিঠে ইটের ভার দিয়ে করা হয়েছে নির্মম নির্যাতন। একপর্যায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান ওই যুবক। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. ফয়সাল (২৬) বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে। ওই যুবককে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রিফাত মুহাম্মদ ত্বকি নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহেশখালী থানার ওসি আবদুস সোবহান। আরও পড়ুন বোরকা পরে চুরির অভিযোগ, ধরে ফেলে যুবককে রাতভর নির্যাতন স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে ফয়সালকে আটক করেন পূর্ব ফকিরাঘোনার কেফায়ত উল্লাহ। তার বাড়িতে ফয়সাল চুরি করতে ঢুকেছিলেন বলে এলাকার লোকজনকে জানান কেফায়েত। পরে সকালে রাস্তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তার পিঠের ওপর রাখা হয় কয়েকটি ইট। মুমূর্ষু হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে এলাকার অন্যরা ফয়সালকে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলী আকবরের দাবি, ফয়সাল একজন পেশাদার চোর। তার নেতৃত্বে এলাকায় প্রায় চুরি হচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোরের চুরি করতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন। পরে গণপিটুনিতে মারা যান। তবে চুরির দায়ে এভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা মোটেও উচিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফয়সালের বাবা বাদশাহ মিয়ার দাবি, তার ছেলে দিনমজুর। কোনো কারণ ছাড়াই চোর বলে সন্দেহ করে ছেলেকে প্রকাশ্যে বেঁধে পিঠের ওপর ইট দিয়ে হত্যা করেছে। তিনি এ জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায় পুলিশ। মরদেহের সুরতহাল তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মহেশখালী থানার ওসি আবদুস সুলতান বলেন, ফয়সালকে নির্মম নির্যাতন চালানোর কিছু ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিও ফুটেজগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ওসি আরও জানান, যে বাড়িতে চুরি করতে গেছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে এবং যারা আটক করে নির্যাতন করেছেন, ওই বাড়িরই একজন রিফাত মুহাম্মদ ত্বকিকে আটক করা হয়েছে। ফয়সালের মরদেহ রাতে এলাকায় এলে দাফন করার কথা জেনেছি। পরিবারের লোকজন লিখিত দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সায়ীদ আলমগীর/এসআর

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: অধ্যাপক পদে ২৩ জনের পদোন্নতি, একজনের না হওয়ায় প্রশ্ন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: অধ্যাপক পদে ২৩ জনের পদোন্নতি, একজনের না হওয়ায় প্রশ্ন

ডাকসুর প্রবেশপথের মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি ও অন্যান্য খবর

ডাকসুর প্রবেশপথের মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি ও অন্যান্য খবর

রেনশর সেঞ্চুরি পর এলিসের পাঁচ উইকেট- জিম্বাবুয়েকে হারালো অস্ট্রেলিয়া

রেনশর সেঞ্চুরি পর এলিসের পাঁচ উইকেট- জিম্বাবুয়েকে হারালো অস্ট্রেলিয়া

0 Comments