শেকড়কে ঠিক রেখে ফিউশন করা খাবারের আবেদন এখন বিশ্বজোড়া। সেই মূলমন্ত্র মেনেই দেশি তালে বিদেশি সিম্ফনি তৈরি করেছেন সেলিনা শিল্পী ফাইন ডাইনিং লুকে ডিকন্সট্রাক্টেড তালের পিঠা বানিয়ে। ছবিগুলোও তাঁর তোলা।

তালের রস ৪ কাপ
নারকেল কোরা ২ কাপ
চিনি ৪ -৫ টেবিল চামচ বা স্বাদ মতো
চাল ২ কাপ
গুঁড়া দুধ ১ কাপ
তরল দুধ ১ কেজি
লবণ সামান্য
বড় লেবু একটা
মাখন ১০০ গ্রাম
আগার আগার পাউডার এক চা-চামচ
প্রণালি

তালের রসে পরিমান মত চিনি যোগ করে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। চাল ধুয়ে সামান্য লবণ মিশিয়ে ভেজে নিয়ে পাটায় বা ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে নিন। লেবুর রস দিয়ে তরল দুধের সঙ্গে অর্ধেক গুঁড়া দুধ মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ছানা করে নিন।
এবার ভাজা চালের গুঁড়া, নারিকেল,গুঁড়া দুধ, সামান্য তরল দুধ ও মাখন গলিয়ে তারপর মিশিয়ে ভালোভাবে মথে নিন।

এবার টার্টের মোল্ডে চেপে চেপে সেট করে ফ্রিজে রেখে দিন ঘন্টা খানিক। এবার ছানায় সামান্য চিনি মিশিয়ে মথে নিয়ে টার্টের ওপর বিছিয়ে দিন।
এরপর সবার শেষে তালের রসে আগার আগার পাউডার মিশিয়ে জ্বাল করুন মিনিট খানিক। নামিয়ে টার্টের ওপর ঢেলে দিন।


আবার ফ্রিজে রাখুন। সেট হলে নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন গ্রাম-বাংলার আমেজে ফাইন ডাইনিং স্টাইল ডিকন্সট্রাক্টেড তালের পিঠা, কিন্তু নতুন বিদেশি সাজে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শেষ হলো বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব। ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক বা ইউএপি ক্যাম্পাস দুদিনের এই অলিম্পিয়াড সম্পন্ন হয়। এর শিরোনাম ছিল আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ ওপেন ২০২৬। চলতি বছর রোবট অলিম্পিয়াডের মূল থিম ছিল কালচারাল হেরিটেজ সার্ভিস রোবট।এবারের অলিম্পিয়াডের নিবন্ধন শুরু হয়েছিল গত ১ থেকে। চলে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত। এ সময় শিক্ষার্থীদের রোবোটিকসে দক্ষ করে তুলতে দেশের ৮টি বিভাগে আয়োজন করা হয় ১২টি বিশেষ রোবোটিকস কর্মশালা। বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের হাত ধরে এসব কর্মশালায় প্রশিক্ষণ নেয় প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী।গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় অনলাইন বাছাই পর্ব। সেখান থেকে প্রতিযোগীরা ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার জাতীয় পর্বে অংশ নেয়। প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয় ক্রিয়েটিভ ও ফিজিক্যাল কম্পিউটিং ক্যাটাগরির প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় দিন ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় মিশন চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় একটি রোবটিকস কুইজ প্রতিযোগিতা।২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের বাংলাদেশ দল ঘোষণাদ্বিতীয়দিন বিকেল ৪টায় শুরু হয় বর্ণাঢ্য সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহমেদ ভূঁইয়া, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. সাদিয়া শারমিন এবং উলকাসেমির অ্যানালগ লেআউট ডিজাইন ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর মুন সাদিয়া দিপ্তী। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান এবং আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক লাফিফা জামাল।প্রধান অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আয়োজকরা এত বছর ধরে অসাধারণ কাজ করছে এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামী দিনগুলোতে আমরা আইসিটি ডিভিশন থেকে সারাদেশে এটি ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কাজ করব।’এ অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্বে ফিজিক্যাল কম্পিউটিং ক্যাটাগরিতে সিনিয়র গ্রুপে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে ওয়াইডাব্লিউসিএ উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসাইবা তাজরিন তানিশা। রোবটিকস কুইজ ক্যাটাগরিতে জুনিয়র গ্রুপে স্বর্ণপদক পেয়েছে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুহতাদী মাহরুস ওয়াহীদ এবং সিনিয়র গ্রুপে স্বর্ণপদক পেয়েছে সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মো. মাহিদ জামান।শেষ হলো বুয়েটের দুই মাসব্যাপী আয়োজন ইলেক্ট্রোসার্জএছাড়াও প্রতি ক্যাটাগরিতে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদকসহ মোট ২০ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে কারিগরি পদক।রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্বের এই বিজয়ীদের নিয়ে এরপর আয়োজিত হবে দল নির্বাচনী ক্যাম্প। ওই ক্যাম্পে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে গঠিত হবে বাংলাদেশের জাতীয় দল। তারা আগামী জানুয়ারিতে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আয়োজিত ২৮তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।আইআরও বাংলাদেশ ওপেন ২০২৬ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক। এই আয়োজনে গোল্ড স্পনসর হিসেবে আছে উলকাসেমি, সিলভার স্পনসর ক্রিয়েটিভ আইটি এবং ব্রোঞ্জ স্পনসর হিসেবে আছে আরএইচ করপোরেশন, টেক্সকো টেক, মিলেনিয়াম অর্গানিকস ও ইনোভেটিভ প্রোডাক্ট নেটওয়ার্ক কো. লিমিটেড। বাংলাদেশ দলের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় থাকছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তর। পার্টনার হিসেবে রয়েছে প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ক্লাউড নাম্বার ২৪। আয়োজনে ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে রয়েছে কিশোর আলো এবং বিজ্ঞানবিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তা।আইআরও সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: bdro.orgশিগগিরিই শুরু হচ্ছে ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের নিবন্ধন
‘লুটপাট করেছে ওরা (নাহিদ-আসিফরা), আর নাম দিয়েছে আমার। ইউনূস সরকারে গিয়ে ভুল করেছি।’ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের উপস্থাপনায় আয়োজিত একটি টক শোতে এমন মন্তব্য করেছেন—এমন দাবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, খালেদ মুহিউদ্দীনের টক শোতে আসিফ নজরুল এমন কোনো মন্তব্য করেননি। টক শোটির পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করেও দাবিটির পক্ষে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রচারিত দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ইউটিউবে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ চ্যানেলে ১০ সেপ্টেম্বর প্রচারিত টক শোটির ভিডিওটি পর্যালোচনা করা হয়। লিংক: এখানেটক শোতে ৫ আগস্টের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। তবে কোথাও আসিফ নজরুলকে ‘লুটপাট করেছে ওরা (নাহিদ-আসিফরা), আর নাম দিয়েছে আমার’ কিংবা ‘ইউনূস সরকারে গিয়ে ভুল করেছি’—এমন কোনো মন্তব্য করতে শোনা যায়নি।শুধু ওই অংশ নয়, পুরো ১ ঘণ্টা ১৬ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের টক শো পর্যালোচনা করে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বা ইউনূস সরকারকে নিয়ে প্রচারিত দাবির মতো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।ভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ভুয়া দাবি প্রচারিত ভিডিওটির উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে ‘News Time 240’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একই টক শোর ১০ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ পাওয়া যায়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্তে ভিডিওটি দেখা হয়েছে ২৫ লাখ বার। প্রতিক্রিয়া পড়েছে ৮৫ হাজারের অধিক, মন্তব্য পড়েছে ৬ হাজারের বেশি এবং ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে ১৭ হাজার বার।ভিডিওটির স্ক্রিনে লেখা রয়েছে, ‘লুটপাট করেছে ওরা নাম দিয়েছে আমার। ইউনূসের সরকারে গিয়ে ভুল করেছি। আসিফ নাহিদকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল আসিফ নজরুল।’ভিডিওটিতে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ফুটেজও যুক্ত করা হয়েছে। অথচ ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’-এর ওই টক শোর পুরো সময়ে অতিথি হিসেবে ছিলেন শুধু আসিফ নজরুল।একই পেজে আগেও ছড়ানো হয় ভুয়া দাবি ২৪ হাজার ফলোয়ার থাকা ‘News Time 240’ পেজটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপের সঙ্গে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর দাবি যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে। পেজটির তথ্য অনুযায়ী, ‘News Time 240’ নামে পেজটি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে তৈরি করা হয়। পরে পেজটির নাম পরিবর্তন করে ‘New Waz Protidin’ রাখা হয়। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পেজটি আবার ‘News Time 240’ নামে ফিরে আসে।
দক্ষিণী তারকা সুরিয়া ও অভিনেত্রী মামিথা বাইজু অভিনীত সিনেমা ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’ এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর এবার নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে সিনেমাটির। ওটিটিতে মুক্তির পরই ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন দর্শকরা। ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’ সিনেমায় সুরিয়া ও মামিথা বাইজুর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে সুরিয়ার অভিনয় এবং মামিথা বাইজুর পর্দায় উপস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন অনেকেই। সিনেমাটি দেখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন দর্শকদের অনেকে। তবে অভিনয়ের প্রশংসার পাশাপাশি সিনেমাটির স্ট্রিমিং কোয়ালিটি নিয়েও কথা বলেছেন দর্শকদের একাংশ। নেটফ্লিক্সে সিনেমাটি দেখার সময় ছবির ভিজ্যুয়াল মান নিয়ে কিছু দর্শক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে এইচডিআর ও ডলবি ভিশন সুবিধা না থাকায় হতাশা জানিয়েছেন তারা। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার পর ওটিটিতে একই ছবির তুলনামূলক কম মানের ভিজ্যুয়াল পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। ফলে সিনেমার অভিনয় ও গল্প নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া থাকলেও এর স্ট্রিমিং মান নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা। আরও পড়ুন কনসার্ট নিয়ে নতুন চমক দিলেন দিলজিৎ ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’ পরিচালনা করেছেন ভেঙ্কি আটলুরি। সিনেমাটিতে সুরিয়াকে সঞ্জয় বিশ্বনাথ চরিত্রে দেখা গেছে। তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন মামিথা বাইজু। এছাড়াও সিনেমাটিতে রয়েছেন রাধিকা সরথকুমার, রাবিনা ট্যান্ডন, নাসরসহ আরও অনেকে। পারিবারিক আবেগ, সম্পর্ক ও বিনোদনের গল্পে নির্মিত সিনেমাটি গত ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর এবার ওটিটিতে আসায় নতুন করে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে এসেছে ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’। আরও পড়ুন হেমা মালিনীর আগে যে পাকিস্তানি মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন ধর্মেন্দ্র ওটিটিতে মুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে সুরিয়া ও মামিথা বাইজুর অভিনয়। প্রযুক্তিগত কিছু অভিযোগ থাকলেও অভিনয়শিল্পীদের পারফরম্যান্স নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই বেশি দেখা যাচ্ছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া এমএমএফ