কোরআন যখন কোনো উপমা দেয়, তখন একটি পরিচিত দৃশ্যের আড়ালে মানুষের জন্য গভীর কোনো সত্যকে তুলে ধরে। কখনো একটি বৃক্ষের মাধ্যমে ভালো ও মন্দ কথার পরিণতি বোঝায়, কখনো পিঁপড়ার আচরণ দিয়ে সামাজিক দায়িত্বের শিক্ষা দেয়।
আবার মরীচিকা ও সমুদ্রের অন্ধকারের দৃশ্যের মাধ্যমে মানুষের আমল ও কুফরের ভয়াবহ পরিণতি চোখের সামনে তুলে ধরে। ইতিপূর্বে আমরা প্রাণপ্রকৃতির বেশ কিছু চমৎকার উপমা দেখেছি। এখানে আরও কয়েকটি উপমা উপস্থাপন করা হলো।
আল্লাহ-তাআলা বলেন, ‘আপনি কি লক্ষ্য করেন না আল্লাহ কীভাবে উপমা দিয়ে থাকেন? সৎবাক্যের তুলনা উৎকৃষ্ট গাছ, যার মূল সুদৃঢ় ও যার শাখা-প্রশাখা ওপরে বিস্তৃত, যা সব সময় তার রবের অনুমতিক্রমে তার ফলদান করে। আর আল্লাহ মানুষের জন্য উপমাসমূহ পেশ করে থাকেন, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে। আর মন্দ বাক্যের তুলনা এক মন্দ গাছ, যার মূল ভূপৃষ্ঠ হতে বিচ্ছিন্নকৃত, যার কোনো স্থায়িত্ব নেই।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত ২৪-২৬)
কেয়ামতের দিন পুনরুত্থানের পর সে দেখল—যেসব আমলের ওপর সে ভরসা করেছিল, তা তার কোনো কাজে আসছে না। তখন তার অবস্থা সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের মতোই হবে।
একটি বৃক্ষের দৃশ্যের মাধ্যমে কোরআন ভালো ও মন্দ বাক্যের প্রকৃতি কত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে! ভালো বাক্যকে এমন উৎকৃষ্ট বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যার শিকড় সুদৃঢ়, শাখা-প্রশাখা ঊর্ধ্বমুখী এবং যা নিয়মিত ফল দেয়।
অর্থাৎ সত্য ও কল্যাণের কথা গভীর ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলে তার প্রভাবও স্থায়ী ও ফলপ্রসূ হয়। বিপরীতে মন্দ বাক্য এমন গাছের মতো, যার শিকড় মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন; তাই তার কোনো স্থায়িত্ব নেই। কী অপূর্ব অলংকার! একটি দৃশ্যমান বৃক্ষের দৃঢ়তা ও পতনের চিত্র দিয়ে কোরআন অদৃশ্য কথার শক্তি ও দুর্বলতাকে চোখের সামনে এনে দিয়েছে।
‘যখন তারা পিপীলিকা–অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছাল, তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকাদল! তোমরা তোমাদের বাসায় প্রবেশ করো, নয়তো সুলাইমান এবং তাঁর বাহিনী তাদের অজ্ঞাতসারে তোমাদের পদতলে পিষে ফেলবে।’ (সুরা নামল, আয়াত ১৮)
এটি পবিত্র কোরআনের একটি চমৎকার উপমা। এই আয়াতে একটি ছোট পিঁপড়ার সতর্কবার্তার দৃশ্যের মাধ্যমে মানুষের মনে পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।
নবী সোলাইমান (আ.)-এর বাহিনী সামনে আসতে দেখে একটি পিঁপড়া নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে একা সরে যায়নি; বরং পুরো দলকে সতর্ক করে বলেছে, তোমরা নিজেদের বাসায় প্রবেশ করো।
অর্থাৎ বিপদ এলে শুধু নিজেকে বাঁচানো নয়, অন্যদের নিরাপদ রাখার চেষ্টাও করতে হবে। সমাজে বসবাসকারী মানুষের দায়িত্বও এমনই। প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা সমাজের অন্য মানুষের বিপদকে নিজের বিপদ মনে করে তাদের সতর্ক করা, সাহায্য করা এবং কল্যাণ কামনা করা সামাজিক দায়িত্বেরই অংশ।
মরীচিকার পেছনে ছুটে যাওয়া মানুষটি দুনিয়াতেই তার ভুল বুঝতে পারে; কিন্তু কাফের তার আমলের প্রকৃত পরিণতি এমন সময় বুঝবে, যখন আর ফিরে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না।
আল্লাহ-তাআলা বলেন, ‘আর যারা কুফরি করে তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকার মতো, পিপাসায় কাতর ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে থাকে, কিন্তু যখন সে সেটার কাছে উপস্থিত হয়, তখন দেখে সেটা কিছুই নয়। আর সে সেখানে আল্লাহকে পায়; অতঃপর তিনি তাকে তার হিসাব পূর্ণমাত্রায় দেন। আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।’ (সুরা নুর, আয়াত ৩৯)
এই আয়াতে কাফেরের আমলের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে । কল্পনা করুন, দুনিয়ায় একজন অনেক আমল করেছে, হয়তো মানুষের প্রশংসাও পেয়েছে, নিজের আমল নিয়ে তার গর্বও হতো, আর সে ভাবত—মৃত্যুর পর অবশ্যই সে এসব আমলের প্রতিদান পাবে।
কিন্তু কেয়ামতের দিন পুনরুত্থানের পর সে দেখল—যেসব আমলের ওপর সে ভরসা করেছিল, তা তার কোনো কাজে আসছে না। তখন তার অবস্থা সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের মতোই হবে, যে মরুভূমিতে পানির আশায় ছুটে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সেখানে কিছুই পেল না।
পার্থক্য হলো, মরীচিকার পেছনে ছুটে যাওয়া মানুষটি দুনিয়াতেই তার ভুল বুঝতে পারে; কিন্তু কাফের তার আমলের প্রকৃত পরিণতি এমন সময় বুঝবে, যখন আর ফিরে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না।
পবিত্র কোরআনের এই উপমা আমাদের সতর্ক করে দেয়—ইমানহীন আমল যত বড়ই মনে হোক, আখিরাতে তা মরীচিকার মতো ‘নাই’ হয়ে যাবে।
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘অথবা (ওদের আমলের উপমা) গভীর সমুদ্রতলের অন্ধকার সদৃশ, তরঙ্গের ওপর তরঙ্গ যাকে আচ্ছন্ন করে, যার ঊর্ধ্বদেশে ঘন মেঘ, এক অন্ধকারের ওপর আরেক অন্ধকার, কেউ নিজ হাত বার করলে তা প্রায় দেখতেই পায় না। আর আল্লাহ যাকে আলো দান করেন না, তার জন্য কোনো আলো নেই।’ (সুরা নুর, আয়াত ৪০)
সত্যকে অস্বীকার করার অন্ধকার, ভ্রষ্টতা ও শিরকি বিশ্বাসের অন্ধকার; এর সঙ্গে আছে নিজের প্রতিপালক ও পরকালের শাস্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার অন্ধকার।
আগের উপমায় কাফেরদের আমলের পরিণতি বোঝানো হয়েছিল; আর এই উপমায় দেখানো হয়েছে তাদের কুফরের অন্ধকারময় জীবন। একজন কাফের যেন সারা জীবন একের পর এক অন্ধকারের মধ্যে ডুবে থাকে।
কুফর ও অবিশ্বাসের অন্ধকার, সত্যকে অস্বীকার করার অন্ধকার, ভ্রষ্টতা ও শিরকি বিশ্বাসের অন্ধকার; এর সঙ্গে আছে নিজের প্রতিপালক ও পরকালের শাস্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার অন্ধকার। একের পর এক এসব অন্ধকার তাকে এমনভাবে ঘিরে ধরে যে তার সামনে হেদায়েতের পথ থাকলেও সে তা দেখতে পায় না।
যেমন গভীর অন্ধকারে মানুষ নিজের হাত সামনে মেলে ধরেও তা দেখতে পায় না, তেমনই কুফরের অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষ সত্য একেবারে সামনে থাকার পরও তা চিনতে পারে না।
মওলবি আশরাফ: আলেম, লেখক ও অনুবাদক
mawlawiashraf@gmail.com
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার বাসিন্দা কল্পনা খাতুন (৪৬)। তার স্বামী এনামুল হক ও ছেলে শফিউল ইসলামকে নিয়ে নিজের বসতঘরটিকেই বানিয়েছিলেন গাঁজা বেচাকেনার ‘খুচরা দোকান’। প্রতিদিন ভোর থেকেই সেখানে শুরু হতো গাঁজা বেচাকেনা। কেউ গাঁজা কিনে নিয়ে যেতেন, আবার কেউ আশপাশেই বসেই সেবন করতেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিলেন পাঁচগাছি চরপাড়া গ্রামের মানুষ। অবশেষে কল্পনা খাতুন ও তার ছেলে শফিউল ইসলামকে দুই কেজি ৭৫ গ্রাম গাজাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সোনামুখী এলাকার আব্দুর রাজ্জাক নামের আরও এক মাদক কারবারিকে ২১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের বাড়িতে হেফাজতে থাকা মাদক জব্দ করা হয়। কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক তিনজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। এম এ মালেক/এসআর/এএসএম
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক ডিআইটি মসজিদ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ও মহানগরীর পৃথক দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে হেফাজতভুক্ত ইসলামী দল, বিভিন্ন থানা থেকে নেওয়া তালিকা ও বড় মাদ্রাসাগুলো ও তাবলীগ জামাতের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। উভয় কমিটিতে কয়েকটি পদ খালি রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে পূর্ণ করে জানিয়ে দেওয়া হবে। জেলা কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে ডিআইটি রেলওয়ে কলোনী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়ালকে। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিরও নায়েবে আমীর। এর আগেও জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। সেই সঙ্গে আমলাপাড়া মাদরাসার মাওলানা আব্দুল কাদেরকে জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি, মাদানীনগর মাদরাসার মুফতি বশিরউল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। আরও পড়ুন পদ্মার তীরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ, ওড়নার সঙ্গে বাঁধা ছিল সিমেন্টের ব্লক একই সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খান (সোনারগাঁ), অর্থ সম্পাদক মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী এবং প্রচার সম্পাদক মুফতি শেখ শিব্বিরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে হেফাজতে ইসলামের মহানগর কমিটির সভাপতি হয়েছেন মুফতি জাকির হোসেন কাসেমী, অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে দেওভোগ মাদরাসার মাওলানা আব্দুর রহমানকে। এছাড়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি মামুনুর রশীদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ ইবনে আউয়াল। জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, আমরা প্রত্যেকেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। সেই সাথে ইসলামের বিপক্ষে যারা থাকবে তাদের দাঁত ভাঙ্গা জওয়াব দেয়ার জন্য হেফাজতে ইসলাম আছে এবং থাকবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত রাখার জন্য কাজ করে যাবো। এদিকে এই কমিটিতে বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের দল উল্লেখ করে পদ দেওয়া হলেও জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকে রাখা হয়নি। জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, আমাদের উলামায়ে দেওবন্দের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে জামায়াতে ইসলামকে আমরা ইসলামী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেইনি বিধায় হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে নিতে পারিনি। তারা যতদিন পর্যন্ত নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার না করবে আমরা তাদের ব্যাপারে সেভাবেই থাকবো। মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর
দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর নিয়ে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন ‘বার্তাসংক্ষেপ’। অল্প সময়ে দিনের বড় ঘটনা ও খবরের ভেতরের খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের এ বিশেষ আয়োজনে। সঠিক তথ্য আর দ্রুততম আপডেট নিয়ে প্রথম আলো আছে সব সময় আপনার সঙ্গে। থাকুন ভালোর সাথে, আলোর পথে...