
পানির গভীরতা ও জোয়ার-ভাটার হিসাব করে নৌকায় অবস্থানরত র্যাব সদস্যদের খোলের ভেতর থেকে হাত বাঁধা লোককে বের করে আনতে বলতেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। তাঁর নির্দেশে র্যাব সদস্যরা সেই ব্যক্তিকে হত্যার পর পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দিতেন। জিয়াউল আহসান এভাবেই মানুষ গলফ (হত্যার পর পানিতে ফেলে দিয়ে লাশ গুম) করতেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বৃহস্পতিবার জবানবন্দিতে মেজর (অব.) মো. সাব্বির রহমান ওসমানী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সাব্বির রহমান ১৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনাতে ডেপুটি এক্সাম কন্ট্রোলার হিসেবে কর্মরত আছেন।
জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান বলেন, তিনি ১৯৯৩ সালের ১৮ জুন ২৮তম বিএমএ লংকোর্সের সঙ্গে সাঁজোয়া কোরে কমিশন লাভ করেন। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে র্যাবে বদলি করা হয়। তখন তিনি মেজর ছিলেন। ২০০৯ সালের অক্টোবরে তিনি র্যাব-৮-এ বরিশালে উপ-অধিনায়ক হিসেবে যোগ দেন। তখন র্যাবের ডিজি ছিলেন হাসান মাহমুদ খন্দকার। এডিজি (অপস) ছিলেন কর্নেল মতিউর রহমান। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক ছিলেন লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান।
জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান বলেন, তাঁর রুটিন দায়িত্ব পালনকালে ২০১০ সালের জানুয়ারির দিকে একদিন রাত্রে অফিস চলাকালে লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান তাঁর সরকারি গাড়ি ও মাইক্রোবাস নিয়ে ব্যাটালিয়ন সদরে উপস্থিত হন। তিনি সরাসরি অধিনায়কের অফিসে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর অধিনায়ক তাঁকে ডেকে পাঠান। অধিনায়কের অফিসে উপস্থিত হলে জিয়াউল কুশল বিনিময় করে তাঁকে জানান, তিনি একটি কাজে বের হবেন। তাঁর অধিনায়ক ও তাঁকে জিয়াউলের সঙ্গে যেতে হবে। তখন কোনো অপারেশন দল প্রস্তুত করতে হবে কি না, জানতে চাইলে জিয়াউল বলেন প্রয়োজন নেই। এরপর তাঁরা জিয়াউলের গাড়িতে উঠে বসেন। জিয়াউলের গাড়ির পেছেন ঢাকা র্যাবের গোয়েন্দা শাখা থেকে আসা মাইক্রোবাসটিও অনুসরণ করতে থাকে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা গাড়ি চলার পর তাঁরা পাথরঘাটা চরদুয়ানী ঘাটে গিয়ে পৌঁছান। সেখানে আগে থেকেই র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা একটি ট্রলার প্রস্তুত করে রেখেছিলেন।
সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, প্রথমে ঢাকা থেকে আসা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা ট্রলারে ওঠেন। এ সময় একজন ব্যক্তিকে হাত বাঁধা এবং মাথায় কালো টুপি পরা অবস্থায় ট্রলারে ওঠানো হয়। তাঁকে ট্রলারের মাছ সংরক্ষণের খোলের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখা হয়। এরপর জিয়াউল, তাঁর অধিনায়ক ও তিনি ট্রলারের সুকানি যেখানে বসেন, সেখানে উঠে বসেন। জিয়াউল সুকানিকে চরদুয়ানী খাল থেকে বের হয়ে মোহনার দিকে যেতে বলেন। আনুমানিক তিন ঘণ্টা চলার পর জিয়াউল তাঁকে (সাব্বির) ট্রলারের গতি কমিয়ে পানির গভীরতা মাপতে বলেন। পানির গভীরতা ও জোয়ার-ভাটার হিসাব করে জিয়াউল নৌকায় থাকা র্যাব গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের খোলের ভেতর থেকে হাত বাঁধা লোকটিকে বের করে আনতে বলেন। লোকটিকে নৌকার বাইরে আনার সঙ্গে সঙ্গে র্যাবের গোয়েন্দা শাখার চারজন সদস্য তাঁকে ঘিরে ফেলেন। এরপর ওই ব্যক্তির গলা ও পা বরাবর দুটি সিমেন্ট ভর্তি বস্তা বাঁধা হয়। পরে তাঁকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয় এবং পেট কাটা হয়। এরপর সবকিছু ঠিক আছে বলে সিগন্যাল দিলে জিয়াউল সুকানিকে ট্রলারের ইঞ্জিনের শব্দ বৃদ্ধির জন্য আরপিএম বাড়িয়ে গতি কমিয়ে দিতে বলেন।
এ সময় জিয়াউল পুনরায় তাঁকে পানির গভীরতা মেপে বলতে বলেন উল্লেখ করে সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, এই পুরো ঘটনাটি ট্রলারের ডান পাশে সংঘটিত হচ্ছিল এবং তিনি ট্রলারের বাঁ পাশে অবস্থান করে জিয়াউলের নির্দেশে পানি মাপছিলেন। সর্বশেষ পানির গভীরতা মেপে জানানো হলে জিয়াউল ট্রলারের গতি কমিয়ে দিতে বলেন। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার ওই চারজন সদস্যকে গুলিবিদ্ধ দেহটি সিমেন্টভর্তি বস্তাসহ পানিতে ফেলে দিতে বলেন। র্যাব সদস্যরা জিয়াউলের আদেশ পালন করেন। এরপর তাঁরা ট্রলারের মুখ ঘুরিয়ে চরদুয়ানীর উদ্দেশে রওনা হন।
চরদুয়ানীতে এসে একইভাবে একটি জিপ ও একটি মাইক্রোবাসে করে বরিশালের উদ্দেশে রওনা করেন বলে উল্লেখ করেন সাব্বির রহমান ওসমানী। তিনি বলেন, ‘পথিমধ্যে পরিবেশটা অস্বাভাবিক রকমের নীরব ছিল। জিয়া স্যার পরিবেশটা স্বাভাবিক করার জন্য নিজে থেকেই বলে ওঠেন এরা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। এদের না থাকাই ভালো। এভাবেই এদের গলফ করতে হবে। এই প্রথম আমি এই ধরনের অভিযানকে গলফ অভিযান বলে জানলাম। এরপরও পরিবেশটা স্বাভাবিক না হওয়ায় জিয়া স্যার বলেন, “এত মন খারাপ কিংবা দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় এই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত আছেন”।’
সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, বরিশালে পৌঁছানোর পর অধিনায়ক ও তাঁকে ব্যাটালিয়ন সদরে নামিয়ে দিয়ে জিয়াউল তাঁর গন্তব্যে চলে যান। ব্যাটালিয়নে অধিনায়ককে কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করে তিনি জানতে চান, ‘স্যার এটা কী হলো, কেন হলো, আমরা কেন এর সঙ্গী হলাম?’ উত্তরে অধিনায়ক তাঁকে বলেন, ‘জিয়ার মুখ থেকে সবকিছুই শুনেছ, আমার এখানে কী করার ছিল। তবে আমি বিষয়টি নিয়ে সাধ্যমতো র্যাব হেডকোয়ার্টারে কথা বলব।’'
র্যাবে অবস্থানকালে তাঁর চাকরির ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের জন্য দরখাস্ত করেন উল্লেখ করে জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, ২০১৪ সালে তিনি এলপিআরে (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি) যান। র্যাবের দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর জানামতে, জিয়াউল ১৫ থেকে ২০ বার বরিশাল অঞ্চল ব্যবহার করে গলফ অপারেশন পরিচালনা করেছেন।
এই মামলার আসামি জিয়াউল আহসান কারাগারে আছেন। আজ জবানবন্দির সময় তিনি ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান পানির গভীরতা ও জোয়ার-ভাটার হিসাব করে নৌকায় অবস্থানরত র্যাব সদস্যদের খোলের ভেতর থেকে হাত বাঁধা লোককে বের করে আনতে বলতেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। তাঁর নির্দেশে র্যাব সদস্যরা সেই ব্যক্তিকে হত্যার পর পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দিতেন। জিয়াউল আহসান এভাবেই মানুষ গলফ (হত্যার পর পানিতে ফেলে দিয়ে লাশ গুম) করতেন।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বৃহস্পতিবার জবানবন্দিতে মেজর (অব.) মো. সাব্বির রহমান ওসমানী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সাব্বির রহমান ১৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনাতে ডেপুটি এক্সাম কন্ট্রোলার হিসেবে কর্মরত আছেন।জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান বলেন, তিনি ১৯৯৩ সালের ১৮ জুন ২৮তম বিএমএ লংকোর্সের সঙ্গে সাঁজোয়া কোরে কমিশন লাভ করেন। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে র্যাবে বদলি করা হয়। তখন তিনি মেজর ছিলেন। ২০০৯ সালের অক্টোবরে তিনি র্যাব-৮-এ বরিশালে উপ-অধিনায়ক হিসেবে যোগ দেন। তখন র্যাবের ডিজি ছিলেন হাসান মাহমুদ খন্দকার। এডিজি (অপস) ছিলেন কর্নেল মতিউর রহমান। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক ছিলেন লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান।জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান বলেন, তাঁর রুটিন দায়িত্ব পালনকালে ২০১০ সালের জানুয়ারির দিকে একদিন রাত্রে অফিস চলাকালে লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান তাঁর সরকারি গাড়ি ও মাইক্রোবাস নিয়ে ব্যাটালিয়ন সদরে উপস্থিত হন। তিনি সরাসরি অধিনায়কের অফিসে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর অধিনায়ক তাঁকে ডেকে পাঠান। অধিনায়কের অফিসে উপস্থিত হলে জিয়াউল কুশল বিনিময় করে তাঁকে জানান, তিনি একটি কাজে বের হবেন। তাঁর অধিনায়ক ও তাঁকে জিয়াউলের সঙ্গে যেতে হবে। তখন কোনো অপারেশন দল প্রস্তুত করতে হবে কি না, জানতে চাইলে জিয়াউল বলেন প্রয়োজন নেই। এরপর তাঁরা জিয়াউলের গাড়িতে উঠে বসেন। জিয়াউলের গাড়ির পেছেন ঢাকা র্যাবের গোয়েন্দা শাখা থেকে আসা মাইক্রোবাসটিও অনুসরণ করতে থাকে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা গাড়ি চলার পর তাঁরা পাথরঘাটা চরদুয়ানী ঘাটে গিয়ে পৌঁছান। সেখানে আগে থেকেই র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা একটি ট্রলার প্রস্তুত করে রেখেছিলেন।সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, প্রথমে ঢাকা থেকে আসা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা ট্রলারে ওঠেন। এ সময় একজন ব্যক্তিকে হাত বাঁধা এবং মাথায় কালো টুপি পরা অবস্থায় ট্রলারে ওঠানো হয়। তাঁকে ট্রলারের মাছ সংরক্ষণের খোলের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখা হয়। এরপর জিয়াউল, তাঁর অধিনায়ক ও তিনি ট্রলারের সুকানি যেখানে বসেন, সেখানে উঠে বসেন। জিয়াউল সুকানিকে চরদুয়ানী খাল থেকে বের হয়ে মোহনার দিকে যেতে বলেন। আনুমানিক তিন ঘণ্টা চলার পর জিয়াউল তাঁকে (সাব্বির) ট্রলারের গতি কমিয়ে পানির গভীরতা মাপতে বলেন। পানির গভীরতা ও জোয়ার-ভাটার হিসাব করে জিয়াউল নৌকায় থাকা র্যাব গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের খোলের ভেতর থেকে হাত বাঁধা লোকটিকে বের করে আনতে বলেন। লোকটিকে নৌকার বাইরে আনার সঙ্গে সঙ্গে র্যাবের গোয়েন্দা শাখার চারজন সদস্য তাঁকে ঘিরে ফেলেন। এরপর ওই ব্যক্তির গলা ও পা বরাবর দুটি সিমেন্ট ভর্তি বস্তা বাঁধা হয়। পরে তাঁকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয় এবং পেট কাটা হয়। এরপর সবকিছু ঠিক আছে বলে সিগন্যাল দিলে জিয়াউল সুকানিকে ট্রলারের ইঞ্জিনের শব্দ বৃদ্ধির জন্য আরপিএম বাড়িয়ে গতি কমিয়ে দিতে বলেন।এ সময় জিয়াউল পুনরায় তাঁকে পানির গভীরতা মেপে বলতে বলেন উল্লেখ করে সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, এই পুরো ঘটনাটি ট্রলারের ডান পাশে সংঘটিত হচ্ছিল এবং তিনি ট্রলারের বাঁ পাশে অবস্থান করে জিয়াউলের নির্দেশে পানি মাপছিলেন। সর্বশেষ পানির গভীরতা মেপে জানানো হলে জিয়াউল ট্রলারের গতি কমিয়ে দিতে বলেন। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার ওই চারজন সদস্যকে গুলিবিদ্ধ দেহটি সিমেন্টভর্তি বস্তাসহ পানিতে ফেলে দিতে বলেন। র্যাব সদস্যরা জিয়াউলের আদেশ পালন করেন। এরপর তাঁরা ট্রলারের মুখ ঘুরিয়ে চরদুয়ানীর উদ্দেশে রওনা হন।চরদুয়ানীতে এসে একইভাবে একটি জিপ ও একটি মাইক্রোবাসে করে বরিশালের উদ্দেশে রওনা করেন বলে উল্লেখ করেন সাব্বির রহমান ওসমানী। তিনি বলেন, ‘পথিমধ্যে পরিবেশটা অস্বাভাবিক রকমের নীরব ছিল। জিয়া স্যার পরিবেশটা স্বাভাবিক করার জন্য নিজে থেকেই বলে ওঠেন এরা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। এদের না থাকাই ভালো। এভাবেই এদের গলফ করতে হবে। এই প্রথম আমি এই ধরনের অভিযানকে গলফ অভিযান বলে জানলাম। এরপরও পরিবেশটা স্বাভাবিক না হওয়ায় জিয়া স্যার বলেন, “এত মন খারাপ কিংবা দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় এই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত আছেন”।’সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, বরিশালে পৌঁছানোর পর অধিনায়ক ও তাঁকে ব্যাটালিয়ন সদরে নামিয়ে দিয়ে জিয়াউল তাঁর গন্তব্যে চলে যান। ব্যাটালিয়নে অধিনায়ককে কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করে তিনি জানতে চান, ‘স্যার এটা কী হলো, কেন হলো, আমরা কেন এর সঙ্গী হলাম?’ উত্তরে অধিনায়ক তাঁকে বলেন, ‘জিয়ার মুখ থেকে সবকিছুই শুনেছ, আমার এখানে কী করার ছিল। তবে আমি বিষয়টি নিয়ে সাধ্যমতো র্যাব হেডকোয়ার্টারে কথা বলব।’'র্যাবে অবস্থানকালে তাঁর চাকরির ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের জন্য দরখাস্ত করেন উল্লেখ করে জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, ২০১৪ সালে তিনি এলপিআরে (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি) যান। র্যাবের দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর জানামতে, জিয়াউল ১৫ থেকে ২০ বার বরিশাল অঞ্চল ব্যবহার করে গলফ অপারেশন পরিচালনা করেছেন।এই মামলার আসামি জিয়াউল আহসান কারাগারে আছেন। আজ জবানবন্দির সময় তিনি ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ারগান, দুই রাউন্ড কার্তুজ, চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) ও মো. আলামিন (২৯)। পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে প্রথমে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করেন পারভেজ। মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার জন্য করিমকে চাপ দেওয়া হলেও তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হন পারভেজ। পরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ তার সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে পারভেজসহ অন্যরা করিমকে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর প্রথমে চট্টগ্রাম নগরের চাঁদগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে শুক্কুর ও জাবেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে রাখা হয়েছে। পরে সোমবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে গ্রেফতার দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে ওই খামারে অভিযান চালায় ডিবি। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে খামারের ভেতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদরাশা এলাকা থেকে সেলিম ও আলামিনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় তৈরি লোহার এলজি, একটি এয়ারগান, ১২ বোরের দুই রাউন্ড সিসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলা রয়েছে। মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজসহ অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, সিডিএমএস ও থানা রেকর্ডপত্র যাচাই করে পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এমআরএএইচ/এসএনআর
চট্টগ্রাম নগরীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত অভিযানে ৫১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় ১২ হাজার ৪০৪ ইয়াবা, ৩৭৪ লিটার চোলাই মদ, ৫২ কেজি ৭৬৭ গ্রাম গাঁজা ও বিদেশি মদ-বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় মাদকসংক্রান্ত ৩৭টি মামলা করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ৫১৭ জনের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৮৪ জন, পূর্বের মামলায় ৬০ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৩৩ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় চারজন রয়েছেন। এছাড়া কার্যবিধির ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৩৭ জন, পরোয়ানামূলে ১১৯ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ২০৬ জনকে। তাদের মধ্যে নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৪৬ জন মাদক ব্যবসায়ী, তিনজন মাদক বহনকারী এবং ১৫৭ জন মাদকসেবী রয়েছেন। আরও পড়ুন মাদক শুধু জীবন নয়, পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রও ধ্বংস করে: এসপি মাসুদ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩১ হাজার ১০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, অভিযানে ১২ হাজার ৪০৪ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৭৪ লিটার চোলাই মদ, ৫২ কেজি ৭৬৭ গ্রাম গাঁজা, চার বোতল বিদেশি মদ ও ২৪ বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, জনস্বার্থে মাদকবিরোধী এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস