বিজ্ঞান কোনো অলৌকিক আদেশ বা স্থির পরম সত্য নয়। এটি প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভুল প্রমাণ ও স্ব-সংশোধনের মাধ্যমে এগিয়ে চলা এক গতিশীল যাত্রা। অথচ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশ্বমানের ভ্যাকসিন ও জিনোম এডিটিংয়ের এই চরম উৎকর্ষের যুগে এসে মানবজাতি এক অভাবনীয় বৈপরীত্যের মুখোমুখি—একদিকে বিজ্ঞানের ঐতিহাসিক সাফল্য, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি দিন দিন ঘনীভূত হতে থাকা বিশ্বাসের সংকট।
নেচার বিজ্ঞান সাময়িকীর সম্পাদকীয় ‘দ্য কমপ্লেক্স ট্রুথ অ্যাবাউট ট্রাস্ট ইন সায়েন্স’ এবং গবেষক এনচাংউই মুনুংয়ের পর্যবেক্ষণ এই সংকটটিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। মুনুং যথার্থই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, প্রাতিষ্ঠানিক অভিজাততন্ত্রের ‘হাতির দাঁতের মিনার’ থেকে বের হয়ে বিজ্ঞান তখনই সফল হয়, যখন বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের শঙ্কা শোনেন, গবেষণায় সমাজকে যুক্ত করেন এবং বিজ্ঞানের ভেতরের অনিশ্চয়তাগুলো নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। ভুল তথ্য ও ভুয়া সংবাদের সয়লাবে যখন সাধারণ মানুষের মন থেকে বিজ্ঞানের ভিত্তি টলে যাচ্ছে, তখন এই দূরত্বের কারণ অনুসন্ধান করা কেবল অ্যাকাডেমিক বিলাসিতা নয়, বরং সমাজ রক্ষার তাগিদেই জরুরি।
প্রশ্ন জাগে—বিজ্ঞানের প্রতি জন-আস্থা তৈরি হয় কীভাবে? বিজ্ঞানের সাফল্য কি কেবল ‘নিখুঁত ফলাফল’ উপস্থাপনের ওপর নির্ভর করে, নাকি অনুসন্ধান ও ভুল শুধরে নেওয়ার ‘স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার’ ওপর?
এই প্রবন্ধে আমি আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের প্রতি গণমানুষের আস্থার জটিল সমীকরণ ও সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেছি। একই সঙ্গে, প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব ও গোপনীয়তার প্রাচীর ভেঙে উন্মুক্ত বিজ্ঞান, নাগরিক বিজ্ঞান ও সহজ বিজ্ঞান-যোগাযোগের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে কীভাবে সাধারণ মানুষের বিশ্বস্ত ও স্বনির্ভর যৌথ সম্পদে রূপান্তর করা যায়—এখানে তারই এক সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রস্তাব করছি।
বাস্তবে বিজ্ঞানের প্রতি গণমানুষের আস্থা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নয়, বরং তা সততার মাধ্যমে অর্জনের বিষয়।
ঐতিহাসিকভাবে বৈজ্ঞানিক সমাজ প্রায়শই সাধারণ মানুষকে একটি জ্ঞান-ঘাটতি মডেলের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করে এসেছে। এই মডেল ধরে নেয় যে সাধারণ মানুষ বিজ্ঞান বোঝে না বলেই একে সন্দেহ করে; আর তাই কেবল একমুখী তথ্যের প্রবাহ চাপিয়ে দিলেই এই বিশ্বাসের সংকট দূর হয়ে যাবে। কিন্তু আধুনিক সমাজবিজ্ঞান ও বিজ্ঞান-যোগাযোগ প্রমাণ করেছে যে, এই ধারণা কেবল ভ্রান্তই নয়, বরং অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিজ্ঞান কোনো অলৌকিক আদেশ বা পরম ঐশ্বরিক বাণী নয় যে মানুষ তা চোখ বন্ধ করে মেনে নেবে।
বাস্তবে বিজ্ঞানের প্রতি গণমানুষের আস্থা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নয়, বরং তা সততার মাধ্যমে অর্জনের বিষয়। এই আস্থা মূলত গড়ে ওঠে তিনটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর—গবেষণার প্রক্রিয়া ও অর্থায়নের উৎস প্রকাশে শতভাগ স্বচ্ছতা, বিজ্ঞানের নিজস্ব সীমাবদ্ধতা ও অনিশ্চয়তাকে নির্দ্বিধায় স্বীকার করার বিনয় এবং সাধারণ মানুষকে কেবল নিষ্ক্রিয় সুবিধাভোগী না ভেবে গবেষণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার জনসম্পৃক্ততা। বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন নিজেদের ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে বলে দাবি করে, কিংবা এলিট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতর আবদ্ধ থেকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আবেগ, সংস্কৃতি বা শঙ্কাকে অবিজ্ঞান বলে উড়িয়ে দেয়, তখনই সমাজ থেকে বিজ্ঞানের দূরত্ব তৈরি হয়। এই প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্ছিন্নতাই মূলত সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের বীজ বুনে দেয় এবং ভুয়া তথ্য ও বিজ্ঞানবিরোধী মনোভাব বিস্তারে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
গবেষক এনচাংউই মুনুং উল্লেখ করেছেন যে, গবেষণার প্রতিটি ধাপে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে তাত্ত্বিক আলোচনা হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নগণ্য।
বিজ্ঞানচর্চা যখন কেবল নির্দিষ্ট গবেষণাগার, দামি জার্নাল এবং অ্যাকাডেমিক শব্দজালের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে। এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিজাততন্ত্র বা এলিটিজম বিজ্ঞানের প্রধান শত্রু।
গবেষক এনচাংউই মুনুং উল্লেখ করেছেন যে, গবেষণার প্রতিটি ধাপে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে তাত্ত্বিক আলোচনা হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নগণ্য। যখন সাধারণ মানুষ বা স্থানীয় সম্প্রদায় বুঝতে পারে না যে একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার তাদের জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, কিংবা যখন তাদের মতামতকে আমলে নেওয়া হয় না, তখন বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
উদাহরণস্বরূপ, কৃষি বায়োটেকনোলজি বা জিনোম এডিটিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তির কথাই ধরা যাক। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনে বিপ্লব ঘটাতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ না পর্যন্ত কৃষকদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, স্থানীয় জ্ঞান এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক শঙ্কাগুলোকে গবেষণার পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রযুক্তি নিয়ে সংশয় থেকে যাবে। বিজ্ঞানকে অবশ্যই তার হাতির দাঁতের মিনার থেকে নেমে এসে সমাজের মাটির সাথে মিশতে হবে।
কোনো আবিষ্কারের কতটুকু আমরা নিশ্চিতভাবে জানি এবং কতটুকু এখনো অজানা, তা স্পষ্ট করে বলাটাই হলো প্রকৃত সততা, যা দীর্ঘমেয়াদে জন-আস্থা অর্জন করে।
জন-আস্থা হারানোর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হলো, বিজ্ঞান-যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়। রাজনীতি বা ধর্ম যেখানে প্রায়শই পরম ও চূড়ান্ত সত্যের দাবি করে, বিজ্ঞান সেখানে ভিন্ন। বিজ্ঞান বলে, ‘আমাদের বর্তমান প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এটিই সেরা সিদ্ধান্ত; তবে নতুন তথ্য এলে সিদ্ধান্ত পরিমার্জিত হতে পারে।’
সাধারণ মানুষ প্রায়ই এই পরিবর্তনশীলতাকে বিজ্ঞানের ব্যর্থতা বা দ্বিধা হিসেবে ভুল বোঝে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় আমরা দেখেছি, মাস্ক পরা বা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে সময়ের সাথে সাথে বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা পরিবর্তিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা যখন নতুন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি পরিবর্তন করেছেন, সাধারণ মানুষের একাংশ তখন ভেবেছে বিজ্ঞানীদের নিজেদেরই কোনো ঠিকঠিকানা নেই।
এখানেই বিজ্ঞানের বস্তুনিষ্ঠতার মূল বার্তাটি পৌঁছাতে ব্যর্থতা দেখা যায়। এ পি জয়রামনের মতো বিজ্ঞান-যোগাযোগকারীরা যেমনটি উল্লেখ করেছেন, বিজ্ঞানের প্রতি আস্থা বিজ্ঞানের ফলাফলের অবিনশ্বরতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; বরং তা দাঁড়িয়ে থাকে এর পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক, স্বচ্ছ এবং স্ব-সংশোধনকারী প্রক্রিয়ার ওপর।
অনিশ্চয়তা বিজ্ঞানের ত্রুটি নয়। এটিই বিজ্ঞানের অগ্রগতির চালিকাশক্তি। বিজ্ঞান যদি সব উত্তর একবারে দিয়ে দিতে পারত, তবে নতুন অনুসন্ধানের কোনো প্রয়োজন থাকত না। বিজ্ঞানীদের উচিত সাধারণ মানুষের কাছে এই অনিশ্চয়তার গল্পটি সততার সাথে তুলে ধরা। কোনো আবিষ্কারের কতটুকু আমরা নিশ্চিতভাবে জানি এবং কতটুকু এখনো অজানা, তা স্পষ্ট করে বলাটাই হলো প্রকৃত সততা, যা দীর্ঘমেয়াদে জন-আস্থা অর্জন করে।
অনিশ্চয়তা বিজ্ঞানের ত্রুটি নয়। এটিই বিজ্ঞানের অগ্রগতির চালিকাশক্তি। বিজ্ঞান যদি সব উত্তর একবারে দিয়ে দিতে পারত, তবে নতুন অনুসন্ধানের কোনো প্রয়োজন থাকত না।
বিজ্ঞানের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে যখনই কোনো প্রাকৃতিক বা স্বাস্থ্যগত দুর্যোগ দেখা দিয়েছে, উন্মুক্ত বিজ্ঞান, উন্মুক্ত উপাত্ত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখিয়েছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে গমফসলে আকস্মিক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণের সময় আন্তর্জাতিক গবেষকেরা খোলাখুলি উপাত্ত শেয়ার করে জীবাণুর জিনোম বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং দ্রুত সমাধান এনেছিলেন। একইভাবে কোভিড-১৯ মহামারিতে বৈজ্ঞানিক তথ্যের অবাধ আদান-প্রদান বিশ্বজুড়ে দ্রুত প্রতিষেধক ও সমাধান উদ্ভাবনে সহায়ক হয়েছিল।
চিরাচরিতভাবে গবেষণা পেওয়ালের পেছনে বন্দি রাখা এবং উপাত্ত গোপন করার যে সংস্কৃতি ছিল, তা বিজ্ঞানকে করপোরেট বা শক্তিশালী দেশের স্বার্থের অনুগামী করে তুলেছিল। কিন্তু যখন গবেষণা ও তার উপাত্ত সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তখন আন্তর্জাতিক স্তরে দ্রুত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি গবেষণার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। ডেটা প্রকাশ্যে এলে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য গবেষকেরা তা পুনরায় পরীক্ষা করতে পারেন। ফলে ভুয়া গবেষণা বা ডেটা ম্যানিপুলেশনের সুযোগ কমে যায় এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বাড়ে। উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান কোনো একক সংস্থা বা দেশের সম্পত্তি নয়—এটি সমগ্র মানবজাতির যৌথ সম্পদ।
চিরাচরিতভাবে গবেষণা পেওয়ালের পেছনে বন্দি রাখা এবং উপাত্ত গোপন করার যে সংস্কৃতি ছিল, তা বিজ্ঞানকে করপোরেট বা শক্তিশালী দেশের স্বার্থের অনুগামী করে তুলেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বর্তমান যুগে আমরা এক অভূতপূর্ব ইনফোডেমিক বা তথ্য-মহামারির মুখোমুখি, যেখানে মানুষের ভয় ও আবেগকে পুঁজি করে সত্যের চেয়ে ভুয়া খবর বা চক্রান্ত-তত্ত্ব অনেক বেশি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই বৈরী পরিবেশে কেবল প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক প্রেস রিলিজ দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা অসম্ভব। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রথমত বিজ্ঞানীদের নিজেদের ভূমিকার পরিবর্তন আনতে হবে; জটিল বৈজ্ঞানিক শব্দজাল বা পরিভাষা এড়িয়ে সহজ রূপক ও রূপকল্পের মাধ্যমে বিজ্ঞানের প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে। একই সাথে সিটিজেন সায়েন্স বা নাগরিক বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে কৃষি ও গণস্বাস্থ্যের মতো ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও তরুণদের সরাসরি ডেটা সংগ্রহ ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে যুক্ত করতে হবে।
একজন কৃষক যখন উপলব্ধি করেন যে তাঁর দেওয়া মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতেই বিজ্ঞানীরা নতুন রোগপ্রতিরোধক জাত বা র্যাপিড ডায়াগনস্টিক কিট উদ্ভাবন করছেন, তখন বিজ্ঞানকে তিনি আর দূরের বিষয় মনে করেন না; বরং এতে তাঁর ও সমাজের গভীর মালিকানাবোধ ও আস্থার জন্ম হয়। বিজ্ঞান ও সমাজের সেতুবন্ধনে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর উচিত স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত ফেলোশিপ, সায়েন্স কমিউনিকেশন ওয়ার্কশপ এবং মিডিয়া-মিট-সায়েন্টিস্ট সংলাপের আয়োজন করা। এর মাধ্যমে সাংবাদিকেরা জিনোম এডিটিং, বায়োটেকনোলজি কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো জটিল বিষয়গুলোকে প্রাঞ্জল ভাষায় জনগণের সামনে তুলে ধরার দক্ষতা অর্জন করবেন, যা সমাজে ভুল তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
সিটিজেন সায়েন্স বা নাগরিক বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে কৃষি ও গণস্বাস্থ্যের মতো ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও তরুণদের সরাসরি ডেটা সংগ্রহ ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে যুক্ত করতে হবে।
বিজ্ঞান কখনো শূন্যে বাস করে না; এটি নীতিনির্ধারণ ও সমাজের নৈতিকতার সাথে গভীরভাবে যুক্ত। নীতিনির্ধারকেরা যখন বিজ্ঞানের নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান কিংবা বিজ্ঞানীরা যখন করপোরেট স্বার্থে গবেষণার সত্যকে বাঁকিয়ে উপস্থাপন করেন, তখন জন-আস্থায় সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে। এই প্রেক্ষাপটে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বৈজ্ঞানিক যোগাযোগের প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ মাত্রায় সততা ও স্বচ্ছ নৈতিক মানদণ্ড অক্ষুণ্ণ রাখা অপরিহার্য।
কেবল গবেষণায় স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা অর্থায়নের উৎস প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানহীন ও ভুয়া জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করার অপসংস্কৃতি থেকেও বিজ্ঞানীদের কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে। ডেটা ম্যানিপুলেশন, প্লেজারিজম বা নৈতিক অনিয়মের কারণে বর্তমানে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রত্যাহারের ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। বিজ্ঞান যখন রাজনীতি, কায়েমি স্বার্থ ও অ্যাকাডেমিক অনৈতিকতা থেকে মুক্ত থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপন করতে পারে এবং বিজ্ঞানীরা যখন ভুল হলে তা প্রকাশ্যে স্বীকার করার সাহস ও পেশাদার সততা দেখান, তখনই সাধারণ মানুষ বিজ্ঞানকে মানবকল্যাণের বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শক হিসেবে পুনর্মূল্যায়ন করে।
কেবল গবেষণায় স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা অর্থায়নের উৎস প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানহীন ও ভুয়া জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করার অপসংস্কৃতি থেকেও বিজ্ঞানীদের কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে।
বিজ্ঞানের প্রতি গণমানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা কোনো ক্ষণিকের প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকল্প। নেচার সাময়িকীর সম্পাদকীয় এবং গবেষক এনচাংউই মুনুংয়ের বার্তাটি এখানে অত্যন্ত স্পষ্ট—বিজ্ঞানকে যদি সমাজে তার কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হয়, তাহলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক হাতির দাঁতের মিনার ছেড়ে নম্র, উন্মুক্ত ও সমাজবান্ধব হতে হবে। সমাজের জন্য বিজ্ঞান—এই মূলনীতিকে সামনে রেখে কেবল উচ্চমানের পেওয়ালযুক্ত জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের সীমিত বৃত্তে আটকে না থেকে, সেই বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের বাস্তব সামাজিক প্রভাব ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করাই আজ সবচেয়ে বড় তাগিদ।
এই রূপান্তর অর্জনে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত, বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ও গবেষণার যোগাযোগের ক্ষেত্রে সততা, সর্বোচ্চ নৈতিক মানদণ্ড ও শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য মানসম্পন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা জরুরি। গবেষণাগারের গোপনীয়তা থেকে বিজ্ঞানকে বের করে উন্মুক্ত বিজ্ঞান ও নাগরিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে গণমানুষের বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করা সম্ভব হলে বিজ্ঞান আর দূরবর্তী কোনো এলিট সত্তা থাকবে না, বরং জনগণের স্বনির্ভর ও নির্ভরযোগ্য যৌথ সম্পদে পরিণত হবে। মূলত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার উন্মুক্ততা, সুসংহত নীতি-নৈতিকতা এবং গণমানুষের সাথে এই গভীর সামাজিক বন্ধনই ভবিষ্যতের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় বিজ্ঞানের ওপর মানুষের ভরসাকে চিরস্থায়ী করে রাখবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সরকার আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যে প্রশ্ন সামনে আসছে, তা হলো এত ব্যয়ের মেট্রোরেলে ভাড়া কত দাঁড়াবে? প্রকল্পগুলো থেকে যে আয় হবে, তা দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হবে তো? বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, যে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ। আগেই দেশ ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে। এই বোঝার ভার আরও বেড়ে গেল।
মৌলভীবাজারের স্টার অ্যাগ্রোর কারখানায় উৎপাদিত হচ্ছে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের গুঁড়া।দীর্ঘদিন ব্যাংকিং খাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থায়ন নিয়ে কাজ করেছেন সৈয়দ আমিনুল কবির। ছকে বাঁধা পেশাজীবন ছেড়ে ২০২০ সালে তিনি সরাসরি যুক্ত হন কৃষিশিল্পে। তাঁর মনে প্রশ্ন ছিল, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের কেন সঠিক মূল্য সংযোজন হবে না এবং প্রান্তিক কৃষক কেন তাঁদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন না? দেশীয় কৃষির সঙ্গে আধুনিক শিল্পের সংযোগ তৈরি এবং কৃষিপণ্যের মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই তিনি গড়ে তোলেন ‘স্টার অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ’।প্রথাগত মসলা থেকে শিল্পপণ্য আমাদের দেশের মানুষ সাধারণত রান্নাবান্নায় কাঁচা বা বাটা মসলায় অভ্যস্ত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে মানসম্মত কাঁচামালের এক বিশাল চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বড় খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে উৎপাদিত পণ্যের স্বাদ, সুগন্ধ ও মান সব সময় একই রাখা জরুরি। এই মান বজায় রাখতে হলে প্রয়োজন নির্দিষ্ট চাহিদার বিবরণমতো (স্পেসিফিকেশন) গুঁড়া বা পাউডার মসলা। এই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করেই স্টার অ্যাগ্রো শুরু করে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের গুঁড়া উৎপাদন। এসব গুঁড়া মসলা মাংসের মসলা, বিরিয়ানি মসলা, চানাচুর, চিপসসহ নানা খাবারে অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।২০২১ সালের শেষের দিকে বড় পরিসরে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের মতো কৃষিভিত্তিক কাঁচামাল বাতাসের আর্দ্রতা দ্রুত শুষে নেয় (হাইগ্রোস্কোপিক)। ফলে সঠিকভাবে শুকানো, আর্দ্রতা বজায় রাখা, পেষাই এবং সংরক্ষণের প্রতিটি ধাপে কঠোর মান বজায় রাখা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ধীরে ধীরে নিজস্ব প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করে তারা ক্রেতাদের চাহিদামতো নির্দিষ্ট মানের পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করে।কৃষকের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি ও কাঁচামালের ব্যবস্থা স্টার অ্যাগ্রোর উৎপাদনব্যবস্থার অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হলেন প্রান্তিক কৃষকেরা। ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ বা চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে আদা ও রসুনের চাষ ও ব্যবহার বাড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। কৃষকদের প্রক্রিয়াজাতকরণের উপযোগী করে ফসল ফলানো এবং সংগ্রহের কৌশল শেখানো হচ্ছে। এর ফলে কাঁচামালটি কোন কৃষকের জমি থেকে এসেছে, তা সহজেই নিশ্চিত হওয়া যায়, যা ‘ট্রেসিবিলিটি’ নামে পরিচিত।তবে সব কাঁচামাল দেশে পর্যাপ্ত পাওয়া যায় না। প্রক্রিয়াজাত খাবারের নির্দিষ্ট ফ্লেভার ঠিক রাখতে সাদা পেঁয়াজ প্রয়োজন হয়, যা আমাদের দেশে চাষ হয় না। তাই এই কাঁচামাল ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। পাশাপাশি ভোজ্যতেল ও প্রসাধনপণ্যের জন্য ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ভালো মানের নারকেলের কোপরা আমদানি করে তারা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল ও আরবিডি কোকোনাট অয়েল প্রস্তুত করছে।আজিনোমোটোর সঙ্গে সমঝোতার পথে পণ্যের গুণগত মানে আপস না করায় দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী এবং এফএমসিজি ব্র্যান্ডগুলোর কাছে এক নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে স্টার অ্যাগ্রো। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যের মাইক্রোবায়োলজিক্যাল মান, আর্দ্রতা, প্যাকেজিং ও পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে ভীষণ কড়াকড়ি বজায় রাখে। প্রতি ব্যাচে সমান গুণমান বজায় রেখে স্টার অ্যাগ্রো বিটুবি সরবরাহে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে।প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আমিনুল কবির প্রথম আলোকে জানান, করপোরেট ক্রেতাদের ব্যবসায়িক গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক তথ্য প্রকাশ করেন না। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বখ্যাত জাপানি বহুজাতিক খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আজিনোমোটো’র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আলোচনা এবং কারিগরি প্রস্তুতি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানের ফুডসেফটি, ট্রেসিবিলিটি ও ডকুমেন্টেশন–সংক্রান্ত কঠোর মানদণ্ড পূরণ করার মধ্য দিয়ে স্টার অ্যাগ্রোর উৎপাদনব্যবস্থা পুরোপুরি বিশ্বমানের হয়ে উঠছে।সৌরবিদ্যুতে সচল কারখানা আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনার আলো ছড়ালেও স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত নানা সংকটে ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। মৌলভীবাজার বিসিক শিল্পনগরীর জরাজীর্ণ সড়কব্যবস্থার কারণে বিদেশি ক্রেতারা কারখানা দেখে সন্তুষ্ট হলেও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার জন্য রপ্তানি আদেশ দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে দেশ প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ হারাচ্ছে।শিল্পনগরীতে গ্যাসের সংযোগ না থাকায় অতিরিক্ত খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা জ্বালানি খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। তার ওপর বিদ্যুতের ঘন ঘন বিভ্রাট উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে বিদ্যুতের এই সংকট কাটাতে নিজস্ব উদ্যোগে কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা (সোলার প্যানেল)। এর ফলে নিজেদের বিদ্যুতের বড় একটি অংশ নিজেরাই উৎপাদন করে কারখানা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। তা ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং লাইসেন্স নবায়নে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে।আমদানি বিকল্প তৈরি ও বিশ্ববাজার জয়ের পথরেখা আইএসও ২২০০০:২০১৮ এবং হালাল সনদ অর্জনের প্রক্রিয়ায় থাকা স্টার অ্যাগ্রো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত আদা ও রসুনকে কেবল কাঁচা বিক্রি না করে দেশেই প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চ মূল্য সংযোজিত গুঁড়া মসলায় রূপান্তর করা।এর ফলে একদিকে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হবে, অন্যদিকে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য তৈরি হবে স্থায়ী ও নিশ্চিত বিক্রয়কেন্দ্র। সব ধরনের প্রতিকূলতা সামলে দেশীয় কৃষিপণ্যকে বিশ্বের শিল্পচাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে স্টার অ্যাগ্রো।
৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগে (প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান) মৌখিক পরীক্ষা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হবে। সকাল ৯টা থেকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।সমাজসেবায় ১৪৮৫ পদে নিয়োগ: আবেদনকারী কত, পরীক্ষার তারিখ কবেমৌখিক পরীক্ষার প্রার্থীদের প্রতি নির্দেশনা— ১. এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রত্যেক প্রার্থীকে তাঁদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে।২. প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে।৩. শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ ও নম্বরপত্রের মূল কপি এবং প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত এক সেট ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হবে।১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল প্রকাশিত হয় ২২ এপ্রিল। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৪ হাজার ৯৪২ জন প্রার্থী।অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব*মৌখিক পরীক্ষার রুটিন দেখুন এখানে