২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়েছে। ক্লাস শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল। তবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ওই দিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পুনর্নির্ধারণ করা হলো। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ শিক্ষার্থী। আবেদন করেও আসন পায়নি ১৪ হাজার ৪১৫ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেও নির্বাচিত হয়নি। বুধবার রাতে প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
২৮ বছর বয়সী নাজমা আকতারের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার দক্ষিণ কাহারিয়াঘোনা এলাকার ছালাম মাস্টারপাড়ায়। জন্ম থেকেই তাঁর বাঁ হাত কনুই পর্যন্ত নেই। এ কারণে জন্মের পর থেকেই স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কটু কথা শুনতে হতো তাঁকে। তবে তিনি এসব উপেক্ষা করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত।জন্ম থেকেই বাঁ হাতের কনুই পর্যন্ত নেই নাজমা আকতারের। এলাকার মানুষ তাঁর মা-বাবাকে বলতেন, ‘ও তো প্রতিবন্ধী। ওকে দিয়ে কিছু হবে না। সারা জীবন ঘরে রেখেই খাওয়াতে হবে।’ তবে তিনি এমন কটু কথা শুনেও দমে যাননি। পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। এখন তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত।২৮ বছর বয়সী নাজমা আকতারের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার দক্ষিণ কাহারিয়াঘোনা এলাকার ছালাম মাস্টারপাড়ায়। তাঁর বাবা নাছির উদ্দিন বন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। আর মা নুর আয়েশা বেগম গৃহিণী। তিনি ২০১৩ সালে চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৫ সালে চকরিয়া কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি, ২০২০ সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতক ও ২০২১ সালে একই বিভাগে চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন।—নাজমা আকতার, বেসরকারি চাকরিজীবী‘প্রতিবন্ধিতা জয় করে আজ আমি নিজের এলাকায় ভালো বেতনে চাকরি করছি। ছোট থেকেই মানুষের অনেক কটু কথা শুনেছি। কষ্ট পেলেও আমি দমে যাইনি।’জানতে চাইলে নাজমা আকতার প্রথম আলোকে বলেন,‘প্রতিবন্ধিতা জয় করে আজ আমি নিজের এলাকায় ভালো বেতনে চাকরি করছি। ছোট থেকেই মানুষের অনেক কটু কথা শুনেছি। কষ্ট পেলেও আমি দমে যাইনি। এখন আর কেউ কটু কথা বলেন না। মূল কথা, একাগ্রতা নিয়ে পড়াশোনা করলে সমাজ জয় করা কোনো ব্যাপারই নয়।’কটু কথার শুরু শৈশব থেকেদুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট নাজমা। তাঁর সব ভাইবোন স্বাভাবিক। শুধু নাজমার জন্মগতভাবে বাঁ হাতের অর্ধেক নেই। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা শৈশব থেকেই তাঁর শারীরিক পার্থক্যটি নিয়ে আলোচনা করতেন।দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট নাজমা। তাঁর সব ভাইবোন স্বাভাবিক। শুধু নাজমার জন্মগতভাবে বাঁ হাতের অর্ধেক নেই। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা শৈশব থেকেই তাঁর শারীরিক পার্থক্যটি নিয়ে আলোচনা করতেন।নাজমা বলেন, ‘যখন আমার জন্ম হয়, তখনই বাঁ হাতের অর্ধেক নেই। একটু একটু করে বড় হতে থাকি। তখন সমাজ নানা কটু কথা শোনাত। একবার এলাকার এক নারী আমার মাকে বলেছিলেন “মেয়েটির একটি হাত নেই, বড় হয়ে কী হবে। বড় হলে বিয়ে হবে না, সারা জীবন তাঁকে পালতে হবে।”’তবে এসব শুনেও নাজমার মা–বাবা ভেঙে পড়েননি; বরং তাঁরা মেয়েকে পড়াশোনা করানোর সংকল্প দৃঢ় করেন। তবে এ পথটাও নাজমার জন্য সহজ ছিল না। স্বল্প আয়ের সংসারের চাপ কমাতে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকেই টিউশনি করাতেন নাজমা। এ ছাড়া তিনি স্নাতকে পড়ার সময় লজিংয়ে থেকেছেন। এর বাইরে উপবৃত্তি ও সরকার থেকে পাওয়া প্রতিবন্ধী ভাতা তিনি পড়াশোনায় ব্যয় করেছেন।২০২৩ সালে মিরাজ উদ্দিন নামের পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়। তাঁর চকরিয়া পৌরসভায় একটি শপিং মলে প্রসাধনীর দোকান রয়েছে। বর্তমানে তাঁদের সংসারে ১৪ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।নাজমা বলেন, ‘আমার শ্বশুর-শাশুড়ি খুবই ভালো মানুষ। তাঁদের সহযোগিতা আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। আমার স্বামী সব সময় আমাকে সাহস জুগিয়েছেন। তাঁর সাপোর্ট না থাকলে আমার পক্ষে এই দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হতো না।’নাজমা ‘সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফর দ্য ফিজিক্যালি ভালনারেবল’ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত। প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক পরিচালক কাজী মাকসুদুল হক বলেন, ‘কাজে দক্ষতায় নাজমা আকতার একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ, কারও মনে হবে না। তিনি একটি হাত নিয়েই নিজের কাজ সারেন, অফিস সামলান। এককথায়, তিনি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন।’
দৃষ্টিনন্দন নকশা খোদাই করতে স্থানীয় কারিগরদের দিনের পর দিন লাগত। সেই সনাতনী ধারা থেকে বেরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোগ ঘটাচ্ছে।মৌলভীবাজারের কাঠ ব্যবসার ইতিহাস কয়েক শ বছরের পুরোনো। ব্রিটিশ আমলে এই জনপদ ছিল কাঠের ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র। মনু নদের তীরে রাজস্ব স্টেশন বা টোলকেন্দ্রে হাতি দিয়ে টানা কিংবা স্রোতে ভাসিয়ে আনা কাঠের সেই সুদীর্ঘ ইতিহাসকে বুকে ধারণ করেই এই অঞ্চলে আসবাবশিল্পের গোড়াপত্তন। শতবর্ষী সেই ঐতিহ্যের শিকড় আঁকড়ে ধরে মৌলভীবাজারের কাঠশিল্পে যে প্রতিষ্ঠানটি এখনো সততা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছে, তার নাম ‘আলী ফার্নিচার’। মাত্র চারটি কাঠের চেয়ার বানানোর মধ্য দিয়ে যে ক্ষুদ্র উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছিল, ৩৬ বছরের ব্যবধানে তা এখন বৃহত্তর সিলেটের স্থানীয় আসবাবশিল্পে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।চারটি চেয়ার থেকে ৪০ কর্মীর বড় কর্মযজ্ঞপ্রায় ৩৬ বছর আগের কথা। বর্তমান ঠিকানার অদূরেই ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে উদ্যোক্তা জীবনের সূচনা করেছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মূল মালিক শাহ্ মোশাহিদ আলী। শুরুর মূলধন বলতে ছিল সততা, কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি। উসমান আলী স্বত্বাধিকারী, আলী ফার্নিচারচীনে তৈরি দুটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ইতিমধ্যে পৌঁছেছে, যার সাহায্যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাঠে অত্যন্ত নিখুঁত, সূক্ষ্ম ও আধুনিক নকশা করা সম্ভব। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক রাখাল পালের স্মৃতিকথনে উঠে আসে সেই শুরুর দিনগুলোর কথা। তিনি প্রথম আলোকে জানান, মাত্র চারটি কাঠের চেয়ার তৈরির মধ্য দিয়ে তাঁদের যে ব্যবসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, তা আজ বহুদূর বিস্তৃত। শুরুর দিকে বনের বয়স্ক গাছ বৈধভাবে কিনে প্রচলিত ডিজাইনে আসবাব তৈরি করা হতো। তখনকার দিনে মানুষের ধারণা ছিল, একবার আসবাব কিনলে তা যুগ যুগ চলে যাবে। অন্যান্য দোকানের থেকে আলাদা কিছু করার চিন্তাভাবনা থেকেই শাহ্ মোশাহিদ আলী মৌলভীবাজারে প্রথম ফার্নিচারের ‘বিক্রয়োত্তর সেবা’ বা কাগজে-কলমে ওয়ারেন্টির প্রচলন করেন।কালের পরিক্রমায় মোশাহিদ আলীর দেখানো পথে এখন ব্যবসার হাল ধরেছেন তাঁর ছেলে শাহ্ উসমান আলী জাকি। বাবা-ছেলের নিরলস পরিশ্রমে সেই ছোট্ট দোকানটি আজ ৪০ জনের বেশি কর্মীর এক বিশাল কর্মমুখর কারখানায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ ক্রেতার নাগালের মধ্যে থাকা ৩ হাজার টাকার চেয়ার থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকার বিলাসবহুল রাজকীয় পালঙ্ক—সবই তৈরি হচ্ছে আলী ফার্নিচারের নিজস্ব কারখানায়।আসবাবের বাজারে ক্রেতার আস্থা অর্জনে আলী ফার্নিচারের মূলমন্ত্র হলো, সততা ও মানের সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপস না করা। তারা প্রতিটি আসবাবে ১০ বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি দিচ্ছে। অর্থাৎ কাঠে ঘুণ ধরলে বা ফেটে গেলে মেরামতের বদলে সম্পূর্ণ নতুন পণ্য দেওয়া হয়।ব্যবস্থাপক রাখাল পাল জানান, এক অভিনব কৌশলের কথা। ব্যবসার শুরুর দিকে গ্রাহকদের কাছে নিজেদের ‘আফটার সেলস সার্ভিস’-এর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করতে তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে দু-চারটি আসবাবে সামান্য ত্রুটি রেখেই ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন। পরবর্তী সময় সম্পূর্ণ নিজেদের খরচে সেই ত্রুটিপূর্ণ পণ্যগুলো পরিবর্তন করে দিয়ে বিক্রয়োত্তর সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেন।ছেলের বিয়ের জন্য দোকানে আসা ক্রেতা মো. ইউনুস শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘২৫ বছর ধরে খাট-পালঙ্ক বানাই এখান থেকে। এত দিনে একবারও অভিযোগ নিয়ে আসা লাগেনি। সামনেও লাগবে না আশা করি।’ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি ইউক্যালিপটাসের মতো ক্ষতিকর কাঠ সম্পূর্ণ বর্জন করে সেগুন, আকাশমণি বা শিলকড়ইয়ের মতো পরীক্ষিত ও টেকসই কাঠ ব্যবহার করছে।সনাতনী ধারায় আধুনিক প্রযুক্তির বিপ্লবমৌলভীবাজারের আসবাবশিল্পে আলী ফার্নিচার কেবল একটি সফল প্রতিষ্ঠানই নয়, উদ্ভাবকের ভূমিকায়ও অবতীর্ণ হয়েছে। একসময় কাঠের ওপর দৃষ্টিনন্দন নকশা খোদাই করতে স্থানীয় কারিগরদের দিনের পর দিন সময় লাগত। সেই সনাতনী ধারায় তারা প্রথম আধুনিক প্রযুক্তির সংযোগ ঘটাচ্ছে।উসমান আলী জানান, চীন থেকে আধুনিক সিএনসি মেশিন আমদানি করে তারা কারখানায় থ্রি–ডি ডিজাইনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। চীনে তৈরি দুটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ইতিমধ্যে পৌঁছেছে, যার সাহায্যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাঠে অত্যন্ত নিখুঁত, সূক্ষ্ম ও আধুনিক নকশা করা সম্ভব। কায়িক শ্রম থেকে প্রযুক্তির এই স্থানান্তর কারখানার উৎপাদনশীলতা যেমন বাড়াবে, তেমনি ডিজাইনের বৈচিত্র্য এনে স্থানীয় আসবাবশিল্পে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।চ্যালেঞ্জ ও আগামীর পথচলাআলী ফার্নিচারের এই সফল যাত্রায় বর্তমানে প্রধান বাধা কাঁচামালের আকাশচুম্বী দাম ও আইনি কড়াকড়ি। এক দশকেই কাঠের দাম ১২০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বনজ কাঠের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞায় সামাজিক বনায়নের ওপর নির্ভরতা বাড়ায়, মান ও সাশ্রয়ী দাম ধরে রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি, কাঠ সংগ্রহ থেকে পণ্য ডেলিভারি পর্যন্ত পথে পথে চাঁদাবাজি ও হয়রানির কারণে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্যের মূল্যে।সরেজমিনে মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজার ঘুরে প্রতিবেদন তৈরি ও ছবি তুলেছেন তুরানুর ইসলাম
বর্তমান বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার শেখার পাশাপাশি বই-পত্রিকা পড়া, বিজ্ঞানমনস্কতার চর্চা ও বিতর্কের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে হবে। ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।আজ বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে ‘শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন উপস্থিত বক্তারা। শহরের বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি প্রাঙ্গণে কক্সবাজার পর্বের আয়োজন করা হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম পর্বের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ বছরের আয়োজন।অনুষ্ঠানস্থলে আসা শিক্ষার্থীরা আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতেছিল পুরোটা সময়। আজ দুপুরে শহরের বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি প্রাঙ্গণে‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয়েছে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। কক্সবাজার পর্বে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ৬৫০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে।সকালে উৎসব প্রাঙ্গণে ঢুকতেই চোখে পড়ে শিক্ষার্থীদের আড্ডা ও কোলাহল। বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত ছিল জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থী নাফিসা সুলতানা। সে জানায়, এখানে এসে নিজের বন্ধুদের পাশাপাশি আরও অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। বন্ধুত্বের পাশাপাশি এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই নতুন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে।অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ে, প্রথম আলো এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল বিভিন্ন ধরনের খেলার আয়োজন। এর বিপরীতে রয়েছে থ্রি-সিক্সটি ডিগ্রি ফটোবুথ ও ফটো কর্নার। সেখানে এসে শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে দেখা যায়।পরিবার পরিজন নিয়ে সেলফি বুথে ছবি তোলে শিক্ষার্থীরা। আজ দুপুরে শহরের বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি প্রাঙ্গণে‘আলোকিত মানুষ হও’ সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর কক্সবাজারের নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল কুদ্দুস। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।শিক্ষাবিদ এম এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। এই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে জানতে হবে এবং এর ইতিবাচক ব্যবহার শিখতে হবে। তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধও ধারণ করতে হবে।বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. সৈয়দ করিম বলেন, আজকের এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। এসএসসির পরবর্তী ১৮ মাসকে গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে উপহার বুঝে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আজ দুপুরে শহরের বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি প্রাঙ্গণেঅনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থ—এ তিন ‘ম’কে না বলার শপথ করান প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘তোমরা বই পড়বে, বিজ্ঞানচিন্তা পড়বে, কিশোর আলো পড়বে, বিতর্ক করবে। ভালো মানুষ হবে, বাংলাদেশকে ভালোবাসবে। তোমরা আলোকিত হবে, বাংলাদেশ আলোকিত হবে।’তিনি শিক্ষার্থীদের ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের গল্প শুনিয়ে বলেন, ‘তিনি জীবনে একসময় ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে তিনি ভারতের সফল একজন বিজ্ঞানী এবং পরবর্তী সময়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি হন। এটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে, ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে।’শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন সার্ফার ফাতেমা আক্তারগানে গানে উল্লাস মঞ্চে বক্তব্য দেয় টেকনাফ থেকে আসা কৃতী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রিফাত এবং চকরিয়া থেকে আসা কৃতী শিক্ষার্থী মুনতাকা সোয়াইবা। শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেয় ফাতেমা আক্তার। সে জানায়, সমাজের মানুষ অনেক কটূক্তি করবে, কথা শোনাবে। কিন্তু মেয়েদের থেমে থাকা যাবে না। সব বাধা এগিয়ে নারীদের এগিয়ে যেতে হবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরাপরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মঞ্চে বক্তব্য দেন শিখোর মেন্টররা। দুপুর ১২টার দিকে সংগীত পরিবেশন করে ব্যান্ডদল ‘আনপ্রিপেয়ার্ড ওয়ার’। এ সময় গানে গানে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। এর আগে কুইজে বিজয়ী ১০ কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক।এবারের অনুষ্ঠানটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ। সহযোগিতায় রয়েছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা এবং প্রথম আলো বন্ধুসভা।