সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘাড়ব্যথা, শক্ত ভাব বা নড়াচড়ায় অস্বস্তি—এ সমস্যা অনেকেরই হয়। এ জন্য ঘুমের ভঙ্গি বা বালিশের ভুল ব্যবহার দায়ী হতে পারে। মাথার নিচে দুই-তিনটি বা এর বেশি বালিশ ব্যবহার করলে ঘাড় দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকে। এর ফলে এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘাড়ের মেরুদণ্ড বা সার্ভিক্যাল স্পাইন হাড়, ডিস্ক, লিগামেন্ট ও বিভিন্ন পেশির সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল কাঠামো। ঘুমের সময় বালিশ অতিরিক্ত উঁচু হলে মাথা ও ঘাড় সামনের দিকে বা একদিকে অতিরিক্ত বাঁকা হয়ে যেতে পারে।
এতে ঘাড়ের পেশি ও জয়েন্টকে দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হয়। বিশেষ করে কাত হয়ে ঘুমানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সঠিক বালিশ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত মোটা বালিশ মাথাকে শরীরের তুলনায় বেশি ওপরে তুলে দিতে পারে এবং ঘাড়ের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট নষ্ট করতে পারে।
● মাথা ও ঘাড় অতিরিক্ত বাঁকা হয়ে যেতে পারে।
● ঘাড়ের স্থিতিশীলতায় নিয়োজিত পেশিগুলো দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকায় সকালে ব্যথা ও শক্ত ভাব হতে পারে।
● ঘাড় নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে গেলে চাপের বণ্টনও পরিবর্তিত হতে পারে।
● কাত হয়ে ঘুমানোর সময় ঘাড় ঘুরে বা কাত হয়ে থাকলে এক পাশে বেশি চাপ পড়তে পারে।
ব্যথা হলেই জোরে ঘাড় স্ট্রেচ করা বা ফোম রোলার দিয়ে চাপ দেওয়া উচিত নয়। প্রথমে ব্যথামুক্ত সীমার মধ্যে ধীরে ধীরে ঘাড় নাড়াচাড়া করুন এবং বালিশের উচ্চতা ও ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তন করে দেখুন।
কাত হয়ে ঘুমালে বালিশের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত, যাতে কাঁধ ও মাথার মধ্যকার ফাঁকা স্থান পূরণ হয়; কিন্তু মাথাকে অতিরিক্ত ওপরে ঠেলে না দেয়। বালিশ নির্বাচন করতে শরীরের গঠন, কাঁধের প্রস্থ, ঘুমের ভঙ্গি এবং গদির দৃঢ়তা বিবেচনা করা উচিত।
সবার জন্য একই বালিশ উপযুক্ত নয়। দামি বালিশের চেয়ে সঠিক উচ্চতা, পর্যাপ্ত সাপোর্ট এবং ব্যক্তিগত উপযোগিতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে হাত বা আঙুলে ঝিনঝিনি, অবশ ভাব, দুর্বলতা, ব্যথা হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়া বা অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ থাকে, কিংবা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এম ইয়াছিন আলী, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিন্দানাও প্রদেশের বাঙ্গা শহরের একটি হাইস্কুলে বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত আরও আটজন। বাঙ্গার মেয়র আলবার্ট প্যালেনসিয়া জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দুজনই ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। ১৬ বছর বয়সী বন্দুকধারী নিজেও নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আজ শুক্রবার দুপুরের পর বাঙ্গা ন্যাশনাল হাইস্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।এক বিবৃতিতে ফিলিপাইনের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।চলতি বছরের জুনের পর ফিলিপাইনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি তৃতীয় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।ফিলিপাইনে বন্দুকসংক্রান্ত অপরাধ বেশ নিয়মিত ঘটনা। এ অঞ্চলে ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিকানার দিক থেকে ফিলিপাইন শীর্ষ দেশগুলোর একটি। তবে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বন্দুক হামলা খুব বেশি দেখা যায় না। তা সত্ত্বেও গত চার মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী হামলা ঘটল।শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা।’ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।তদন্ত চলার সময় সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে যাচাই না করে কোনো তথ্য ছড়াতে নিষেধ করেছে তারা।বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মেয়র প্যালেনসিয়া জানান, দুপুরের খাবারের সময় বন্ধুদের বাড়ি চলে যেতে বলেছিল হামলাকারী কিশোর। সে বলেছিল, ‘দুপুরের খাবারের পরই আমি আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।’মেয়র বলেন, ‘বন্ধুরা ওই কিশোরের কথা শুনে হেসেছিল। কারণ, সে সব সময়ই সবার সঙ্গে মজা করত।’‘খাবার শেষ করেই সে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে গুলি করার পর সে আত্মহত্যা করে।’খাবার শেষ করেই সে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে গুলি করার পর সে আত্মহত্যা করে।ঘটনার পর পুরো বাঙ্গা পৌর এলাকায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।ফিলিপাইন রেডক্রস জানায়, স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় তারা খবর পায়। এরপরই জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য চারজন প্যারামেডিকসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।ফিলিপাইনে বন্দুকসংক্রান্ত অপরাধ বেশ নিয়মিত ঘটনা। এ অঞ্চলে ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিকানার দিক থেকে ফিলিপাইন শীর্ষ দেশগুলোর একটি। তবে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বন্দুক হামলা খুব বেশি দেখা যায় না। তা সত্ত্বেও গত চার মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী হামলা ঘটল।এর আগে গত জুনে ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলের একটি হাইস্কুলে সহপাঠীদের গুলিতে তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় কয়েকজন। বুলিং বা উত্ত্যক্ত করার ক্ষোভ থেকে সেই হামলা চালানো হয়েছিল বলে ধারণা তদন্তকারীদের।এরপর আগস্টে দক্ষিণ ফিলিপাইনের একটি ক্যাথলিক জুনিয়র হাইস্কুলে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করে তার সহপাঠী। পরে সে নিজেও আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় হামলাকারী প্রথমে এক শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। তবে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
মোহাম্মদ রিজওয়ানের মুঠোফোন এখনো তাঁর কাছে নেই। ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন (এনসিসিআইএ) এজেন্সি তাঁর ফোনটি জব্দ করে। পরে সেটি পাকিস্তানে নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। ফোন জব্দের প্রক্রিয়া ও এনসিসিআইএর নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছিলে রিজওয়ান। কিন্তু লাহোর হাইকোর্ট গতকাল বৃহস্পতিবার রিজওয়ানের আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর রিজওয়ান গেছেন আইসিসিতে।কেন নেওয়া হয়েছিল ফোনঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরকে ঘিরে। টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের কিছু তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই বিষয়ে তদন্তে নামে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)। তদন্তের অংশ হিসেবে রিজওয়ান ও পাকিস্তানের টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে লাহোরের কার্যালয়ে হাজির হতে হয় দুজনকে। জিও নিউজ খবর দিয়েছে, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁদের প্রশ্ন করা হয়। ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচের সময় তাঁরা কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কার সঙ্গে দেখা করেছেন—এসব বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।শুধু ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসনা। এনসিসিআইএ অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত তদন্ত করছে। জিও নিউজের খবর অনুযায়ী, রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হককে এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচের সময় তাঁদের যোগাযোগ, দেখা-সাক্ষাৎ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরকে ঘিরে। সেই সফরে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন রিজওয়ানরিজওয়ানের আপত্তি কোথায়এনসিসিআইএর তলব পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রিজওয়ান। তাঁর দাবি, সংস্থাটির নোটিশে অনলাইন বেটিং ও জুয়া নিয়ে তদন্তের কথা বলা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। এনসিসিআইএর সামনে হাজির হওয়ার পর রিজওয়ান অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি অনুযায়ী, তাঁকে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। এ কারণে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেন।সেঞ্চুরি করেই অভিষেক কেন মেডিটেশনে বসলেনআদালত কী বললেনরিজওয়ানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল আদালতে শুনানি হয়েছে। রিজওয়ানের আইনজীবী জানান, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। কিন্তু শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম আইনজীবীর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরই রিজওয়ানের আবেদন খারিজ করে দেন লাহোর হাইকোর্ট।রিজওয়ান এরপর যান আইসিসিতেরিজওয়ান আইসিসির কাছেও বিষয়টি নিয়ে গেছেন। আইসিসির অ্যান্টি–করাপশন ইউনিটের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁর মুঠোফোন জব্দ করা, সেটি ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নেওয়া এবং ফরেনসিক পরীক্ষা করার বিষয়ে আইসিসি বা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড কিছু জানত কি না, কিংবা তারা এতে জড়িত ছিল কি না।জিও নিউজের খবর অনুযায়ী, রিজওয়ানের এই অনুসন্ধান কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে করা হয়নি। বরং তিনি জানতে চেয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ধারা অনুযায়ী হয়েছে কি না। একই সঙ্গে সামনে তাঁর কী করা উচিত, সে বিষয়েও আইসিসির দিকনির্দেশনা চেয়েছেন তিনি।পিসিবির ভূমিকা ও টেস্ট দল থেকে বাদরিজওয়ানের ফোন জব্দের আগে সেটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের হেফাজতে ছিল। পরে পরীক্ষার জন্য ফোনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়। চলমান তদন্তের কারণে এ বিষয়ে পিসিবি বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।এক সময় পাকিস্তানের মূল তারকা ছিলেন রিজওয়ানএই ঘটনাগুলোর সময়েই পাকিস্তানের টেস্ট দলেও বড় পরিবর্তন আসে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে হারের পর রিজওয়ান, ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে টেস্ট দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২) নামের এক ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হুমকি দেওয়ার ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি কথোপকথন রেকর্ডের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির ওই নেতার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। তাঁর বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নে হলেও ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন।