জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সতর্ক করে তিনি বলেন, এটি কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।
আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফটকে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের ‘স্ট্রিট মেমোরি স্টাম্প’ পরিদর্শন করেন রাশেদ খাঁন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘বিএনপি গণ–অভ্যুত্থানের অন্যতম স্টেকহোল্ডার (অংশীজন)। যারা বিরোধী দলে আছে তারাও গণ–অভ্যুত্থানের স্টেকহোল্ডার। আমি এর আগেই আমাদের বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান রেখেছি, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আপনারা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি সহযোগিতা না করে লংমার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেন, সেটি কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, ‘জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট লংমার্চের ডাক দিচ্ছে। আমরা বিভিন্নভাবে তথ্য পাচ্ছি, আওয়ামী লীগ এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যে।’
জামায়াতকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আপনারা দেখেন নাই, ক্যান্টনমেন্ট থানার মতো একটি জায়গায় এমন একজন ওসি ছিলেন। সেই ওসি বলছেন, পুলিশ এতটাই দুর্বল যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে নয়, আগে ফিরে এলেও এই পুলিশ কিছু করতে পারবে না।’
উল্লেখ্য, পুলিশের পরিদর্শক রাকিবুল হাসান ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাকিবুল হাসানকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।
অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায় রাকিবুল হাসানকে। এই অডিও রেকর্ড নিয়ে আলোচনার মধ্যে তাঁকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপির সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাঁকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, তার মানে কী? ১৬ বছরে যেভাবে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, সেই ব্যবস্থার কি পুরোপুরি অবসান অন্তর্বর্তী সরকার করতে পেরেছিল? করতে পারেনি। যে কারণে বিএনপি সরকারের পক্ষেও রাতারাতি ওই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্মূল করা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এর অন্যতম কারণ হলো জামায়াত। তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে একধরনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। জামায়াত রাজনৈতিকভাবে একটি হঠকারী দল হিসেবে পরিচিত।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, এই সরকার মাত্র সাত মাস বয়সে পড়েছে। ছয় মাস সরকার অতিবাহিত করেছে এবং ছয় মাসে সরকারের যে কার্যক্রম, সেটা জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু এই সরকারের বিরুদ্ধে যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র জামায়াতে ইসলামী করছে, সেটি হলো এই লংমার্চের মাধ্যমে। তারা আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে।
রাশেদ খাঁন প্রশ্ন রাখেন, এই অল্প বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কর্মসূচি লংমার্চ করা যায়? তিনি বলেন, জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে। অন্যদিকে সেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাও ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চান। এই কারণে জনগণের মনের মধ্যে একধরনের সন্দেহ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ১৯৯৬ সালে যেমনিভাবে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল, ঠিক একইভাবে তারা বুঝে বা না বুঝে আরেকটি ছক তৈরি করছে কি না, এই প্রশ্ন জনগণের মনের মধ্যে রয়েছে।
বিরোধী জোটের চট্টগ্রামের লংমার্চের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এই যে লংমার্চের নামে আওয়ামী লীগের নেতাদের গাড়ি নিয়ে লং ড্রাইভ করা এবং আমরা দেখেছি যে এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) এক নেতা, তাঁর নামটা আমি বলব না, আজকাল তাঁর নাম মুখে নিতেও লজ্জা লাগে; আওয়ামী লীগের নেতার প্রাডো গাড়ি করে তিনি চট্টগ্রামে লংমার্চে গিয়েছেন।’
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘জামায়াতসহ ১১ দলকে বলব যে আপনারা রংপুরে যে লংমার্চ নিয়ে আসছেন, আপনারা যদি প্রকৃতপক্ষে জনবান্ধব হন, তাহলে ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে রংপুরে আসুন। লংমার্চের নামে লং ড্রাইভে আসবেন—এ রকম কোনো উসকানি আমরা আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না।’
উল্লেখ্য, আট দফা দাবিতে ১১–দলীয় ঐক্য আগামীকাল শনিবার সকাল ৭টায় রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু করবে। ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সভা চলবে সকাল আটটা পর্যন্ত। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর মালিবাগে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর মালিবাগ রেলগেট–সংলগ্ন সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জুমার নামাজের পরপরই ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ককটেল ছোড়া হয়েছে। কে বা কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখের সিসিটিভি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।’গত মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এই মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের নেতারা সমবেত হবেন। এবারের মূল প্রতিপাদ্য, ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান তাঁদের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে। তবে প্রযুক্তির ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্টারনেটও সুরক্ষিত রাখতে হবে। কারণ, আজকের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বড় একটি অংশ ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করে হয়েছে।প্রযুক্তির ওপর মানুষের আস্থা কমছে। মানুষের মনে হচ্ছে, প্রযুক্তি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকার বদলে প্রযুক্তিই তাঁদের ব্যবহার করছে। ব্যক্তিগত তথ্য বৃহৎ ভাষা মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী তথ্যকেন্দ্রের চাপ বহন করছে স্থানীয় জনগোষ্ঠী। প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন অনলাইন প্রতারণা ও জালিয়াতি।অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যার প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। অথচ এসব সিদ্ধান্তে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের মতামত খুব কমই নেওয়া হচ্ছে। সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ অল্পসংখ্যক সরকার ও কোম্পানি নির্ধারণ করছে। গবেষক ও নাগরিক সমাজকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তাঁদের মতামত কীভাবে বা আদৌ কতটা বিবেচনা করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।এআই নিয়ন্ত্রণের বাইরে, অস্ত্র বানাতে ব্যবহারের চেষ্টা, সামনে বিপদ কতটাতবে জনস্বার্থ রক্ষার সঙ্গে উদ্ভাবনের বিরোধ নেই। ইন্টারনেটই তার প্রমাণ। বহু পক্ষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইন্টারনেট দেখিয়েছে, বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করা যায়। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে বিপুল অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি সম্ভব।ইন্টারনেট কোনো একক সরকার বা কোম্পানি তৈরি করেনি। সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এটি বিকশিত হয়েছে। এই সহযোগিতাই বৈশ্বিক ইন্টারনেটের ভিত্তি তৈরি ও টিকিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্মুক্ত ও পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, নিরাপদ ব্যবস্থা এবং সংকট সহ্য করে টিকে থাকতে সক্ষম অবকাঠামো।শিল্প খাতে একীভবন ও কেন্দ্রীভবনের ফলে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাচ্ছে। একই সময়ে ভূরাজনৈতিক বিভাজনের কারণে বিভিন্ন সরকারও ইন্টারনেটকে নিজেদের মতো করে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে ইন্টারনেটের ওপর তৈরি প্রযুক্তিগুলো, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর পরিণতি ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে।বিশ্বব্যাপী ওয়েব এর গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ইউরোপীয় পরমাণু গবেষণা সংস্থায় এটি বিজ্ঞানীদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য তৈরি হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে সংস্থাটি ওয়েবের সফটওয়্যার সবার জন্য বিনা মূল্যে উন্মুক্ত করে দেয় এবং মেধাস্বত্বের অধিকার ছেড়ে দেয়। ফলে যে কেউ এটি ব্যবহার, পরিবর্তন ও বিতরণ করতে পারে। গবেষকদের জন্য তৈরি এই প্রযুক্তি পরে অর্থনীতি ও সমাজ বদলে দেওয়ার শক্তিতে পরিণত হয়।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের জন্য এখানেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। প্রযুক্তির অবকাঠামো যত বেশি উন্মুক্ত থাকবে এবং মানুষ যত সহজে তার ওপর নতুন কিছু তৈরি করতে পারবে, প্রযুক্তি তত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে ও বিকশিত হবে। ইন্টারনেটকে সহজলভ্য ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য তৈরি অনেক প্রযুক্তি সীমান্ত পেরিয়ে জনস্বার্থভিত্তিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের পেছনেও এসব প্রযুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে।ড্রোন ও এআই প্রযুক্তি নিয়ে আত্মতুষ্টি পশ্চিমাদের ভোগাবেএ কারণেই ইন্টারনেট সোসাইটি বহু বছর ধরে স্থানীয় জনগোষ্ঠী থেকে জাতিসংঘ পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটকে উন্মুক্ত ও পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা। এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা আছে। প্রযুক্তি দ্রুত বদলায়, অথচ ঐকমত্যে পৌঁছাতে সময় লাগে। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অল্প কয়েকটি শক্তিশালী সরকার ও কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার বিকল্প আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করে।শিল্প খাতে একীভবন ও কেন্দ্রীভবনের ফলে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাচ্ছে। একই সময়ে ভূরাজনৈতিক বিভাজনের কারণে বিভিন্ন সরকারও ইন্টারনেটকে নিজেদের মতো করে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে ইন্টারনেটের ওপর তৈরি প্রযুক্তিগুলো, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর পরিণতি ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ‘বদ্ধ ডিজিটাল পরিসর’ ও জাতীয় ইন্ট্রানেট মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করছে। বৈশ্বিক নেটওয়ার্কটি খণ্ডিত হয়ে পড়ছে। সরকারের নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ হলে মানুষ দিনের পর দিন অর্থনৈতিক ও নাগরিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। অনেক জনগোষ্ঠী এখনো অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারেনি।তাই প্রযুক্তির ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুধু আলাদা প্রযুক্তিগুলোকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করলেই হবে না। যেসব প্রযুক্তির ওপর এগুলো দাঁড়িয়ে আছে, সেই ভিত্তিকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। এর ভবিষ্যৎ যেন শুধু করপোরেট ও সরকারি স্বার্থ দ্বারা নির্ধারিত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।উন্মুক্ত ও সহজলভ্য ইন্টারনেট এমন একটি ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে, যেখানে ধারণা ও উদ্ভাবন সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ জনকল্যাণে নতুন প্রযুক্তি তৈরির সুযোগ পাবে।● স্যালি ওয়েন্টওর্থ ইন্টারনেট সোসাইটি এবং ইন্টারনেট সোসাইটি ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাস্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
মাসকাট থেকে আসা সালাম এয়ারের ফ্লাইটটি সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। যাত্রীরা একে একে কাস্টমসের স্ক্যানিং শেষ করে বের হচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন রাউজানের এক যাত্রী। স্ক্যানিং শেষ করে বের হওয়ার সময় তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয় গোয়েন্দাদের। পরে তল্লাশি চালানোর পর তাঁর ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে একে একে ৫৩৪ গ্রাম বা ৪৫ ভরি ১২ আনা স্বর্ণালংকার। আজ শুক্রবার চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। আটক মোহাম্মদ হাসান মুরাদ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নাসিরনগরের বাসিন্দা। তাঁর ব্যাগের ভেতর বিশেষ কায়দায় রাখা ছিল ১০৬ গ্রাম স্বর্ণের অলংকার, ৪২৫ গ্রাম স্বর্ণের পিণ্ড ও ৩ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৫৩৪ গ্রাম স্বর্ণ।শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে মাসকাট থেকে সালাম এয়ারের ওভি-৪০১ ফ্লাইটে চট্টগ্রামে আসেন হাসান মুরাদ। ব্যাগেজে স্বর্ণগুলো এমনভাবে লুকানো ছিল যে কাস্টমসের স্ক্যানারে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।বিমান বন্দরে স্বর্ণসহ আটক যাত্রী হাসান মুরাদবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ধার করা স্বর্ণের রাজস্ব মূল্য ১ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় হাসান মুরাদের বিরুদ্ধে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের মামলার প্রক্রিয়া চলছে। স্বর্ণ চোরাচালান ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচার ঠেকাতে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থা, কাস্টমস গোয়েন্দা ও বিমানবন্দর কাস্টমসের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।