জাতীয়

এআই দিয়ে ছবি বানাতে কেন এত পানি ও বিদ্যুৎ লাগে

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
এআই দিয়ে ছবি বানাতে কেন এত পানি ও বিদ্যুৎ লাগে
এআই দিয়ে ছবি বানাতে কেন এত পানি ও বিদ্যুৎ লাগে

মুঠোফোনে কয়েকটা শব্দ লিখে দিলেন, আর চোখের পলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একটি চমৎকার ছবি বানিয়ে দিল। যেমন কয়েক দিন আগে থেকে আশির দশকের ছবি বানানোর একটা ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। কাজটা এখন এতটাই সহজ যে এর পেছনের জটিলতা নিয়ে আমরা খুব একটা মাথা ঘামাই না। কিন্তু আপনার ওই একটি ‘কমান্ড’ বা নির্দেশ পালন করতে গিয়ে পর্দার আড়ালে খরচ হয়ে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ পানি ও বিদ্যুৎ।

প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—একজন মানুষ যখন নিজের ঘরে বসে স্মার্টফোনে এআই ব্যবহার করছেন, তখন তাঁর তো এক ফোঁটা পানিও খরচ হচ্ছে না। তাহলে এআই কোম্পানিগুলো কেন বলছে যে তাদের প্রচুর পানি লাগছে? এমনকি এই পানির হিসাব মেলাতে তারা সমুদ্রের তলদেশে ডেটা সেন্টার বসানোর কথাও ভাবছে! চলুন, এসব প্রশ্নের উত্তরগুলো জেনে নেওয়া যাক।

ধরা যাক, আপনি চ্যাটজিপিটি বা মিডজার্নির মতো কোনো এআই টুলে লিখলেন, ‘পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যাস্তের একটি ছবি বানাও।’ এ নির্দেশ ইন্টারনেট হয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চলে যায় দূরের কোনো এক ডেটা সেন্টারে। এই ডেটা সেন্টারগুলো মূলত বিশাল আকারের কম্পিউটার কারখানা। সেখানে হাজার হাজার শক্তিশালী সার্ভার দিনরাত একনাগাড়ে কাজ করে। আপনার ছবিটি ওই সার্ভারগুলোই তৈরি করে দেয়। এখানে আপনার ফোন বা ল্যাপটপের নিজস্ব কোনো ভূমিকা নেই।

সমস্যা হলো হাজার হাজার সার্ভার যখন একসঙ্গে জটিল হিসাব-নিকাশ করে, তখন সেগুলো প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে। ঠিকমতো তাপ সরাতে না পারলে এই দামি যন্ত্রগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। এই উত্তপ্ত সার্ভারগুলোকে ঠান্ডা রাখতেই প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ পানির।

অধিকাংশ বড় ডেটা সেন্টার তাদের সার্ভার ঠান্ডা রাখতে ‘বাষ্পীভবন শীতলীকরণ (ইভাপোরেটিভ কুলিং)’ পদ্ধতি ব্যবহার করে। ব্যাপারটা অনেকটা আমাদের শরীর ঘামার মতো। গরমের দিনে শরীর ঘামলে সেই ঘাম বাতাসে শুকিয়ে গেলে যেমন আমাদের ঠান্ডা লাগে, ডেটা সেন্টারের পদ্ধতিটিও ঠিক তেমনই। গরম সার্ভারগুলোকে ঠান্ডা করার জন্য সেগুলোর পাশ দিয়ে ঠান্ডা পানি প্রবাহিত করা হয়। সেই পানি সার্ভারের তাপ শুষে নিয়ে নিজে গরম হয়ে যায়। এরপর সেই গরম পানিকে কুলিং টাওয়ারের বাতাস ও বিশেষ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়। সেখানে পানির কিছু অংশ বাষ্প হয়ে বাতাসে উড়ে যায়, আর ওই বাষ্পীভবনের কারণেই বাকি পানিটুকু আবার ঠান্ডা হয়ে যায়। সেই ঠান্ডা পানি আবার সার্ভারে পাঠানো হয়।

এই পদ্ধতিতে পানি মোটেই সাশ্রয় হয় না; বরং প্রচুর পানির অপচয় ঘটে। এর মূল কারণ দুটি। প্রথমত, গরম পানিকে ঠান্ডা করার সময় পানির একটি বড় অংশ বাতাসে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। ফলে ঘাটতি মেটাতে প্রতিনিয়ত নতুন পানি সরবরাহ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, পানি বাষ্প হয়ে উবে যাওয়ার পর অবশিষ্ট পানিতে লবণ ও খনিজ পদার্থের (মিনারেল) ঘনত্ব বেড়ে যায়। এই খনিজযুক্ত পানি বারবার ব্যবহার করলে সার্ভার ও পাইপে আয়রনের আস্তরণ জমে যন্ত্রপাতির ক্ষতি হতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট সময় পর ওই ঘন পানি ফেলে দিয়ে আবার নতুন সুপেয় পানি যোগ করতে হয়।

পানির খরচটা আসলে কত

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রকৌশল সাময়িকী আইইইই স্পেকট্রামে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে করা এক গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, জিপিটি-৩ মডেল দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ শব্দের একটি সাধারণ লেখা তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গড় ডেটা সেন্টারে প্রায় ১৭ মিলিলিটার পানি খরচ হতো। এর মধ্যে সরাসরি কুলিংয়ে লাগে পৌনে ২ মিলিলিটার, বাকিটা লাগে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ছবি তৈরির নির্দিষ্ট কোনো হিসাব অবশ্য ওই প্রতিবেদনে দেওয়া নেই।

ছবি তৈরির পানির খরচ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্লেষণে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা পাওয়া যায়। জ্বালানি খরচের উপাত্তের ভিত্তিতে করা কিছু হিসাবে একটি ছবি তৈরিতে গড়ে প্রায় ২৩ মিলিলিটার পানি খরচের কথা বলা হয়েছে। আবার আরও কিছু বিশ্লেষণে এই অঙ্ক ৫ থেকে ৬০ মিলিলিটার, এমনকি তার চেয়ে বেশি হতে দেখা গেছে। পার্থক্যটা মূলত হিসাবের পদ্ধতির কারণে—শুধু সার্ভার ঠান্ডা করার পানি ধরা হচ্ছে, নাকি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পানিও যোগ করা হচ্ছে, তার ওপর সংখ্যাটা অনেকটাই নির্ভর করে। তুলনায়, একটি সাধারণ গুগল সার্চে পানি লাগে অনেক কম—বিভিন্ন হিসাবে তা শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৬ মিলিলিটারের মধ্যে ধরা হয়।

একক হিসাবে সংখ্যাগুলোকে খুব সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু ভেবে দেখুন, প্রতিদিন সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ যখন একসঙ্গে এআই দিয়ে ছবি বা লেখা তৈরি করছেন, তখন এই ‘সামান্য’ পানির পরিমাণটা কোথায় গিয়ে ঠেকছে! যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড এনার্জি স্টাডি ইনস্টিটিউটের (ইইএসআই) তথ্য অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের ডেটা সেন্টার বছরে প্রায় ১১ কোটি গ্যালন পানি খরচ করে, যা প্রায় এক হাজার পরিবারের সারা বছরের পানির চাহিদার সমান। আর বড় ডেটা সেন্টারগুলোয় দিনে ৫০ লাখ গ্যালন পর্যন্ত পানি লাগতে পারে।

পানির এই খরচ শুধু সার্ভার ঠান্ডা রাখাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ডেটা সেন্টার চালাতে যে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, তার বড় অংশ এখনো আসে জীবাশ্ম জ্বালানি বা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতেও প্রচুর পানির দরকার হয়। অর্থাৎ এআই যত বেশি বিদ্যুৎ টানবে, পরোক্ষভাবে পানির খরচও তত বাড়বে।

ভারতের বেঙ্গালুরুতে হিউলেট প্যাকার্ড এন্টারপ্রাইজের (এইচপিই) কার্যালয়ের ভেতরে থাকা একটি ডেটা সেন্টারে হেঁটে যাচ্ছেন এক কর্মী

এই পানি আসে কোত্থেকে

সাধারণত ডেটা সেন্টারগুলো তাদের প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করে স্থানীয় সরবরাহ লাইন, নদী বা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। এই পানির বড় অংশই হলো সুপেয় বা খাওয়ার উপযোগী মিঠাপানি। ফলে অনেক জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন ব্যবহার ও কৃষিকাজের জন্য বরাদ্দ পানির ওপর মারাত্মক চাপ পড়ছে। গ্রীষ্মকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

সমালোচনার মুখে পড়ে মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যামাজনের মতো বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে।

মাইক্রোসফট নিজস্ব টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কুইন্সি, ক্যালিফোর্নিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো এলাকায় পরিশোধিত বর্জ্যপানির ব্যবহার বাড়িয়েছে। বাসাবাড়ি বা কারখানার ব্যবহৃত দূষিত পানিকে বর্জ্যপানি শোধনাগারে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আবার ব্যবহারের উপযোগী করাকেই পরিশোধিত বর্জ্যপানি বলে। এই পানি পানের উপযোগী না হলেও পরিবেশের জন্য নিরাপদ এবং ডেটা সেন্টারের সার্ভার ঠান্ডা রাখার জন্য বেশ কার্যকর। মাইক্রোসফটের দাবি, সিঙ্গাপুরে তাদের ডেটা সেন্টারের প্রায় পুরোটাই (৯৯ শতাংশ) এখন অ-সুপেয় পানি দিয়ে চলে।

অ্যামাজনের প্রযুক্তি শাখা অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) ২০২৫ সালের জুনে জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ১২০টির বেশি ডেটা সেন্টারে পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহার করবে, যাতে বছরে প্রায় ৫৩ কোটি গ্যালন সুপেয় পানি সাশ্রয় হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।

অন্যদিকে গুগল ও মাইক্রোসফট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা ‘ওয়াটার পজিটিভ’ হবে, অর্থাৎ তারা যে পরিমাণ পানি খরচ করবে, তার চেয়ে বেশি পানি পরিবেশে ফিরিয়ে দেবে। অ্যামাজনও একই অঙ্গীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২৫ সাল শেষে তারা সেই লক্ষ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পূরণ করে ফেলেছে।

সমুদ্রের তলদেশে ডেটা সেন্টারের ধারণা

সুপেয় পানির ওপর থেকে চাপ কমাতে এবং ঠান্ডা রাখার বিপুল খরচ বাঁচাতে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সমুদ্রের দিকে তাকাচ্ছে। সমুদ্রের পানি বিনা মূল্যে পাওয়া যায় এবং এটি প্রাকৃতিকভাবেই ঠান্ডা। তাই সার্ভার ঠান্ডা করার জন্য এটি এক আদর্শ সমাধান।

এই ধারণা থেকে ২০১৮ সালে স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে ‘প্রজেক্ট নেটিক’ নামে একটি পরীক্ষামূলক ডেটা সেন্টার সমুদ্রের তলদেশে বসিয়েছিল মাইক্রোসফট। প্রায় দুই বছর পর সেটি তুলে দেখা যায়, ডাঙায় থাকা সমসংখ্যক সার্ভারের তুলনায় পানির নিচে থাকা সার্ভারগুলো আট গুণ কম নষ্ট হয়েছে বলে মাইক্রোসফট নিজেই জানিয়েছিল। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের নানা ব্যবহারিক জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফটের প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে আর এগোয়নি। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড অপারেশনস বিভাগের প্রধান নোয়েল ওয়ালশ সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি বলেন, তাঁরা আর বিশ্বের কোথাও পানির নিচে ডেটা সেন্টার বানাচ্ছেন না।

তবে মাইক্রোসফট থেমে গেলেও এই পথে বেশ এগিয়ে গেছে চীন। চীনা প্রতিষ্ঠান হাইল্যান্ডার হাইনান দ্বীপের উপকূলে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক পানির নিচের ডেটা সেন্টার চালু করেছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে। ১ হাজার ৩০০ টন ওজনের এই স্থাপনা সমুদ্রের ৩৫ মিটার গভীরে বসানো হয়েছে। হাইল্যান্ডারের দাবি, পরিকল্পনামতো সেখানে ১০০টি মডিউল বসানো গেলে স্থলভাগের একই ক্ষমতার একটি ডেটা সেন্টারের তুলনায় এটি বছরে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ এবং ১ লাখ ৫ হাজার টন সুপেয় পানি সাশ্রয় করবে।

সুপেয় পানি ছাড়া কীভাবে চলবে

স্থলভাগে যেভাবে পানি বাষ্প করে সার্ভার ঠান্ডা করা হয়, সাগরের নিচে সেভাবে কাজ হয় না। সেখানকার সার্ভারগুলো একটি সম্পূর্ণ বদ্ধ বা সিল করা বাক্সের (মডিউল) ভেতর থাকে। চারপাশের ঠান্ডা লবণাক্ত সমুদ্রের পানি কেবল বাক্সের বাইরের আবরণ দিয়ে তাপ শুষে নেয়। এটি অনেকটা গরম চায়ের কাপ বরফ-ঠান্ডা পানির গামলায় ডুবিয়ে রাখার মতো ব্যাপার।

সমুদ্রের পানি সরাসরি যন্ত্রপাতির সংস্পর্শে আসে না বলে মরিচা ধরারও ভয় নেই। এই পদ্ধতিতে বাষ্পীভবনের কোনো সুযোগ নেই, শুধু তাপের বিনিময় হয়। আর বিশাল সমুদ্রের সামান্য একটু পানি এতে যৎসামান্যই গরম হয়, যা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।

একই পানি কি বারবার ব্যবহার করা যায় না

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ডেটা সেন্টারগুলো কেন একই পানি বারবার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে (রিসাইকেল করে) ব্যবহার করে না? এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো পানির গুণাগুণ। বাষ্পীভবন পদ্ধতিতে পানি যখন বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, তখন পানিতে থাকা সাধারণ খনিজ উপাদানগুলো (যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম বা লবণ) নিচে পড়ে থাকে। ফলে অবশিষ্ট পানিতে খনিজের ঘনত্ব বেড়ে যায়।

এই পানি বারবার ব্যবহার করলে খনিজ উপাদানগুলো ডেটা সেন্টারের পাইপ বা যন্ত্রপাতির গায়ে পুরু আস্তরণ বা ‘স্কেল’ তৈরি করে। মানুষের রক্তনালিতে চর্বি জমলে যেমন রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয়, পাইপে এই আস্তরণ জমলেও তেমনি পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং দামি যন্ত্রপাতির মারাত্মক ক্ষতি হয়। তাই বাধ্য হয়েই ওই পুরোনো খনিজযুক্ত পানি ফেলে দিয়ে নতুন সুপেয় পানি ঢালতে হয়।

তাহলে এর বিকল্প কী

বিকল্প হিসেবে এখন ‘ক্লোজড-লুপ’ (বদ্ধ চক্র) বা ‘ইমারশন কুলিং’ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। গাড়ির রেডিয়েটরে যেভাবে ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখা হয়, ক্লোজড-লুপ পদ্ধতিটি অনেকটা সে রকম। এতে পানি বা বিশেষ কোনো তরল একটি বদ্ধ পাইপের ভেতর দিয়ে ঘোরে, যা বাইরের বাতাসের সংস্পর্শে আসে না। ফলে তরলটি বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না এবং বারবার ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে ইমারশন কুলিং পদ্ধতিতে পুরো সার্ভারটিকেই বিদ্যুৎ-অপরিবাহী বিশেষ একধরনের রাসায়নিক তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়।

এই পদ্ধতিগুলোয় পানির অপচয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে ঠিকই, কিন্তু দেখা দেয় নতুন এক সংকট। পানি যেহেতু বাষ্প হয়ে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না, তাই ওই বদ্ধ গরম তরলকে ঠান্ডা করতে ডেটা সেন্টারগুলোয় বিশাল আকৃতির বৈদ্যুতিক পাখা বা শক্তিশালী এসি (চিলার বা রেফ্রিজারেশন সিস্টেম) চালাতে হয়। আর এগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজন হয় প্রচুর বিদ্যুতের। পাশাপাশি পুরো পদ্ধতিটি স্থাপন করাও অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

প্রযুক্তি–দুনিয়ায় তাই একটি কথা প্রচলিত আছে—বিদ্যুৎ বাঁচাতে গেলে পানি বেশি খরচ হয় আর পানি বাঁচাতে গেলে বিদ্যুৎ বেশি পোড়ে। এই দুটির মধ্যে একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ভারসাম্য তৈরি করাই এখন প্রকৌশলীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: আইইইই স্পেকট্রাম, এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড এনার্জি স্টাডি ইনস্টিটিউট, মডিউলেজ, অফিশিয়াল মাইক্রোসফট ব্লগ, অ্যামাজন সাসটেইনেবিলিটি, ডেটা সেন্টার ডায়নামিকস ও টমস হার্ডওয়্যার

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ফুল ছিঁড়লেন না কেন ফুকুদা চিও-নি
ফুল ছিঁড়লেন না কেন ফুকুদা চিও-নি

জাপানের এদো যুগের (১৬০৩-১৮৬৮) সাহিত্য–ইতিহাসে হাইকু কাব্যধারায় সাধারণত পুরুষ কবিরাই আধিপত্য করেছেন। কিন্তু এই পুরুষশাসিত জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আবির্ভূত হন ফুকুদা চিও-নি (১৭০৩-১৭৭৫)। চিও-নি অর্থ সন্ন্যাসিনী চিও। তিনি কাগা নো চিও নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন একাধারে একজন অসাধারণ হাইকু কবি, বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী এবং এমন এক স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব, যিনি তাঁর কবিতার মাধ্যমে প্রকৃতির গভীরে প্রবেশ করার পাশাপাশি নারীর জীবনানুভূতি ও সমাজের রূঢ় বাস্তবতাকে অনবদ্য শৈল্পিক রূপ দিয়েছেন। কেবল অষ্টাদশ শতাব্দীর জাপানেই নয়, বিশ্বসাহিত্যের পরিমণ্ডলেও তিনি একজন অগ্রগণ্য নারী কবি হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর কবিতায় মিশে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিঃশব্দ পর্যবেক্ষণ, জীবন-মৃত্যু-প্রকৃতির চিরায়ত চক্র সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি, বৌদ্ধদর্শনের অস্থায়িত্বের ধারণা এবং একজন নারী হিসেবে সমাজে বসবাসের প্রত্যয় ও ব্যথা। চিও-নির জীবন ও সৃষ্টি কেবল কবিতা নয়; বরং এক অনন্যদার্শনিক ও সাংস্কৃতিক অভিযাত্রারও দলিল।ফুকুদা চিও-নির জীবনটিই যেন একটি হাইকুর মতো—সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থে পরিপূর্ণ। তাঁর জন্ম ১৭০৩ সালে জাপানের কাগা প্রদেশে (বর্তমান ইশিকাওয়া)। তাঁর বাবার নাম ফুকুদা মাতসুকিচি, যিনি ছিলেন পটচিত্র (স্ক্রল) তৈরির কারিগর। শিক্ষা ও শিল্পচর্চার জন্য ছিল একেবারে অনুকূল পরিবেশ। চিত্রকলা ও কাব্যের জগতের সঙ্গে চিও-নির অল্প বয়সেই পরিচয় ঘটে।খুব অল্প বয়সেই চিও-নি হাইকুর প্রতি আকৃষ্ট হন। কৈশোরে তিনি মাতসুও বাশোর কবিতার সংস্পর্শে আসেন এবং পরে বাশোর শিষ্যদের একজন, নাকামুরা রানের কাছে দীক্ষা নেন। মাত্র সাত বছর বয়সেই তিনি হাইকু রচনা শুরু করেন আর সতেরো বছর বয়সের মধ্যেই তাঁর মেধা সারা জাপানে পরিচিতি লাভ করে।চিও-নির ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেদনাদায়ক। ১৭২০ সালের দিকে তিনি কানাজাওয়ার ফুকুওকা পরিবারের এক কর্মচারীকে বিয়ে করেন এবং একটি সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি শৈশবেই মারা যায়। এর অল্পকাল পরই ১৭২২ সালে তাঁর স্বামীও রোগে মৃত্যুবরণ করেন। এই ট্র্যাজেডি তাঁকে ভেঙে দিলেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। স্বাধীনচেতা চিও-নি আর বিয়ে না করে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যান এবং পারিবারিক ব্যবসায় কাজ করতে থাকেন।বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ফুকুদা চিও-নি ৫২ বছর বয়সে (১৭৫৪ সালে) একটি রূপান্তরমূলক সিদ্ধান্ত নেন : তিনি বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী হয়ে যান। তবে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন ‘সংসার ত্যাগ করার জন্য নয়, বরং নিজের হৃদয়কে দিন–রাত প্রবাহিত স্বচ্ছ জলের মতো করে গড়ে তোলার একটি পথ’ হিসেবে। সন্ন্যাসিনী হওয়ার পর তিনি তাঁর মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন এবং ‘সোয়েন’ নাম ধারণ করেন। তারপর তিনি একটি মন্দিরে বসবাস শুরু করেন। তিনি ‘পিওর ল্যান্ড’ নামক একটি বৌদ্ধ ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু কবিতা লেখা তিনি কখনোই ছাড়েননি। ১৭৭৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি একটি সরল ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করেছিলেন।ফুকুদা চিও-নিফুকুদা চিও-নি বাশো দ্বারা প্রভাবিত হলেও নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাঁর রচনাশৈলী সরল ও অলংকারবর্জিত—যা জেনদর্শনের সরলতা ও স্বাভাবিকতার ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি ন্যূনতম শব্দের মাধ্যমে একটি মুহূর্ত বা দৃশ্যের সারাংশ ধরার চেষ্টা করতেন। নারী হিসেবে তিনি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি ও প্রত্যাশাকে প্রশ্ন করেছিলেন, যা তাঁর অনেক কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।চিও-নির কবিতায় প্রকৃতির উপস্থিতি প্রবল, কিন্তু সেখানে প্রকৃতি কেবল পটভূমি নয়, এটি মানব অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। একটি ফুল, একটি কুয়ার বালতি বা অল্প আলোর মোমবাতি—সবকিছুর মধ্যেই তিনি বৃহত্তর জীবনচক্রের প্রতিধ্বনি খুঁজে পেতেন। তাঁর কবিতার মূল দর্শন ছিল ‘প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ’। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ যখন নিজের অহং (ইগো) ত্যাগ করে প্রকৃতির দিকে তাকায়, তখনই সত্য উদ্‌ঘাটিত হয়। প্রতিটি জীবের প্রতি গভীর মমতা ছিল তাঁর। তিনি মনে করতেন, মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। এ কারণেই তাঁকে কেবল একজন নারী কবি নন; বরং একজন প্রকৃত ‘হাইকু-সিদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি কবিতাকে আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমেও পরিণত করেছিলেন।জেন বৌদ্ধধর্মের সন্ন্যাসিনী হিসেবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি জীবন ও জগতের ক্ষণস্থায়িত্ব (মুজো) ও চেতনার জাগরণের (সাতোরি) ধারণায় পরিপুষ্ট। তাঁর কবিতায় জীবনের পরিবর্তনশীলতা এবং বস্তুজগতের সচেতন পর্যবেক্ষণ দেখা যায়, যা পুরোপুরি বর্তমান মুহূর্তে থাকা বা মাইন্ডফুলনেসের প্রকাশ। তাঁর কবিতায় কবির নিজের অহংময় উপস্থিতির বদলে বিষয়বস্তুই আপন মহিমায় উদ্ভাসিত।একজন নারী হিসেবে ফুকুদা চিও-নি এমন একটি সমাজে বাস করতেন, যেখানে নারী কবিদের প্রায়ই উপেক্ষা করা হতো। তাঁর কবিতা নারীর দৈনন্দিন জীবন, শ্রম, ক্ষতি এবং অন্তর্নিহিত শক্তির এক স্বতঃস্ফূর্ত ও শক্তিশালী বিবরণ হয়ে উঠেছে। এটি ছিল একধরনের নীরব বিদ্রোহ, যা নারী কণ্ঠের মর্যাদাকে পুনর্নির্ধারণ করেছিল।ফুকুদা চিও-নি বাশো দ্বারা প্রভাবিত হলেও নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাঁর রচনাশৈলী সরল ও অলংকারবর্জিত—যা জেনদর্শনের সরলতা ও স্বাভাবিকতার ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি ন্যূনতম শব্দের মাধ্যমে একটি মুহূর্ত বা দৃশ্যের সারাংশ ধরার চেষ্টা করতেন। নারী হিসেবে তিনি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি ও প্রত্যাশাকে প্রশ্ন করেছিলেন, যা তাঁর অনেক কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।চিও-নি ১ হাজার ৭০০–১ হাজার ৮০০ হাইকু রচনা করেছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত হাইকু হলো: সকালের ফুলেকুয়োর দড়ি জড়িয়ে গেছে—পড়শির কাছে জল চাই।মর্নিং গ্লোরির লতা–ফুলসহ কুয়োর দড়িতে জড়িয়েছে, কিন্তু কবি ফুল ছিঁড়লেন না। ওটিকে তার মতো থাকতে দিলেন। নিজের প্রয়োজন অন্যভাবে মেটালেন। নিজেকে এই সংযত করাটাই কবির দর্শন। ফুলের সৌন্দর্য ও প্রয়োজনীয় কাজের মধ্যে সংঘাত প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের একটি নিখুঁত চিত্র আঁকছে। এটি ক্ষণস্থায়িত্বের স্বীকৃতি (সকালের ফুলের ক্ষণিক জীবন) এবং আত্মকেন্দ্রিকতার অভাবের (ব্যক্তিগত অসুবিধাকে গুরুত্ব না দেওয়া) প্রকাশ। ফুলের সৌন্দর্য ও অস্তিত্বকে বিঘ্নিত না করে, তিনি সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ ও সহজ সমাধান বেছে নিলেন। এটি তাঁর অসীম মমতা ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।ফুকুদা চিও-নির জীবন ও কবিতা হলো এক দুরন্ত মানবিক আত্মার জয়গান। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, সামাজিক বাধা এবং একটি পুরুষশাসিত শিল্পজগতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি তাঁর কলমকে প্রতিবাদে পরিণত করেননি, বরং এক অনন্য সৃষ্টিশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর হাইকুগুলোয় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেবল বর্ণনাই করেননি, তাতে ডুব দিয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসে মানবহৃদয়ের সর্বজনীন সত্যকে মাত্র ১৭ সিলেবলের ফ্রেমে বন্দী করেছেন।চিও-নি কেবল একজন কবিই ছিলেন না, তিনি চিত্রশিল্পীও ছিলেন। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের একটি সাংস্কৃতিক বিস্ময়। তাঁর খ্যাতি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে ১৭৬৪ সালে তিনি তাঁর অঞ্চলের শাসক মায়েদা শিগেমিচির পক্ষ থেকে কোরিয়ান প্রতিনিধিদলের জন্য উপহার প্রস্তুত করার দায়িত্ব পান। এই উপহারের অংশ হিসেবে তিনি নিজের ২১টি হাইকুকে ভিত্তি করে ২১টি শিল্পকর্ম তৈরি ও প্রদান করেছিলেন। এটি তাঁর শিল্পীসত্তারই প্রমাণ। ফুকুদা চিও-নির চিত্রকলা ও ক্যালিগ্রাফি তাঁর কবিতার মতোই স্বতন্ত্র ও দার্শনিক গভীরতায় সমৃদ্ধ। জেন বৌদ্ধধর্মের প্রতি তাঁর আকর্ষণ শুধু কবিতায় নয়, দৃশ্যশিল্পেও গভীরভাবে প্রকাশিত।চিও-নির ক্যালিগ্রাফি তাঁর সমসাময়িক পুরুষ শিল্পীদের প্রথাগত, পুরুষালি শৈলী থেকে স্বতন্ত্র ছিল। তাঁর রেখা কোমল, পরিশীলিত ও অধিক মুক্ত। সন্ন্যাস গ্রহণের পর তাঁর পরবর্তী পর্যায়ের ক্যালিগ্রাফি ‘জেন-সদৃশ সরলতা’ অর্জন করে। তাঁর হাইকুগুলোর ক্যালিগ্রাফিক রূপায়ণে তিনি একটি উল্লম্ব রেখায় বা কখনো দু-তিন লাইনে লিখতেন, যেখানে দৃশ্যগত বা স্থানিক প্রভাব অর্থের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।ফুকুদা চিও-নির জন্য চিত্রকলা, ক্যালিগ্রাফি ও কবিতা আলাদা মাধ্যম ছিল না; এগুলো ছিল একটি সমন্বিত আধ্যাত্মিক অভিব্যক্তি। জেনের সরলতা, স্বতঃস্ফূর্ততা ও গভীর উপস্থিতি এর দর্শন তাঁর শিল্পকর্মের মৌলিক ভিত্তি তৈরি করে। এ জন্যই তাঁকে কেবল একজন কবি নয়, তাঁকে ‘পরিপূর্ণতা’র একজন সিদ্ধ শিল্পী হিসেবেও গণ্য করা হয়, যিনি দৃশ্য ও শব্দের মাধ্যমে জীবন ও প্রকৃতির সারসত্তাকে ধারণ করতে পেরেছিলেন।চিও-নির প্রভাব শুধু সাহিত্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি পরবর্তী প্রজন্মের নারী কবিদের জন্য পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে নারীর কণ্ঠও হাইকুর মতো কঠোর শাস্ত্রীয় ধারায় মৌলিক ও শক্তিশালী অবদান রাখতে পারে। আজও তিনি জাপানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাইকু কবি হিসেবে সমাদৃত। বিশেষ করে নারী কাব্যচর্চায় তাঁর অবস্থান উজ্জ্বল।ফুকুদা চিও-নির জীবন ও কবিতা হলো এক দুরন্ত মানবিক আত্মার জয়গান। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, সামাজিক বাধা এবং একটি পুরুষশাসিত শিল্পজগতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি তাঁর কলমকে প্রতিবাদে পরিণত করেননি, বরং এক অনন্য সৃষ্টিশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর হাইকুগুলোয় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেবল বর্ণনাই করেননি, তাতে ডুব দিয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসে মানবহৃদয়ের সর্বজনীন সত্যকে মাত্র ১৭ সিলেবলের ফ্রেমে বন্দী করেছেন।ফুকুদা চিও-নি আজও কেবল জাপানের নন, বিশ্বের সব নারী-পুরুষের জন্য একটি প্রেরণা, যিনি প্রমাণ করে গেছেন যে প্রকৃত শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন হৃদয়ের গভীরতা ও দৃষ্টির স্বচ্ছতা। চিও-নির কবিতা আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা মানে কেবল জপ-ধ্যান নয়, বরং প্রতিদিনের অতি সাধারণ ঘটনার মধ্যে অসাধারণ সত্যকে খুঁজে পাওয়া।ঘরের ভেতর নীরবতা— কে কথা বলছে?ফু কু দা চি ও–নি র এ ক গু চ্ছ হা ই কু১ঘাসের ডগায়এক ফোঁটা শিশির—এই তো আকাশ।২ফুল ছিঁড়িনি।হাত থামিয়েইবসন্ত পেরোল।৩নীরব পথেপাতা ঝরার শব্দ—আমি হাঁটছি না।৪চাঁদের আলোয়নিজের ছায়া হারিয়েঘরে ফিরি।৫শিশির পড়ল—নাম বলার আগেইফুল ঝরে।৬জল তুলতে গিয়েফুলে আটকাল দড়ি—পাশের ঘরে যাই।৭ফড়িং উড়ে যায়।আমি দাঁড়িয়ে থাকি—আকাশ পূর্ণ।৮মন্দিরের ঘণ্টা—শব্দ থেমে গেলেশব্দ থাকে।৯পাতলা চাঁদ।কিছু বলার আগেইরাত শেষ।১০বৃষ্টি শেষেমাটির গন্ধেপুরোনো প্রার্থনা।১১শূন্য হাতেফুলের কাছে যাই—ফুল থাকে।১২শীতল বাতাস।দরজার ফাঁকেঅদৃশ্য অতিথি।১৩পাথরের ওপরছায়া বসে থাকে—সময় নয়।১৪পুকুরে চাঁদ—ধরতে গিয়েহাত ভেজে।১৫প্রার্থনার শেষেধূপ নিভে গেলেঘর জাগে।১৬একাকী পথ।পায়ের শব্দেইআমি নেই।১৭ভোরের আলো—মুছতে গিয়েঅন্ধকার থাকে।১৮পাতা ঝরে।কোনো বিদায়লিখে যায় না।১৯নুনের বেশেচুলে বাতাস—নাম ঝরে।২০সব ছুটে গেলেএকটা পাথর—আমার মতো।২১ভোরের আগেঘরের কোণেআলো বসে।২২পাতার ফাঁকেএকটুকরো আকাশ—এটাই পথ।২৩হাঁটতে হাঁটতেহঠাৎ থেমে যাই—পাখি ওড়ে।২৪নদীর ধারেনাম ভুলেজল দেখি।২৫ম্লান আলোয়প্রদীপ নয়—অপেক্ষা জ্বলে।২৬বালির ওপরঢেউয়ের লেখা—কে পড়বে?২৭ঝরা ফুল।তোলার আগেইহাত নামে।২৮কাঠের সিঁড়িরাতে কাঁপে—চাঁদ উঠেছে।২৯মন্দির উঠোনেকোনো প্রার্থনা নেই—তবু বসে থাকি।৩০মেঘ সরে গেলেপাহাড় নয়—নিশ্বাস দেখা যায়।৩১পাখির ডাক।এরপরের নীরবতায়আমি শুনি।৩২শীতের শেষেখালি কলস—জল ভরে।৩৩রান্নাঘরেআগুন নিভে গেলেরাত জ্বলে।৩৪পাতলা কুয়াশা—নিজের হাতওঅত দূরে।৩৫পথের ধারেবসন্ত বসে—কোথাও যায় না।৩৬ধূপের ধোঁয়াছাদের কাছেনাম ভোলে।৩৭পুকুরপাড়েকথা না বলেইদিন শেষ।৩৮ভিজে পা।বৃষ্টি নয়—আমি আছি।৩৯ফাঁকা ঘরেঘড়ির শব্দ—সময় নয়।৪০সব কথা শেষেএকটুখানি নীরবতা—এটাই উত্তর।৪১চাঁদ দেখছিলাম।হঠাৎ মনে হলো—কে দেখছে?৪২ঘণ্টা বাজল।শব্দ থামল—কে শুনছে?৪৩পুকুরে চাঁদ।চাঁদ নড়ল না—জল কেন কাঁপে?৪৪নাম ডাকি।কেউ ফেরে না—ডাকটা কোথায় যায়?৪৫দরজা খুলেবাতাস ঢোকে—কেউ কি এসেছে?৪৬ফুল ঝরে।আমি দেখি—দেখাটুকু কার?৪৭পা থামালাম।পথ চলতে থাকে—কে যাচ্ছে?৪৮ঘুম ভাঙল।স্বপ্ন গেল—যে জেগেছে, সে কে?৪৯ছায়া পড়েছে।আলো সরে গেলেছায়া কার?৫০ঘরের ভেতরনীরবতা—কে কথা বলছে?

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
প্রেম দেখাতে চুম্বন নয় যথেষ্ট হয়ে উঠছে খেলার মাঠ

প্রেম দেখাতে চুম্বন নয় যথেষ্ট হয়ে উঠছে খেলার মাঠ

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমভিসা বন্ধ করল লাওস

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমভিসা বন্ধ করল লাওস

বিশ্ববাজারের পথে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বাজার

বিশ্ববাজারের পথে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সইয়ের জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প বিলটিতে সই করবেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।প্রতিনিধি পরিষদে গতকাল হওয়া ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৬২ ও বিপক্ষে ১৫৯ ভোট পড়ে।এ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবের, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও আসবে। ট্রাম্পের অনুরোধে এই প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।৬১ পৃষ্ঠার এ বিল গত মাসে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে বিলটির নাম রাখা হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। গত জুলাইয়ে আকস্মিক মৃত্যুর আগে গ্রাহাম এ উদ্যোগের জোরালো সমর্থক ছিলেন।বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে চীন ও ভারতও থাকতে পারে।এ বিলের লক্ষ্য হলো, রাশিয়ার রাজস্ব আয়ের উৎসগুলো ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র এভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মস্কোর অর্থের জোগান বন্ধ করতে চায়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, যা এখনো চলছে।গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা।নির্দলীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, ‘এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা।’যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবে এবং যাদের আমদানি রাশিয়ার বার্ষিক প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম, বিলটিতে তাদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানায় সিএসআইএস।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নীতিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিল বলেছে, যদি চীন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে বিলটি ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে। এই পদক্ষেপের ভিত্তি হলো, শুল্ক আরোপ করলে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি কমাতে বাধ্য হবে’। রাশিয়ার একটি তেলের পাইপলাইনএ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবেররা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রুশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও থাকবে।ট্রাম্পের অনুরোধে এ প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এটির অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এর অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন (রিপাবলিকান—লুইজিয়ানা) গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সব সময়ই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলটির পক্ষে ছিলাম। তবে এ নিয়ে আমাদের একটি ঐকমত্য তৈরি করতে হয়েছে এবং আমার মনে হয়, এখন সেই ঐকমত্য আমাদের আছে।’রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক—চীন ও ভারতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তোড়জোড়ইউক্রেনকে সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংগঠন র‍্যাজম ফর ইউক্রেনের ড্যানিয়েল বালসন বিলটি পাস হওয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।এক বিবৃতিতে বালসন বলেন, ‘এমন এক সময় বিলটি পাস হলো, যখন রাশিয়ার কর্মকর্তারা পূর্ণমাত্রায় সেনা মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছেন এবং ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বোমাবর্ষণ জোরদার করছেন। এ বিল একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, পুতিন যত দিন ইউক্রেনের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে যাবেন, তত দিন কংগ্রেসও তাঁর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে।’ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিলে সম্মতি দিলেন ট্রাম্প, কারণ কী

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
‘এখানে এসে মনে হলো, আপনারা আমাদের জন্য ভালো কিছু ভাবেন’

‘এখানে এসে মনে হলো, আপনারা আমাদের জন্য ভালো কিছু ভাবেন’

সার পাচারের অভিযোগ, ডিলার বলছেন ‘সাজানো নাটক’

সার পাচারের অভিযোগ, ডিলার বলছেন ‘সাজানো নাটক’

প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর, অপেক্ষা শেষ ১৪৯৪২ প্রার্থীর

প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর, অপেক্ষা শেষ ১৪৯৪২ প্রার্থীর

একঝলক (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
একঝলক (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

ফুটে আছে ঝিঙে ফুল। কুমড়া টিলা, রাঙামাটি, ১৭ সেপ্টেম্বরবৃষ্টিভেজা জমিতে ঘাস খাচ্ছে মহিষ, পোকামাকড়ের আশায় পাশে সতর্ক বক। চৌধুরীবাজার, রাজনগর, মৌলভীবাজার, ১৭ সেপ্টেম্বর চরাঞ্চলে বপনের জন্য দেশি মরিচ কেটে বীজ সংগ্রহ করছেন নারীরা। ধলিরকান্দি বাঁধ এলাকা, সারিয়াকান্দি, বগুড়া, ১৭ সেপ্টেম্বরগাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে ডুমুর। আসামবস্তি, রাঙামাটি, ১৭ সেপ্টেম্বরশূন্যে দুই শালিকের লড়াই বিদ্যুতের তারে বসে দেখছে অন্য আছে শালিকেরা। রাজনগর, মৌলভীবাজার, ১৭ সেপ্টেম্বরজবা ফুলের দিকে ছুটে যাচ্ছে প্রজাপতি। কোটবাড়ী, সালমানপুর, কুমিল্লাতালগাছের শুকনা ডালে বসে আছে জোড়া মুনিয়া। কেওয়া, শ্রীপুর, গাজীপুর, ১৭ সেপ্টেম্বরমেঘলা আকাশ, বৃষ্টির শঙ্কা; তবু দলবেঁধে কাজে ছুটছেন নির্মাণশ্রমিকেরা। শালবন, রংপুর, ১৭ সেপ্টেম্বরপুনর্ব্যবহারের জন্য খুলনা থেকে বগুড়ায় নেওয়া পুরোনো বস্তা। স্টেশন সড়ক, খুলনা, ১৭ সেপ্টেম্বরছোট ছোট মূলাসহ শাক তুলে বাজারে বিক্রি করতে যাচ্ছেন এই ব্যক্তি। কামালকাছনা, রংপুর, ১৭ সেপ্টেম্বরশিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন, মৌলভীবাজার, ১৭ সেপ্টেম্বর

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
আদালতে চুক্তিপত্র দেখিয়ে জামিন, পরে বেরিয়ে এল জালিয়াতির তথ্য

আদালতে চুক্তিপত্র দেখিয়ে জামিন, পরে বেরিয়ে এল জালিয়াতির তথ্য

৫০ বছর আগের তেতো স্মৃতি উসকে বিদায় ইউনাইটেডের

৫০ বছর আগের তেতো স্মৃতি উসকে বিদায় ইউনাইটেডের

স্থিতিশীল রয়েছে কম্পিউটার পণ্যের দাম

স্থিতিশীল রয়েছে কম্পিউটার পণ্যের দাম

0 Comments