জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দোকানের মালিকানা নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই হলের অন্তত ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল উদ্বোধন হয় ২০১৭ সালে। এরপর ওই এলাকায় তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে অন্তত ১৫টি দোকান বরাদ্দ দেন। তখন অভিযোগ ওঠে প্রতি দোকান বরাদ্দে তাঁরা এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছিলেন। এরপর ২০২৪ সালে ওই এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল উদ্বোধন হয়। এই হলের সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের মালিকানায় আগে থেকে বরাদ্দকৃত কয়েকটি দোকান রয়েছে। এসব দোকানের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা চারটি দোকানের মালিকানা দাবি করেন।
বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন ধরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রেষারেষি চলছিল। এর মধ্যে আজ তাঁরা সংঘর্ষে জাড়ালেন।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গতকাল রাতে কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা পরিকল্পনা করেন তাঁদের হলের সামনের চারটি দোকানে তাঁরা তালা ঝুলিয়ে দেবেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার দুপুরের দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী রবীন্দ্র চত্বরে অবস্থান নেন। এ সময় কাজী নজরুল ইসলাম হলের একদল শিক্ষার্থী এলে তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীদের আমরা ইতিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেলে পাঠিয়েছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছি। এরপর দুই হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করব।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপ–প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে জানান, এখন পর্যন্ত ৯ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত করা ও দেশটির তেল থেকে আয় করার সম্ভাবনার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের এক-পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে একদিকে বৈঠকে অংশ নেন ট্রাম্প, অন্যদিকে গলফ দেখতে যান। সেখানে তিনি আবারও বলেন, ইরান যুদ্ধ চলতি বছরেই শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। আয়ারল্যান্ড ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে কথা বলার সময় ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ কমে যাবে। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর সোমবার আবারও তেলের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তেল ব্যবসায়ীরা। ইরান নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি কেবল ‘সঠিক চুক্তি’ করবেন। এমন কোনো চুক্তিতে তিনি যাবেন না, যেটি ‘ভালো নয়’। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান শান্তি আলোচনার জন্য ‘প্রতিনিয়ত’ যোগাযোগ করছে। তবে তেহরান অতীতে এমন দাবি নাকচ করেছে। এর মধ্যেই ইরান নিয়ে আরেকটি সম্ভাব্য পথের কথা সামনে আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানে সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে পারে। এ সময় ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তির উদাহরণ টানেন তিনি। গত আগস্টে ভেনেজুয়েলা নিয়ে ওই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বেরিয়ে আসব- যদি না আমরা সেখানে থেকে গিয়ে ভেনেজুয়েলার মতো তেল রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়া রাজস্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ওই আয় ‘অনেকবার যুদ্ধের খরচ’ পরিশোধ করেছে। সূত্র: রয়টার্স এসএএইচ
সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া অনুমোদনপত্র তৈরির মাধ্যমে গরু আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগের মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বরখাস্ত) শাহাবুদ্দীন আহমদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৭ মার্চ ‘২ লাখ গরু আমদানির নামে জালিয়াতি, ২০ কোটি টাকা প্রতারণার চেষ্টা’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল জাগো নিউজ। ওই প্রতিবেদনে ভুয়া সরকারি নথি তৈরি করে গরু আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছিল। এতে মামলার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দীন আহমদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে। আরও পড়ুন ২ লাখ গরু আমদানির নামে জালিয়াতি, ২০ কোটি টাকা প্রতারণার চেষ্টা মামলাটি রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, সরকারি অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ভুয়া আবেদন, অনুমোদনপত্র ও চুক্তিনামা তৈরি করে একটি চক্র বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি হলেও ২০১৯ সালের পর এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আবার আমদানি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে কক্সবাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন রবিন সরকারি অনুমোদনের জন্য চেষ্টা শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় পরিচিত খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। খোরশেদ একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ও যুগ্ম সচিব মফিদুল আলমের ভাই। সরকারি উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে দাবি করে খোরশেদ আলাউদ্দিনকে গরু আমদানির অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুন দুদকের মামলা / ভুয়া রেশন কার্ড তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করতেন ১১ পুলিশ সদস্য একপর্যায়ে আলাউদ্দিনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশ ও স্বাক্ষরযুক্ত পাঁচ লাখ গরু আমদানির একটি অনুমোদনপত্র তাকে দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি যাচাই করতে ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আলাউদ্দিন জানতে পারেন, এ ধরনের কোনো আবেদন সেখানে জমা পড়েনি। মামলার এজাহারে শাহাবুদ্দীন আহমদের নাম না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২ মার্চ ‘কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ২২ নম্বর বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন নিয়ন্ত্রণাধীন যাত্রাপুর বিওপির বিট খাটালটি ১৪৩১ বঙ্গাব্দের জন্য নবায়ন/পরিচালনার অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে’ একটি আবেদন প্রথমে শাহাবুদ্দীন আহমদের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গার কাছে পাঠানো হয়। পরে জাফর ইকবাল ওই আবেদনের কপি জাবেদ ও খোরশেদ আলমকে পাঠান। একই ধরনের আরেকটি আবেদন তৈরি করতে ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনকে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ৩ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য আবেদন তৈরি করে সেটির স্ক্যান কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খোরশেদ আলমকে পাঠান বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আরও পড়ুন দেশীয় পোশাক ভারতীয় বলে বিক্রি, দোকানিকে জরিমানা তদন্তে আরও বলা হয়, শাহাবুদ্দীন ও জাফর ইকবালের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তার বদলি সংক্রান্ত সুপারিশ নিয়েও যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। আলাউদ্দিন রবিনের করা শাহপরীর দ্বীপে সীমান্ত এলাকায় বিট বা খাটাল স্থাপন এবং পাঁচ লাখ গবাদিপশু আমদানির অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের একটি কপিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশ ও স্বাক্ষরযুক্ত নথি শাহাবুদ্দীনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবালের নম্বরে পাঠানো হয়। পরে সেটি খোরশেদ আলমের মাধ্যমে আলাউদ্দিনের কাছে পৌঁছায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর ১৯ মার্চ শাহাবুদ্দীনের ব্যবহৃত নম্বর থেকে জাফর ইকবালের নম্বরে জননিরাপত্তা বিভাগের সীমান্ত-৩ শাখার উপসচিব তাজিনা সরোয়ারের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি ভুয়া আদেশনামাও পাঠানো হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুন টার্কিশ ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে কিডনি চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিতো বিপুল অর্থ তদন্তে আরও জানা যায়, শাহাবুদ্দীন আহমদের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি হজরত আলী নামে এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত ছিল। ওই ব্যক্তির নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, নিজের পরিচয় আড়াল করতে শাহাবুদ্দীন অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া নথি আদান-প্রদান করতেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের মধ্যে এবং ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এ সময় ভুয়া অনুমোদনপত্র, আবেদনপত্র ও চুক্তিনামা আদান-প্রদান করা হয়। বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষরযুক্ত নথিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। তদন্তে এসব নথিতে ব্যবহৃত স্বাক্ষর প্রকৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল নেই এবং সেগুলো জাল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট উপসচিবের স্বাক্ষরও জাল বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আরও পড়ুন কর্মকর্তাদের ছবি-নম্বর দিয়ে প্রতারণা, সতর্ক করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতে জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গা, মো. আব্দুল্লাহ জাবেদ, খোরশেদ আলম, শাহাবুদ্দীন আহমদ ও মো. হযরত আলীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারত বা মিয়ানমার থেকে স্থলপথে গরু, মহিষসহ বিভিন্ন গবাদিপশু আনার পর সেগুলোর সংখ্যা নির্ধারণ, ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়ের জন্য সীমান্তবর্তী নির্দিষ্ট স্থানে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব স্থানকে সাধারণভাবে বিট, খাটাল বা বিট-খাটাল বলা হয়। এমডিএএ/এসএইচএস
চুপচাপ বসে আছেন, হঠাৎ পেটের ভেতর থেকে গড়গড়, গুড়গুড় শব্দ! আশপাশের কেউ শুনে ফেলবে কি না, তা নিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়ে যান। আবার বেশিরভাগ মানুষের ধারণা, পেট থেকে এমন শব্দ হওয়ার মানেই হলো ক্ষুধা পেয়েছে। কিন্তু বিষয়টি আসলে এতটা সহজ নয়। পেট ডাকলেই যে শরীর খাবার চাইছে, এমনটা নয়। হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও পেট ও অন্ত্র থেকে নানা ধরনের শব্দ হতে পারে। পেট থেকে শব্দ হয় আমাদের পরিপাকতন্ত্র সবসময়ই কোনো না কোনোভাবে কাজ করে চলেছে। খাবার খাওয়ার পর তা পাকস্থলী থেকে অন্ত্রের দিকে এগিয়ে যায়। এই সময় পেট ও অন্ত্রের পেশি নিয়মিত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে খাবার, তরল ও গ্যাসকে সামনে এগিয়ে নেয়। এই স্বাভাবিক নড়াচড়াকে বলা হয় পেরিস্টালসিস। খাবার ও তরলের সঙ্গে অন্ত্রে থাকা গ্যাসও যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে, তখনই তৈরি হতে পারে গড়গড় বা গুড়গুড় শব্দ। তাই খাওয়ার পরও পেট থেকে শব্দ হওয়া একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। খালি পেটে শব্দ বেশি শোনা যায় অনেক সময় খালি পেটে পেটের শব্দ বেশি জোরে শোনা যায়। এর একটি কারণ হলো, তখন পাকস্থলী ও অন্ত্রে খাবারের পরিমাণ কম থাকে। ফলে ভেতরে তৈরি হওয়া শব্দ শোষণ করার মতো উপাদানও কম থাকে। তাই অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া ও গ্যাসের চলাচলের শব্দ তুলনামূলক স্পষ্ট শোনা যেতে পারে। এ কারণেই পেট গড়গড় করলেই যে খিদে পেয়েছে, তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বেশি বাতাস গেলেও হতে পারে খাওয়ার সময় আমরা অজান্তেই কিছুটা বাতাস গিলে ফেলি। তবে খুব দ্রুত খাওয়া, খাওয়ার সময় বেশি কথা বলা, চুইংগাম চিবোনো কিংবা কার্বনেটেড পানীয় পান করার অভ্যাস থাকলে শরীরে ঢুকে পড়া বাতাসের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, অন্ত্রে কিছু খাবার ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ভাঙার সময়ও গ্যাস তৈরি হয়। সেই গ্যাস ও তরল অন্ত্রের মধ্যে চলাচল করার সময় পেট থেকে শব্দ শোনা যেতে পারে। ডাল, কিছু সবজি, বেশি আঁশযুক্ত খাবার এবং কোমল পানীয় অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাসের পরিমাণ বাড়াতে পারে। বদহজম বা কোষ্ঠকাঠিন্যেও বাড়তে পারে শব্দ শুধু ক্ষুধা বা গ্যাস নয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন কিংবা একবারে অনেক বেশি খাবার খাওয়ার কারণেও অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিবিধিতে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে পেট থেকে আগের তুলনায় বেশি শব্দ শোনা যেতে পারে। তবে শুধু পেট থেকে গড়গড় শব্দ হচ্ছে বলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি এর সঙ্গে অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ না থাকে, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ। কখন সতর্ক হবেন? তবে পেটের শব্দের সঙ্গে যদি দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দীর্ঘদিন ডায়রিয়া, অতিরিক্ত পেট ফাঁপা, মলত্যাগে সমস্যা কিংবা হঠাৎ মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথার সঙ্গে পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া এবং একইসঙ্গে গ্যাস বা মলত্যাগ একেবারেই না হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আরও পড়ুন পিৎজা খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে পেটের অস্বস্তি কমাতে কী করবেন? পেটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে খাবার ধীরে ধীরে খান এবং ভালো করে চিবিয়ে খান। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কোন খাবার খেলে আপনার গ্যাস বা পেটের অস্বস্তি বাড়ে, সেটিও খেয়াল রাখতে পারেন। আরও পড়ুন কান-নাক ফোঁড়ানোর পর দ্রুত শুকাতে যত্ন নেবেন যেভাবে পেটের গড়গড় শব্দ সবসময় ক্ষুধার সংকেত নয়। অনেক সময় আপনার শরীরের ভেতরের পরিপাকতন্ত্র শুধু নিজের স্বাভাবিক কাজটাই করছে! সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, ইন্ডিয়া টুডে এসএকেওয়াই