জাতীয়

আইনজীবীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, জমি দখলের চেষ্টা

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
আইনজীবীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, জমি দখলের চেষ্টা
আইনজীবীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, জমি দখলের চেষ্টা

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না দেওয়ায় জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগে করা নালিশি দরখাস্তটি মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে নালিশি দরখাস্তটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা এ আদেশ দেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।

আদালতে দাখিল করা নালিশি দরখাস্তে নাদিম মাহমুদ অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েক দফায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে ও তার পরিবারকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ এবং জমি দখলের হুমকি দেওয়া হয়। পরে একদল লোক তার মালিকানাধীন ২৫ শতাংশ জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা ও মাটি কেটে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন

‘হয় ১৩ লাখ টাকা চাঁদা দে, না হয় এলাকা ছাড়’

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খালপাড় এলাকায় বাদীর বাড়ির সামনে তার পথরোধ করেন কয়েকজন। এ সময় ১ ও ২ নম্বর আসামির নির্দেশে ৩ থেকে ৬ নম্বর আসামি তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না দিলে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ ও জবরদখলের হুমকি দেওয়া হয়।

এরপর গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ৭ থেকে ৯ নম্বর আসামি একইভাবে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা না দিলে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করার ভয়ভীতি দেখানো হয়।

সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১ থেকে ৯ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি বাদীর মালিকানাধীন জমিতে প্রবেশ করেন বলে নালিশি দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, তার বাবা ও জেঠার নামে থাকা সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া ওই জমির পরিমাণ ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে আরএস খতিয়ান নম্বর ১৩৪৯ এবং আরএস দাগ নম্বর ৩২৪২-এর ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ করে মোট ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে। দলিল নম্বর ৫৬২২ ও ৫৬২০, যার তারিখ ১৭ অক্টোবর ১৯৮৮।

নালিশি দরখাস্তে আরও বলা হয়, আসামিরা ওই জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা ও মাটি কাটতে থাকেন এবং সেখানে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। বাদীর পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীরা এতে বাধা দিলে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিদের কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময়ও আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে দাবি করেন বাদী।

এ ঘটনার দিন ৫ সেপ্টেম্বর থানায় গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলে নালিশি দরখাস্তে উল্লেখ করেন নাদিম মাহমুদ। পরে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে আদালতে মামলা করতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে তিনি জানান।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নাদিম মাহমুদের করা নালিশি দরখাস্তে মো. জনি (৩৮), মো. রুবেল (৩৫), মো. দেলোয়ার (৪০), মো. বাবুল (৪২), মো. আবু তাহের (৪৫), মো. আলীম (৪০), মো. নূর হোসেন (৪৫), মো. ইমান আলী এবং মো. ইয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া কানা শুকুর ও অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপের’ হাল ধরেন শাহীন, চলছিল নতুন সদস্য সংগ্রহ

অভিযোগে বলা হয়েছে, জনি ও রুবেল উভয়ের বাবা মৃত দীন ইসলাম। দেলোয়ারের বাবা মৃত লাল মিয়া। বাবুল ও আবু তাহেরের বাবা মৃত মোগরব আলী এবং আলীমের বাবা আব্দুল মজিদ। তাদের সবার ঠিকানা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পশ্চিমদী এলাকার বটতলা গ্রামে। নূর হোসেনের বাবা মৃত সোনা মিয়া এবং ইমান আলীর বাবা মফি মিয়া। ইয়ার হোসেনের বাবা মৃত আব্দুল আলী।

আদালতের নির্দেশ

নালিশি দরখাস্তের সঙ্গে দেওয়া বাদীর জবানবন্দি ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত এ নির্দেশ দেন।

আদেশে আদালত বলেন, বাদীর জবানবন্দি এবং দাখিল করা অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। সার্বিক পর্যালোচনার পর বাদীর আনা অভিযোগ আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হলো।

মামলাটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৮৫, ৪২৭, ৪৪৭, ১৪৩, ১৪৭, ১৪৯, ৫০৬(২), ১২০-বি ও ৩৪ ধারায় দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।

বাদীপক্ষ আদালতের কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, তাদের জেলহাজতে পাঠানো, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও আলামত সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে অভিযোগের বিচার ও আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছে।

তবে নালিশি দরখাস্তে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এমডিএএ/ইএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
জাবিতে দোকান দখল নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯
জাবিতে দোকান দখল নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দোকানের দখল নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই হলের অন্তত নয়জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন এলাকার সামনে ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে থাকা ছয়টি দোকানের মালিকানাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ চলছে। দোকানগুলো নজরুল হলের সামনে হওয়ায় ওই হলের শিক্ষার্থীরা দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছিল। অন্যদিকে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা দোকানগুলোর মালিকানা ছাড়তে রাজি ছিলেন না। একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা হলের সামনে চারটি দোকানে তালা মারার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে সোমবার দুপুরের দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল চত্বরে অবস্থান নেন। সেই সময় কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি হয় শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। জাবিতে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত এক শিক্ষার্থী/ ছবি: জাগো নিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বলেন, ‌‘হতাহতের ঘটনায় এ পর্যন্ত নয়জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুইজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন।’ সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয় বলেন, ‘দোকানের মালিকানা নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। খবর পেয়ে প্রশাসন সিন্ডিকেট সভা চলাকালীনই তৎপর হয় এবং সমঝোতার চেষ্টা শুরু করে। সকাল থেকে দুই হলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হলেও কাজী নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা শেষ বৈঠকে যেতে গড়িমসি করে। এর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের উসকানিতে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে প্রথমে দোকানে ভাঙচুর, পরে হাতাহাতিতে কয়েকজন আহত হন। এসময় এক শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পান, পরে তাকে মেডিকেলে পাঠানো হয়।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। দুই হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন চাইছে, শিক্ষার্থীরা যেন নিজ নিজ হলে ফিরে যায়। আলোচনার পর আমরা সিদ্ধান্তে যেতে পারবো।’ মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এসজেডএইচ/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
রিট খারিজ, দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ভবন নির্মাণে বাধা নেই

রিট খারিজ, দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ভবন নির্মাণে বাধা নেই

মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি, ৬৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়

মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি, ৬৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়

আরও চড়া দামে এলএনজি কিনছে সরকার, প্রতি ইউনিট ২৯.৭৯৫ ডলার

আরও চড়া দামে এলএনজি কিনছে সরকার, প্রতি ইউনিট ২৯.৭৯৫ ডলার

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও মালেকের ছবি: জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও মালেকের ছবি: জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এ ছাড়া আরও দুটি বিষয়ে তদন্ত করা হবে ডাকসুর বিরুদ্ধে। সেগুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু এবং অনুমতি ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন।ডাকসু সংগ্রহশালায় রাখা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন এক শিক্ষার্থীসার্বিক বিষয় নিয়ে আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি বক্তব্য দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সংবাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ও বিধিমালার চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর ধারার নোট অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে গ্রহণ করবে। কিন্তু ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন–সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনোরূপ অনুমতি বা আলোচনা করে স্থাপন করেনি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এখতিয়ারবহির্ভূত।ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন এক শিক্ষার্থীবিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় এমন ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ ছাড়া ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষক মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদ নিজেদের উদ্যোগে পৃথক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না। একই সঙ্গে এই ওয়েবসাইট চালু করে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্যও বাইরে আনা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ।ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি সংযুক্ত করার প্রতিবাদে গোলাম আযমকে অপমানের ছবি লাগাল ছাত্র ফেডারেশনডাকসু সংগ্রহশালায় যেখানে মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা হয়েছিল সেখানে আজ সোমবার বিকেলে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি টাঙিয়েছেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতা–কর্মীরাবিজ্ঞপ্তি বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও তার সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই পরিচালিত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ছবি লাগানো বা ডাকসুর নেওয়া এই কার্যক্রমগুলোর বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না।তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
আগের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য কাবিননামায় যুক্ত করতে ফরম হালনাগাদ কেন নয়: হাইকোর্ট

আগের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য কাবিননামায় যুক্ত করতে ফরম হালনাগাদ কেন নয়: হাইকোর্ট

ঋণখেলাপি হওয়ায় পদ হারালেন রিহ্যাব সভাপতি

ঋণখেলাপি হওয়ায় পদ হারালেন রিহ্যাব সভাপতি

জাপানের জনপ্রিয় পর্নো তারকার মরদেহ উদ্ধার

জাপানের জনপ্রিয় পর্নো তারকার মরদেহ উদ্ধার

৫০ ঘণ্টা ব্যাটারি, এআই নয়েজ ক্যানসেলেশনসহ এলো এই ইয়ারবাডস
৫০ ঘণ্টা ব্যাটারি, এআই নয়েজ ক্যানসেলেশনসহ এলো এই ইয়ারবাডস

স্মার্টফোনের পাশাপাশি অডিও ডিভাইসের বাজারেও ফের জোরালোভাবে পা রাখছে ভিভো। সংস্থাটি বাজারে লঞ্চ করেছে নতুন ভিভো বাডস ট্রু ওয়্যারলেস স্টেরিও ইয়ারবাড। দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপের পাশাপাশি এতে রয়েছে স্থানিক অডিও, এআই-ভিত্তিক কল নয়েজ ক্যানসেলেশন, মাল্টিপয়েন্ট কানেক্টিভিটি এবং কম লেটেন্সির মতো ফিচার। ফলে বাজেটের মধ্যে নতুন ট্রু ওয়্যারলেস স্টেরিও খুঁজছেন এমন ব্যবহারকারীদের নজর কাড়তে পারে এই ডিভাইস। অডিওর জন্য ভিভো বাডসে দেওয়া হয়েছে ১০এমএম ডায়নামিক ড্রাইভার। এর সঙ্গে রয়েছে ডিপএক্স ৪.০ সাউন্ড ইফেক্ট। ব্যবহারকারীরা মেগা বাস, স্পষ্ট কণ্ঠস্বর, পরিষ্কার উচ্চ পিচ এবং অডিওবুক শোনা-এর মতো বিভিন্ন সাউন্ড মোড বেছে নিতে পারবেন। রয়েছে ১০-ব্যান্ড ইকুয়ালাইজারও, যার মাধ্যমে নিজের পছন্দ অনুযায়ী অডিও টিউন করা সম্ভব। স্থানিক অডিও ফিচারটি আরও ইমারসিভ সাউন্ডের অভিজ্ঞতা দিতে পারে। এতে থিয়েটার, কনসার্ট হল, স্টুডিও এবং সরাসরি কনসার্ট-এই চারটি মোড রয়েছে। তবে এই ফিচারগুলো ব্যবহারের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিভো ও আইকিউওও স্মার্টফোন প্রয়োজন হতে পারে। আরও পড়ুন ৫০ ঘণ্টা ব্যাটারি ও এআই ফিচারসহ আসছে ভিভোর নতুন ইয়ারবাড কলের মান ভালো রাখার জন্য ভিভো বাডসে রয়েছে মোট চারটি মাইক্রোফোন প্রতিটি ইয়ারবাডে দুটি করে। বাতাসের শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে উইন্ড নয়েজ রিডাকশন চেম্বার-ও। ফলে ব্যস্ত জায়গা কিংবা বাইরে ফোনে কথা বলার সময় পরিষ্কার ভয়েস পাওয়ার চেষ্টা করেছে সংস্থাটি। গেম খেলার সময় শব্দ ও অ্যাকশনের মধ্যে দেরি হলে সমস্যা হতে পারে। ভিভো বাডসে তাই দেওয়া হয়েছে ৪২এম এস পর্যন্ত গেমিং লেটেন্সি, যদিও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিভো ও আইকিউওও ডিভাইসের সঙ্গে কাজ করে। কানেক্টিভিটির জন্য রয়েছে ব্লুটুথ ৬.১ এবং একই সময়ে দুটি ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ রাখার মাল্টিপয়েন্ট সাপোর্ট। ব্যাটারি এই ইয়ারবাডের অন্যতম বড় আকর্ষণ। ভিভোর দাবি অনুযায়ী, চার্জিং কেসসহ বাডস ৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। শুধু ইয়ারবাডে একবার চার্জে পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা মিউজিক প্লেব্যাক। ১০ মিনিট চার্জ করলেই নাকি মিলবে প্রায় চার ঘণ্টা পর্যন্ত প্লেব্যাক। কলের ক্ষেত্রে এক চার্জে ব্যাটারি ব্যাকআপ সর্বোচ্চ সাত ঘণ্টা পর্যন্ত বলে জানিয়েছে সংস্থা। প্রতিটি ইয়ারবাডের ওজন প্রায় ৩.৮ গ্রাম। বিভিন্ন মাপের ইয়ারটিপও থাকছে। ধুলো ও পানির ছিটা থেকে সুরক্ষার জন্য ইয়ারবাডে রয়েছে IP54 রেটিং। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রেটিং শুধু ইয়ারবাডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, চার্জিং কেসের ক্ষেত্রে নয়। আরও পড়ুন নতুন রঙে ইয়ারবাড আনছে নাথিং, দাম থাকছে আগের মতোই ভিভো বাডসে রয়েছে ফাস্ট পেয়ার, ফাইন্ড মাই ভিভো বাডস, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং রিমোট ক্যামেরা কন্ট্রোলের মতো অতিরিক্ত সুবিধাও। সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিভো স্মার্টফোনে জোড়া লাগানোর সময় দেখা যেতে পারে পোষ্য-থিমের বিশেষ অ্যানিমেশন। অন্য ব্র্যান্ডের ফোনেও ইয়ারবাডটি ব্যবহার করা যাবে, যদিও কিছু ফিচারের জন্য ভিভো বা আইকিউওও ফোন প্রয়োজন হবে। ভারতে ভিভো বাডসের দাম রাখা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ রুপি। ডিভাইসটি পাওয়া যাচ্ছে দুটি রঙে ব্যাসল্ট কালো এবং নীলগিরি সবুজ। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
জিন্নাহর ছবি টাঙানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি

জিন্নাহর ছবি টাঙানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি

মা হারিয়ে কাঁদছেন চিন্ময় প্রভু, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে ওমর সানির চাওয়া

মা হারিয়ে কাঁদছেন চিন্ময় প্রভু, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে ওমর সানির চাওয়া

চাঁদপুর মাছঘাটে পচা ইলিশ বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

চাঁদপুর মাছঘাটে পচা ইলিশ বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

0 Comments