জাতীয়

উপদেষ্টার সই জাল করে গরু আমদানির অনুমোদন, কারাগারে অতিরিক্ত এসপি

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
উপদেষ্টার সই জাল করে গরু আমদানির অনুমোদন, কারাগারে অতিরিক্ত এসপি
উপদেষ্টার সই জাল করে গরু আমদানির অনুমোদন, কারাগারে অতিরিক্ত এসপি

সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া অনুমোদনপত্র তৈরির মাধ্যমে গরু আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগের মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বরখাস্ত) শাহাবুদ্দীন আহমদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৭ মার্চ ‘২ লাখ গরু আমদানির নামে জালিয়াতি, ২০ কোটি টাকা প্রতারণার চেষ্টা’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল জাগো নিউজ। ওই প্রতিবেদনে ভুয়া সরকারি নথি তৈরি করে গরু আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছিল। এতে মামলার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দীন আহমদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে।

আরও পড়ুন

২ লাখ গরু আমদানির নামে জালিয়াতি, ২০ কোটি টাকা প্রতারণার চেষ্টা

মামলাটি রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, সরকারি অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ভুয়া আবেদন, অনুমোদনপত্র ও চুক্তিনামা তৈরি করে একটি চক্র বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি হলেও ২০১৯ সালের পর এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আবার আমদানি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে কক্সবাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন রবিন সরকারি অনুমোদনের জন্য চেষ্টা শুরু করেন।

এ সময় স্থানীয় পরিচিত খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। খোরশেদ একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ও যুগ্ম সচিব মফিদুল আলমের ভাই। সরকারি উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে দাবি করে খোরশেদ আলাউদ্দিনকে গরু আমদানির অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

দুদকের মামলা / ভুয়া রেশন কার্ড তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করতেন ১১ পুলিশ সদস্য

একপর্যায়ে আলাউদ্দিনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশ ও স্বাক্ষরযুক্ত পাঁচ লাখ গরু আমদানির একটি অনুমোদনপত্র তাকে দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি যাচাই করতে ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আলাউদ্দিন জানতে পারেন, এ ধরনের কোনো আবেদন সেখানে জমা পড়েনি।

মামলার এজাহারে শাহাবুদ্দীন আহমদের নাম না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২ মার্চ ‘কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ২২ নম্বর বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন নিয়ন্ত্রণাধীন যাত্রাপুর বিওপির বিট খাটালটি ১৪৩১ বঙ্গাব্দের জন্য নবায়ন/পরিচালনার অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে’ একটি আবেদন প্রথমে শাহাবুদ্দীন আহমদের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গার কাছে পাঠানো হয়।

পরে জাফর ইকবাল ওই আবেদনের কপি জাবেদ ও খোরশেদ আলমকে পাঠান। একই ধরনের আরেকটি আবেদন তৈরি করতে ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনকে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ৩ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য আবেদন তৈরি করে সেটির স্ক্যান কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খোরশেদ আলমকে পাঠান বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

দেশীয় পোশাক ভারতীয় বলে বিক্রি, দোকানিকে জরিমানা

তদন্তে আরও বলা হয়, শাহাবুদ্দীন ও জাফর ইকবালের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তার বদলি সংক্রান্ত সুপারিশ নিয়েও যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

আলাউদ্দিন রবিনের করা শাহপরীর দ্বীপে সীমান্ত এলাকায় বিট বা খাটাল স্থাপন এবং পাঁচ লাখ গবাদিপশু আমদানির অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের একটি কপিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশ ও স্বাক্ষরযুক্ত নথি শাহাবুদ্দীনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবালের নম্বরে পাঠানো হয়। পরে সেটি খোরশেদ আলমের মাধ্যমে আলাউদ্দিনের কাছে পৌঁছায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এরপর ১৯ মার্চ শাহাবুদ্দীনের ব্যবহৃত নম্বর থেকে জাফর ইকবালের নম্বরে জননিরাপত্তা বিভাগের সীমান্ত-৩ শাখার উপসচিব তাজিনা সরোয়ারের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি ভুয়া আদেশনামাও পাঠানো হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

টার্কিশ ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে কিডনি চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিতো বিপুল অর্থ

তদন্তে আরও জানা যায়, শাহাবুদ্দীন আহমদের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি হজরত আলী নামে এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত ছিল। ওই ব্যক্তির নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, নিজের পরিচয় আড়াল করতে শাহাবুদ্দীন অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া নথি আদান-প্রদান করতেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের মধ্যে এবং ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এ সময় ভুয়া অনুমোদনপত্র, আবেদনপত্র ও চুক্তিনামা আদান-প্রদান করা হয়। বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষরযুক্ত নথিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়।

তদন্তে এসব নথিতে ব্যবহৃত স্বাক্ষর প্রকৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল নেই এবং সেগুলো জাল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট উপসচিবের স্বাক্ষরও জাল বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

কর্মকর্তাদের ছবি-নম্বর দিয়ে প্রতারণা, সতর্ক করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

তদন্তে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতে জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গা, মো. আব্দুল্লাহ জাবেদ, খোরশেদ আলম, শাহাবুদ্দীন আহমদ ও মো. হযরত আলীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে ভারত বা মিয়ানমার থেকে স্থলপথে গরু, মহিষসহ বিভিন্ন গবাদিপশু আনার পর সেগুলোর সংখ্যা নির্ধারণ, ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়ের জন্য সীমান্তবর্তী নির্দিষ্ট স্থানে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব স্থানকে সাধারণভাবে বিট, খাটাল বা বিট-খাটাল বলা হয়।

এমডিএএ/এসএইচএস

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি মামলায় স্বেচ্ছাসেবক নেতা গ্রেফতার
৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি মামলায় স্বেচ্ছাসেবক নেতা গ্রেফতার

বরগুনার পাথরঘাটায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এনামুল হক ইমুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় শামীম নামে তার এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ছোনবুনীয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা ফোরকান আহমেদ পাঁচ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে পাথরঘাটা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এনামুল হক ইমুকে আসামি করা হয়। মামলার পর রোববার দিনগত গভীর রাতে কালমেঘা ইউনিয়নের ছোনবুনীয়া এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে এনামুল হক ইমু ও শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। আরও পড়ুন ‘হয় ১৩ লাখ টাকা চাঁদা দে, না হয় এলাকা ছাড়’ এ বিষয়ে বরগুনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাজিবুল ইসলাম সোহেল জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘চাঁদাবাজির মামলাটি কে করেছে এখন পর্যন্ত জানতে পারেনি। মামলার কপিটি পেলে বোঝা যাবে ঘটনাটি সত্যি, না ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ করেছে।’ ওসি আব্দুল আলীম জাগো নিউজকে বলেন, চাঁদাবাজির মামলায় এনামুল হক ইমু এজাহারভুক্ত আসামি। মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে ও শামীমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নুরুল আহাদ অনিক/এসআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বেসন নারকেল বরফির রেসিপি

বেসন নারকেল বরফির রেসিপি

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে শনাক্ত করা রহস্যময় সংকেত আসলে কী

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে শনাক্ত করা রহস্যময় সংকেত আসলে কী

এক মঞ্চে মোদি-সি-পুতিন, ব্রিকসে কার লাভ কতটা?

এক মঞ্চে মোদি-সি-পুতিন, ব্রিকসে কার লাভ কতটা?

বিনা মূল্যের ওষুধ: অর্থ নয়, সদিচ্ছার অভাব
বিনা মূল্যের ওষুধ: অর্থ নয়, সদিচ্ছার অভাব

ফার্মাসিউটিক্যাল-সংক্রান্ত প্রায় প্রতিটি সেমিনারেই একটি পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করা হয়; দেশে ওষুধের মোট ব্যয়ের ৬০ শতাংশই মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়। তবে যে বিষয়টি বলা হয় না, তা হলো জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, যক্ষ্মার ওষুধসহ আরও কিছু ওষুধ সরকার বিনা মূল্যে সরবরাহ করে, তা না হলে প্রকৃত অর্থে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয়ের হার আরও বেশি হতো।খুচরা পর্যায়ে ওষুধের জন্য নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয়ের হার সম্ভবত প্রায় ১০০ শতাংশ। তাই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—ওষুধের পেছনে ব্যয় কি মানুষের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ তৈরি করছে?প্রথম দেখায় চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক। দেশের খুচরা ওষুধের বাজারের আকার বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। কিন্তু সামষ্টিক পরিসংখ্যান কেবল শিরোনাম তৈরি করে। প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে যেতে হবে আরও সূক্ষ্ম পর্যায়ে। মাথাপিছু হিসাবে দেশে একজন মানুষের বছরে ওষুধের পেছনে গড় ব্যয় ২ হাজার ৮১৭ টাকা। অর্থাৎ মাসে মাত্র ২৩৫ টাকা। যেখানে আমাদের মাসিক মাথাপিছু আয় প্রায় ৩১ হাজার টাকা, সেখানে ওষুধের পেছনে এই ব্যয়কে খুব একটা উদ্বেগজনক মনে না-ও হতে পারে।ওষুধ শিল্পে সংস্কার: চীন ও ভারত যেভাবে সাফল্য পেয়েছে, আমরা কেন পারব নাকিন্তু গড় হিসাব অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে বেশি কিছু আড়াল করে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ তরুণ এবং তাঁদের ওষুধের পেছনে ব্যয় প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে তাঁদের ব্যয়ও গড় হিসাবকে নিচে নামিয়ে দেয়। এর অর্থ হলো, যাঁদের নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়, তাঁদের প্রকৃত আর্থিক বোঝা গড় হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি।সম্পদের অভাবই যে মূল সমস্যা, তা বলা কঠিন। একটি সরকার যদি কয়েক ডজন অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ কিনতে পারে, তাহলে একটি উড়োজাহাজের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হয়, সেই অর্থ দিয়েই অনেক রোগের ওষুধ বিনা মূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করা সম্ভবতবে ওষুধের পেছনে সব ধরনের ব্যয়ই কি বোঝা? কয়েকটি উদাহরণ দেখা যাক। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধ ইসোমিপ্রাজল। এক মাসের জন্য এর দাম মাত্র ২১০ টাকা। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ লেভোথাইরক্সিনের মাসিক খরচও অবিশ্বাস্যভাবে কম, মাত্র ৬৬ টাকা। এমনকি ব্যয়বহুল অ্যান্টিবায়োটিক লাইনেজোলিডের চিকিৎসায় খরচ হয় ২ হাজার ৩৮০ টাকা, কিন্তু সেই ব্যয়টি হচ্ছে মাত্র একবার। সুতরাং সব ওষুধের খরচকে আর্থিক বোঝা বলা যায় না।তবে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে এই বোঝা বাস্তব। যেমন একজন ডায়াবেটিস রোগীর উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের সমস্যাও থাকলে শুধু ওষুধের পেছনেই মাসে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অর্থাৎ গড় আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ।ক্যানসার শুধু মানুষের জীবনই কেড়ে নেয় না; অনেক সময় তাঁদের সঞ্চয় ও সম্পদও শেষ করে দেয়। ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওসিমার্টিনিবের বিদেশি ব্র্যান্ডের একটি ট্যাবলেটের দাম ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে স্থানীয় বিকল্পের দাম মাত্র ৫০০ টাকা। তারপরও গড় আয়ের একজন মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যায় এসব ওষুধ।তাই ওষুধের জন্য ৬০ শতাংশ নিজস্ব ব্যয়ের পরিসংখ্যানটি বারবার উচ্চারণ করা সমস্যাটিকে শুধু ধোঁয়াশাই করে না, বরং বাস্তবসম্মত সমাধানের দিক থেকেও আমাদের মনোযোগ সরিয়ে দেয়। কার্যকর উদ্যোগ নিতে হলে এমন রোগের শ্রেণিগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেখানে ওষুধের খরচ মানুষের জন্য সত্যিকার অর্থে অসহনীয় হয়ে উঠেছে।সবার জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন মডেল বাস্তবায়নে যে ধরনের জটিল প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রয়োজন, বাংলাদেশে তা এখনো নেই। তবে আমাদের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, এমন মানুষের কাছে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।সম্পদের অভাবই যে মূল সমস্যা, তা বলা কঠিন। একটি সরকার যদি কয়েক ডজন অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ কিনতে পারে, তাহলে একটি উড়োজাহাজের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হয়, সেই অর্থ দিয়েই অনেক রোগের ওষুধ বিনা মূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ সম্ভব, যেখানে শুধু অর্থের অভাবে কোনো মানুষ ক্যানসার, ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় মারা যাবেন না।শেষ পর্যন্ত বিষয়টি অর্থের নয়। বিষয়টি সদিচ্ছার।কায়সার কবির সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রেনাটা পিএলসি

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
স্যুটকেসে নারীর লাশ : বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় বাসায় এনে হত্যা

স্যুটকেসে নারীর লাশ : বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় বাসায় এনে হত্যা

জাবিতে দোকান দখল নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯

জাবিতে দোকান দখল নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯

রিট খারিজ, দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ভবন নির্মাণে বাধা নেই

রিট খারিজ, দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ভবন নির্মাণে বাধা নেই

মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি, ৬৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়
মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি, ৬৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়

মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্য আটক করে কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর জানায়, গত ২৯ জুলাই আমদানিকারক কাহফ করপোরেশন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের আইসিডিতে ৩৭ মেট্রিক টন হিট ট্রান্সফার পেপার এবং ১০ মেট্রিক টন পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার ঘোষণা দিয়ে বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) দাখিল করে। ঘোষিত পণ্যের ভিত্তিতে শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে শুল্ক-করাদির পরিমাণ ৫৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমদানি পণ্যচালানটি লক করে কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ঘোষিত ৩৭ মেট্রিক টন হিট ট্রান্সফার পেপারের পরিবর্তে ১৯ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন এবং ঘোষিত ১০ মেট্রিক টন পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানারের পরিবর্তে ২৬ দশমিক ৭৯ মেট্রিক টন পণ্য পাওয়া যায়। এনবিআর জানায়, মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে পণ্য আমদানির বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর জরিমানাসহ শুল্ক-করাদির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৩২১ টাকা। ফলে ঘোষিত পণ্যের বিপরীতে পূর্বনির্ধারিত রাজস্বের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এসএম/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
আরও চড়া দামে এলএনজি কিনছে সরকার, প্রতি ইউনিট ২৯.৭৯৫ ডলার

আরও চড়া দামে এলএনজি কিনছে সরকার, প্রতি ইউনিট ২৯.৭৯৫ ডলার

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

আগের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য কাবিননামায় যুক্ত করতে ফরম হালনাগাদ কেন নয়: হাইকোর্ট

আগের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য কাবিননামায় যুক্ত করতে ফরম হালনাগাদ কেন নয়: হাইকোর্ট

0 Comments