জাতীয়

বুকে গুলি লেগে ওপর পাশ দিয়ে বের হয়ে যায় রাজুর

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বুকে গুলি লেগে ওপর পাশ দিয়ে বের হয়ে যায় রাজুর
বুকে গুলি লেগে ওপর পাশ দিয়ে বের হয়ে যায় রাজুর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলার ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন সাক্ষী মামুন ফরাজী।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে মামুন ফরাজী বলেন, এক আন্দোলনকারীর হাতে গুলি লেগে দুটি আঙুল খুলে যায়। আরেকটি গুলি তার বুকে লেগে পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে যায়।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাইয়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মামুন ফরাজী বলেন, আল্লাহ করিম মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে বাঁশবাড়ি এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেই। দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ, আনসার বাহিনী, র‌্যাব, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের লোকজন আন্দোলনকারীদের ওপর মুহুর্মুহু গুলি করতে থাকে।

আরও পড়ুন

‘জিল্লুর শেখের লাশ আন্দোলনকারীরা ইউনিভার্সিটির ভেতরে নিয়ে আসে’

তিনি জানান, তখন তারা দৌড়ে জননী কুরিয়ার সার্ভিসেসের গলিতে আশ্রয় নেন। আন্দোলনকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় কয়েকজন ওরিয়েন্টাল কোভন নামের একটি আবাসিক ভবনের গেটে আশ্রয় নেন। সেখানে আশ্রয় নেওয়া এক আন্দোলনকারীকে একজন পুলিশ ও একজন আনসার সদস্য টেনে বের করে গুলি করেন বলে দাবি করেন তিনি।

মামুন বলেন, গুলিবিদ্ধ ওই ব্যক্তিকে জননী কুরিয়ার সার্ভিসেসের সামনে নেওয়া হলে দেখা যায়- তার পা ও পেটে গুলি লেগেছে। পেট থেকে রক্তমাখা ভাত বের হচ্ছিল। পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তির নাম রাজু এবং ওই দিনই তার মৃত্যু হয়। মামুন বলেন, রাজুকে গুলি করা আনসার সদস্যের নাম ওমর ফারুক।

ওই দিন আছরের নামাজের পর আল্লাহ করিম মসজিদের কাছে বছিলা তিন রাস্তার মাঝামাঝি এলাকার ঘটনার বর্ণনাও দেন মামুন।

আরও পড়ুন

ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি / শামীম ওসমানের ছোড়া গুলি পায়ে লাগে, চিকিৎসা হয়নি নারায়ণগঞ্জে

তার দাবি, বিপরীত দিক থেকে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করতে থাকেন। র‌্যাব হেলিকপ্টার থেকেও ওপর থেকে গুলি করছিল বলে জবানবন্দিতে বলেন তিনি।

মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গুলিতে অসংখ্য আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

মামুন বলেন, বিকেলে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের গুলির আধিক্য বেড়ে যাওয়ায় রাস্তায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক আন্দোলনকারী তখন বিভিন্ন গলিতে আশ্রয় নেন। তিনি মেহজাবিন বিউটি পার্লারের সামনে একটি বিদ্যুতের খুঁটির পেছনে আশ্রয় নেন।

সেখান থেকে তিনি দেখতে পান, একজন আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েছেন। কাছে গিয়ে দেখা যায়- একটি গুলি ওই ব্যক্তির হাতে লেগে দুটি আঙুল খুলে গেছে এবং আরেকটি গুলি বুকে লেগে পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে। তার রক্তে নিজের পরনের কাপড়ও ভিজে যায়।

আরও পড়ুন

জুলাইযোদ্ধার জবানবন্দি / পিস্তল ঠেকিয়ে পুলিশ বলে, ‘পেছনে চলে যা, নয়তো গুলি করবো’

মামুন বলেন, ওই ব্যক্তিকে গলির ভেতরে রনি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা দেওয়ার সময় নিজের মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও করেন। পরে ভিডিওটি ওই ব্যক্তির স্ত্রীর কাছে দেন। এরপর তাকে রিকশায় করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিজে আহত হওয়ার ঘটনাও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন মামুন ফরাজী। তিনি বলেন, ২২ জুলাই মোহাম্মদপুর ফুটওভার ব্রিজের নিচে বিকেল ৪টার দিকে টিয়ারশেলে আহত হন তিনি। এসময় তার রক্তবমি হয়েছিল। এরপর তিনি আর আন্দোলনে অংশ নেননি।

জবানবন্দির শেষ পর্যায়ে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা, ফজলে নূর তাপস ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের নির্দেশে এবং পুলিশের হাবিবুর রহমান, প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপ্লব কুমার সরকার ও রৌশানুল হকের সহযোগিতায় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের লোকজনকে দায়ী করেন মামুন ফরাজী। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

মোহাম্মদপুরে হত্যার ঘটনায় ২৮ আসামির মধ্যে চারজন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী। বাকিরা পলাতক।

আরও পড়ুন

‘থানায় এসে জানতে পারি তাদের পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে’

মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ওই দিনের ঘটনায় ফারহান ফাইয়াজ, মো. মাহিন মিয়া ও মো. রনিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

পরদিন ১৯ জুলাই আল শাহরিয়ার হোসেন, মো. রাজু আহমেদ, মাহামুদুর রহমান সৈকত, মো. ইসমাইল, মো. জসিম উদ্দিন ও জোবায়েদ হোসেন ইমনকে হত্যার অভিযোগও মামলায় আনা হয়।

এফএইচ/বিএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ৬
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে এক শিশুসহ ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন হাজেরা বেগম (৫০), শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) ও কুলসুমা (৩৫)। এ ছাড়া অজ্ঞাত এক শিশুও নিহত হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক জাকিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় সম্পর্কে সব তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি নষ্ট লিফটে আগুনের সূত্রপাত হয়। লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় ছিল এবং এর ভেতরে ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের একটি ইউনিটসহ মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরও পড়ুন ময়মনসিংহ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড হাসপাতালের স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখানে ময়লা ও আবর্জনাও জমে ছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর ধোঁয়া ও আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নতুন ভবনে থাকা রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেন। এ সময় সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি ও পদদলনের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং পরে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা মানুষজন একসঙ্গে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এতে সিঁড়ি ও ভবনের বের হওয়ার পথে প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়। আতঙ্কিত অনেকে দ্রুত বের হতে গিয়ে পড়ে যান। তাদের ওপর দিয়ে অন্যরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে পদদলনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এতে হাসপাতালের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হোসাইন সুলভ/এএমএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ডাকসু সংগ্রহশালায় কী এল, কী বাদ গেল

ডাকসু সংগ্রহশালায় কী এল, কী বাদ গেল

৭০ বছরের সংসারে অভাবের হানা, শয্যাশায়ী স্ত্রীকে কোলে নিয়ে কাঁদলেন সাজু

৭০ বছরের সংসারে অভাবের হানা, শয্যাশায়ী স্ত্রীকে কোলে নিয়ে কাঁদলেন সাজু

শত বছরের পুরোনো সমীকরণ সমাধানের পথে ছিলেন গণিতবিদ, কৃতিত্ব নিল এআই

শত বছরের পুরোনো সমীকরণ সমাধানের পথে ছিলেন গণিতবিদ, কৃতিত্ব নিল এআই

ব্যবসায়ীকে হয়রানি করে অর্থ আদায়, সিএমপির দুই এএসআই ক্লোজড
ব্যবসায়ীকে হয়রানি করে অর্থ আদায়, সিএমপির দুই এএসআই ক্লোজড

জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ী ও তার বন্ধুর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ১৮ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই এএসআইয়ের (সহকারী উপ-পরিদর্শক) বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে অভিযোগ ওঠা সিএমপির ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেলের (এলআইসি) এএসআই বাছির উদ্দিন এবং সিএমপি রেশন স্টোরের সুফিয়ানকে সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে। একই ঘটনায় এলআইসির সহকারী কমিশনার (এসি) শরিফুল আলম সুজনকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, এক যুবকের কাছ থেকে টাকা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায়ের অভিযোগে দুই এএসআইকে ক্লোজড করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর এসিকে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে এসি শরিফুল আলমের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একদল পুলিশের বিরুদ্ধে নগরীর হালিশহরের কে ব্লকের একটি বাসা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল (২৭) ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ তাদের দুজনকে একটি টয়োটা করোলা গাড়িসহ এলআইসি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। শাকিল নিজেকে খাতুনগঞ্জে পলিপ্রোপিলিন (পিপি দানা) ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামের পটিয়ায় তার একটি কৃষি খামারও রয়েছে। তার বন্ধুর গাড়ির পার্টসের ব্যবসা আছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে তল্লাশি চালায় এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অন্য একটি ডিভাইসে স্থানান্তর করে। শাকিল ও তার বন্ধু মনসুর জানান, শাকিলের ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়ার এবং তাদের জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এসি শরীফ ও এএসআই বাছির। তাদের আরও অভিযোগ, এসি শরিফুল ও তার সঙ্গে থাকা সদস্যরা শাকিলকে তার বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় ১০ হাজার ৮৬৪ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা) নানা মাধ্যমে স্থানান্তর করতে বাধ্য করেন। আরও পড়ুন আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়: দুদক শাকিল অভিযোগ করেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তিন কনস্টেবল তাকে সিএমপির কাছে একটি ব্যাংকের বুথে নিয়ে যান এবং পাঁচ দফায় ৪ লাখ টাকা তুলতে বাধ্য করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলআইসি কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট থেকেও ৮০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়। দুই ভুক্তভোগী জানান, কর্মকর্তারা একটি সাদা কাগজে তাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে নেন, তাদের সই নেন এবং তাদের ভিডিও ধারণ করার পর রাত ১২টার দিকে ছেড়ে দেন। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের প্রাইভেটকার ফিরিয়ে দিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এমডিআইএইচ/এএমএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ, ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্‌যাপন

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ, ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্‌যাপন

ক্ষমতার জৌলুশ নয়, মানুষের আস্থা

ক্ষমতার জৌলুশ নয়, মানুষের আস্থা

আর্থিক সংকটের কারণে অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে, পরে উদ্ধার

আর্থিক সংকটের কারণে অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে, পরে উদ্ধার

গ‍্যাস সরবরাহ বাড়ল, আসছে আরও এলএনজি কার্গো
গ‍্যাস সরবরাহ বাড়ল, আসছে আরও এলএনজি কার্গো

দেশে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাসের সংকট চলছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমায় লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। রান্না ও পরিবহনে বেড়েছে ভোগান্তি। তবে আজ রাত ১০টা থেকে গ‍্যাস সরবরাহ বেড়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানি করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এলএনজির কার্গো আসা কমায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না। এখন কার্গো নিয়মিত আসতে শুরু করেছে। তাই সরবরাহ বাড়ানো হলো।পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। গতকাল সরবরাহ করা হয় ২৩৭ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে ৭৫ কোটি ঘনফুট। আজ রাত ১০টায় এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে ৯৮ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে। একই সময় দেশীয় গ‍্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন হয়েছে ১৬২ কোটি ঘনফুট। এতে দিনের মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২৬০ কোটি ঘনফুটে। ফলে শিল্পকারখানায় গ্যাস-সংকট কমতে পারে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা।পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার দরপত্র দিলেও সব কটি পাওয়া যায়নি। দামও অনেক বেড়ে গেছে। এ মাসে সব মিলে ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার থেকে কেনা হয়েছে পাঁচটি।আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, এ মাসে আরামকোর দুটি ও ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের একটি কার্গো ইতিমধ্যে এলএনজি সরবরাহ করেছে। সবশেষ আজ কোরীয় কোম্পানি পস্কোর একটি কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর গানভর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো ও ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের একটি করে কার্গো আসার কথা। ফলে এলএনজি থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।এর মধ্যেই অক্টোবরের জন্য এলএনজি কার্গো কেনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে অক্টোবরের ৬টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। আরও ৫টি কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।দেশে ৯ বছর ধরে গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশি কোম্পানি সামিটের। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের পর গত ১৫ আগস্ট টার্মিনাল পুরোদমে সরবরাহের জন্য তৈরি হয়। তবে এলএনজির নতুন কার্গো কম আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না।সাধারণত প্রতি মাসে গড়ে ১০টি এলএনজি কার্গো আনা হয়। তবে এটি চাহিদা বুঝে কিছুটা কমে ও বাড়ে। গত বছর জুলাই–আগস্টে ২১টি কার্গো আনা হলেও এবার এসেছে ১৫টি। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনা চারটি কার্গো আগস্টে আসার কথা, একটিও আসেনি। এ মাসেও আসার তেমন সম্ভাবনা নেই। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীন কাতার থেকেও আসছে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলাবাজার থেকে কিনতে হচ্ছে।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বিমা খাতে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি গভীরে শিকড় গেড়েছে: অর্থমন্ত্রী

বিমা খাতে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি গভীরে শিকড় গেড়েছে: অর্থমন্ত্রী

প্রশিক্ষণের পর নারীদের কর্মসংস্থানের পথও দেখাতে হবে

প্রশিক্ষণের পর নারীদের কর্মসংস্থানের পথও দেখাতে হবে

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে আবেদন করেছে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী, আসন প্রায় ২৫ লাখ

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে আবেদন করেছে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী, আসন প্রায় ২৫ লাখ

0 Comments