জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ী ও তার বন্ধুর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ১৮ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই এএসআইয়ের (সহকারী উপ-পরিদর্শক) বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে অভিযোগ ওঠা সিএমপির ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেলের (এলআইসি) এএসআই বাছির উদ্দিন এবং সিএমপি রেশন স্টোরের সুফিয়ানকে সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে।
একই ঘটনায় এলআইসির সহকারী কমিশনার (এসি) শরিফুল আলম সুজনকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, এক যুবকের কাছ থেকে টাকা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায়ের অভিযোগে দুই এএসআইকে ক্লোজড করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর এসিকে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে এসি শরিফুল আলমের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একদল পুলিশের বিরুদ্ধে নগরীর হালিশহরের কে ব্লকের একটি বাসা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল (২৭) ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ তাদের দুজনকে একটি টয়োটা করোলা গাড়িসহ এলআইসি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
শাকিল নিজেকে খাতুনগঞ্জে পলিপ্রোপিলিন (পিপি দানা) ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামের পটিয়ায় তার একটি কৃষি খামারও রয়েছে। তার বন্ধুর গাড়ির পার্টসের ব্যবসা আছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে তল্লাশি চালায় এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অন্য একটি ডিভাইসে স্থানান্তর করে।
শাকিল ও তার বন্ধু মনসুর জানান, শাকিলের ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়ার এবং তাদের জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এসি শরীফ ও এএসআই বাছির। তাদের আরও অভিযোগ, এসি শরিফুল ও তার সঙ্গে থাকা সদস্যরা শাকিলকে তার বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় ১০ হাজার ৮৬৪ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা) নানা মাধ্যমে স্থানান্তর করতে বাধ্য করেন।
শাকিল অভিযোগ করেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তিন কনস্টেবল তাকে সিএমপির কাছে একটি ব্যাংকের বুথে নিয়ে যান এবং পাঁচ দফায় ৪ লাখ টাকা তুলতে বাধ্য করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলআইসি কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট থেকেও ৮০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়।
দুই ভুক্তভোগী জানান, কর্মকর্তারা একটি সাদা কাগজে তাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে নেন, তাদের সই নেন এবং তাদের ভিডিও ধারণ করার পর রাত ১২টার দিকে ছেড়ে দেন। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের প্রাইভেটকার ফিরিয়ে দিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
এমডিআইএইচ/এএমএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি করতে চাইছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা বা সমঝোতায় যাওয়ার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহের পথ স্বাভাবিক রাখতে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে না, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র ইরান খুব দ্রুত এবং মরিয়া হয়ে (ওয়াশিংটনের সঙ্গে) একটি চুক্তি করতে চাইছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হবে কি না, তা আমিই নির্ধারণ করব। অবশ্য এই ধারণার বিষয়ে আমাদের অবস্থান উন্মুক্ত।’ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল পরিবহন নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করছে না, তারা মার্কিন প্রশাসনকে অর্থ পরিশোধ বা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।ইরানকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনের সহায়তার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্পএর আগে গত রোববার আয়ারল্যান্ড সফরে আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, এ বছরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সম্ভবত ইরান যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেই জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে।হরমুজ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত, কূটনীতিতে হোঁচট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মইন হোসেন রাজুর ব্যবহৃত ব্যাগ, রংতুলি, ডায়েরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেছে তিন বাম ছাত্রসংগঠন। একই সঙ্গে ২০১৩ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে সংগ্রহশালায় ‘বিকৃতভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা। আজ সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের পাদদেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) আয়োজিত মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করা হয়। পরে তারা ডাকসু ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন শুভ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সঙ্গে শহীদ মইন হোসেন রাজুর স্মৃতি জড়িত। তৎকালীন ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিছিল করতে গিয়ে রাজু শহীদ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাজু শহীদ হওয়ার সময় তাঁর ব্যবহৃত ব্যাগ, রংতুলি ও ডায়েরি সংগ্রহশালায় ছিল। ডায়েরিতে তিনি প্রতিদিনের বিভিন্ন ঘটনা লিখতেন এবং কবিতা লিখতেন। কিন্তু বর্তমানে এসব উপকরণ সংগ্রহশালায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।বাহাউদ্দীন শুভ বলেন, সংগ্রহশালায় আগে কী কী উপকরণ, স্থিরচিত্র ও ঐতিহাসিক জিনিসপত্র ছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আগের তালিকা থেকে কোন উপকরণ যুক্ত হয়েছে এবং কোনগুলো সরানো হয়েছে, তারও তালিকা দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃত করে নতুন করে যেসব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো অপসারণের দাবি জানান তিনি।২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের প্রসঙ্গে বাহাউদ্দীন শুভ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা ওই আন্দোলনকে সংগ্রহশালায় ‘মব ভায়োলেন্স’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় এক শিশুর মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবিকে ‘টোকাই’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ বলেন, ডাকসুর ইতিহাস বাংলাদেশের জন্ম ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। এই ইতিহাসের স্মারক হিসেবে ডাকসুতে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, সংগ্রহশালা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। জিন্নাহর যে ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে, সেটিতে তিনি ঢাকায় এসে ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে এই বাংলার একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ বলেছিলেন। তাঁর ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন এবং পরে ভাষা আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল।মুক্তা বাড়ৈ আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ওই আন্দোলনের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত ছিলেন। সংগ্রহশালায় গণজাগরণ মঞ্চের ছবি ব্যবহার করে আন্দোলনটিকে ‘মব সন্ত্রাস’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।মানববন্ধন শেষে তিন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ডাকসু ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে ‘পাকিস্তানের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘জিন্নাহর ছবি কেন, ডাকসু জবাব দে’, ‘জিন্নাহর দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘রাজাকারের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি আজ সোমবারও সৌদির একটি বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। পাশাপাশি ইয়মেনের অভ্যন্তরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের গতকালের নির্ধারিত বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে যায়। বৈঠকটি ওমানে হওয়ার কথা ছিল। হুতিদের দাবি, সোমবার তারা সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এ হামলার লক্ষ্য ছিল বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার–ব্যবস্থা, রানওয়ে, গোলাবারুদের গুদামসহ সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো। গতকাল রোববার সৌদি কর্তৃপক্ষ খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে অল্প সময়ের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। ওই দিন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল হুতিরা। তাদের ভাষ্যমতে, গত কয়েক দিনে ইয়েমেনে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ৩০০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী। এর জবাবে দেশটিতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আজ জেদ্দায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আঞ্চলিক সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।কয়েক দিন আগে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প হুতিদের ওপর সরাসরি মার্কিন হামলায় রাজি হননি। তবে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্যসহ হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রও চাপে পড়েছে। সৌদি আরবের মিত্র হিসেবে দেশটিকে সহায়তা করতে চায় ওয়াশিংটন। তবে একই অঞ্চলে আরেকটি রণক্ষেত্রে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক ট্রাম্প প্রশাসন।সুলতান বারাকাত, অধ্যাপক, হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়, কাতারহরমুজ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় যেতে হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে।হুতিদের দখলে আরও দ্বীপযুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, হুতিরা লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলের গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ নামে আরও দুটি দ্বীপ দখল করে নিয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দুটির অবস্থান বাব আল–মানদেব প্রণালি থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে। সেখান থেকে সরকারি বাহিনীর সদস্যরা সরে যাওয়ার পর হুতিরা দ্বীপ দুটি দখল করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তারা একই অঞ্চলের বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরের দিন শুক্রবার দখল করে বাব আল–মানদেবের ভেতরের মাইয়ুন দ্বীপ।বাব আল–মানদেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে। অঞ্চলটিতে হরমুজ প্রণালির পর এটি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। সৌদি আরবের তেল এশিয়ার বাজারে পাঠানো হয় মূলত এ পথ দিয়ে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় নৌপথটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।আল–জাজিরা জানায়, ইয়েমেনে সৌদি–সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হুতিদের কাছ থেকে কয়েকটি এলাকা পুনর্দখল করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে সরকারি বাহিনী। গত রোববার ওই অঞ্চলে হুতিদের আক্রমণ প্রতিহত করার পর তারা এগিয়ে যায়। স্থল অভিযানের পাশাপাশি হুতিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালানো হচ্ছে।দুই পক্ষের লড়াই ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের মারিবে প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে সামরিক ঘাঁটিসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসকেন্দ্র রয়েছে।হরমুজ বৈঠক স্থগিতহরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ওমানে আজ বৈঠকের সূচি নির্ধারিত ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেটি স্থগিত হয়ে যায়।সৌদি আরবের অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত হয়েছে বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। বৈঠক স্থগিতে ইয়েমেন পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে রিয়াদ। তবে একে ‘মিথ্যা অজুহাত’ বলে মন্তব্য করেন বাঘাই।ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদি অবশ্য বলেছেন, বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে ‘ঐকমত্যের স্বার্থে’।কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আল–জাজিরাকে বলেন, ‘হরমুজ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় যেতে হতে পারে।’ তাঁর মতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে।হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ওমানে গতকাল বৈঠকের সূচি নির্ধারিত ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেটি স্থগিত হয়ে যায়।তেলের বাজারে চাপইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরুর প্রভাব জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে গতকাল বাজার খোলার পর অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়।এর আগে হুতিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে গত শুক্রবার ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই পাইপলাইনের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল সৌদি আরব। পাইপলাইনটি কয়েক দিনের মধ্য চালু না হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। তাদের মধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ লোহিত সাগরের পশ্চিম তীরের দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে।তাইজের কাছে সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন আয়েশা মুহাম্মদ। পার্শ্ববর্তী সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে পালিয়ে আসা এই বৃদ্ধা রয়টার্সকে বলেন, দুই মেয়ে ও তিন ছেলে তাঁর সঙ্গে আসতে পারেননি। তাঁরা খাবার ও পানি কিনতে বাজারেও যেতে পারছেন না। ঘরেই আটকা পড়ে আছেন।