নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শরৎকালীন সেমিস্টারের নবীনবরণ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্যাপিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে তারা পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে দেখছে না। গবেষণা, উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফান্ড প্রদানে ইউজিসি শুধু ‘‘মেরিট’’কেই প্রাধান্য দিচ্ছে।’ এমনকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট সরকার শতকরা ৫ ভাগ কমিয়েছেন, আরও ৫ ভাগ কমানোর জন্য তাঁরা চেষ্টা করছেন বলে জানান।
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সময়ে বিভিন্ন ক্লাবে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের জন্য নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ৩০ বছর আগে দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের মেধাবী সন্তানদের মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা দেওয়ার যে স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তার অনেকটাই বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন। এখানকার উদ্বৃত্ত অর্থ নানা ধরনের বৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পেছনে খরচ করা হয়।
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শামস রহমান বলেন, ‘আমরা একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ হিসেবে তৈরি করি। তাই এখানকার গ্র্যাজুয়েটরা সুনামের সঙ্গে দেশে-বিদেশে কাজ করতে পারেন।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস অনুষদের ডিন অনুপ চৌধুরী। আলোচনা শেষে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ফর পারফর্মিং আর্টস (ইসিপিএ) এবং দেশের খ্যাতনামা নজরুল সংগীতশিল্পী খায়রুল আনাম শাকিলের পরিবেশনায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কুমিল্লার মুরাদনগরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে আবু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর পলাতক। নিহত দুজন হলেন দড়ানীপাড়া গ্রামের জসীম উদ্দীনের স্ত্রী খালেদা আক্তার (৭০) ও তাঁর ভাই বাচ্চু মিয়ার ছেলে মঞ্জুরুল আলম ওরফে টিটু (৩৫)। খালেদা আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পুলিশ জানিয়েছে, মোস্তাফিজুর একাই বোন এবং ভাতিজাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জমিজমা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর তাঁর বড় বোন খালেদা আক্তারকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। খালেদা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে রক্ষা করতে ভাতিজা মঞ্জুরুল এগিয়ে আসেন। এ সময় মোস্তাফিজুর তাঁকেও দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে দুজনকে উদ্ধার করে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মৃত মনু মিয়ার ছয় ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান সবার ছোট। জমি রেকর্ডের সময় তিনি পরিবারের জমি থেকে নিজের নামে সমবণ্টন থেকে অতিরিক্ত জমি রেকর্ড করিয়ে নেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরমান হোসেন বলেন, পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রায় তিন মাস আগে বিষয়টি তাঁদের কাছেও এসেছিল। তখন সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধের মীমাংসা হয়নি।স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, মোস্তাফিজুর রহমানের কারণেই পরিবারটিতে জমিজমা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তিনি স্থানীয় বিচার-সালিসও মানতেন না। আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই এলাকাবাসী কয়েকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যায় বোন ও ভাতিজাকে হত্যার পর মোস্তাফিজুর পালিয়ে যান।মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে মোস্তাফিজুর একাই তাঁর বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে গেছেন।ওসি আরও বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহত দুজনের মরদেহ গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় স্থানীয় বাজারে ব্যস্ততার মাঝেই চোখে পড়বে দোকানগুলোর সামনের তাকেই সারি সারি সাজানো ‘স্নেক ওয়াইন’। নাম থেকেই আন্দাজ করা যায় এর বিশেষত্ব-বোতলে মদ বা অ্যালকোহলের মধ্যে থাকবে ছোট্ট একটি সাপ যার কারণে পানীয়টিতে একটি আলাদা স্বাদ ও গন্ধের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। শুনে গা শিউরে উঠলেও সত্যি সত্যিই এ স্বচ্ছ বোতলগুলোতে মদের ভেতর ভাইপার প্রজাতির সাপ (মৃত) প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। চমকপ্রদ এ পানীয়টি দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের ঘরে-বাইরে, অনুষ্ঠান, সরাইখানা-রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত হয়ে আসছে। চীনের রাজবংশগুলোর চিকিৎসালয়ে ওষুধ বা প্রতিশেধক হিসেবে ব্যবহৃত এই স্নেক ওয়াইন একসময় পরিণত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের পছন্দের পানীয়তে এবং হয়ে উঠেছে তাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বচ্ছ কাঁচের বোতলে আস্ত সাপ ডোবানো এই স্বচ্ছ অ্যালকোহল বা মদের প্রচলন চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় ঝু রাজবংশের সময়ে, ২ হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে। বর্তমানে এটি ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ড ও চীনের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। এটি কীভাবে তৈরি হয় টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাইস ওয়াইন বা উচ্চমানের শস্যদানা থেকে প্রস্তুতকৃত ওয়াইনে একটি সাপ ডুবিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়। কখনো কখনো মদের ভেতর বিছা, জিনসেং বা স্থানীয় লতাপাতাও দেওয়া থাকে। মদে থাকা ইথানল সাপের ভেতর থাকা টক্সিক প্রোটিনগুলোকে ভেঙে এর বিষের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে, মদটি পান করতে কোনো ঝুঁকি থাকে না। পুরো বোতল নিতে না চাইলে ছোট বিকল্প হিসেবে আকালে ছোট গ্লাসে সাপ টুকরো করে কেটে এর রক্তসহ মদে পরিবেশন করা হয়। ওষুধ হিসেবে ব্যবহার ট্রেডিশনাল চীনা ওষুধ হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হয়। চীনা ওষুধ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা আগে থেকেই সাপকে একটি শরীর উষ্ণকারী ও আর্দ্রতাদূরকারী খাবার হিসেবে দেখে থাকেন। বাতের ব্যাথা, দীর্ঘস্থায়ী অবসন্নতা কমাতে ও রক্ত চলাচল বাড়াতে এ পানীয় বেশ উপকারী বলে প্রচলন রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। এ অঞ্চলের বিভিন্ন রূপকথা বা উপকথায় এ পানীয়কে প্রাকৃতিক টনিক হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের বাইরে স্থানীয় মার্কেটগুলোতে স্নেক ওয়াইনকে মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এখানকার বাসিন্দারা বাড়িতে কোনো মেহমান এলে তাকে এই স্নেক ওয়াইন পরিবেশন করে সম্মানিত বোধ করাতে পছন্দ করেন। আবার বিদেশিদের কাছে স্যুভেনির হিসেবে নিয়ে যেতে বিভিন্ন ছোট ছোট বোতলেও বিক্রি করা হয় এই বিশেষ ওয়াইন। এএমএ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে এক শিশুসহ ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন হাজেরা বেগম (৫০), শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) ও কুলসুমা (৩৫)। এ ছাড়া অজ্ঞাত এক শিশুও নিহত হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক জাকিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় সম্পর্কে সব তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি নষ্ট লিফটে আগুনের সূত্রপাত হয়। লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় ছিল এবং এর ভেতরে ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের একটি ইউনিটসহ মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরও পড়ুন ময়মনসিংহ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড হাসপাতালের স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখানে ময়লা ও আবর্জনাও জমে ছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর ধোঁয়া ও আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নতুন ভবনে থাকা রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেন। এ সময় সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি ও পদদলনের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং পরে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা মানুষজন একসঙ্গে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এতে সিঁড়ি ও ভবনের বের হওয়ার পথে প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়। আতঙ্কিত অনেকে দ্রুত বের হতে গিয়ে পড়ে যান। তাদের ওপর দিয়ে অন্যরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে পদদলনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এতে হাসপাতালের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হোসাইন সুলভ/এএমএ