পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী তিন চাচার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমানে প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকের পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষে থানায় মামলা করা হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের মৃত গনি মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন (৬০), মো. ইব্রাহিমের ছেলে রাকিব (২৮) এবং আউয়াল হোসেনের ছেলে মো. আল-আমিন (৪০)। তারা সম্পর্কে ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী চাচা।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর ওই নারীর শারীরিক পরিবর্তন পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। সন্দেহ হলে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক পরীক্ষা করানো হয়। পরবর্তীতে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার লিমা আক্তার ও গাইনি কনসালট্যান্ট প্রীতিশ বিশ্বাস জানান, ওই নারী তলপেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এলে প্রাথমিক চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ধারণা করা হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রায় পাঁচ মাসের গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, আসামি শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে হাঁস-মুরগি পরিচর্যার কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে প্রথম ধর্ষণ করেন। অন্য আরেক দিন আরেক আসামি রাকিব তাকে একটি মুরগির ফার্মে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া আসামি আল-আমিনও তাকে একইভাবে ধর্ষণ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘মেয়েটি সহজ-সরল ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ভালো-মন্দ ঠিকমতো বুঝতে পারে না। শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরীক্ষা করালে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে। যাদের সে চাচা বলে জানত, তারাই এমন সর্বনাশ করেছে। আমরা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত শাহাদাত, রাকিব ও আল-আমিনের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার ও নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মো. তরিকুল ইসলাম/এসজেডএইচ/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে বাংলাদেশে যাঁরা সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন, তাঁদের ব্যর্থতার কারণে জাতি যে পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল, সে পর্যায়ে যেতে পারেনি; বরং সমাজে অনেক বঞ্চনা ও হাহাকার, বিশৃঙ্খলা, বৈষম্য, অবিচার, দমন-পীড়ন, মানুষের সম্মান, সম্পদ এবং জীবনের উপর আঘাত অহরহ ঘটছে। আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধে৵ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘তোমরা যদি এখন থেকে মেধা ও মনন এবং দক্ষতা ও নৈতিকতার সঙ্গে নিজেকে গড়ে তুলতে পারো, যদি মানুষ ও আল্লাহকে ভালোবাসতে পারো, তাহলে তোমাদের দ্বারা আগামীর সুন্দর সমাজ আমরা প্রত্যাশা করি। তোমাদের মেধা বিকাশে রাষ্ট্রকে এবং আমরা যাঁরা রাজনীতি করি, তাঁদের দায়িত্ব নিতে হবে।’বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশ ও রাষ্ট্রকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সমাজে যে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও অসততার প্রতিযোগিতা চলছে, এর অবসান ঘটাতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের তৈরি হতে হবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুর রহমান মূসা, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
আলিয়া, কওমি, হিফজসহ দেশের সব ধরনের মাদ্রাসায় জাতীয় পর্যায়ে ‘যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা সেল’ গঠনের জন্য পাঁচ মন্ত্রণালয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ওই নোটিশে প্রতিটি মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা কমিটি’ গঠনের কথাও বলা হয়েছে। আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবদের এই আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ নূরুল হুদা।এই আইনজীবী প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচ দিনের মধ্যে সব ধরনের মাদ্রাসায় জাতীয় পর্যায়ে ‘যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা সেল’ গঠন এবং প্রতিটি মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা কমিটি’ প্রতিষ্ঠা করতে তিনি আইনি নোটিশ দিয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি সংস্থাগুলো কার্যকর, ইতিবাচক ও সন্তোষজনক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তিনি হাইকোর্টে রিট মামলা করবেন বলে জানান।সারা দেশের মাদ্রাসাগুলোয় যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, বলাৎকার ও নিষ্ঠুর আচরণ প্রতিরোধ করতে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশদাতা আইনজীবী ছয় মাসের কম সময়ে দেশের অন্তত ১৮টি জেলায় মাদ্রাসার শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও তত্ত্বাবধায়কদের দ্বারা শিশুদের প্রতি ধর্ষণ, বলাৎকার, যৌন নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও গুরুতর শারীরিক নিষ্ঠুরতার অন্তত ৩০টি পৃথক ঘটনার তথ্য জাতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছেন।নোটিশে বলা হয়েছে, নির্যাতনের এসব ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে পাঁচ, ছয় ও সাত বছর বয়সী শিশুরাও ভুক্তভোগী হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছয় মাস, কখনো প্রায় এক বছর ধরে বারবার নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।
গণিতের সবচেয়ে জটিল সমস্যাগুলোর একটি বলা হয় নাভিয়ে-স্টোকস সমীকরণকে। গত মাসে সমস্যাটি সমাধানের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ট্রিস্টান বাকমাস্টার, সঙ্গে ছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের গণিতবিদ লেভেন্ট আলপোগে। তবে তাঁদের আগেই আরেক এআই প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই সমস্যাটি সমাধান করে ফেলেছে। নাভিয়ে-স্টোকস সমীকরণটি ১৯ শতকের। তরল কীভাবে প্রবাহিত হয়, তা বোঝার জন্য এই সমীকরণ তৈরি করা হয়েছিল। সমীকরণটি ব্যবহার করে আবহাওয়া, সমুদ্রের স্রোত ও উড়োজাহাজের ডানার ওপর দিয়ে বাতাসের প্রবাহের মতো নানা বিষয় ব্যাখ্যা করা যায়। তবে সব সময় এই সমীকরণ বাস্তব জগতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান দেবে কি না, তা নিশ্চিত ছিলেন না গণিতবিদেরা।বাকমাস্টার ও আলপোগে যখন নাভিয়ে-স্টোকস সমীকরণ নিয়ে কাজ করছিলেন, তখন ওপেনএআইও সেটি সমাধানে জোর তৎপরতা শুরু করে। নাভিয়ে-স্টোকস সমাধানে ১০ হাজার এআই এজেন্ট কাজে লাগায় তারা। এজেন্টগুলো ৮৮ ঘণ্টা বা প্রায় চার দিন কাজ করার পর একটি সমাধানে পৌঁছায়। পরে সমাধানটি ঠিকঠাক আছে কি না, তা দেখতে আরও ১৭ ঘণ্টা ধরে যাচাই-বাছাই করা হয়।সমীকরণের যে সমাধান ওপেনএআই প্রকাশ করেছে, তা ১৬৬ পৃষ্ঠার। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গণিতবিদেরা। তাঁদের ভাষ্য, গাণিতিক কোনো সমস্যার সমাধান কম্পিউটারের মাধ্যমে সঠিক প্রমাণিত হওয়াই যথেষ্ট নয়, সেটি মানুষ বুঝতে পারছে কি না, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতবিদ জাভিয়ার গোমেজ সেরানো বলেন, ওপেনএআইয়ের সমাধানটি ‘বোঝাই যায় না’।এআইয়ের অগ্রগতির লাগাম না টানলে সবাই মারা যেতে পারি: অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষকওপেনএআইয়ের এই সমাধান নিয়ে আলাদা একটি বিতর্কও চলছে। অধ্যাপক বাকমাস্টার সমীকরণটি নিয়ে কাজ করার সময় ওপেনএআইয়ের তৈরি এআইয়ের সহায়তা নিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, ওই এআইকে দেওয়া তাঁর কিছু তথ্যের নাগাল পেয়েছিল ওপেনএআই। কারণ, সমীকরণ সমাধানের গবেষণায় পরবর্তী ধাপে তাঁর যে কাজ করার কথা ছিল, সে পথেই এগিয়েছিল ওপেনএআইয়ের এজেন্টগুলো।এই অভিযোগ নিয়ে ওপেনএআই প্রথমে বলেছিল, বাকমাস্টারের তথ্য ব্যবহার করার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পরে অবশ্য তারা জানিয়েছে, এ নিয়ে বিশদ তদন্ত করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, বাকমাস্টারের তথ্য কোনোভাবেই তাদের সমীকরণ সমাধানে প্রভাব ফেলেনি। তবে ওপেনএআইয়ের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বাকমাস্টার। তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘আমি তাদের বিশ্বাস করি না।’এআই দিয়ে একটি ছবি তৈরিতে কত পানি খরচ করে ডেটা সেন্টারওপেনএআইয়ের সমীকরণ সমাধানের ঘটনা গণিতের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যাম্পাসের গণিতবিদ টেরেন্স টাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এ ঘটনার কারণে গবেষকেরা তাঁদের আবিষ্কার অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা উন্মুক্ত বিজ্ঞানচর্চার রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এআইয়ের এই সাফল্যের পেছনে বহু বছর ধরে কাজ করা গণিতবিদদের অবদানের কথাও মনে রাখা জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক বাকমাস্টার। তিনি বলেন, এই গণিতবিদেরা এমন সব গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছেন, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে নাভিয়ে-স্টোকস সমীকরণ সমাধান করতে পেরেছে ওপেনএআই।এআই যুগে চাকরি নিয়ে ভয়, এই ১০ পেশায় ঝুঁকি কম