স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের ইতিহাস রচিত হয় রাজনৈতিক বয়ানে।’ ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে….
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীতে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ‘একশোতে একশো’ বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ১৮ সেপ্টেম্বর হটস্পটগুলোতে ওয়াসার মিটার বাক্স, পরিত্যক্ত টায়ার ও পাত্রে কিলবিল করা এডিসের লার্ভা ধ্বংস করা হয়। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে—
নাগরিকত্ব প্রমাণের কোনো সুযোগ না দিয়ে এক ভারতীয় নারীকে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ আউট) অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ জারি করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।শাহিন ফকির নামের এক যুবকের করা ‘হেবিয়াস করপাস’ রিট আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনোরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে অংশ নেন প্রবীণ আইনজীবী ও ওডিশা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি শ্রীনিবাসন মুরলিধর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ঝুমা সেনসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। বিচারপতি শ্রীনিবাসন মুরলিধর সম্প্রতি ফিলিস্তিন ভূখণ্ডসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন ওই কমিশন জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনে শিশুদের ওপর সরাসরি ও ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।পিটিশনে শাহিন ফকির তাঁর মাকে আটক ব্যক্তি বলার বদলে বলপূর্বক বিতাড়িত ব্যক্তি বা ‘পুশ আউটি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, মায়ের স্থায়ী ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার গোবিন্দপুরে এবং তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। প্রায় ২০ বছর আগে রোজগারের সন্ধানে স্বামীর সঙ্গে তিনি মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি গৃহকর্মীর কাজ করতেন।আবেদনকারীর অভিযোগ, গত ১৯ জুলাই মুম্বাইয়ে তাঁর মাকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়। কোনো বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করে বা গ্রেপ্তারের কারণ না জানিয়ে তাঁকে টানা ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখা হয়। দীর্ঘ এ সময়ে পরিবারকেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রায় পাঁচ দিন পর তাঁকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত এলাকা দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় তাঁর নাগরিকত্ব যাচাইয়ে কোনো বিচারিক পদক্ষেপ বা কনস্যুলার সহায়তা নেওয়া হয়নি। এমনকি নিজের জাতীয়তার সপক্ষে যুক্তি বা প্রমাণ দাখিলের কোনো সুযোগও ওই নারীকে দেওয়া হয়নি।বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর ওই নারী সীমান্তরক্ষীদের সহায়তায় মানবিক আশ্রয় পান। পরে ৩১ জুলাই তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অবস্থার কথা জানান। এর আগে আসামের এমন একটি ঘটনা হাইকোর্টের সমালোচনার মুখে পড়েছিল বলে পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে।আদালতে পেশ করা নথিতে উল্লেখ করা হয়, ওই নারীর কাছে বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ রয়েছে। ১৯৫২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর মাতামহের নাম এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর মা-বাবার নাম রয়েছে। সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর তাঁর নাম বাদ পড়লে বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের আপিল ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।মামলায় কেবল ওই নারীকে অবৈধভাবে বিতাড়নকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়নি, পাশাপাশি ২০২৫ সালের মে মাসে জারি করা ‘অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা বিতাড়নসংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)’ এবং ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অর্ডার, ২০২৫’-এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি, এই নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে গেছে, যা ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ২১ ও ২২ অনুচ্ছেদে দেওয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এর ফলে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদেরও ভুলবশত ও বেআইনিভাবে বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এই পুশ আউটের প্রক্রিয়াকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ওই নারীকে ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।আইনজীবীর যুক্তি, কোনো ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিকত্ব দাবি করলে এবং অন্য রাজ্যে তাঁর স্থায়ী বাসস্থানের কথা উল্লেখ করলে, এসওপির নির্দেশিকা মেনে তা যাচাই করা আবশ্যক; যা এ ক্ষেত্রে মানা হয়নি। এ ছাড়া ওই নারীর কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট না থাকা সত্ত্বেও নিয়ম অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।এই পুশ আউট প্রক্রিয়াকে বেআইনি ও অনৈতিক আখ্যা দিয়ে ওই নারীকে অবিলম্বে ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী।এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল যে সম্প্রতি জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানো বেশ কয়েকজন বাঙালি মুসলমানকে মানবিক কারণে তারা দেশে ফিরিয়ে এনেছে।
ঢাকার একটি ব্যাংক শাখায় হুইলচেয়ারে বসা এক গ্রাহক টাকা তুলতে গিয়ে ফিরে আসেন। কারণ, কাউন্টারের উচ্চতা তাঁর নাগালের বাইরে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এক তরুণী মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন না; কারণ, অ্যাপটি স্ক্রিন রিডারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। শ্রবণপ্রতিবন্ধী এক ব্যবসায়ী ঋণের আবেদন করতে গিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগে হিমশিম খান। এই দৃশ্যগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং বড় একটি জনগোষ্ঠীর প্রতিদিনের বাস্তবতা। প্রতিবন্ধিতা শুধু শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়। জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক বা ইন্দ্রিয়গত সীমাবদ্ধতা এবং সমাজের প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার ফলেই প্রতিবন্ধিতা তৈরি হয়। দৃষ্টি, শ্রবণ, বাক্, শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত প্রতিবন্ধিতা, অটিজম, সেরিব্রাল পালসিসহ বহুমাত্রিক পরিচয়ের মানুষ এ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বয়স, দুর্ঘটনা, রোগ বা জন্মগত কারণেও যে কেউ প্রতিবন্ধিতার অংশ হতে পারেন। তাই বিষয়টি সমাজের প্রতিটি পরিবারের সঙ্গেই সম্পর্কিত।একটি দেশের অর্থনীতি তখনই পূর্ণ সক্ষমতায় এগোয়, যখন শ্রমশক্তি ও ভোক্তাশক্তির প্রতিটি অংশ উৎপাদন ও ভোগের চক্রে যুক্ত থাকে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাদ রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির কথা বলা তাই স্ববিরোধী। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শ্রমবাজার থেকে বাদ রাখার কারণে একটি দেশ তার মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত হারাতে পারে। ইউনিসেফের ২০২৫ সালের বৈশ্বিক প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তি প্রতিবেদনেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ—মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ বা প্রতি ছয়জনে একজন—উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাস করেন। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশে। দ্য রিটার্ন অন ডিজঅ্যাবিলিটি গ্রুপের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবার মিলিয়ে বিশ্বে বার্ষিক ব্যয়ক্ষমতা ১৮ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। ফলে তাঁরা শুধু সহায়তানির্ভর জনগোষ্ঠী নন; তাঁরা বিশাল এক সম্ভাবনাময় ভোক্তা ও অর্থনৈতিক শক্তি।প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ তাঁদের সম্পত্তির অধিকার, ঋণ ও আর্থিক সেবা পাওয়ার অধিকার স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বিতরণের উদ্যোগও অগ্রগতি তৈরি করেছে।আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ছাড়া কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হওয়া, সঞ্চয় বা বিনিয়োগ—কোনোটিই পূর্ণাঙ্গভাবে সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ফিনডেক্স ২০২৫ অনুযায়ী, বিশ্বের ৭৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের আর্থিক হিসাব রয়েছে। কিন্তু লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা ও আয়ের ভিত্তিতে তথ্য বিশ্লেষণ করা হলেও প্রতিবন্ধিতার ভিত্তিতে পৃথক তথ্য এখনো সংগ্রহ করা হয় না। ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নীতিনির্ধারকদের কাছে অনেকটাই অদৃশ্য।দক্ষিণ এশিয়ায় গত এক দশকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে অগ্রগতি হয়েছে। ফিনডেক্স ২০২৫ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৪৬ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন এ অঞ্চলের ৭৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের আর্থিক হিসাব রয়েছে। কিন্তু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমানভাবে এ অগ্রগতির সুফল পাচ্ছেন না। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোবাইল অ্যাপ, এটিএম ও কিউআর পেমেন্টের দ্রুত বিস্তার অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের আরও পিছিয়ে দিয়েছে; কারণ, এসব প্রযুক্তির নকশায় শুরু থেকেই সহজলভ্যতা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।ভারত ও কেনিয়ার কিছু উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ব্যাংক শাখা ও এটিএমে র্যাম্প ও ‘টকিং এটিএম’ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে। ২০২৫ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ডিজিটাল আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকারের বিষয়টিকে সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে রায় দেন। ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ‘ইউনিয়ন অ্যাকসেস’ উদ্যোগে ব্রেইল নথি ও সংবেদনশীলতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেনিয়ায় ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি পাইলট প্রকল্প ব্যাংক শাখা ও মোবাইল মানি সেবাকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করার চেষ্টা করছে।বাংলাদেশে সমস্যা আরও স্পষ্ট হয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে পরিসংখ্যানের বড় ব্যবধান থেকে। ২০১১ সালের জনশুমারিতে প্রতিবন্ধিতার হার ছিল ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক জরিপে তা ৭ শতাংশের বেশি এবং খানার আয়-ব্যয় জরিপ ২০১০-এ ৯ দশমিক ১ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জরিপ ২০২১ অনুযায়ী হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ বা প্রায় ৪৬ লাখ। আবার খানার আয়-ব্যয় জরিপ ২০২২-এ তা ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ বা প্রায় ৯৪ লাখ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যভান্ডারে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধিত সংখ্যা প্রায় ৩৪ লাখ।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক গড় ১৬ শতাংশ বাংলাদেশের জনসংখ্যায় প্রয়োগ করলে সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় আড়াই কোটি। আবার ২০১১ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য আনুমানিক ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের কথা বলা হয়েছিল। এই বিশাল ব্যবধানের একটি কারণ প্রশ্ন করার পদ্ধতি। সরাসরি ‘আপনি কি প্রতিবন্ধী’ জানতে চাইলে সামাজিক কলঙ্কের কারণে অনেকে উত্তর এড়িয়ে যেতে পারেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ওয়াশিংটন গ্রুপের কার্যকারিতাভিত্তিক প্রশ্নপদ্ধতিতে সংখ্যা বেশি উঠে আসে।এনএসপিডি ২০২১ অনুযায়ী, জনসংখ্যার মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা শূন্য দশমিক ৪৬, শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা শূন্য দশমিক ৩৬, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতা শূন্য দশমিক ৩৫, বাক্প্রতিবন্ধিতা শূন্য দশমিক ৩২ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ। এ ধরনের বিভাজিত তথ্য জরুরি; কারণ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গ্রাহকের জন্য ব্রেইল সেবা এবং শ্রবণ-বাক্প্রতিবন্ধী গ্রাহকের জন্য ইশারা ভাষার প্রয়োজন এক নয়। মবিলিটি বা হুইলচেয়ারনির্ভর ব্যবহারকারীর পৃথক সংখ্যাও জাতীয় জরিপে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয় না।প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য ব্যাংক হিসাব শুধু লেনদেনের মাধ্যম নয়; এটি আত্মমর্যাদা, স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তারও বিষয়। নিজের নামে হিসাব না থাকলে সরকারি ভাতা, রেমিট্যান্স, ক্ষুদ্রঋণ বা উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ থেকে তাঁরা বঞ্চিত হতে পারেন। পরিবারের অন্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ায়।বাংলাদেশে মূল সমস্যা নীতিমালার অভাবের চেয়ে বাস্তবায়নের ঘাটতি। ব্যাংক শাখা ও এটিএম এখনো সর্বত্র হুইলচেয়ারবান্ধব নয়। মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ অনেক সময় স্ক্রিন রিডার বা কণ্ঠস্বর-নির্দেশনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর বা ছবি তোলার শর্তও অনেকের জন্য সমস্যাজনক। সংবেদনশীলতা প্রশিক্ষণের অভাবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অক্ষম হিসেবে বিবেচনা করেন। এর সঙ্গে রয়েছে প্রতিবন্ধিতাভিত্তিক বিভাজিত উপাত্তের ঘাটতি।প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ তাঁদের সম্পত্তির অধিকার, ঋণ ও আর্থিক সেবা পাওয়ার অধিকার স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বিতরণের উদ্যোগও অগ্রগতি তৈরি করেছে।ব্যাংক খাতেও কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ রয়েছে। প্রাইম ব্যাংক ও অস্ট্রেলিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ‘ব্রেকিং অ্যাটিটিউডিনাল ব্যারিয়ার্স’ শীর্ষক তিন দিনের কর্মশালায় ব্যাংকটির প্রায় ৩০ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুইলচেয়ারে বসে প্রশিক্ষণ নেন। এর ধারাবাহিকতায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল আর্থিক স্বাক্ষরতা বই, চেক বই ও ডেবিট কার্ডের ব্যবস্থা এবং শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধীদের জন্য ইশারা ভাষায় হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কল ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়েছে। কয়েকটি শাখায় হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য ক্যাশ কাউন্টারের উচ্চতাও কমানো হয়েছে। তবে একটি ব্যাংকের উদ্যোগ এখনো পুরো খাতের চর্চায় পরিণত হয়নি।এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নির্দেশিকা প্রণয়ন করতে হবে। শাখা, এটিএম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও কেওয়াইসি ব্যবস্থায় সহজলভ্যতার বাধ্যতামূলক মানদণ্ড থাকতে হবে। ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাপ ও ওয়েবসাইট আন্তর্জাতিক অ্যাকসেসিবিলিটি মানে উন্নীত করা, কর্মীদের প্রতিবন্ধিতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আর্থিক স্বাক্ষরতায় ব্রেইল ও ইশারা ভাষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নিয়মিত উপাত্ত সংগ্রহে প্রতিবন্ধিতাকে পৃথক বিশ্লেষণ বিভাগ হিসেবে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কোনো দাতব্য কর্মসূচি নয়; এটি ন্যায্যতা ও উন্নয়ন অর্থনীতির অপরিহার্য শর্ত। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩০ কোটি এবং বাংলাদেশে অন্তত অর্ধকোটি মানুষকে আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রেখে ‘সামগ্রিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি’ সম্ভব নয়। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী নির্বিঘ্নে ব্যাংকে ঢুকতে পারবেন, শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী গ্রাহক ইশারা ভাষায় সেবা পাবেন এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী স্বাধীনভাবে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করতে পারবেন—আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রকৃত সাফল্য তখনই নিশ্চিত হবে।এম এম মাহবুব হাসান ব্যাংকার, উন্নয়ন গবেষক ও লেখক