জাতীয়

ভূপেন হাজারিকার গান কেন আজও মানুষের হৃদয়ে

News সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ 0
ভূপেন হাজারিকার গান কেন আজও মানুষের হৃদয়ে
ভূপেন হাজারিকার গান কেন আজও মানুষের হৃদয়ে

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’-এই গানটি যেন শুধু একটি গান নয়, মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার এক চিরন্তন বার্তা। আর এ বার্তাকে কণ্ঠে ধারণ করে প্রজন্মের পর প্রজন্মের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন কিংবদন্তিতুল্য সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকা।

১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের আসামের সদিয়ায় জন্ম ভূপেন হাজারিকার। শিল্পী, কবি, সুরকার, সংগীত পরিচালক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক কর্মী-বহুমাত্রিক পরিচয়ে সমৃদ্ধ ছিল তার জীবন। তবে সব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মানবতার কণ্ঠস্বর। তার গান কখনো মানুষের ভালোবাসার কথা বলেছে, কখনো শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে, আবার কখনো শুনিয়েছে সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা।

ভূপেন হাজারিকার গান কেন আজও মানুষের হৃদয়েভূপেন হাজারিকা

ভূপেন হাজারিকার গানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এর মানবিক আবেদন। তার গানে ছিল না কেবল প্রেম কিংবা বিনোদন, ছিল সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, দুঃখ, স্বপ্ন ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।

‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের’, ‘গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা’, ‘সবার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ, চেতনাতে নজরুল’-এমন অসংখ্য গানে তিনি জাতপাত, বর্ণবৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

দীর্ঘ বিরতির পর নতুন রূপে ফিরছেন বিপাশা

এ কারণেই তার গান কোনো নির্দিষ্ট সময় বা প্রজন্মের মধ্যে আটকে থাকেনি। সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সাম্য ও অধিকারের প্রশ্নগুলো আজও একইভাবে প্রাসঙ্গিক। আর সেখানেই ভূপেন হাজারিকার গানের শক্তি।

পঞ্চাশের দশকে দাঙ্গাবিধ্বস্ত আসামে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন ভূপেন হাজারিকা। বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা, হেমাঙ্গ বিশ্বাসসহ প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে আসামের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে গান গেয়েছেন তিনি।

দাঙ্গা ও বিভেদের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে গানকে ব্যবহার করেছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা। ভূপেনের কণ্ঠ তখন হয়ে উঠেছিল সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম।

ভারতীয় গণনাট্য সংঘের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ফলে সংগীত তার কাছে শুধু শিল্পচর্চা ছিল না, মানুষের কাছে পৌঁছানোর এবং সমাজের কথা বলার একটি শক্তিশালী মাধ্যমও ছিল।

ভূপেন হাজারিকার সংগীতভাবনায় মার্কিন শিল্পী ও মানবাধিকারকর্মী পল রোবসনের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। রোবসনের গান ও মানবতাবাদী অবস্থান তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

রোবসনের বিখ্যাত ‘ওল্ড ম্যান রিভার’ গান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই ভূপেন হাজারিকা সৃষ্টি করেন ‘বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার’ গানটি। নদীর দুই তীরে বসবাসকারী মানুষের জীবন, বঞ্চনা ও হাহাকারকে কেন্দ্র করে তৈরি গানটি পরে হয়ে ওঠে তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।

এই গান শুধু আসামের মানুষের কথা বলেনি, এর মধ্যে তিনি তুলে ধরেছিলেন বিশ্বের নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের কষ্টের প্রতিচ্ছবি।

বাংলা, অসমিয়া, হিন্দি, নেপালিসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়েছেন ভূপেন হাজারিকা। ভাষা বদলালেও তার গানের মূল সুর ছিল একই-মানুষের কথা।

আসামের লোকজ সংগীত থেকে শুরু করে শাস্ত্রীয় সংগীত, গণসংগীত ও চলচ্চিত্রের গান-বিভিন্ন ধারাকে নিজের সংগীতভাবনায় মিশিয়েছেন তিনি। ফলে তার গান যেমন আসামের মানুষের কাছে আপন হয়ে উঠেছে, তেমনি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের শ্রোতারাও তাকে নিজেদের শিল্পী হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

বাংলাভাষী মানুষের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তার গণসংগীত। ‘আমি এক যাযাবর’, ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি’, ‘সহস্রজনে মোর প্রশ্ন করে’, ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’সহ অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান আবেদন তৈরি করে।

শুধু প্রতিবাদ কিংবা মানবতার গান নয়, প্রেমের গানেও ভূপেন হাজারিকা ছিলেন অনন্য। তার কণ্ঠে প্রেম কখনো ছিল আকুলতা, কখনো অপেক্ষা, আবার কখনো ছিল নিঃসঙ্গতার অনুভূতি।

‘সহস্রজনে মোর প্রশ্ন করে’, ‘মাইয়া ভুল বুঝিস না’, ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’-এমন গানগুলোতে ফুটে উঠেছে মানুষের ব্যক্তিগত আবেগ ও ভালোবাসার নানা রূপ।

ফলে ভূপেন হাজারিকার গান একদিকে যেমন মিছিলের মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি নিঃসঙ্গ মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতিরও সঙ্গী হয়েছে।

ভূপেন হাজারিকার ব্যক্তিজীবনও ছিল নানা ঘটনা ও আলোচনায় পরিপূর্ণ। প্রিয়ংবদা প্যাটেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরে তারা আলাদা হয়ে গেলেও আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়নি বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তী জীবনে চলচ্চিত্র নির্মাতা কল্পনা লাজমির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল ভূপেন হাজারিকার। কল্পনা তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ও ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাদের সম্পর্ক ঘিরে বিভিন্ন সময় নানা আলোচনা থাকলেও ভূপেনের সৃষ্টিশীল জীবনে কল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ভূপেন হাজারিকা। দীর্ঘদিন প্রগতিশীল ও সমাজতান্ত্রিক চিন্তার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর জীবনের শেষদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে ২০০৪ সালে গুয়াহাটি থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়েও বড় হয়ে ছিল তার শিল্পী ও মানবতাবাদী পরিচয়।

২০১১ সালের ৫ নভেম্বর ৮৫ বছর বয়সে মারা যান ভূপেন হাজারিকা। তবে তার মৃত্যুর সঙ্গে থেমে যায়নি তার গান। বরং সময়ের সঙ্গে তার সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে গেছে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ ও পদ্মবিভূষণসহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালে মরণোত্তর ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ দেওয়া হয় তাকে।

তবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বাইরেও মানুষের ভালোবাসাই ছিল ভূপেন হাজারিকার সবচেয়ে বড় অর্জন। কারণ তার গান কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নয়, কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডেরও নয়। যেখানে মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, যেখানে ভালোবাসা বিভাজনের দেয়াল ভাঙে, যেখানে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা ভাবে-সেখানেই যেন নতুন করে বেজে ওঠে ভূপেন হাজারিকার গান।

আরও পড়ুন

‘যৌনকর্মের পেশা’ বৈধ হলে অপরাধ কমবে, দাবি পুনমের

এই কারণেই মৃত্যুর এক দশকেরও বেশি সময় পর আজও তার কণ্ঠ শ্রোতার হৃদয়ে একইভাবে অনুরণিত হয়। তার গান মনে করিয়ে দেয়-মানুষের জন্য গাওয়া গান কখনো পুরোনো হয় না।

এমএমএফ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মুমূর্ষু স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে স্বামী, মৃত ঘোষণার পর পালানোর চেষ্টা
মুমূর্ষু স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে স্বামী, মৃত ঘোষণার পর পালানোর চেষ্টা

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মুমূর্ষু অবস্থায় শাহিনা আক্তার (২২) নামের এক নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। মৃত ঘোষণার পরপরই তার স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে দেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান। এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। শাহিনা আক্তার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে এবং পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। অভিযুক্ত সিয়াম উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে। পুলিশ ও পলাশবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় স্ত্রী শাহিনাকে নিয়ে হাসপাতালে যান। পরে চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষার পর শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করলে দ্রুত বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেটকার চালিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাকে আটকাবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ পলাশবাড়ি থানায় নেয় পুলিশ। এ ঘটনার পর সিয়াম তার এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক হৃদয় মণ্ডল বলেন, চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত বলার সঙ্গে সঙ্গে তার (সিয়াম) গতিবিধি সবার সন্দেহ হয়। পরে প্রাইভেটকার নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। হাসপাতালে থাকা নিহত শাহিনার মা রহিমা বেগমের অভিযোগ, জামাই সিয়াম তার মেয়ে শাহিনাকে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে ফেলে গেছেন। তিনি দাবি করেন, সিয়াম একজন মাদকাসক্ত। বিয়ের পর থেকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রায়ই শাহিনাকে মারধর করতেন। বৃহস্পতিবারও শাহিনাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম বলেন, হাসপাতালে আসার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান বলেন, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালানো অভিযুক্ত মোরসেলিম আকাশ সিয়াম থানা হেফাজতে আছেন। মরদেহের বিভিন্ন অংশে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় ফাঁস নিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আনোয়ার আল শামীম/এসআর  

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: আমিনুল হক

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: আমিনুল হক

খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইন ঢেলে সাজানোর দাবি টিআইবির

খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইন ঢেলে সাজানোর দাবি টিআইবির

পেসারের সঙ্গে এবার স্পিনারও, দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে বোলার হান্ট

পেসারের সঙ্গে এবার স্পিনারও, দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে বোলার হান্ট

দুই কাতলা ধরে জিতে নিলেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা
দুই কাতলা ধরে জিতে নিলেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা

শুক্রবার ভোর সাড়ে ছয়টায় ২৬ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন আবদুল হান্নান। দিনটি যেন তাঁরই ছিল। তিনি একাই ধরলেন দুটি বড় কাতলা, জিতে নিলেন প্রথম ও তৃতীয় পুরস্কার। মোট অর্থ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এই শৌখিন মাছশিকারি।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কলেজপাড়ার বিরেশ দিঘিতে আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ছয়টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত বড়শি (ছিপ) দিয়ে শৌখিন মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।পৌনে তিন একর দিঘিটির মালিক সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কলেজপাড়ার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর পরিবার। ওই পরিবারের কাছ থেকে সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প নামের একটি সমিতি দিঘিটি বন্ধক নিয়েছে। ওই সমিতি দিঘিটিতে প্রতিবছর কয়েকবার মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।সমিতি–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ ভোর সাড়ে ছয়টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ২৪টি আসনে (মাচা) ৪৮ জন শৌখিন মৎস্যশিকারি অংশ নেন। তাঁদের আসন নির্ধারণ করা হয় লটারির মাধ্যমে। প্রতিটি আসন থেকে ২৬ হাজার টাকা করে আয়োজকদেরকে প্রদান করতে হয়েছে। প্রতিযোগীদের জন্য ছিল ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকার ৬টি পুরস্কার। এ ছাড়া ছিল সান্ত্বনা পুরস্কার।সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ মাছের খাবার প্রস্তুত করছেন, কেউ দিঘিতে বড়শি ফেলছেন। হঠাৎ হঠাৎ মাচা থেকে জোরেশোরে আওয়াজ উঠছে। ‘বড় মাছ’, ‘বড় মাছ’ বলে হইহুল্লোড় করছেন শিকারি ও তাঁদের লোকজন।মাছশিকারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি আসনে মাছ ধরতে টিকিট ছাড়া আনুষঙ্গিক আরও ১০–১২ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। আসনের মালিকদের অনেকে ভাড়া করে শিকারি নিয়ে এসেছিলেন। ভাড়াটেপ্রতি শিকারিকে দিতে হয়েছে ৩ হাজার টাকা করে। আর পুরস্কার পেলে ভাড়াটে শিকারিকে দিতে হয় পুরস্কারের ১০ শতাংশ টাকা।দুটি পুরস্কার জিতে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা পেয়েছেন আবদুল হান্নানবিরেশ দিঘিতে এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা থেকে আসা ৪৮ জন মাছ শিকার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতা দেখতে দিঘির চারদিকে অনেক দর্শকের সমাগম ঘটে।এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের স্বল্পনোয়াগাঁও গ্রামের আবদুল হান্নান ৫ কেজি ৪০৫ গ্রাম ওজনের একটি এবং ৩ কেজি ৮৯৫ গ্রাম ওজনের আরেকটি কাতলা মাছ শিকার করে প্রথম ও তৃতীয় হন। প্রথম পুরস্কার হিসেবে তিনি ১ লাখ ৮০ হাজার আর তৃতীয়টির জন্য ৫০ হাজার টাকা পান। মোট পুরস্কার হিসেবে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জিতে নেন হান্নান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘একাই প্রথম ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছি। ভালোই লাগছে।’মাছ শিকারে ব্যস্ত শৌখিন মাছ শিকারিরাএ ছাড়া কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দী গ্রামের আবদুল মোমেন ৪ কেজি ৫১০ গ্রাম ওজনের কাতলা মাছ শিকার করে দ্বিতীয় পুরস্কার জিতে পেয়েছেন ৯০ হাজার টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের মেড্ডা এলাকার জামাল হোসেন ৩ কেজি ৪৯০ গ্রাম ওজনের কাতালা শিকার করে চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ৪০ হাজার টাকা।হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকার সাইদুল হোসেন ৩ কেজি ৫৫ গ্রাম ওজনের কাতলা মাছ শিকার করে পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ৩৫ হাজার টাকা।সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি আলী মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, এখানে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হয়। এটি এ বছরের ষষ্ঠ আয়োজন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শৌখিন মৎস্যশিকারিরা এখানে অংশগ্রহণ করে থাকেন।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
নতুন পরিচয়ে হানিয়া আমির, শুরুতেই চমক

নতুন পরিচয়ে হানিয়া আমির, শুরুতেই চমক

সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ভবন ভাড়া নিয়ে প্রতারণার আস্তানা, চট্টগ্রামে আটক ৬৩ বিদেশি কারাগারে

ভবন ভাড়া নিয়ে প্রতারণার আস্তানা, চট্টগ্রামে আটক ৬৩ বিদেশি কারাগারে

আগামী মার্চের মধ্যেই পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প উদ্বোধন: পানিসম্পদ মন্ত্রী
আগামী মার্চের মধ্যেই পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প উদ্বোধন: পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরেজমিনে এসে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুরে পদ্মা-গড়াই মোহনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি ও আমাদের ইশতেহারে উল্লেখ করেছিলাম, এ দেশের জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দেওয়ার পর ইনশাআল্লাহ আমরা দৃশ্যমান পদ্মা ব্যারাজ সবার সামনে নিয়ে আসব। নির্বাচিত হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের সভায় প্রথমেই ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে সম্ভবত আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা, সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়েছে। ২০০৪ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এর কাজ শুরু হয়েছিল। ২০২৬ সালে এসে সেই কাজ শেষ হয়েছে। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এই প্রকল্পটি দৃশ্যমান হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তিনি জাতির সামনে কমিটমেন্ট দিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ইশতেহারে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে এসে মেগা প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পদ্মা ব্যারাজের সুফল তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষি কার্যক্রমে গতি আসবে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ও বন্যার কারণে যে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা নিয়ন্ত্রণেও প্রকল্পটি সহায়তা করবে। তিনি বলেন, নদীর প্রবাহ ও গতিপ্রকৃতি ঠিক না থাকায় অনেক সময় নদীর তীরের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে বসতবাড়ি, বাজারসহ স্থানীয় জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় খালসহ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন জলপ্রবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে কৃষি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সুন্দরবনের প্রতিবেশ ব্যবস্থাও ভারসাম্য হারায়। মন্ত্রী বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এই অঞ্চলের ১৯টি জেলার আশপাশের উপকারভোগীসহ মোট ২৪ জেলার মানুষ প্রকল্পটির সুফল পাবেন। একেক এলাকায় একেক ধরনের উপকারভোগী থাকবেন এবং একেক ধরনের সুবিধা পাবেন। প্রকল্পের অবকাঠামো সম্পর্কে তিনি বলেন, মূল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পাশাপাশি পদ্মা নদী ও গড়াইয়ের সংযোগস্থলেও একটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে, যেটিকে গড়াই অফটেক বলা হচ্ছে। সেখানে মাছের চলাচলের জন্য ফিশ পাস, নৌযান চলাচলের জন্য নেভিগেশন লক এবং পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন গেট ও আন্ডার স্লুইস থাকবে। এ্যানি বলেন, সম্পূর্ণ বেনিফিট যেন এই এলাকার মানুষকে দেওয়া যায়, এটাই আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। আজ আমরা সরেজমিনে এসেছি এটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য। ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই আমাদের এই অঞ্চলে দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে এবং আপনারা এই সুবিধা পেতে শুরু করবেন। পদ্মা ব্যারাজ দৃশ্যমান হলে ভারতের জন্য তা মাথাব্যথার কারণ হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। আমাদের স্বার্থটা রক্ষা করেই কাজ করছি। এই স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা লাগবে। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দৌলতপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রাগিব রউফ চৌধুরী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আল-মামুন সাগর/কেএইচকে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার-১৫

নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার-১৫

হতে পারতেন ‘আরেক শচিন’, কুয়াশার রাতের এক দুর্ঘটনায় সব শেষ

হতে পারতেন ‘আরেক শচিন’, কুয়াশার রাতের এক দুর্ঘটনায় সব শেষ

হাটহাজারী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

হাটহাজারী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

0 Comments