জাতীয়

এসআরবি বিল নিয়ে ৮ বিষয়ে ভিন্নমত দিলেন বিরোধী দলের সদস্যরা

News সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ 0
এসআরবি বিল নিয়ে ৮ বিষয়ে ভিন্নমত দিলেন বিরোধী দলের সদস্যরা
এসআরবি বিল নিয়ে ৮ বিষয়ে ভিন্নমত দিলেন বিরোধী দলের সদস্যরা

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে ৮টি বিষয়ে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি নামে পুলিশের অধীনে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনে গত বৃহস্পতিবার সংসদে বিলটি আনা হয়। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের দুজন সংসদ সদস্য আছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে ভিন্নমতের বিষয়গুলো লিখিতভাবে সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করা হয় বলে বৈঠকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

আগামীকাল কমিটি বিলটি নিয়ে সংসদে প্রতিবেদন দেবে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার বিলটি সংসদে পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন প্রথম আলোকে বলেন, র‍্যাবকে বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু এখন আসলে র‍্যাব যেভাবে ছিল নাম বদলে হুবহু সেভাবে রেখে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিলের ৭-৮টি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। তবে কী কী বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন, তার বিস্তারিত তিনি জানাননি।

তবে বৈঠকের একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটি দ্রুত পাস না করে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ সভা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, বিলটির মাধ্যমে র‍্যাবের নামের বাইরে ঠিক কী বদলাচ্ছে, তা সরকারকে দেখতে হবে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে র‍্যাব যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে। বিদেশি সরকারগুলো দেখবে এসআরবির নিয়ম, তদারকি ও কাজের ধরন র‍্যাব থেকে সত্যিই আলাদা কি না।

বিলের যেসব বিষয়ে তাদের আপত্তি আছে, সেখানে নিজেদের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। যেমন বিরোধী দল বলেছে, বিলে যেভাবে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ করার কথা বলা হয়েছে, তাতে তদন্তের স্বার্থের সংঘাত হতে পারে। কারণ, এই কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব হবেন এসআরবির কর্মকর্তা। বিরোধী দল অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে সভাপতি করে প্রতিকার কমিটি করার বিধান প্রস্তাব দিয়েছে।

বিরোধী দল বলেছে, বেসামরিক ব্যক্তিকে এসআরবি কোথায় ও কতক্ষণ আটক রাখতে পারবে, তা স্পষ্ট নয়। এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ থাকলেও সেগুলোর অবস্থান প্রকাশ ও হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। তারা প্রস্তাব দিয়েছে, এসআরবির প্রতিটি দপ্তর, ক্যাম্প, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে। প্রত্যেক আটক ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, আইনি কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসা ও থানায় হস্তান্তরের তথ্য রেজিস্টারে রাখতে হবে।

আরেকটি ধারার সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়ে বিরোধী দল বলেছে, এসআরবি যে জেলায় কাজ করবে, সেখানে মাসিক কার্যবিবরণী দিতে হবে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ সংশোধিত আকারে বিলটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে বলা হয়, অতীতে র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভিন্নভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো বাহিনীর অপব্যবহারের কারণে পুরো বাহিনীকে বিলুপ্ত না করে এর দক্ষ জনবল ও বিদ্যমান সরঞ্জামকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ, পেশাদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ রকিবুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নূরুল ইসলাম ও আব্দুল বাতেন।

২০০৩ সালে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ সংশোধন করে র‍্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছিল। নানা কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীটি সমালোচিত হয়। এখন ওই অধ্যাদেশের র‍্যাব-সংক্রান্ত বিধান বাদ দিয়ে র‍্যাব বিলুপ্ত করা এবং পৃথক এসআরবি আইন করা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনের খসড়া পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কাগজে ‘র‍্যাব’ বিলুপ্ত হলেও বাহিনীটির প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার প্রায় সবই থাকছে। র‍্যাবের বর্তমান জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, নথি ও অন্যান্য সম্পদ এসআরবিতে চলে যাবে। র‍্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন ইউনিটের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। র‍্যাবের দায়দায়িত্ব, চুক্তি এবং পক্ষে বা বিপক্ষে চলমান মামলাও এসআরবির নামে চলবে।

র‍্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অতীতে বিভিন্ন সময়ে বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র‍্যাব এবং বাহিনীটির সাবেক ও তৎকালীন সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

বিএমইউর ৮ অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা

আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ৮টি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা কিছু কিছু আপত্তি নিষ্পত্তি করেছেন। আর কিছু আপত্তি আরও খতিয়ে দেখার জন্য কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। তার ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, অডিট আপত্তিতে দেখা গেছে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে সরকারের নিয়ম হচ্ছে লাভের ওপর ৩০ শতাংশ কমিশন বিশেষজ্ঞরা পাবেন। কিন্তু লাভের ওপর না নিয়ে আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কমিশন নিচ্ছেন তাঁরা।

সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, বড় বড় দুর্নীতি, অনিয়ম যেসব জায়গায় আছে, সেগুলোর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা দেওয়ার জন্য মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে (সিএজি) নির্দেশনা দিয়েছে কমিটি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মাহাবুবুর রহমান, হাফিজ ইব্রাহীম, এস কে আজিজুল বারী, মনজুরুল ইসলাম, ফজলে হুদা, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, রুহুল আমিন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
১০-১২ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ
১০-১২ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ

সাতক্ষীরার কালিন্দী নদী সীমান্ত দিয়ে ১০-১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। পরে বিজিবির বাধার মুখে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ খুরমী বিওপি থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে কালিন্দী নদীর মধ্যস্থ চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, ছোট বাঁশঝাড়িয়া মিনি ফরেস্ট নামের ওই এলাকায় ভারতের ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর সাহেবখালী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা একটি কান্ট্রি বোট ও একটি স্পিডবোট নিয়ে ওই ১০-১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি খুরমী বিওপির টহলদলের নজরে পড়লে বিজিবি সদস্যরা প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্পিডবোটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এসময় তারা ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। আরও পড়ুন বাজারে যাওয়ার পথে তুলে এনে বাংলাদেশে পুশ-ইন, ভারতে ফিরতে চান নারী   বিজিবির দাবি, তাদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হন। পরে বেলা ১১টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ১০-১২ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এ বিষয়ে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৭ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, প্রচলিত আইন ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। আহসানুর রহমান রাজীব/এসআর  

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

ঢাকায় চলছে খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনী, শনিবার শেষ দিন

ঢাকায় চলছে খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনী, শনিবার শেষ দিন

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে এআই প্ল্যাটফর্ম অ্যাডজোইকের যাত্রা শুরু

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে এআই প্ল্যাটফর্ম অ্যাডজোইকের যাত্রা শুরু

প্যারিসের সেই ভয়ংকর রাত, আদালতে সাক্ষ্য দিলেন দোন্নারুম্মা
প্যারিসের সেই ভয়ংকর রাত, আদালতে সাক্ষ্য দিলেন দোন্নারুম্মা

ফুটবল মাঠে তাঁর কাজই হলো বিপদ ঠেকানো। ২৪ ফুট চওড়া আর ৮ ফুট উঁচু গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের একের পর এক শট ফিরিয়ে দেন তিনি। কখনো দুর্দান্ত সেভে দলকে বাঁচান, কখনো তাঁর হাতেই লেখা হয় ম্যাচের ভাগ্য। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর এক রাতে সেই গোলকিপারই ছিলেন সম্পূর্ণ অসহায়।তিনি জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা—২০২১ ইউরোজয়ী ইতালির গোলরক্ষক। পিএসজির হয়ে খেলার সময় ২০২৩ সালের এক রাতে প্যারিসের নিজ বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন তিনি ও তাঁর সঙ্গী আলেসিয়া এলেফান্তে। তিন বছর পর সেই রাতের স্মৃতি আবারও ফিরে এসেছে আদালতে। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে দোন্নারুম্মা ও আলেসিয়া শুনিয়েছেন সেই রাতের আতঙ্কের গল্প।ঘটনাটি ২০২৩ সালের ২১ জুলাই রাতের। ঘড়ির কাঁটায় রাত ২টা ৫২ মিনিটে আচমকা দোন্নারুম্মার ঘরে ঢুকে পড়েন চার মুখোশধারী। একটি মই বেয়ে তাঁরা ভবনের ছাদে ওঠেন। সেখান থেকে নেমে আসেন বারান্দায়। এরপর জানালা ভেঙে ঢুকে পড়েন ঘরের ভেতর। ঘুম ভেঙে চোখ মেলতেই দোন্নারুম্মা দেখতে পান, সামনে দাঁড়িয়ে একজন মুখোশধারী। কী ঘটছে, তা বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় মারধর। তাঁর দিকে তাক করা হয় ছুরি। পেছন থেকে আরও দুজন চিৎকার করে জানতে চাইছিলেন দামি ঘড়ি আর মূল্যবান জিনিসপত্র কোথায় রাখা? ভয়ে দোন্নারুম্মা ড্রেসারের ওপর রাখা একটি ঘড়ির দিকে ইঙ্গিত করেন। কিন্তু তাতেও থামেননি দুর্বৃত্তরা।জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা ও তাঁর স্ত্রী আলেসিয়া এলিফান্তেতাঁরা এলেফান্তেকে বেঁধে ফেলেন। এরপর একে একে দাবি করতে থাকেন টাকা, ঘড়ি ও গয়না। বাধ্য হয়ে এলেফান্তে প্রায় ১২ হাজার রিয়াল সমপরিমাণ নগদ অর্থ, একটি মূল্যবান ঘড়ি এবং বেশ কিছু গয়না তাঁদের হাতে তুলে দেন। এরপর তাঁদের নজর পড়ে একটি আলমারির দিকে। আলমারি খোলার গোপন কোড জানতে চান তাঁরা। এলেফান্তে জানান, তিনি কোড জানেন না। আলমারিতে মূল্যবান কিছু নেইও। এই জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ডাকাত দল। একপর্যায়ে এলেফান্তের চুল টেনে ধরা হয়, আঘাত করা হয় পায়েও। ভয় আর যন্ত্রণার মধ্যে তখন এলেফান্তে জানান, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু সেই কথাতেও থামেনি হামলা।ঘটনার তিন বছর পর রাতের ঘটনা উঠে এসেছে দোন্নারুম্মা ও এলেফান্তের আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ জানিয়েছে, বর্তমানে প্যারিসের একটি আদালতে ওই ডাকাতির মামলার শুনানি চলছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দফায় শুনানি হয়েছে। এতে অভিযুক্ত আসামি তিনজন।তাঁদের মধ্যে ইলিয়াস খেরবুশ ওরফে ‘গানিতো’ এবং খিয়ান মামুনি ওরফে ‘কিকি’ নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অন্য আসামি ২৪ বছর বয়সী মোকতার দিয়োপ ডাকাতিতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।এই রাফিনিয়া যেন ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দুযদিও দোন্নারুম্মা ও এলেফান্তের ওপর হামলায় তিনি জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করা আরেক ব্যক্তি ২০২৪ সালে কারাগারেই মারা যান। ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা আরও দুজনকে এরই মধ্যে শিশু আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁদের একজনকে তিন বছর এবং অন্যজনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।আদালতে মামলার শুনানিও ছিল উত্তেজনাময়। খেরবুশ ও মামুনি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। দোন্নারুম্মা বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলেন।সেই কুতিনিও এখন কোথায়

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল ট্রলারসহ ১২ জেলেকে উদ্ধার করলো নৌবাহিনী

বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল ট্রলারসহ ১২ জেলেকে উদ্ধার করলো নৌবাহিনী

ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই, পৌঁছালো ১৪১ জনে

ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই, পৌঁছালো ১৪১ জনে

পুতিনের বুলেটপ্রুফ লিমুজিন এখন দিল্লির সড়কে

পুতিনের বুলেটপ্রুফ লিমুজিন এখন দিল্লির সড়কে

চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর যুবদল নেতার
চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর যুবদল নেতার

বগুড়ার শেরপুরে পৌর যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতার দাবি, চাঁদা দাবি বা হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং জমিসংক্রান্ত বিরোধ ঘিরে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এ মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুর পৌরসভার সান্যালপাড়া হাটখোলা সড়ক এলাকায় অবস্থিত সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এবং সায়েম ট্রেডার্স নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই দিন রাতে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী প্রবাসী আবদুল মান্নানের ছেলে মো. আবদুল্লাহ আল রাফাত (৩৩) বাদী হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। মামলায় শেরপুর পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে (৪২) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারে আরও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল রাফাত নিজেও শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রধান আসামি তরিকুল ইসলাম সায়েম ট্রাভেলসের কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম মণ্ডল সুরুজকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, তোদের মালিক যদি আমাকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা না দেয়, তবে এই এলাকায় কোনো ব্যবসা করতে দেব না। একই সঙ্গে তাদের মালিকানাধীন জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তরিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও মদদে ৫০-৬০ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে পুনরায় পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং তা দিতে অস্বীকার করায় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে টেবিলের ওপর ব্যাগে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আসামিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল রাফাত বলেন, আমরা একই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে, তাতে আমরা আতঙ্কিত। এর আগেও সরকারের অধিগ্রহণ করা জমি দখল করে ওই যুবদল নেতা ভাড়া বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি। তবে চাঁদা দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় আমি বগুড়া শহরে ছিলাম। সেখানে চাঁদা দাবি বা হামলার কোনো প্রশ্নই আসে না। মূল ঘটনা হচ্ছে, আরফান ও আবদুল মান্নানরা স্থানীয় পৈতৃক ও সরকারি জমি দখলের অপচেষ্টা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেখানে গিয়ে কেবল এর প্রতিবাদ করেছেন। আপনারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন সেখানে চাঁদার কোনো কথা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হয়রানি করতেই এই ভিত্তিহীন এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে বিষয়টি মূলত জায়গা-জমিসংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিরোধ। চাঁদাবাজির কোনো স্পষ্ট ঘটনা পাওয়া যায়নি। তবে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এল.বি/কেএইচকে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
জজ মিয়া হত্যা: আব্দুল্লাহর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো যেসব তথ্য

জজ মিয়া হত্যা: আব্দুল্লাহর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো যেসব তথ্য

সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু শনিবার ও অন্যান্য খবর

সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু শনিবার ও অন্যান্য খবর

ঝাও হুইয়ান এখন আয়ান ইসলাম, বিয়ে করলেন রংপুরের পীরগঞ্জের তরুণীকে

ঝাও হুইয়ান এখন আয়ান ইসলাম, বিয়ে করলেন রংপুরের পীরগঞ্জের তরুণীকে

0 Comments