কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) বিজ্ঞাপন কেনার প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যাডজোইক’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। এটি প্রচলিত ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের খরচ কমিয়ে সঠিক মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যাডজোইকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করা হয়। প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ‘ডিসেলস’-এর অধীনে অ্যাডজোইক কাজ করবে। একই অনুষ্ঠানে বিক্রি বাড়ানো এবং ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং সহজ করতে ‘আম্ব্রেলাএক্স’ নামের আরেকটি প্ল্যাটফর্মকে অ্যাডজোইকের সঙ্গে যুক্ত করার কথা জানানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাডজোইকের প্রধান নির্বাহী (সিইও) জয়ন্ত চ্যাটার্জী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম আমিনুর রহমান ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা টিপু আরবিদ উপস্থিত ছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাডজোইক।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ডিসেলসের অধীনে অ্যাডজোইক ও আম্ব্রেলাএক্স যৌথভাবে ডিজিটাল প্রোগ্রামেটিক বিজ্ঞাপন, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং ও সেলস অটোমেশনকে একটি স্মার্ট ড্যাশবোর্ডে যুক্ত করেছে। এই ব্যবস্থা এশিয়াজুড়ে ডিজিটাল ব্যবসার ধারায় পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে।
অ্যাডজোইকের প্রধান নির্বাহী (সিইও) জয়ন্ত চ্যাটার্জী বলেন, অনেক সময় ব্যবসায়ীরা অনুমান করে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেন। এতে প্রচুর টাকা ও সময় নষ্ট হয়; কিন্তু আসল ক্রেতা পাওয়া যায় না। অ্যাডজোইক মূলত সঠিক ডেটা ব্যবহার করে খুব কম খরচে একদম আসল ক্রেতার কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে কাজ করবে।
কোম্পানির চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) টিপু আরবিদ জানান, অ্যাডজোইক সাধারণ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার টুল নয়; এটি একটি ডিমান্ড-সাইড প্ল্যাটফর্ম (ডিএসপি)। কোনো তৃতীয় পক্ষের কুকির ওপর নির্ভর না করে প্ল্যাটফর্মটি ১০ মিলিসেকেন্ডের কম সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং ১০০ মিলিসেকেন্ডের ডিজিটাল নিলামের মাধ্যমে কম খরচে বিজ্ঞাপন নিশ্চিত করতে পারে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিবরিশাল নগরের একটি ভবন থেকে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে।আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের প্যারারা রোডের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত দৈনিক সমকালের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পুলক চ্যাটার্জির লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে।বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদি হাসান বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে খবর পেয়ে তাঁরা প্যারারা রোডের ওই ভবনে যান। সেখানে সমকাল কার্যালয়ে রশি দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পুলক চ্যাটার্জির লাশ পাওয়া যায়।আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, পুলিশ কমিশনার, বরিশাল মেট্রোপলিটনঘটনাস্থল থেকে কয়েক পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। পুলক চ্যাটার্জির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে পুলিশ সবকিছু যাচাই-বাছাই করছে। সিআইডির একটি দলও কাজ করছে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।সহকর্মী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পুলক চ্যাটার্জি দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোপ্রধান ছিলেন। ২০২৩ সালের দিকে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মী ও সাবেক ব্যুরোপ্রধান হিসেবে মাঝেমধ্যে তিনি সমকালের আঞ্চলিক কার্যালয়ে এসে বসতেন এবং পত্রিকা পড়তেন।পুলক চ্যাটার্জির স্ত্রী নীলোৎপলা মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, চাকরি হারানোর পর থেকে তাঁর স্বামী হতাশায় ভুগছিলেন। তবে এ কারণে তিনি আত্মহত্যা করবেন, তা পরিবারের কেউ ভাবেননি। একই ভাষ্য পুলক চ্যাটার্জির ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক চ্যাটার্জির।সমকালের বর্তমান ব্যুরোপ্রধান সুমন চৌধুরীর দাবি, সাবেক ব্যুরোপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মী হিসেবে পুলক চ্যাটার্জির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যালয়ে ঢোকার একটি চাবি তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। আজ দিনের কোনো এক সময় ওই চাবি দিয়ে কার্যালয়ে ঢুকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় পিয়ন দীপকও অফিসে ছিলেন না, তিনি ছুটিতে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, পুলক চ্যাটার্জি শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে নগরের শ্রীনাথ চ্যাটার্জী লেনের বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও ধরছিলেন না। বিষয়টি তাঁর স্ত্রী নীলোৎপলা মুখার্জি সুমন চৌধুরীকে ফোন করে জানান।সুমন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যার সময় তিনি কার্যালয়ে এসে দেখেন, ভেতর থেকে দরজা আটকানো। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে পুলক চ্যাটার্জিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে তিনি অন্য সংবাদপত্রের সহকর্মী ও পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাঁর লাশ উদ্ধার করে।রাত ৯টার দিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ সমকাল কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কয়েক পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। পুলক চ্যাটার্জির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে পুলিশ সবকিছু যাচাই-বাছাই করছে। সিআইডির একটি দলও কাজ করছে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলক চ্যাটার্জি আলাদা কাগজে পাঁচটি সুইসাইড নোট লিখে গেছেন। একটিতে তিনি লিখেছেন, তাঁর এ মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। অপর চারটি নোট লিখে গেছেন স্ত্রী, ভাই, সমকালের আঞ্চলিক কার্যালয়ের পিয়ন এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ করে।পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুতে বরিশালের সাংবাদিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, পুলক চ্যাটার্জি শুধু সাংবাদিকতায় নয়, বরিশালের প্রতিটি সামাজিক–সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও ছিলেন অগ্রভাগে। তিনি সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা অপুরণীয়। কল্পনাও করা যায়নি তিনি এভাবে অকালে চলে যাবেন।জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি শাহ সাজেদা বলেন, ‘অত্যন্ত হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত পুলক ছিল বরিশালের সাংবাদিকতা অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। ওর এই অসময়ে চলে যাওয়াটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।’
২০২৬ সালের অন্যতম বড় সিনেমা হওয়ার কথা ছিল যশ অভিনীত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’। বড় তারকা, বিশাল বাজেট, প্যান-ইন্ডিয়া মুক্তি—সব মিলিয়ে ছবিটিকে ঘিরে প্রত্যাশার কমতি ছিল না। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর সেই প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি গীতু মোহনদাস পরিচালিত সিনেমাটি। বরং দুর্দান্ত উদ্বোধনের পর এমনভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে যে এখন বছরের অন্যতম বড় আর্থিক ব্যর্থতা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে ‘টক্সিক’। মুক্তির দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরও ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ৩৪০ কোটি রুপিতে আটকে আছে। ট্রেড বিশ্লেষক রমেশ বালা ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছেন, ছবিটির লোকসান ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি রুপির মধ্যে হতে পারে। তাঁর হিসাবে, ‘টক্সিক’ ছবিটি বাজেটের প্রায় ৬০ শতাংশই তুলতে পারেনি। বড় বাজেটের ব্যর্থ সিনেমা হিসেবে ‘টক্সিক’-এর সঙ্গে এখন তুলনা করা হচ্ছে রামচরণ অভিনীত ‘গেম চেঞ্জার’ এবং প্রভাসের ‘আদিপুরুষ’-এর। তিনটি ছবিই বড় তারকা, বিশাল আয়োজন ও বিপুল বাণিজ্যিক প্রত্যাশা নিয়ে নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু বিনিয়োগের তুলনায় আয়—এ জায়গাতেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ‘টক্সিক’।শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো ‘টক্সিক’-এর সবচেয়ে বড় সমস্যা যে উদ্বোধনী আয় ছিল, তা নয়। বরং ছবিটি শুরু করেছিল ব্লকবাস্টারের মতোই। চার বছর পর বড় পর্দায় যশের প্রত্যাবর্তন, বিশাল বাজেটের নির্মাণ, নয়নতারা ও কিয়ারার মতো তারকার উপস্থিতি এবং পরিচালক গীতু মোহনদাসের প্রতি দর্শকের আগ্রহ—সব মিলিয়ে মুক্তির আগেই তৈরি হয়েছিল ব্যাপক উন্মাদনা। ছবিটি মুক্তির প্রথম দিন বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৪০ কোটি রুপি আয় করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়। ভারতে প্রথম দিনের আয় ছিল প্রায় ১০১ কোটি রুপি।দ্বিতীয় দিন থেকেই ছবিটির হিসাব পাল্টে যেতে শুরু করে। দ্বিতীয় দিনে ভারতের আয় নেমে আসে প্রায় ৩৭ কোটি রুপিতে। প্রথম সোমবার তা ১০ কোটির নিচে চলে যায়। এরপর পতন আরও তীব্র হয়েছে। মুক্তির ১৬তম দিনে ভারতে ছবিটির আয় ছিল মাত্র প্রায় ৪০ লাখ রুপি। বিশ্বব্যাপী দৈনিক আয়ও নেমে যায় এক কোটির নিচে।১৫ দিন শেষে ‘টক্সিক’-এর বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৩৯ কোটি ৩২ লাখ রুপি। ১৬তম দিনে ভারতে যোগ হয়েছে আরও প্রায় ৩৯ লাখ রুপি। ফলে দেশটিতে ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪৮ কোটি ২৪ লাখ রুপি। এ পরিস্থিতিতে ৩৫০ কোটি রুপির বিশ্বব্যাপী আয়ও এখন কঠিন বলে মনে হচ্ছে।ট্রেড বিশ্লেষক রমেশ বালার ভাষায়, ‘টক্সিক’-এর বিশ্বব্যাপী শেয়ার প্রায় ১৫০ কোটি রুপি। ছবিটির আকার ও প্রত্যাশার তুলনায় এই অঙ্ক অত্যন্ত কম। শুধু কর্ণাটক নয়, ভারত ও বিদেশের বাজারেও ছবিটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এমনকি ব্রেক-ইভেন পয়েন্টেও পৌঁছাতে পারেনি।কতটা বড় লোকসান‘টক্সিক’-এর প্রকৃত বাজেট নিয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ছবিটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৪৫০ কোটি রুপি বলা হয়েছে। প্রচার, মুক্তির খরচ, সুদসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ করলে মোট বিনিয়োগ ৫০০ কোটি রুপি বা তারও বেশি হতে পারে।এই বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে বিশ্বব্যাপী মাত্র প্রায় ৩৪০ কোটি রুপি আয় যথেষ্ট নয়।তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—কোনো সিনেমার বিশ্বব্যাপী মোট আয় থেকে সরাসরি বাজেট বাদ দিয়ে লোকসান হিসাব করা যায় না। কারণ, বক্স অফিসের অর্থের একটি অংশ যায় প্রেক্ষাগৃহের মালিক, পরিবেশকসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে। এ ছাড়া স্যাটেলাইট, ডিজিটাল, সংগীতসহ বিভিন্ন স্বত্ব বিক্রি থেকেও আয় আসে। তাই ‘টক্সিক’-এর লোকসানের অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।তবু বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ছবিটির লোকসান ৩০০ কোটি রুপি থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি হতে পারে। হিসাবের উচ্চতম অঙ্কটি সত্যি হলে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় আর্থিক বিপর্যয় হয়ে উঠতে পারে।‘টক্সিক’–এ কিয়ারা ও যশ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে ‘গেম চেঞ্জার’ ও ‘আদিপুরুষ’-এর সঙ্গে তুলনাবড় বাজেটের ব্যর্থ সিনেমা হিসেবে ‘টক্সিক’-এর সঙ্গে এখন তুলনা করা হচ্ছে ‘গেম চেঞ্জার’ ও ‘আদিপুরুষ’-এর।রামচরণ অভিনীত ‘গেম চেঞ্জার’ও বিশাল বাণিজ্যিক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ছবিটির বাজেট নিয়ে বিভিন্ন হিসাব থাকলেও তা সাধারণত ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি রুপির মধ্যে ধরা হয়। বিশ্বব্যাপী আয় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় ছবিটির লোকসান প্রায় ২০০ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অন্যদিকে প্রভাসের ‘আদিপুরুষ’-এর বাজেট আরও বেশি ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ছবিটির বাজেট ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি রুপি বলা হয়েছে। ‘রামায়ণ’ অবলম্বনে নির্মিত বিশাল এই সিনেমায় প্রভাসের মতো তারকা থাকলেও বিনিয়োগের তুলনায় প্রেক্ষাগৃহ থেকে পর্যাপ্ত অর্থ ফেরত আসেনি।‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও চমকপ্রদ। কারণ, ‘গেম চেঞ্জার’ ও ‘আদিপুরুষ’-এর তুলনায় এর উদ্বোধন ছিল অনেক শক্তিশালী। কিন্তু এরপর যে ধস নেমেছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত ছবিটিকে বিপাকে ফেলেছে।প্রথম দিনের পরই কেন এমন পতন‘টক্সিক’-এর ব্যর্থতার ধরনটি অন্য রকম। কোনো সিনেমা দুর্বলভাবে শুরু করেও দর্শকের মুখে মুখে প্রচারের মাধ্যমে পরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আবার মাঝারি উদ্বোধনের পর ধীরে ধীরে হিটও হতে পারে। ‘টক্সিক’ করেছে ঠিক উল্টোটা।প্রথম দিনেই বিপুল আয় করে ছবিটি এমন একটি ধারণা তৈরি করেছিল যে সামনে আরও বড় সাফল্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু পরের দিন থেকেই দর্শকের আগ্রহে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। ফলে প্রথম দিনের বিশাল আয় শেষ পর্যন্ত ছবিটির চূড়ান্ত ফলাফলে খুব একটা কাজে আসেনি।‘টক্সিক’–এ যশ। এক্স থেকে এর মধ্যে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ ও ‘হনুমান অংশ’র মতো সিনেমাও বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করে। ওই সিনেমাগুলো দর্শক টানতে শুরু করলে ‘টক্সিক’ ধীরে ধীরে শো ও পর্দা হারাতে থাকে। এতে ছবিটির ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আরও কমে যায়।অর্থাৎ একদিকে প্রথম দিনের পর দর্শক ধরে রাখা যায়নি, অন্যদিকে নতুন সিনেমার প্রতিযোগিতায় কমেছে শো ও স্ক্রিন। সব মিলিয়ে ছবিটির বক্স অফিস যাত্রা দ্রুত সংকুচিত হয়েছে।ওটিটির হিসাবও গড়বড়শুধু প্রেক্ষাগৃহের আয় নয়, ‘টক্সিক’-এর আর্থিক সমস্যার প্রভাব পড়েছে ওটিটি স্বত্বেও। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির আগে ছবিটির ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রি করেনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। প্রত্যাশা ছিল, সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে বড় সাফল্য পেলে পরে ওটিটি স্বত্ব আরও বেশি দামে বিক্রি করা যাবে; কিন্তু বক্স অফিসে ছবির পতন সেই পরিকল্পনাকেই উল্টো পথে নিয়ে যায়।‘টক্সিক’–এ কিয়ারা ও যশ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে রমেশ বালার মতে, ওটিটি স্বত্ব আগে বিক্রি না করাই ছবিটির বড় আর্থিক ক্ষতির অন্যতম কারণ। তাঁর ভাষ্য, আগে স্বত্ব বিক্রি করা গেলে অন্তত ১০০ কোটি রুপির মতো ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। স্যাটেলাইট স্বত্বের কী হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়। তাঁর কাছে খবর, এখন ওটিটি স্বত্বের দাম প্রায় ৩০ কোটি রুপি ধরা হচ্ছে, যা অত্যন্ত কম।মুক্তির আগে ‘টক্সিক’-এর ওটিটি স্বত্বের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২০০ কোটি রুপি হতে পারে বলে আলোচনা ছিল; কিন্তু এখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে সেই অঙ্ক নেমে প্রায় ৩০ কোটি রুপিতে এসেছে। যদিও এ তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়, তবু এটি দেখাচ্ছে, প্রেক্ষাগৃহে একটি সিনেমার পারফরম্যান্স কীভাবে তার অন্য স্বত্বের বাজারমূল্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।সাধারণত কোনো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা না করলে ডিজিটাল, স্যাটেলাইট ও সংগীতের স্বত্ব থেকে পাওয়া অর্থ ক্ষতির ধাক্কা কিছুটা সামলে দিতে পারে। কিন্তু ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে প্রেক্ষাগৃহে ভালো ব্যবসার আশায় ওটিটি স্বত্ব আটকে রাখার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।যশের দাপট আছে, কিন্তু গল্প কোথায়—‘টক্সিক’ নিয়ে ৭ অভিযোগ‘আদিপুরুষ’-এর চেয়েও বড় ব্যর্থতা‘আদিপুরুষ’ একসময় ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় আর্থিক হতাশা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। বিপুল বাজেটের বিপরীতে তুলনামূলক কম আয় ছবিটিকে বড় ঘাটতির মুখে ফেলেছিল। ‘গেম চেঞ্জার’ও দেখিয়েছে, অত্যন্ত ব্যয়বহুল তারকানির্ভর সিনেমায় প্রত্যাশা পূরণ না হলে ঝুঁকি কতটা বড় হতে পারে। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘টক্সিক’।বর্তমান লোকসানের হিসাব সত্যি হলে ছবিটির আর্থিক ঘাটতি ‘আদিপুরুষ’ ও ‘গেম চেঞ্জার’—দুই সিনেমারই লোকসানকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এটিও মনে রাখতে হবে, এগুলো এখনো চূড়ান্ত হিসাব নয়। ডিজিটাল, স্যাটেলাইট, সংগীতসহ অন্যান্য স্বত্ব থেকে কত আয় হবে এবং ছবিটির প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় কত ছিল—তার ওপর শেষ পর্যন্ত প্রকৃত লোকসানের অঙ্ক নির্ভর করবে।তবে একটি বিষয় নিয়ে সন্দেহ নেই—প্রেক্ষাগৃহে ‘টক্সিক’-এর পারফরম্যান্স প্রত্যাশার তুলনায় ভয়াবহ রকমের খারাপ হয়েছে।১০০ কোটির উদ্বোধন থেকে ৩৪০ কোটির সমাপ্তি‘টক্সিক’-এর ব্যর্থতা যশের জন্যও বড় ধাক্কা। কারণ, সিনেমাটি এসেছে ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর মতো বিশাল সাফল্যের পর। চার বছর পর বড় পর্দায় তাঁর প্রত্যাবর্তন, প্যান-ইন্ডিয়া বাজারকে লক্ষ্য করে নির্মাণ এবং বিপুল বাজেট—সব মিলিয়ে প্রত্যাশার মাত্রা ছিল অনেক উঁচু। কিন্তু সেই প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি ছবিটি।সমস্যাটি শুধু একটি খারাপ সপ্তাহান্তে সীমাবদ্ধ ছিল না। ছবিটির আর্থিক পরিকল্পনা নির্ভর করেছিল একাধিক বিষয়ের ওপর—দীর্ঘস্থায়ী প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন, দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখা, যশের তারকা-ক্ষমতা, বিশাল বাজেটের যথাযথ বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন স্বত্ব থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়।তবে একের পর এক সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এককথায়, ‘টক্সিক’-এর শুধু বক্স অফিসই ব্যর্থ হয়নি—ছবিটিকে ঘিরে তৈরি করা পুরো অর্থনৈতিক হিসাবই যেন একে একে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে
আজ আমরা যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকী স্মরণ করছি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সংঘটিত এই হামলা মূলত বিশ্বের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ৯/১১-এর অন্যতম বড় প্রভাব হলো মানুষের মধ্যে চলমান অবিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ক্রমাগত অবক্ষয়।বিশেষ করে, পশ্চিম ও পূর্বের মধ্যে আন্তর্জাতিক ও আন্তসাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং পশ্চিমা সমাজে ইসলাম ও মুসলিম জনগোষ্ঠী বা সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা ৯/১১-এর বর্বর সন্ত্রাসী হামলার পর নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। আমি যখনই বিমানে ভ্রমণ করি এবং অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তখন ৯/১১-এর জন্য দায়ী সেই মানুষগুলোর প্রতি আমার ঘৃণা আরও তীব্র হয়—যারা সেদিন প্রায় তিন হাজার নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিল।একজন তরুণ মুসলিম হিসেবে আমি বেড়ে উঠেছি এবং ৯/১১-এর পরপরই আমার সাংবাদিকতা পেশার বিকাশ ঘটেছে। আমি এখনো সেই দিনটির কথা মনে করতে পারি।একজন রশিদ হুজুর, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ ও আমাদের সর্বনাশতখন আমি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) আন্তর্জাতিক ডেস্কে একজন তরুণ সাব-এডিটর হিসেবে কাজ করছিলাম। আমার স্পষ্ট মনে আছে, টেলিভিশনের সংবাদে নিউইয়র্ক সিটির টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসীদের বিমান আঘাত হানার দৃশ্য দেখেছিলাম।প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, এটি হয়তো নিছক একটি দুর্ঘটনা। এ ঘটনা যে বিশ্বরাজনীতিকে আমূল পরিবর্তন করে দেবে, সে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না। আমরা এটাও বুঝতে পারিনি যে মুসলিম সম্প্রদায় ও ইসলাম সম্পর্কে অবিশ্বাস এবং ভুল ধারণার কারণে সারা বিশ্বের মুসলমানদের একটি নরকসম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মুসলমানদের সবাইকে সন্ত্রাসী মনে করার মতো গতানুগতিক ও নেতিবাচক ধারণার কারণে পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলোও গণমাধ্যমে উঠে এসেছিল।আমি নিজেও এ ধরনের ঘৃণার সরাসরি শিকার হয়েছি। ২০০৮ সালে, ৯/১১ হামলার সাত বছর পর, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কারবনডেলে একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী হিসেবে আসার কিছুদিন পরের ঘটনা। একদিন আমি একটি ল্যাপটপ ব্যাগ নিয়ে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলাম। সেখানে একজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার ব্যাগে কোনো বিস্ফোরক আছে কি না।২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলা চালানো হয়৯/১১-এর প্রায় দুই দশক পরও আলাবামা অঙ্গরাজ্যের একজন শিক্ষার্থী আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, আমার জন্মভূমি বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষেরা সিরিয়ার আইএস সদস্যদের মতো কি না। এটি কোনো নির্দোষ প্রশ্ন ছিল না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার আরবি নামের কারণে আমার শিক্ষার্থী আমার উদ্দেশে এই প্রশ্নটি করেছিল। যদিও সে আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা আদর্শ সম্পর্কে কিছুই জানত না।যখন আমাকে আমার আগের প্রথম নাম ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকতে হতো, তখন অনেক সময় মানুষ আমার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকাত। এ ধরনের অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতির পর শেষ পর্যন্ত আমি আমার মধ্য নামকে প্রথম নাম হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিই এবং আমার প্রথম নামের বানান ‘Delaware’ করি, যাতে নামটি কিছুটা বেশি আমেরিকান শোনায়।আমেরিকার রক্ষণশীল দক্ষিণ অঞ্চলে এক দশক কাজ করার সুবাদে আমার অনেক রক্ষণশীল বন্ধু রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমান প্রশাসনে বেশ প্রভাবশালী। সাংবাদিকতার একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি রক্ষণশীল গণমাধ্যমও নিয়মিত অনুসরণ করি। ৯/১১-এর প্রায় দুই দশক পরও এসব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যে মুসলিম জনগোষ্ঠী ও ইসলাম সম্পর্কে প্রচুর বিদ্বেষ দেখতে পাই।৯/১১ পৃথিবীকে কতটা বদলে দিয়েছে৯/১১ পরবর্তী ‘ওয়ার অন টেরর’র ধাক্কা আমেরিকা এখন টের পাচ্ছে কি আমি মনে করি না যে সব মুসলমান নিখুঁত। মুসলিম সমাজেও খারাপ মানুষ রয়েছে, যেমন সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার সদস্যরা। তবে সারা বিশ্বের মুসলমানদের সম্পর্কে গৎবাঁধা ও প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা ন্যায্য নয়। ইসলাম ধর্ম বা মুসলিমদের নিয়ে এ নেতিবাচক মনোভাব এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত মুসলিম দেশ ও সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে কাজ করে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন করা এবং এর মাধ্যমে একটি সুন্দর বিশ্ব গড়ে তোলা।আমরা সবাই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানি। যদি এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হয়, তাহলে অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গেও কেন আমরা একই ধরনের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করব না?বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সাবেক আইএস নেতা আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে এবং সিরিয়ার ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে—এটি একটি ভালো উদ্যোগ।আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা কিংবা বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার সঙ্গে কাজ করার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। একজন সাধারণ আমেরিকান হিসেবে, সেতু পুড়িয়ে ফেলার পরিবর্তে আরও বেশি সেতু নির্মাণের জন্য বর্তমান প্রশাসনের এই প্রচেষ্টাকে আমি অত্যন্ত প্রশংসা করি।এ ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপের পাশাপাশি রক্ষণশীল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোতে মুসলিম জনগোষ্ঠী সম্পর্কে তাদের বক্তব্য ও বয়ান পরিবর্তন করা এবং ইসলাম সম্পর্কে গৎবাঁধা ধারণা প্রচার বন্ধ করা প্রয়োজন। এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা সমাজে মুসলমানদের সম্পর্কে আস্থা, সম্পর্ক এবং জনসাধারণের ধারণা পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।ড. দিলওয়ার আরিফ নিউইয়র্কের ক্যানিসিয়াস ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতার ডিরেক্টর। ই–মেইল: delawarearif@gmail.comমতামত লেখকের নিজস্ব